Home » আন্তর্জাতিক » কপ-২১ সম্মেলন :: জলবায়ু দুর্যোগে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে ৬.৬ বিলিয়ন

কপ-২১ সম্মেলন :: জলবায়ু দুর্যোগে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে ৬.৬ বিলিয়ন

এম. জাকির হোসেন খান

Dis-5পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করলে ২১০০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই যথেষ্ট না আসন্ন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কপ২১ প্যারিস সম্মেলনের প্রাক্কালে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএফসিসি’র প্রধান ক্রিস্টিনা ফিগারিজ এ মন্তব্য করেন। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যারিসে বৈঠক উপলক্ষে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৬টি দেশের মধ্যে ১৪৬টি দেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্বন হ্রাস সহ সার্বিক পরিকল্পনা প্রদান করেছে, যা ইন্টেনডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (আইএনডিসি) পর্যালোচনা করেই এ ভবিষ্যৎবাণী করেছে জাতিসংঘ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ ৫৪ ও ২০৩৯ সাল নাগাদ ৭৫ শতাংশ কার্বন খরচ করে ফেলবে পুরো পৃথিবী। কিন্তু শিল্পোন্নত দেশসমূহ বিশেষকরে নিউজিল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং রাশিয়া কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের যে প্রস্তাব করেছে তাতে কমপক্ষে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবেনা। ২০১৪ এর ডিসেম্বরে হিসেব করা তথ্য অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা ছিল ৩.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

বিজ্ঞানীরা বলছেন বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। প্রাক শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কপ২১ ভুক্ত প্রতিটা দেশ যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে তাহলে ২০২৫ সাল নাগাদ বাৎসরিক কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৫.২ গিগাটন, ২০৩০ সাল নাগাদ সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৫৬.৭ গিগাটনে। বর্তমানে এটি আছে ৫০ গিগাটন। আর জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপ আগেহ বলেছিল যে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হলে ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নির্গমন ৩২৩৪ গিগাটনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। এ প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করে পৃথিবী নামক এ গ্রহটিকে রক্ষায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ সহ স্বল্পোন্নত ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহে প্রতিনিয়ত ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, খড়া ও তীব্র তাপমাত্রার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ৫০টি স্বল্পোন্নত দেশ বিশ্বের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্র ১% নিঃসরণ করে। ২০০৭ এ প্রকাশিত আইপিসিসি’র ৩য় প্রতিবেদনে এ শতকের শেষে সমুদ্র পৃষ্ঠের গড় উচ্চতা ১৩ ফুট বেড়ে যাওয়ার আশংকা ব্যক্ত করা হলেও সর্বশেষ ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ এবং স্পেস গবেষণা কর্তৃপক্ষ (নাসা)’র প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ১০ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ার আশংকা করা হয়েছে। এমনকি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১০% হারিয়ে যেতে পারে। এ প্রেক্ষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রকৃত ক্ষতির মাত্রা আরো বেশি হতে পারে যদি কপ২১ প্যারিস সম্মেলনে প্রস্তাবিত আইনী বাধ্যতার মধ্যে সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়।

বিশ্বের প্রধান প্রধান শিল্পোন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া সহ অ্যানেক্স১ ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশগুলো ছাড়াও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী হলেও উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত এ্যানেক্স১ ভুক্ত না হওয়ায় তারা ২০১৫ সালের প্রস্তাবিত আইনী বাধ্যতায় প্যারিস চুক্তিতে আগ্রহী নয়। তাই আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য কপ২১ (Conference of the Parties-COP) সম্মেলনে জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)’র অনুচ্ছেদ ৩এ উল্লিখিত ‘সাধারণ কিন্তু স্বস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বশীলতা’ নীতির ভিত্তিতে শিল্পোন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ প্রাকশিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রত্যাশিত ১.৫ ডিগ্রী হলেও কমপক্ষে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে আইনী বাধ্যতার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করবে, এটাই বিশ্ববাসীর দাবি।

উপকূলীয় বন্যা, তীর ভাঙন এবং কৃষিতে বিপর্যয়ের প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ২.৭ কোটি সহ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫ কোটি মানুষ পরিবেশ শরণার্থী হওয়ার আশংকা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট দুর্যোগের প্রভাবে জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য কানকুন চুক্তি ২০১০ এবং বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তির মোড৪ এর আওতায় নীতিমালা প্রণয়ন এবং সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) সহ অন্যান্য উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দে কপ২১ সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। যদি কপ২১ সম্মেলনে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সার্বজনীন কার্বন হ্রাসের চুক্তি না করা যায় তাহলো জলবায়ু অভিযোজনের জন্য শিল্পোন্নত দেশ কর্তৃক প্রতিশ্রুত উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিলের ঘাটতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, ‘জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দুর্যোগের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ প্রতি বছর এর জিডিপি’র ২% (সর্বমোট জিডিপি’র আকার হবে ১৭৪ বিলিয়ন ডলার), যা এ শতকের শেষে ৯% হারাতে পারে। শুধুমাত্র মৌসুমি বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের কারণেই আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬.৬ বিলিয়ন ডলার হতে পারে’।

২০১৫ এর সেপ্টেম্বরে ইউএনএফসিসিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত আইএনডিসি প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য ২০১৫২০৩০ সাল সময়ে সর্বমোট ৪০ বিলিয়ন ডলার (প্রতি বছর গড়ে ২.৫ বিলিয়ন ডলার) প্রয়োজন। যদিও ভবিষ্যত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় প্রকৃতপক্ষে এ প্রাক্কলন কতখানি সঠিক তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তথাপি এ পরিমাণ তহবিল গ্রহণ এবং তা ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় বিশেণকরে জলবায়ু অর্থায়নের নীতি অনুসরণ করে সব ধরনের জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনা, তহিবল প্রদান এবং ব্যবহারে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিবেশগত মান রক্ষা, নাগরিক অংশগ্রহণ, ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট উন্নতি করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। একইসাথে প্যারিস চুক্তিতে আইনী বাধ্যতার আওতায় ‘দুষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ’ নীতি মেনে কোনো অবস্থাতেই ঋণ নয়, উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ ও ‘নতুন’ শুধুমাত্র অনুদানকে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ২০১৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে দীর্ঘমেয়াদে যথার্থ এবং চাহিদা ভিত্তিক অর্থায়নের পথনকশা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা; একইসাথে বিসিসিটিএফ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানাতে হবে।

একইসাথে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে ২০১৬২০৩০ পর্যন্ত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা’ (এসডিজি)’র অংশ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সুস্পষ্ট লক্ষ্য১৩ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪ এ নতুন জলবায়ু অর্থনীতি (এনসিই) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ‘জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে স্থায়িত্বশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস (কার্বন নিঃসরণ কমানো) এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি একসাথে সম্ভব’। অথচ শিল্পোন্নত ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক ও ব্যাপক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হওয়ায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে গত ২০০৭২০১৪ সময়ে ওইসিডি ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশসমূহ বিশেষকরে জাপান, চীন, ভারত, রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া শুধু কয়লাভিত্তিক শিল্পে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং এর মধ্যে জাপানই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব দেশ অধিকাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে অবস্থান করছে এমন দেশে (যেমন, বাংলাদেশের মাতারবাড়ি এবং সুন্দরবনের কাছে রামপালে) কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। একদিকে শিল্পোন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ ব্যাপকভিত্তিক কার্বন নিঃসরণের প্রতিশ্রুতির কথা বলছে, আর অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহ প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের সকল উদ্বেগকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশে বাংলাদেশকে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী সুন্দরবনের কাছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর মাধ্যমে সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রকৃতপক্ষে কতখানি টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল প্রণয়ন এবং নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়ন সহ বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপ সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দা আর্থ’ পুরস্কার প্রদান করেছে। ওই পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে আসন্ন কপ২১ সম্মেলনে আইনী বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি অর্জনের লক্ষে বাংলাদেশের তথা বিশ্বের কোটি কোটি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব অনেকাংশেই বাংলাদেশের ওপর অর্পিত হয়েছে। বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার কতখানি অবদান রাখে তা দেখার প্রত্যাশায় দেশবাসী। ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের ওপরই পৃথিবীর ভাগ্য নির্ভর করছে’, ২০০৯ সালে মালদ্বীপে অুনষ্ঠিত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)’র ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত এ সত্যকে ধারণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে বিশ্বকে রক্ষায় তথা টেকসই উন্নয়নের লক্ষে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে সকল পক্ষ আইনী বাধ্যতায় চুক্তি স্বাক্ষর করবে এ প্রত্যাশায় বিশ্ববাসী গভীর আগ্রহে বিশ্ব নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।।