Home » অর্থনীতি » তেলের অর্থ এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার নেপথ্যে (শেষ পর্ব)

তেলের অর্থ এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার নেপথ্যে (শেষ পর্ব)

সৌদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্রিটেন তদন্ত বন্ধ করায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র ক্ষোভ

Last-5অস্ত্র ব্যবসার সাথে তেল সম্পদের অর্থের একটি গভীর সখ্যতা রয়েছে। একটি অপরটিকে টিকিয়ে রাখে। আর পরস্পরের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসার কুশীলবরা। এই ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছে ঘুষ, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ নানা ভয়ঙ্কর সব ঘটনাবলী। এরই একটি খচিত্র প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। প্রভাবশালী দ্য গার্ডিয়ানএর প্রখ্যাত দুই সাংবাদিক ডেভিড লে এবং রাব ইভানসএর প্রতিবেদন প্রকাশের পরে এ নিয়ে বিস্তর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এ সংখ্যায় ওই প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদের (শেষ পর্ব) প্রকাশিত হলো। অনুবাদ : জগলুল ফারুক

সুইডেনের সরকারি কৌসুলি ক্রাইস্টার ভন দ্য কস্ট বিএই এবং গ্রিপেন ফাইটারের সুইডিশ কোম্পানি সাবের মধ্যেকার যৌথ বিপণন কার্যক্রমে কোনো রকম দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কার্যক্রম চালু করে দেন।

সুইজারল্যান্ড সরকারের বার্নস্থ কেন্দ্রীয় উপকৌসুলি মারিয়া স্নেবলি বিএই’র সম্ভাব্য মুদ্রা পাচার ঘটনার বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনার ঘোষণা দেন। এর আগেই লন্ডনে এসএফও কর্মকর্তারা দুই সৌদি দালাল ওয়াফিক সাইদ এবং মোহাম্মদ সাফাদির সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে তল্লাশি চালিয়েছিল। তবে তাদের কারো বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়নি। ২০০৭ সালের মে’তে সুইস কর্তৃপক্ষ ওয়াফিক ও সাইদের আইনজীবী মার্কবোনাটকে জানায়, সেই সময় তারা ওয়াফিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের লক্ষ্যে কোনো রকম তদন্ত চালাচ্ছিল না।

চিলিতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাথে সম্পর্কিত সার্গেই মুনজ নামের একজন তদন্ত বিচারক সাবেক স্বৈরশাসক অগাস্তে পিনোশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অবৈধ পথে অর্থ প্রাপ্তির অভিযোগের ব্যাপারে একটি তদন্ত চালিয়েছিলেন। রুমানিয়া, তাঞ্জানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্রেও দুর্নীতি দমন ব্যুরোগুলো বেশ জোরেশোরেই একই কাজ করেছে। ২০০৭ সালে ভিয়েনায় একজন দালালকে অর্থ প্রদানের ঘটনাটি ধরা পড়ার পর অস্ট্রীয় সরকারও ইউরোজাস্টের সদর দফতর দ্য হেগে এসে তাদের অন্যান্য ইউরোপীয় কৌসুলির সাথে যোগ দেয়। হাঙ্গেরি এবং বুলগেরিয়ার সাথে বিএই’র গোপন বেচাকেনার চুক্তিটি ২০০৭ সালের জুনে সুইডেনের টেলিভিশন ফাস করে দেয়। এই ঘটনার পর পরই হাঙ্গেরি সরকার তাদের নিজস্ব কোম্পানি গ্রিডেনফাইটারের কর্মকাণ্ড তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে। সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। গার্ডিয়ান পত্রিকা প্রকাশ করে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তৎকালীন সৌদি রাষ্ট্রদূত যুবরাজ বন্দরের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য বিএই মার্কিন ব্যাংকের সাহায্য নিয়েছিল।

বিএই’র ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্বস্তিবোধ কাজ করছিল। ২০০২ সালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ওয়েন ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত এক আলাপচারিতায় ব্রিটেনের একজন উচ্চপদস্থ বেসামরিক আমলাকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করতে গিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যদি এই পরিমাণ অভিযোগ উত্থাপিত হতো তবে আমাদের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অপরাধ বিভাগ বহু আগেই এসবের বিরুদ্ধে একটা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে দিতো’।

এসএফও কর্তৃক সৌদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে ব্রিটেন ২০০৭ সালে ঘুষ বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিকে অমান্য করলে যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে ২০০৭ সালের ২৬ জুন বিএই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়, মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট তাদের তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছে। এফসিপিএ’র মামলা পরিচালনাকারী ওয়াশিংটনের প্রধান কৌসুলি মার্ক মেন্ডেলসন ১৯৭৭ সালের ফরেন করাল্ট প্রাকটিসেস এক্টের আওতায় একটি তদন্ত কার্যক্রম চালু করেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং অ্যাটর্নি জেনারেল গর্ডন ব্রাউন প্রশাসনের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর দেখলেন, এতদিন তারা যেই সৌদি দুর্নীতির মামলাটিকে এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করে নিজেদের কৌসুলিদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ তাদের সামনেই সেই মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। তাদের জন্যে এটি ছিল অত্যন্ত অপমানজনক একটি মুহূর্ত।

বিএই যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র বিক্রির জন্য গোপন লেনদেন করেছে ইতোমধ্যেই সে সবের চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।।