Home » রাজনীতি » পৌরসভা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ঘোরতর সংশয় ॥ ক্ষমতাসীন দলে বাড়ছে অর্ন্তদ্বন্দ্ব

পৌরসভা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ঘোরতর সংশয় ॥ ক্ষমতাসীন দলে বাড়ছে অর্ন্তদ্বন্দ্ব

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis-2দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো পৌরসভা নির্বাচনে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর মহাজোটভুক্ত শরীক জাতীয় পার্টি এবং বিরোধী দল বিএনপি অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সে প্রশ্নে দোদুল্যমান থাকার পরে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে শর্তসাপেক্ষে। শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতমটি হচ্ছে, নির্বাচন অনুষ্ঠান ১৫ দিনের জন্য পিছিয়ে দেয়া। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মী যারা জেলে আছেন তাদের মুক্তি দেয়ার বিষয়টিও রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি অনেক দিনের। সে তুলনায় বিএনপির প্রস্তুতি যে খুবই কম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর উপরে দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই জেলে আর অনেকেরই মাথার উপরে রয়েছে এক বা একাধিক মামলা। এছাড়াও জঙ্গীবাদ দমন ও সন্ত্রাস মোকাবেলার নামে গেল কিছুদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযানের নামে যে ব্যাপক ধরপাকড় হয়েছে এবং হচ্ছে তাতে কম করে হলেও দশ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংখ্যা তাদের তথ্য মোতাবেক চার হাজারের বেশি। জঙ্গী দমন এবং সন্ত্রাস মোকাবেলার নামে যে অভিযানটি এখনো চলছে তা আসলে কোন উদ্দেশ্যে সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে। তবে স্থানীয় পর্যায় থেকে যেসব খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায়, ক্ষমতাসীনদের চিন্তায় আগামী পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়টিই মুখ্য।

বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল অংশ নিলেও নির্বাচনের মাঠটি সবার জন্য কতোটা সমান্তরাল অর্থাৎ কতোটুকু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তা নিয়ে ইতোমধ্যেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যে নির্বাচন কমিশনটি আছে তার ভূমিকা এবং যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীসহ প্রশাসনের যারা এর সাথে সংযুক্ত থাকবেন তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিএনপি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সে প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে। জাতীয় পার্টি দাবি করেছিল, মনোনয়নপত্র ১০ দিন পেছানোর জন্য। তাতেও সাড়া মেলেনি। কমিশন বলছে, আইনি বাধ্যবাধকতার কথা। স্থানীয় সরকারের আইনটি সরকারের হাতে অর্থাৎ তাদেরই এখতিয়ারভুক্ত। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে, যা এক্ষেত্রে নেই। সরকার চাইলে নির্বাচন কিছুটা সময় পেছানো যেতোএমনটাই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের আগে সংবিধান সংশোধনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা গেলেও পৌরসভা নির্বাচন না পেছানোর যে যুক্তি অর্থাৎ ‘আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে’ এমনটি বলার মধ্যদিয়েই সব কিছু দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠে।

নির্বাচন কমিশন নানা হুংকার দিলেও তাদের এসব হুংকারের এক পয়সারও মূল্য আছে বলে মনে হয় না। কারণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘটনাবলী সবারই মনে আছে। ৫ জানুয়ারির ভোটারহীন, নজিরবিহীন নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনেও এমন হুংকার শোনা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তর্জনগর্জনের মধ্যেই পৌরসভা নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার করা হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। নির্বাচন কমিশনের কাউকেই এ পদে দেয়া হয়নি। এখনো কমিশন নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বায়বীয় হুংকারের মধ্যদিয়ে। বলা হচ্ছে, দলীয় প্রধানরা কোনো জনসভায় অংশ নিতে পারবেন না। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রচারপ্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না, সুতরাং খালেদা জিয়া বা এরশাদ যাতে অংশ নিতে না পারেন সে লক্ষ্যে এটি একটি মোটা দাগের কৌশল। এছাড়া কোন দল যদি সামান্য পথসভা বা ঘরোয়া কোনো সভাও করতে চায় নির্বাচনী প্রচারণার লক্ষ্যে, তার জন্যও পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হবে। যে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের নির্দেশে বিরোধী মত, পক্ষ ও দলের কোনো সভাসমাবেশকে অনুষ্ঠিত হতে দেয় না, তাদের হাতে এই দায়িত্ব দিলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে সে বিষয়টি আগাম চিন্তা করতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ থাকার কারণ নেই। এমত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতোটা অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে ঘোরতর সংশয় রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীনদেরই অংশীদার জাতীয় পার্টি এমন সংশয় ব্যক্ত করেছে।

এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নের তালিকা কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই খবর আসছে, দলের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সব দলে কমবেশি অর্ন্তদ্বন্দ্ব থাকলেও ক্ষমতাসীন দলে এর মাত্রাটা অনেক অনেক গুণে বেশি। এ বিষয়ে গত ২৭ অক্টোবর আমাদের বুধবারএ বলা হয়েছিল দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লেখাটি প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় পাঠক তা পুনরায় পড়ে দেখতে পারেন। লেখাটি পড়ার লিংক নিচে দেয়া হলো >>

দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় নর্বিাচন :: আ’লীগই মারাত্মকভাবে ক্ষতগ্রিস্ত হবে

আমীর খসরু