Home » অর্থনীতি » জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আরও যা করতে হবে

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আরও যা করতে হবে

এম. জাকির হোসেন খান

Dis 5ছোট্ট এই দেশে ১৬ কোটি মানুষের বাস। তাদের জীবন পরিবর্তন করতে হলে উন্নয়ন করতে হবে। আর উন্নয়ন করতে গেলে পরিবেশের ওপর এর একটা প্রভাব পড়ে। তবে নগরায়ণও করতে হবে। দেশকে সবুজ রাখতে হবে। জলাধার ও জীববৈচিত্র রক্ষা করতে হবে’, পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এ মন্তব্যটি করেছেন। প্রকৃতি, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ রক্ষায় কোনো সাধারণ নাগরিকেরই দ্বিমত থাকার কথা না। কিন্তু উন্নয়ন করতে হলে নদী দুষন, খাল বিল দখল কিংবা নির্বিচারে বনভূমি নিধন বা মানুষের জীবন এবং সম্পদ রক্ষাকারী সুন্দরবনকে ধ্বংস করে হলেও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসাতেই হবে এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞদেও দ্বিমত রয়েছে। ২০১৪ এ নতুন জলবায়ু অর্থনীতি (এনসিই)’র প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে স্থায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস (কার্বন নিঃসরণ কমানো) এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি একসাথে সম্ভব’। তাই, সম্পদের সুষম বন্টন এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচন দুটিই সম্ভব।

বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মে পানি একটি মূল উপাদান। গঙ্গাব্রক্ষপুত্রমেঘনা অববাহিকা এবং ২৩০ টি নদী বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য, যোগাযোগ ও জীবিকার চালিকা হিসাবে কাজ করে। মিষ্টি পানির সংকট ও অপব্যবহার টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাড়াচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মাধ্যমেী সাগরের লবণাক্ত পানি মূল ভূখন্ডে প্রবেশের ফলে উপকুল অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ও জলাশয়ের পানি ত্রমেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে এবং উপকূলীয় এলাকার একটি বিরাট অংশে মিঠা পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৩ প্রতিবেদন মতে, এশিয়ার ৪৯টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অবস্থানকারী ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

এ অবস্থা এমনিতে সৃষ্টি হয়নি। ২০০০ সালের ৩৬ নং পরিবেশ আইন অনুসারে প্রাকৃতিক জলাধার বা মিষ্টি পানির প্রধান উৎস সংরক্ষনে আইনী বাধ্যতা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পেশীশক্তিধারী ভূমিদস্যু কর্তৃক নির্বিচারে নদনদী, খালবিল, হাওড় এবং অন্যান্য জলাশয় দখলের ফলে ছোট বড় ২৩০টি নদীর ১৭৫টি জলাশয় মৃত প্রায় এবং প্রতি বছরই দু’ একটি করে নদী মরে অথবা শুকিয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা দখলের কারণে নাব্যতা হারিয়ে সংঙ্কুচিত হয়ে এখন সাধারণ খালে পরিণত হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডের নামেও অনেক সময় খাল, নদনদী জবরদখল করা হয়। যদি কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না যায় তাহলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন এবং বাস্তুসংস্থানসহ সবই হুমকির সম্মুখীন হবে। পানি খাতে শাসনের ঘাটতির প্রভাব গোটা সমাজ বিশেষকরে নারী, শিশু, গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি পড়ে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে বাংলাদেশের অসংখ্য নদনদী, খাল ও জলাশয় দখল করার ফলে ভবিষ্যৎ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ঝুঁকির সম্মুখীন। আইন অমান্য করে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) ব্যবহার না করে নির্বিচারে বুড়িগঙ্গা এবং শীতলক্ষাসহ বিভিন্ন জলাশয় দূষণ করছে ডায়িং কারখানা ও ট্যানারিগুলো। শুধু তাই নয়, শিল্পায়নের নামে কলকারখানার সব ধরনের বর্জ্য এসব জলাশয়ে নিস্কাশনের ফলে দূষণের মাধ্যমে ভূউপরিভাগের পানি দূষিত হয়ে গেছে। ফলে, খাবার বা অন্যান্য কাজে পানির সরবরাহে ঘাটতি মেটাতে ক্রমেই ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলনের উপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় টেকসই উন্নয়নে তথা পরিবেশ ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। ঢাকা শহরে উৎপাদিত বর্জ্যরে প্রায় ৮৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়নযোগ্য হলেও তা সঠিকভাবে ব্যাবস্থাপনা বা পুনঃচক্রায়ন করা হচ্ছেনা।

সরকার ধলেশ্বরীর বন্যা অঞ্চলে (গাবতলীর পার্শে¦) মাটি ভরাট প্রকল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও একই জায়গায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করে জলাশয় ভরাট করে, এটা সুস্পষ্টভাবে কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী অবস্থান। এমনকি ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রামের মত বড় বড় শহর ও অন্যান্য পৌরসভাগুলোতে সেপটিক ট্যাঙ্কও খুজে পাওয়া যায় না। ফলে, বর্জ্য পানি প্রবাহের লাইন এবং স্যানিটেশন লাইন, ওয়াসার বৃষ্টির পানি বহনকারী লাইনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে দূষিত পানি সরবরাহ হচ্ছে। এগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট কোন গাইডলাইন নাই। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার মত অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের পানি সরবরাহ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, পানি সম্পদ সংরক্ষণের এখতিয়ারও নেই। অনেক ক্ষেত্রে তাদের উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়, যার বেশির ভাগই রাজনৈতিক প্রভাবিত। অনেক সংসদ সদস্য ‘সরকারি জমি ও জলাশয় এর অবৈধ ভোগদখল’ সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করা হয় (পজিটিভ এ্যান্ড নিগেটিভ রোলস অব দি মেম্বারস অব দি নাইন্থ পার্লামেন্ট: এ রিভিউ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারনেশনাল বাংলাদেশ, ২০১২)

উপরন্তু পানি ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাস্ক ফোর্স এসকল দূর্নীতির ঘটনার পর্যালোচনা করেছে যার কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যমেও এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ যে, এ প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার চর্চার সুযোগ এবং উপায়সমূহ দুর্বল ও অকার্যকর। সর্বোপরি এসবের প্রধান কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক দুর্বল আইনের প্রয়োগ বা কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দোষীরা বিচারের আওতার বাইরে থাকছে। খাতটি অধিক দূর্নীতি প্রবণ এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দার্য়িত্বে অবহেলা, জবাবদিহিতার অভাব, সম্পদের বিচ্যুতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ তসরূফ, চাদাঁবাজি, অনৈতিক প্রভাব ও ঘুষ ইত্যাদি পানি সম্পদ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনার সাথে কমপক্ষে ১৩ টি মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকলেও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় সংশ্লিষ্টরা জবাবদিহিতার বাইরে থাকায় কেউ দায়িত্ব নিতে রাজি নয়।

অর্থনৈতিক উন্নতির নামে একের পর এক প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উজার করে দেওয়া হচ্ছে। ক্রমেই তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে কৃষির রোপন প্রক্রিয়াতেও ঘটছে পরিবর্তন। এ প্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে কম বনভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলোর মধ্যে একটি যেখানে বনভূমির হার মাত্র ৬.%। আইনের প্রয়োগ না থাকায় নির্বিচার বন নিধনের ফলে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ২,০০০ হেক্টর বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শালবন যা প্রায় ৯০ শতাংশ হারিয়েছে, শুধুমাত্র শিল্প স্থাপনের নামে শালবন ধ্বংসে বাধা না দেওয়ার ফলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুূর্যোগ প্রতিরোধে সক্ষম পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন নির্বিচারে গাছ নিধন ও অন্যান্য কারণে ইতিমধ্যে হুমকির সম্মুখীন। সুন্দরবনের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকার। যার ফলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজন ব্যয় আরো বেড়ে যাতে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য কখনোই কাম্য হতে পারেনা।

২০১৪ এ প্রকাশিত আইপিসিসি’র ৫ম এ্যসেসমেন্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সমুদ্রস্ফীতিজনিত লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার উর্দ্ধগতির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে ধান এবং গমের উৎপাদন যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং ৩২ শতাংশ হ্রাসসহ ২০৩০ এর মধ্যে সামগ্রিক দারিদ্রের হার আরো ১৫% বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে আশংকাজনক হারে কৃষি জমি এবং বনাঞ্চল নষ্ট করে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নগরগুলোও ক্রমেই বসবাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ এবং আর্থসামাজিক বিষয়সহ জনসংখ্যার চাপ বিবেচনায় ঢাকা সহ এশিয়ার আরো ৭টি শহরে (কলকাতা, মুম্বাই, গুয়াংজু, হো চিন মিন, সাংহাই, রেঙ্গুন এবং হাই ফং) আগামী ২০৭০ সাল নাগাদ ঘন ঘন উপকূলীয় ঝড় ও বন্যার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরীর কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে অবস্থান করছে এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবন ও সম্পদের হানি সহ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশংকা মোকাবেলায় বাংলাদেশের কতখানি প্রস্তুতি রয়েছে?

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতি মুক্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা করে পানির পুনঃব্যবহার এবং দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়া, বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভবন নির্মাণে টেকসই উপকরণ ব্যবহার করে ৩০৮০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার সাশ্রয় সম্ভব। পরিবেশবান্ধব নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থা হবে পরিস্কার, সহজলভ্য এবং যানজটমুক্ত থাকার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ঢাকায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে নাগরিকরা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঢাকার রাস্তায় কি নিরাপদে পায়ে চলা পথ এবং বাইসাইকেল চালানোর কোন সুযোগ রয়েছে?

টেকসই জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ফসিল জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করার পাশাপাশি জিএইচজি নির্গমন কমানোর লক্ষে পরিবেশ বান্ধব সবুজ জ্বালানি বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রিড লাইন তৈরি করে পুনঃ নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌর ও বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরই নির্ভর করছে টেসকই এবং পরিবেশ বান্ধব নগরীর ভবিষ্যৎ। অথচ সে ধরনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করে একের পর এক কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে স্থায়ীভাবে পরিবেশ বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিয়ে কতখানি পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব তা নিশ্চিত নয়। নাগরিকদের সকল উদ্বেগ এবং বাঁধাকে উপেক্ষা করে সুন্দরবনের কাছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর মাধ্যমে আসলেই কি আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করছি তা খতিয়ে দেখা দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ করে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কোপেনহেগেন চুক্তির মাধ্যমে শিল্পোন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায় স্বীকার করে নিয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এটা কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়। এ ক্ষতিপূরণের একটা অংশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে অবস্থানকারী বিশ্বেও প্রধান দেশগুলোর একটি বাংলাদেশও প্রাপ্য। তাই, এ দাবি থেকে পিছিয়ে এসে শুধুমাত্র নিজেদের সম্পদের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবেলার চিন্তা করা হলে অধিক তহবিল প্রাপ্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে এবং জাতীয় বাজেটের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হবে। বরং সরকারের উচিৎ কপ২১ সম্মেলনে কিভাবে এ দাবিকে জোরালো করে আরো বেশি তহবিল সংগ্রহ করা যায়। একইসাথে সীমিত সীমিত জলবায়ু তববিলের দক্ষ এবং সুষম ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য দ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নীতিমালা ও কৌশলপত্র প্রণয়ন এবং এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে নিপতিত জনগোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যৎ অভিযোজন চাহিদা সঠিকভাবে যাচাই করে সে অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ, জলবায়ু প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জোর তদারকি করতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ সকল মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন এবং সকল প্রকার ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে পরিবেশ বান্ধব টেকসই উন্নয়ন এবং সম্পদের সুষম বন্টনের বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষা, জলাধার সংরক্ষণ এবং সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আইনের শাসন, যথার্থতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।।