Home » শিল্প-সংস্কৃতি » জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৪)

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৪)

শেন কনেরি’র প্রত্যাবর্তন

ফ্লোরা সরকার

বেন ফোক সম্প্রতি তেইশটি (সর্বশেষ ছবিটি বাদ দিয়ে) বন্ড সিরিজের একটা তালিকা করে, নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট ছবির উপর যে আলোচনা করেছেন তার উপর আমরা আলোকপাত করছিলাম। এর আগের পর্বে চৌদ্দটি সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ আরো সিরিজ নিয়ে আলোকপাত করা হলো।

১৯৭১ সালে নির্মিত ‘ডায়মন্ডস আর ফর এভার’ ছবিটি একটি অন্যতম সার্থক বন্ড সিরিজ। ইতিমধ্যে শেন কনেরি বন্ড সিরিজ থেকে চলে গেলেও এই ছবিতে আবার ফিরে আসেন এবং তার চমৎকার অভিনয় দর্শক চিত্তে বন্ডের জনপ্রিয়তা আবারও ফিরিয়ে আনে। এই ছবিতে বন্ড নারী, ও টুল মি. উইন্ট এবং মি. কিডের খুনের ঘটনাগুলো অনবদ্যভাবে ফুটিয়ে তোলেন। সব থেকে বড় বিষয় এই ছবিতেই বেশ চমৎকার আবহ সঙ্গীতের ব্যবহার পাওয়া যায়।

১৯৯৭ সালের ‘টুমরো নেভার ডাইজ’ ছবিটি এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো যে, ছবির নামটি পরবর্তীতে কোড হিসেবে ব্যবহার হতো, এখনো হয়। উত্তেজনা, থ্রিলার, মোটর চেজ ইত্যাদি সব মিলিয়ে ছবিটি প্রকৃতই একটা দুর্দান্ত বন্ড সিরিজে রূপান্তরিত হয় এবং আরো আকর্ষনীয় করে তোলে।

১৯৮৭ সালের ‘দা লিভিং ডেলাইটস্’ চমৎকার অ্যাকশান ভিত্তিক বন্ড সিরিজ। যেখানে বন্ডকে লন্ডন থেকে প্রাগ, পাহাড় থেকে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যেখানে দেখা যায় এই ঘোরার সময় বন্ডের শত্রুরা তার মাথার উপর উড়োজাহাজ উড়িয়ে যায়। তবে এই ছবির একটা বিশেষ স্বাতন্ত্র লক্ষ্য করা যায়, তা হলোস্বল্প সংখ্যক নারীর উপস্থিতি। বন্ডের অন্যান্য সিরিজের মতো এই সিরিজে জেমস্ বন্ড বহু নারীর সঙ্গে সঙ্গ দেয়না, তার বিছানায় একজন কিংবা খুব বেশি হলে দুজন নারীর উপস্থিতি থাকে।

থান্ডারবল (১৯৬৫)’ ছবির পান্ডুলিপির সত্ত্বাধিকার ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে নানা কাহিনী হয়ে গেলেও, ছবিটি মুক্তির পর প্রচুর ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করে। জেমস্ বন্ড রূপী শেন কনেরি শুধু নারীদের প্রলুব্ধ করার ক্ষমতাই রাখেননা, সেই সঙ্গে তার শারীরিক দক্ষতা খলনায়কদের ঘায়েলের জন্যে যথেষ্ট ভাবে প্রমাণিত হতে দেখা যায়। টম জোন্সের থিম মিউজিক ছবিটিকে আরো আকর্ষনীয় করে তোলে। সব থেকে যা উৎসাহদ্দীপক তা হলো, এই সিরিজের সর্বপ্রথম জেমস্ বন্ডের বিখ্যাত ০০৭ নম্বরটির ব্যবহার দেখা যায়।

রজার মুর অভিনীত ১৯৮১ সালের ‘ফর ইওর আই ওনলি’ বন্ড সিরিজ অনেকটাই গতানুগতিক ধারায় নির্মিত। যেসব অ্যাকশান এখানে ব্যবহার করা হয়, সেগুলো বন্ডের আগের ছবিগুলোতেই দেখা হয়ে গেছে। তারপরেও এই অ্যাকশান ধর্মিতার কারণেই দর্শকের পছন্দের অন্যতম একটি ছবি হয়ে থাকে।

এক রজার মুরের একের পর সেক্স, ভায়োলেন্স যখন দর্শককে ক্লান্ত করে দিচ্ছিলো, ঠিক সেই সময়ে ইয়ান ফ্লেমিংএর সৎ ভাই ক্রিস্টোফার লি অভিনীত ‘দা ম্যান উইথ দা গোল্ডেন গান’ ছবিটি যেন উদ্দীপক হয়ে পর্দায় ভেসে ওঠে। ছবিতে ক্রিস্টোফারের অভিনয় দেখে মনে হয় একজন যথার্থ বন্ড খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার জন্যে তার জন্ম হয়েছিলো। ছবির খলনায়কের (স্কারাম্যাঙ্গ) মুখে একটি বিখ্যাত সংলাপ দর্শক আজও মনে রেখেছে – ‘দেখো মি. বন্ড আমি সব সময় ভাবতাম আমি বোধহয় জন্তুজানোয়ার সব থেকে ভালোবাসি। কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম, আমি সব থেকে ভালোবাসি মানুষ খুন করতে’।

১৯৯৯ সালে পরিচালক স্যাম মেনডেস ‘আমেরিকান বিউটি’ নির্মান করে যখন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান, তখন স্বাভাবিক ভাবেই অনুমান করা যায় ২০১২ সালে তার নির্মিত বন্ড সিরিজ ‘স্কাইফল’ সাফল্যের মুখ দেখবে। এবং স্কাইফলের ক্ষেত্রে হয়েছিলোও তাই। স্পেনের অভিনেতা জেভিয়ার বারডেম গোল্ডেন গ্লোবসহ অনান্য আরো অনেকে আওয়ার্ডে ভূষিত হলেও, এই ছবিতে বন্ড চরিত্রে তাকে কিছুটা নিষ্প্রভ মনে হয়। তবে সব মিলিয়ে বন্ডের এই সিরিজ সাফল্যের মুখ দেখে।।

(চলবে…)