Home » বিশেষ নিবন্ধ » ক্ষমতাসীনদের তাৎক্ষণিক অপরাধী চিহ্নিতকরণে পার পেয়ে যাচ্ছে আসল অপরাধীরা :: শাহদীন মালিক

ক্ষমতাসীনদের তাৎক্ষণিক অপরাধী চিহ্নিতকরণে পার পেয়ে যাচ্ছে আসল অপরাধীরা :: শাহদীন মালিক

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis-1এই বছরেই চার জন ব্লগার হত্যাকাণ্ড, দু’জন বিদেশীকে গুলি করে হত্যা এবং সবশেষ শুক্রবার দিবাগত রাতে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলে বোমা বিস্ফোরণসহ অনেক ঘটনায় এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, তদন্ত কাজ সমাপ্ত হওয়া বা সুষ্ঠু অনুসন্ধানের আগেই ঊর্ধ্বতন মহল থেকে আগাম ঢালাও মন্তব্য করা হচ্ছে এই বলে যে, ঘটনা কারা ঘটিয়েছে বা ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি? এতে কি তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়া বা বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোসহ পুরো আইনগত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় কি না এবং এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোয়ার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কতোটা বেড়ে যায়? এসব প্রশ্নে ভয়েস অফ আমেরিকার জন্য বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। সাক্ষাতকার ভিত্তিক এই প্রতিবেদনটি ২৪ অক্টোবর প্রচারিত হয়।

. শাহদীন মালিক : সহিংস বা অপরাধমূলক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কিন্তু প্রত্যকটি ঘটনা ঘটার সাথে সাথে খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই মিলে দোষারোপ করা হচ্ছে যে, ঘটনা বিরোধী দল ঘটাচ্ছে। এর ফলাফল হচ্ছে, এটি বিরোধী দলকে হেয় করা বা হেনস্তা করার একটি হাতিয়ার হয়ে গেছে। অপরাধ বা সহিংস ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে কে এটা করেছে তা খুজে বের করা এবং সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করে বিচারের ব্যবস্থা করা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। তা না করে কোনো ঘটনা ঘটলে, কোনো বড় অপরাধ হলেই তাকে ক্রমাগতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রমাণ হচ্ছে না বা দেখা যাচ্ছে না যে, বিরোধী দল আসলেই জড়িত। যদিও অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু তারা যে এটা করেছে এমন প্রমাণও উত্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ কোনো সাক্ষ্য প্রমাণও হাজির করতে পারছে না। ফলে বিচারিক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে। যেখানে অপরাধ হলে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু তা না করে ওই পথে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই হুমকির সম্মুখীন হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো খুনখারাবি বা অপরাধ সংঘটিত হলে সাধারণত পুলিশ সেদিকে নজর দিচ্ছে না, মামলা নিতে চাচ্ছে না বা মামলা নিলেও সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করছে না। কাজেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে হতে একই অবস্থা চলছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত অপরাধীদের ধরাছোয়ার বাইরে থাকার সম্ভাবনা কতোটা বেড়ে যায় সে প্রশ্নে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আসলে এমনটা ঘটলে প্রকৃত অপরাধীরাই এর সুফল পায়। রাজনৈতিকভাবে রাজনৈতিক দলকে ধরতে গিয়ে আসল অপরাধীরাই ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। দু’জন বিদেশী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রথমেই বলা হলো, বিরোধী দলের ইন্ধন আছে, বিরোধী দল জড়িত, দেশের বাইরে বসে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে এই, যে তিন সপ্তাহ চলে গেল কিন্তু এখনো তদন্তের কোনো কূলকিনারা হচ্ছে না, কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। এর কারণআসল অপরাধীদের উপরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি নেই, তাদের দৃষ্টি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপরে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং অপরাধ করেও, জড়িত থেকেও নিষ্কৃতি বা দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। আর এটা পাচ্ছে আসল অপরাধীরা, আর উল্টো ভোগান্তিতে পড়ছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।