Home » অর্থনীতি » এডিপি বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন

এডিপি বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis-5চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি। এ সময় এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৭ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ শতাংশ এবং ২০১৩১৪ অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ হার ছিল ১৯ শতাংশ। সে হিসাবে তিন বছরের মধ্যে এ বছর এডিপি বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছর (২০১৫১৬) এডিপির আকার ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। সব মিলে চলতি অর্থবছর মোট ব্যয়ের লক্ষ্য ১ লাখ ৯৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

এডিপি বাস্তবায়নে শ্লথগতির বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাইসেপ্টেম্বর) তীব্র বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণে এডিপি বাস্তবায়নও ধীরে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি থেকে অর্থ ব্যয় বাড়বে। প্রতি বছর টাকার অঙ্কে এডিপির আকার বাড়ার ফলে ব্যয়ের আকারও বেড়েছে। যদিও শতাংশের হিসাবে তা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে অর্থবছরের শেষ নাগাদ শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে প্রায় ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে; টাকার অঙ্কে যা ৭৩ হাজার ৬৮১ কোটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথম পাঁচ মাসে ব্যয় করেছে ৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। তাদের বরাদ্দ রয়েছে ১৬ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন হার ১৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের বরাদ্দ ১৬ হাজার ১৪০ কোটি টাকা; ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সংস্থাটি মোট বরাদ্দের ২৭ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে। সেদিক থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে তারা। এছাড়া সেতু বিভাগের বরাদ্দ ৮ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৪১ কোটি বা ১৩ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ১৪ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় ১৬, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২১, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৭ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

গত পাঁচ মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা; যা মোট বরাদ্দের ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে প্রকল্প সাহায্য ব্যবহার হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা; যা বরাদ্দের ১৪ শতাংশ। মূলত প্রকল্প সাহায্য ব্যবহার গত দুই বছরের তুলনায় কমেছে। ২০১৩১৪ ও ২০১৪১৫ অর্থবছরে প্রকল্প সহায়তার অর্থ ব্যয় হয়েছিল যথাক্রমে বরাদ্দের ১৭ ও ২১ শতাংশ। আইএমইডির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অর্থবছরের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও আট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। ১ শতাংশ ব্যয় করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। আর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ৫ শতাংশ অর্থ। এছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দের ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৯ শতাংশ, অর্থ বিভাগ ৯, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

গত ২০১৪১৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হার ছিল আগের পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৯১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল; টাকার অঙ্কে যা ৭১ হাজার ৭৯ কোটি। আগের বছর সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ শতাংশ। সেবার সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ৬৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা; খরচ হয় ৫৯ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা।

২০১৫১৬ অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাইনভেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) গতি পায়নি ১২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। পাঁচ মাসে কর্মসূচির ১০ শতাংশও সম্পন্ন করেনি এসব মন্ত্রণালয়বিভাগ। এই সময়ে গড় বাস্তবায়ন হারও তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৭ শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ৫৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১২টিতে বাস্তবায়ন গতি ১০ শতাংশের নিচে। যেমনঅভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মোট বরাদ্দ ৪৫৩ কোটি ৭৭ লাখ অথচ এডিপির বাস্তবায়ন হার মাত্র ১ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩, শিল্প মন্ত্রণালয় ৩, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৯, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও মন্ত্রণালয় ৫, অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয় ৬, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ ও লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ পাঁচ মাসে মাত্র ৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।।