Home » আন্তর্জাতিক » সাগরপাড়ির অভিবাসন :: বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রশ্নে থাই সম্মেলন

সাগরপাড়ির অভিবাসন :: বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রশ্নে থাই সম্মেলন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis-5নতুন নৌচলাচল মওসুম আসছে। সেইসাথে আবার অভিবাসন সঙ্কট দেখা দেওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরই এই সময়টাতে সঙ্কটটি দেখা দেয়। তাই প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। আর সেজন্যই ‘মূল কারণ’ খোঁজা ও সমাধানের জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নতুন করে চাপ দিয়ে থাইল্যান্ডে শুক্রবার শুরু হচ্ছে শীর্ষ সম্মেলন।

দারিদ্র থেকে পলায়মান বাংলাদেশীদের সাথে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বঙ্গোপসাগরের বিপজ্জনক এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা পথ পাড়ি দেয় মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য। অভিবাসীবোঝাই নৌকাগুলো সাধারণত নভেম্বরে মওসুমি বায়ু শেষ হওয়ার পর যাত্রা শুরু করে। গত মে মাসে থাইল্যান্ড মানবপাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান চালানোর প্রেক্ষাপটে চলতি বছরও একই সংখ্যক অভিবাসী সাগর পাড়ি দেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। ওই অভিযানে কোটি কোটি ডলারের ওই বাণিজ্যে জড়িত এক থাই জেনারেল এবং অন্যান্য কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পর হাজার হাজার অভিবাসীকে জঙ্গলের ভয়ঙ্কর শিবির ও সাগরে ফেলে যাওয়া হয়েছিল।

শত শত মানুষ সপ্তাহের পর সপ্তাহ অনিশ্চয়তায় কাটানোর পর থাই, ইন্দোনেশিয়ান ও মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে। তখনই অপহরণ, দমন ও ক্ষুধার একের পর এক কাহিনী শোনা যেতে থাকে।

এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে থাইল্যান্ড। এছাড়া জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েকটি এনজিওকেও প্রতিনিধি পাঠাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংককের ব্যবহার করা শব্দসমষ্টি ‘মূল কারণ’ বলতে আসলে রোহিঙ্গাদের, যাদের অনেকে ২০১২ সালে স্থানীয় বৌদ্ধদের সাথে ভয়াবহ সহিংস সংঘাতসংঘর্ষের পর পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে বর্ণবিদ্বেষপূর্ণ অবস্থায় বাস করে আসছে, প্রতি মিয়ানমারের চলমান নিপীড়নের বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা পরিভাষাটি স্বীকার করে না। তাদের যুক্তি এই মুসলিম সংখ্যালঘুরা আসলে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী, যদিও তাদের অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে বাস করছে।

নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই রোহিঙ্গরা পালাচ্ছে, সেটাও মিয়ানমার এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তার গরিব নাগরিকদের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে ত্যাগ করা বন্ধ করতে পর্যান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। গত মে মাসে অভিবাসন সঙ্কট যখন তুঙ্গে ছিল, তখনও থাইল্যান্ডে একই ধরনের একটি শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল।

তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলো মে সম্মেলনের সমালোচনা করেছিল এই বলে যে, এতে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে অনুকূলপূর্ণ সমঝোতামূলক কূটনীতির জন্য পরিচিত অঞ্চলটিতে বাগাড়ম্বপূর্ণ আলোচনার চেয়ে বেশি কিছু হয়নি।।

(ব্যাংককনিউজ অবলম্বনে)