Home » শিল্প-সংস্কৃতি » জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৩)

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৩)

দর্শকের পছন্দের আর অপছন্দের ছবিগুলো

ফ্লোরা সরকার

Last-6এই পর্যন্ত জেমস্ বন্ডের প্রায় চব্বিশটি সিরিজের চলচ্চিত্রয়ান হয়েছে। ১৯৬২ সালে ‘ড. নো’ দিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০১৫ তে এসে ‘স্পেকটা’র দিয়ে আপাত শেষ হয়েছে। সিরিজগুলো নিয়ে বেশ কৌতুহলোদ্দীপক প্রশ্ন জমা হয়েছে, যেমন দর্শক কাকে বেশি পছন্দ করে, টিমোথি নাকি শেনকে? বন্ড সিরিজের কোন শুটিং সেট দর্শকদের বেশি পছন্দের, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় স্বর্গীয় পরিবেশ, নাকি বরফাচ্ছাদিত রিসোর্ট? দর্শকের কাছে কে বেশি পছন্দের, একজন রাজনৈতিক অনুসারি যে কিনা সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে বিভিন্ন অন্যায় বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়, নাকি ছবির খলনায়ককে? ০০৭ সিরিজটি ধীরে ধীরে কিভাবে এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার অনুসন্ধান করতে গেলে এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। ইয়াহু মুভিজের বেন ফোক সম্প্রতি তেইশটি (সর্বশেষ ছবিটি বাদ দিয়ে) বন্ড সিরিজের একটা তালিকা করে, নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট ছবির উপর একটা চমৎকার আলোচনা করেছেন। আমরা আজ সেই আলোচনার উপর দৃষ্টিপাত করবো।

২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডাই অ্যানাদার ডে’তে কি দেখি আমরা? কিছু অদৃশ্য গাড়ি, বিরক্তিকর ম্যাডোনা থিম মিউজিক, নিস্তেজ কাহিনী বিন্যাস এবং পিয়ার্স ব্রসন্যানের নিষ্প্রভ উপস্থিতি। যদিও পরিচালক নতুন ভাবনা নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন এবং নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। তবু ছবিটি সেভাবে দর্শক হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি। অন্যদিকে, রোসামুড পিকেকে এই ছবির জন্যে অস্কার নমিনেশন দেয়া হয়। ঘটনাটা বেশ বিচিত্র।

ক্যাসিনো রয়াল’এর সাফল্যের পর, ২০০৮ এ ‘কোয়ান্টাম অফ সোলেস’, ছবিতে ড্যানিয়েল ক্রেইজ প্রাজ্ঞের সঙ্গে চেষ্টার পরেও কাহিনী তালগোল পাকিয়ে যায়, যা কিছুটা একঘেয়ে আর বিরক্তির করে তোলে ছবিটাকে। অলগা কুরিলেন কোর সহযোগী চরিত্রের চমৎকার অভিনয় এবং ছবি শুরুর দিকে বিশাল গাড়ির ধাওয়া ছাড়া আর কিছইু বিশেষ পাওয়া যায়না। সম্ভবত ঠিকভাবে ছবির পান্ডুলিপিটি অনুসরণ করা হয়নি।

১৯৮৫র ‘এ ভিউ টু কিল’ সিরিজ ভালো থেকে ক্রমেই এক অদ্ভূত পরিস্থির দিকে দর্শককে নিয়ে যায়। কেননা রজার মুরের অধিকতর বৃদ্ধ বয়সের ছবিটিকে কেমন যেন ম্লান করে দেয়। তাছাড়া ছবিটির উচ্চ স্বরের থিম মিউজিক যেন ছবিটিকে আরও বিরক্তির জায়গায় পৌঁছে দেয়।

একই ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ১৯৭৯ সালে নির্মিত ‘মুনরেকার’ সিরিজে, যা আসলে রজার মুরের বয়স বাড়ার কারণে। একটা সঠিক সমাজ গঠন প্রক্রিয়া দেখাতে গিয়ে, পরিচালক একদল যৌনআবেদময়ীকে নিয়ে আসেনযা ছবির সব মাধুর্যকেই নষ্ট করে দেয়। তারউপর রজার মুরের বয়স বৃদ্ধি এসব যৌনআবেদনকে আরো অশৈল্পীক করে তোলে।

১৯৯৯ সালের ‘দা ওয়ার্ল্ড ইজ নট ইনাফ’ ছবিতে অভিনেত্রী ডেনিস রিচার্ডকে বন্ড নারী হিসেবে উপস্থাপনে কোনো অসুবিধা ছিলোনা, কিন্তু তাকে যখন অতিবুদ্ধিমতী একজন বিজ্ঞানীর চরিত্রে দেখানো হয়, তখন সেটা কিছুটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় বৈকি। তার উপর তাকে ডাকা হয় ‘ক্রিসমাস’ নাম ধরে, যার অর্থ বুঝে ওঠা দর্শকের জন্যে বেশ বেগ পেতে হয়। তবে বন্ড চরিত্রে পিয়ার্স ব্রসন্যান এবং সফি মার্কোর অভিনয় গুনে ছবিটি উতরে যায়।

রজার মুরকে আবার দেখা যায় ১৯৮৩ সালে নির্মিত ‘অক্টোপুসি’ ছবিতে। ছবির শুরুতে তাকে বিশাল ঘরে দেখা যায়, যিনি একজন দক্ষ টেনিস খেলোয়াড়। যদিও তার উদ্দীপনাহীন চরিত্র কিছুটা দর্শককে আহত করে। কিন্তু শেষ বিশ মিনিট তার চরিত্রের মর্মার্থ অনুধাবন করতে পেরে দর্শক উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন।

১৯৬৭ সালে নির্মিত ‘ইউ ওনলি লিভ টুয়াইস’ ছবিটি কিছুটা জাতিবিদ্বেষ প্রসূত। শেন কনেরিকে এখানে জাপানি হিসেবে চিত্রায়ন করা হলেও, তাকে বেশ স্থুল ভাবে উপস্থাপিত করা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে ছবিটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু পরে নির্মিত। কাজেই তখনও হয়তো জাপানিদের প্রতি কিছুটা বিদ্বেষ মনোভাব থেকে যাওয়ায় চরিত্রের এই স্থুলতা প্রদর্শন।।

(চলবে…)