Home » প্রচ্ছদ কথা » গণতন্ত্রবিনাশী মৌলিক গণতন্ত্রের একালের সংস্করণ

গণতন্ত্রবিনাশী মৌলিক গণতন্ত্রের একালের সংস্করণ

আমীর খসরু

Coverদেশে এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় ভিত্তিতে, দলের প্রতীক নিয়ে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উন্নয়নকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওই উন্নয়ন কার্যক্রমে যেন জনঅংশীদারিত্বের ব্যবস্থাটি থাকে তার গ্যারান্টি দেয়ার লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় বলে গণ্য করা হয়। এ কথাটি প্রমাণিত সত্য যে, উন্নয়ন কার্যক্রমে যদি জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্বের ব্যবস্থা না থাকে এবং সামগ্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ইচ্ছাঅনিচ্ছার প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে ওই পুরো উন্নয়নটিই হবে নষ্টভ্রষ্ট অথবা উন্নয়ন নামের কর্মকাণ্ডগুলো থেকে যাবে খাতাকলমে। যতোই দিন যাচ্ছে ততোই গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে গণঅংশীদারিত্ব ও প্রতিনিধিত্বশীলতার প্রশ্নে। গণতন্ত্রের উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা হচ্ছে, জনগণের অংশীদারিত্ব এবং ইচ্ছাঅনিচ্ছাকে প্রাধান্য ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ণ। কারণ কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা দুর্নীতি, জনবিচ্ছিন্নতা এবং কর্তৃত্বপরায়ণতার জন্ম দেয়।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটির গুরুত্ব এ কারণেও যে, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের চাওয়াপাওয়া, ইচ্ছাঅনিচ্ছা এবং প্রয়োজনঅপ্রয়োজনের নিরীখে উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা যেমন থাকে, তেমনি জনগণ কোনো না কোনোভাবে উন্নয়নসহ শাসন কার্যক্রমে সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ নিয়ে দুনিয়ার নানা দেশে গণতন্ত্র চর্চার মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ের শাসনকে শক্তিশালীকরণের বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে।

এ কথা সত্য যে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের যে দশা হয়েছে, তাতে মানুষ এখন রাজনৈতিক দল বিমুখ হওয়ার প্রক্রিয়ায় রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে। সমাজে সৎ, ন্যায়নিষ্ঠবান ও ন্যায্যতার স্বপক্ষে মানুষগুলো নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন, দুর্নীতিবাজ, অসৎ এবং নষ্টভ্রষ্টের সীমাহীন উৎপাত ও দোর্দণ্ড প্রতাপের কারণে। যেখানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটির মধ্যদিয়ে সৎ, ত্যাগী, ন্যায় ও ন্যায্যতা প্রিয় মানুষগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে শুরু করা উচিত ছিল, তার ছিটেফোটা সম্ভাবনাও আর অবশিষ্ট নেই। ভবিষ্যতে থাকবে এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। উল্টো বর্তমান সরকার সে পথ রুদ্ধ এবং বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় সরকারের গোড়ার দিকের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ব্রিটিশ আমলে অর্থাৎ ১৮৭০ সালেও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। তবে তার সামাজিক কর্তৃত্ব যতোটা ছিল, উন্নয়ন বা প্রশাসনিকভাবে তার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আর এই পঞ্চায়েত ব্যবস্থাটি গঠিত হতো সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে। ১৮৮২ সালে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কিছুটা পরিবর্তন সাধন করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে আসতে গেলে গণ্যমান্য হওয়ার সাথে সাথে ট্যাক্স বা খাজনা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। স্থানীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ পুলিশের এক ধরনের সহযোগী হিসেবে চৌকিদার, দফাদার ব্যবস্থাটিও তখন চালু হয়। তবে পুরো বিষয়টি একদিকে ছিল ব্রিটিশ শাসনকে সুসংহত করা, অন্যদিকে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা। ১৯শ সালের দিকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে এবং এর কাঠামোগত একটি রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়। গঠিত হয় ইউনিয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্থাগুলো যা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী রূপ। এ সময় ইউনিয়ন বোর্ডের পাশাপাশি থানা বোর্ড, জেলা বোর্ড এবং কোথাও কোথাও পৌরসভার ব্যবস্থাগুলোর সৃষ্টি করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এসব সংস্থা গঠিত হলেও এর প্রধান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা পদাধিকার বলে। তবে এরও কিছুকাল পরে নির্বাচন ব্যবস্থাটি প্রবর্তন করা হয়, তবে অনেকটা শিথিল ছিল। গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই কোনো না কোনোভাবে এর নেতৃত্বে চলে আসতেন।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পরে আসলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে সত্য, তবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটিকে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় রাজনীতির সাথে। আর দুর্নীতিও প্রবিষ্ট করানো হয় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত। এটা সামরিক শাসনের একটি ধারা। ১৯৫৯ সালের এক আদেশবলে ১৯৬০ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে গঠন করা হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল। এই কাউন্সিল গঠিত হতো মৌলিক গণতন্ত্র বা বেসিক ডেমোক্রেসি নামে এক অদ্ভূত ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে। এই মৌলিক গণতন্ত্র সামরিক শাসনের গণতন্ত্রবিনাশী একটি কর্মকাণ্ড হিসেবেই চিহিৃত হয়ে আছে। আর এটি আইয়ুবের সামরিক শাসনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে পরবর্তীতে আবির্ভূত হয়। দেশে মৌলিক গণতন্ত্রী অর্থাৎ ভোটারের সংখ্যা ছিল সারাদেশে ৬০ হাজার। এদের ভোটেই আইয়ুব প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমপিএমএনএসহ অন্যান্য পদ নির্বাচনেও এই মৌলিক গণতন্ত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর মাধ্যমে আইয়ুব সমাজে এমন একটি শ্রেণীর সৃষ্টি করলেন যারা স্থানীয় পর্যায়ে আইয়ুবের প্রতিনিধি বলেই খ্যাত ছিল। এই মধ্যশ্রেণী বা টাউট শ্রেণীটির উদ্ভব হলেও, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে যথেষ্ট ক্ষমতায়িত করা হয় এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেচ ব্যবস্থাসহ উন্নয়ন কর্মকান্ডে ইউনিয়ন কাউন্সিলসহ অন্য সব কাউন্সিলগুলোকে বেশ কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়। এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন যে, একটি মধ্যবর্তী শ্রেণী গড়ে উঠলেও তাদের অনেকেরই সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা ছিল না, আইয়ুবের গুণগান গাওয়া ছাড়া। যদিও অনেকে বলে থাকেন, আইয়ুবপন্থী মুসলিম লীগ বা কনভেনশন মুসলিম লীগ টিকিয়ে রাখার পেছনে এদের একটি ভূমিকা ছিল। উল্লেখ্য, থানা ও জেলা কাউন্সিলও তখন কিছু ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ক্রমান্বয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি শক্তিশালী হতে থাকে এবং সাথে সাথে এ পুরো ব্যবস্থার সাথে রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ততাও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশে সংবিধানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের উপরে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়। যদিও সংবিধান প্রণেতাদের মনোজগতে স্থানীয় সরকারকে জনসম্পৃক্ত একটি সংস্থা হিসেবেই চিন্তা করা হয়েছিল। তবে বরাবরই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাপ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সমূলে বিনাশ করার আমলাতান্ত্রিক উদ্যোগ সফলও হতে থাকে দিনে দিনে। যতোদিন যেতে থাকে ততোই ওই বিনাশপর্ব সাফল্যে লাভ করে। কিন্তু এ কথাও সত্য যে, স্বাধীনতার পরের বহু বছর সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলের বাইরের যোগ্য, প্রাজ্ঞ এবং জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত করতে পারতেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক টাউটবাটপার আর দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে অন্তত স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠু মানুষ তাদের নির্বাচিত নেতা হোক।

কিন্তু যতোই দিন যেতে থাকে কৌশলে পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত করা হয়। স্বাধীনতার পরে একদলীয় শাসন, পরবর্তীকালের সামরিক শাসনগুলো এবং এরপরে বেসামরিক শাসন আমলাতন্ত্রের সমন্বয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটিকে পঙ্গু এবং নখদন্তহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী এরশাদ আমলে পুরো উপজেলা ও জেলা পরিষদ নিয়ে নজিরবিহীন সব ব্যবস্থাবলী ঘটতে থাকে। কিন্তু উপজেলা এবং জেলা পরিষদ সত্যিকার অর্থে ক্ষমতাসীনদের প্রভাববিহীন অবস্থায় চলতে দিলে এবং সামরিক শাসনের ঘুটি হিসেবে ব্যবহার না করলে এই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারতো। পরে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে উপজেলা ব্যবস্থার প্রতি সীমাহীন অবহেলা প্রদর্শন করে। আর আওয়ামী লীগের জমানায় উপজেলা এবং জেলা পরিষদকে গ্রহণ করা হয় একটি অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থাৎ এতে কিছু দলীয় ব্যক্তিকে ‘বসানো’ অর্থাৎ পদপদবি দেয়া যাবে এই আকাঙ্খায়। উপজেলা নির্বাচন হলেও এই নির্বাচনে কি ধরনের এবং মাত্রার নজিরবিহীন কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে বা হচ্ছে তা সবারই কমবেশি জানা। আর জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ যেন স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে যতোগুলো স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার একটিও অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হয়নি। গেল কিছু দিন আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো কেমন হয়েছে সে অভিজ্ঞতার কথা এখনো কেউ ভুলতে পেরেছেন, এটা ভুল করেও কেউ বলতে পারবেন না। এর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে যদিও বা কোনো কোনো স্থানে বিরোধী পক্ষের কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে নানা অদ্ভূত অদ্ভূত কারণ দেখিয়ে। এখানো এই ধারাটি বজায় আছে দলীয়করণের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে।

এর উপরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যে ভয়াবহ জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সৃষ্টি হয় তাও তাদের জন্য একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীসভা সব স্থানীয় নির্বাচন অর্থাৎ ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাথে সাথে এমন বিধান রাখা হয়েছে যে, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকার প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থাটি করতে পারবে। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে এমনিতেই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাহলে আইনী ভিত্তি দিয়ে এই নির্বাচনটি দলীয় ভিত্তিতে ও প্রতীকে দিতে বাধা কোথায়? এখানে বলা প্রয়োজন যে, বেশি প্রার্থী থাকলে দলের মধ্যেও মন্দের ভালো প্রার্থী থাকে। সেই মন্দের ভালো প্রার্থীকে ভোট দেয়ার ব্যবস্থাটি এর মাধ্যমে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। মানুষের উপরে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই চাপিয়ে দেয়ার এটি একটি আইনি অপকৌশল। তাছাড়া দলীয় প্রতীক না থাকলে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের এক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। দলের বাইরেও স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য বহু মানুষ প্রার্থী হন এবং তারা নির্বাচিতও হয়ে যান। এর ফলে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হয় গঠনমূলক প্রতিযোগিতার। সর্বোপরি একটি জবাবদিহীমূলক ব্যবস্থার সামান্য হলেও এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এ কথাটি সত্য যে, দলীয় প্রতীকে ভোটারের সংখ্যা অনিবার্য কারণে এখন কমে গেছে। ভবিষ্যতে যে আরও কমবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর কি কারণ তাও সবার জানা আছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটি অন্যান্য ব্যবস্থার মতোই দুর্নীতি এবং অনিয়মে নিমজ্জিত। এখন এটিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সব উদ্যোগ সম্পন্ন হচ্ছে। আর দলীয়করণের সাথে সাথে রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।

বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাটি যদি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতো তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে এবং দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হলে কোনো বাধা ছিল না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কেরালাসহ কয়েকটি রাজ্যে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা অল্পস্বল্প দোষত্রুটি সত্ত্বেও যথেষ্ট কার্যকর। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাটিকে বিপন্ন এবং বিনাশ করা হয়েছে। অনেকেই অবশ্য বলছেন, যে দেশে নির্বাচনেরই প্রয়োজন পরে না, যেখানে সবই দলীয় ভিত্তিতে সিলেকশন, সেখানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটির ভাগ্যেও তাই ঘটছে। কাজেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাটিকে ক্ষমতাসীনরা ওই বিনাশ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে দেবে, এটা ভাবা উচিত হবে না। কারণ ক্ষমতার সর্বগ্রাসী তাণ্ডব তাদের সব কিছু দখলে উদ্ভুদ্ধ করেছে।

সব মিলিয়ে এ কথাটি বলা যায় যে, দলীয় ভিত্তিতে অর্থাৎ দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দলীয়করণ, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানিকভাবে যেমন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তেমনি সংঘাতসহিংসতাও পৌছে যাবে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রবিহীন কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ হবে এবং দানবাকাড় লাভ করবে। সাথে সাথে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিস্তার লাভ ঘটবে মহামারী আকারে। দেশকেও রাজনৈতিক বিভাজনে অতিমাত্রায় বিভক্ত করা হবে। আর এতে জনগণ ছিটকে পড়বে আরও দূরে, বহু দূরে। এক কথায় এ ব্যবস্থাটি হতে যাচ্ছে আইয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্রের একালের সংস্করণ। আর এটা করা হচ্ছে, একনায়কতান্ত্রিক শাসনকে আরও জোরদার ও সুসংহত করার লক্ষ্যেই। তবে দুর্ভাগ্যজনক দিকটি হচ্ছে, একে একে সব প্রথাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে অধিকতর উন্নয়ন এবং অল্পস্বল্প গণতন্ত্রের নামে।।

১টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ খসরু ভাই চমতকার এই বিশ্লেষণ ধর্মী লেখাটির জন্য।