Home » অর্থনীতি » খাদ্যে ভেজাল বিষয়টি কারও মাথায়ও নেই, ব্যাথাও নেই

খাদ্যে ভেজাল বিষয়টি কারও মাথায়ও নেই, ব্যাথাও নেই

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis 5আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করি তার অর্ধেকেরও বেশি খাবারে মেশানো আছে ভেজাল। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট দেড় যুগের তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেছে, ভেজাল ব্যবহার অব্যাহতভাবেই চলছে। বিভিন্ন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খাদ্যে ভেজাল নিয়ে যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা করে তাও চলছে খুবই ধীরগতিতে। তাৎক্ষণিক বা সমসাময়িক পরীক্ষানিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থাই এদেশে গড়ে উঠেনি বা উঠতে দেয়া হচ্ছে না। যে কারণে খাদ্যে ভেজাল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার যেসব ফলাফল পাওয়া যায় তা অন্তত বছর দু’য়েকের পুরনো। এর ফলে ভেজাল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনের আওতায় আনা যেমন দুঃসাধ্য হয়, তেমনি ধরা পড়লেও তা নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদী বিচারআচার চলে তা বেশ দীর্ঘ। আর এই দীর্ঘ সময়ের ফাকে জনস্বাস্থ্য হয়ে পড়ছে নিদারুন ঝুকিপূর্ণ। এছাড়া আরেক বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, যে প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অপকান্ডের সাথে জড়িত স্বল্প কয়েকমাসই তাদের অবৈধ ব্যবসার জন্য যথেষ্ট।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সারা দেশের ২১,৮৬০ টি খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় পঞ্চাশ শতাংশ পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। খাদ্যপণ্যে ভেজালের ব্যাপকতা দেখা যায় ঢাকার অবিভক্ত ও বিভক্ত সিটি করপোরেশনের তথ্যে। ২০১১ সালে বিভিন্ন কোম্পানির খাদ্যপণ্যের ১ হাজার ৬৩০টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। নমুনা পরীক্ষায় ৬৪২টি বা ৩৯ শতাংশ পণ্যে ভেজাল পাওয়া যায়। পরের বছর সংগ্রহ করা হয় ১ হাজার ৬০৭টি নমুনা। এর মধ্যে ভেজাল পাওয়া যায় ৬৯৬টি বা ৪৩ শতাংশ পণ্যে। ২০১৩ সালে ভেজালের মাত্রা কিছুটা কমে আসে। সে বছর ৩৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ খাদ্যপণ্যে ভেজাল পায় সিটি করপোরেশন। আর গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০টি খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় ভেজাল মেলে ৩৬ শতাংশে। পরীক্ষার জন্য বাজার থেকে এসব নমুনা সংগ্রহ করেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা। এর মধ্যে ২০১১ সালেও ৫৪ শতাংশ খাবারে পাওয়া যায় ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান। এসব খাবার খেয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। আগামী প্রজন্মকেও বুদ্ধিহীন, পঙ্গু ও বিকলাঙ্গ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, খাদ্য ভেজাল করতে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মনোসোডিয়াম, ইথোফেন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, ফরমালিন, চক পাউডার, ইউরিয়া, মার্জারিন, পশুর চর্বি, খনিজ তেল, রেডির গুঁড়া, ন্যাপথলিন, সুডান কালার, ইটের গুঁড়া, কাঠের গুঁড়া, ডিডিটি, রোডামিন সাইক্লোমেট। কলা, আম, পেঁপে, টমেটো, আনারস কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়। এসব ফল দীর্ঘ সময় তাজা রাখতে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথোফেন। ফরমালিন মেশানো দুধ দিয়ে তৈরি হচ্ছে মজাদার মিষ্টি, যা গর্ভবতী মা ও শিশুদের জন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চিনিতে চক পাউডার ও ইউরিয়া মেশানো হচ্ছে; দুধে ফরমালিন ও স্টার্চ; মাখন ও ঘিতে মার্জারিন ও পশুর চর্বি মেশানো হচ্ছে। সরিষার তেলে দেয়া হচ্ছে রেডির তেল, মরিচের গুঁড়া ও খনিজ তেল। সয়াবিন তেলে মেশানো হচ্ছে পাম অয়েল, ন্যাপথলিন। শুকনা মরিচের গুঁড়ায় বিষাক্ত সুডান কালার। চকোলেটে মেশানো হচ্ছেস্যাকারিন ও মনোসোডিয়াম; জুসে কৃত্রিম রং এবং শুঁটকি মাছে মেশানো হচ্ছে ডিডিটি। সবুজ শাকসবজিতে কৃত্রিম রং দেওয়া হচ্ছে। কোমল পানীয়র সঙ্গে মেশানো হচ্ছে রোডামিন বি। মাছে মেশানো হচ্ছে ফরমালিন। খাবার সুস্বাদু করার জন্য সাইক্লোমেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সাইক্লোমেট মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এ জন্য ১৯৬৯ সালে খাবারে সাইক্লোমেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন মিষ্টি, তরল পানীয়, জুস, জেলি, জ্যাম, পুডিং, আইসক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়। বেশি ব্যবহারে শরীরে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে বলে স্যাকারিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে সতর্ক চিহ্ন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি ১০৭টি পণ্যের ৪০০ রকমের পরীক্ষা করে। ভেজাল পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর গড়ে প্রায় আট হাজার নমুনা ব্যবহার করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গত বছর গবেষণাগারে পাঁচ হাজার ৩২২টি পণ্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ৫৮৮টিতে ভেজাল পাওয়া গেছে। ২০১১ সালে পাঁচ হাজার ৮১২টি পণ্যের মধ্যে ৫৪ শতাংশেই ভেজাল পাওয়া গেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ৪৮ থেকে ৫৪ শতাংশ খাদ্যেই ভেজাল রয়েছে। ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। সরকারের তরফ থেকেও এ ব্যাপারে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও তথ্যউপাত্ত বলছে, পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বাজার থেকে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর ৩৬ শতাংশের বেশি এখনো ভেজাল।

খাদ্যের মান নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এ খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই। যদিও মানের বিষয়ে তাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ খাদ্যে ভেজাল নিয়ে যেসব মামলা হয়েছে, সেখানেও রয়েছে এসব করপোরেট ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নাম। ভেজালের অভিযোগে শুধু প্রাণের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে নয়টি। এর পর সবচেয়ে বেশি ছয়টি করে মামলা হয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের তানভীর মাস্টার অয়েল ও সিটি গ্রুপের বিরুদ্ধে। এছাড়া পাঁচটি মামলা হয়েছে আবদুল মোনেম ও চারটি অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের সুরেশ সরিষা তেলের বিরুদ্ধে।

খাদ্যে ভেজালের জন্য কোম্পানির অতি মুনাফাপ্রবণতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি তারা মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকিকেও দুষছেন। তারা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। নজরদারির অভাব রয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনেরও (বিএসটিআই)

ভিন্ন ভিন্ন ১০টি ক্যাটাগরিতে ২০০টির বেশি খাদ্যপণ্য প্রস্তুত ও বাজারজাত করছে প্রাণ। প্রতিষ্ঠানটির হলুদ, সরিষার তেল, বেসন, টমেটো সস, টমেটো কেচাপ ও চাটনিতে ভেজাল পাওয়া গেছে। ভেজালের অভিযোগে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নয়টি মামলাও হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

এর আগে প্রাণের গুঁড়ো হলুদে উচ্চমাত্রার সিসার উপস্থিতি থাকায় মান সনদ বাতিল করেছিল বিএসটিআই। পাশাপাশি গুণগত মান বজায় না রাখায় আরো আটটি খাদ্যপণ্যের মান সনদ বাতিল হয়। এগুলো হলোম্যাংগো, অরেঞ্জ, লেমন, স্ট্রবেরি, লিচু, অ্যাপেল, পাইন অ্যাপেলসহ ফ্রুট ককটেইল নামের সব ফ্রুট ড্রিংকস। এছাড়া প্রাণ গ্রুপের রফতানি পণ্যে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর কানাডা থেকে তা ফেরত আসার ঘটনাও ঘটে। এছাড়া ইতালিতে রফতানি হওয়া প্রাণের পণ্যে ইঁদুরের বিষ্ঠা পেয়ে চালানটি প্রত্যাখ্যান করে সে দেশের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ।

মেঘনা গ্রুপের তানভীর মাস্টার আয়েল কোম্পানির সয়াবিন তেল ও ডালডায় ভেজালের উপস্থিতি ধরা পড়ায় ছয়টি মামলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভেজালের উপস্থিতি মিলেছে আবদুল মোনেম লিমিটেডের ঘি ও আইসক্রিমে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে পাঁচটি। এছাড়া আহমেদ ফুড প্রডাক্টসের টমেটো সস ও অন্নপূর্ণা অয়েল মিলের সুরেষ খাঁটি সরিষার তেলে ভেজাল পাওয়ায় চারটি করে মামলা হয়েছে এ দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যে ভেজাল জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিডনি সমস্যা, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগের বিস্তার ঘটছে এতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও বিএসটিআইয়ের সাবেক মহাপরিচাক অধ্যাপক ড. গোলাম মওলা বলেন, খাদ্যে ভেজালের কারণে ১২১৫টি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এ থেকে বেরিয়ে আসতে খাদ্যবাজারকে দ্রুততার সঙ্গে কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে হবে। তা না হলে সামনের দিনে খাদ্যে ভেজালজনিত রোগের হার আরো বেড়ে যাবে। মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নজরদারির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। তার ভাষায়, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। বিএসটিআইকেও বাধ্যতামূলক পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বিভিন্ন আইনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলেছেন, ১৯৫৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে ফল দিয়ে তৈরি করা জুস, জ্যাম, জেলি ও সিরাপ তৈরির উপাদানগুলোর নাম ও পরিমাণ সুস্পষ্ট উল্লেখ করার কথা বলা আছে। কিন্তু বাজারে বিভিন্ন ফলের রস বিক্রি হচ্ছে। কোন ফল দিয়ে এসব জুস তৈরি হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে লেখা থাকে না। এসব পণ্যের পেটেন্ট দিয়ে থাকে বিএসটিআই। পণ্যের প্যাকেটে ফুড রুলস অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে ফলের নাম ও বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ লিখতে হবে। এসব ধাপ অনুসরণ না করলে বিএসটিআই থেকে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। বিষাক্ত কেমিক্যাল আমদানিকারকদের তালিকা তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আমদানি করা পণ্যের চাহিদা তৈরি ও ব্যবহারে সমন্বয় করতে হবে। সারা দেশে স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা ভেজাল পণ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু তারা ভেজাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া দরকার। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সরাসরি বাজার থেকে পণ্য কিনে পরীক্ষা করতে পারে না। তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নমুনার ওপর নির্ভর করতে হয়। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার অধিকার দেয়া দরকার।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সারা দেশের ২১,৮৬০টি খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় পঞ্চাশ শতাংশ পণ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। ভেজাল খাদ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়া, জটিল রোগের চিকিৎসায় দেশের বাইরে প্রচুর অর্থের খরচ সংশ্লিষ্ট পরিবারকে হুমকির মধ্যেও ফেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি ভেজাল প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন২০১৩ প্রণয়ন, ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ এর খসড়া প্রণয়ন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বাজার পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদারকরণ, এফবিসিসিআইএর ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১৮টি কাঁচাবাজারকে ফরমালিনমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ, জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সহযোগিতায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রকল্প গ্রহণ ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে একটি স্বতন্ত্র খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা উল্লেখযোগ্য। এগুলোর কোনোটির ফলাফলই সন্তোষজনক নয়, কারণ খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি প্রতিবছরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ফলে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও ভেজাল খাদ্যের ব্যাপকতা অব্যাহত থাকে। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ করলেও ভেজালকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না এবং তদারকি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।।