Home » প্রচ্ছদ কথা » রাষ্ট্রকে অধিকতর নিপীড়ক করার অবিরাম প্রচেষ্টা

রাষ্ট্রকে অধিকতর নিপীড়ক করার অবিরাম প্রচেষ্টা

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

Coverএক.আমি বলেছিলাম, ভাইয়া যদি খুব টর্চার করে? ভাইয়া বলেছিল,‘তুই তো জানিস আমি কত টাফ। ওরাও সেটা বুঝে গেছে। ওরা আমাকে ব্রেক করার জন্য এমনভাবে টর্চার করেছে বাইরে কোথাও কাটেনি, ভাঙেনি। কিন্তু ভেতরটা মনে হয় চুর চুর হয়ে গেছে! দেখিস আম্মাকে যেন বলিস না এসব কথা’। মা, তুমি জোর করলে, তাই বলে দিলাম। ভাইয়া কিন্তু মানা করেছিল(৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ১৯৭১, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ডায়রি)

একজন মা তার ডায়রিতে লিখেছেন, হৃদয় বিদারক এসব কথা। না, তার সেই ছেলে আর ফিরে আসেনি, যে হত্যাকারীরা তার কোল খালি করেছিল, বহু বছর তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেনি। তবু অদম্য সাহস নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর অসংখ্য ছেলে হত্যার বিচার পেতে, পুরস্কার পেয়েছিলেন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামী হয়ে। জীবনও সাঙ্গ হয়ে গেছে, বিচার দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশ এখন দেখছে গণহত্যার সহযোগীদের বিচার, তিনিও কি দেখছেন পরপারে, লোকচক্ষুর অন্তরালে!

দুই.জোহরাকে কয়েকদিন পর আমি সবার অলক্ষ্যে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মেট্রন যখন জেলারকে বলল যে, সে তোমাদের মাত্র দুটো চড় মেরেছে, তখন কেন বললে না, তোমাদের জানোয়ারের মত মেরেছিল’। ম্লাান হেসে জোহরা বলেছিল, ‘আপা, আপনের এই বুদ্ধি! খেয়াল কইর‌্যা দেইখেন মেট্রন মা হাতেপায়ে মারে না। মাইরের কথা বললে চিহ্ন দেখাইতে হইতো গায়ের কাপড় খুইল্যা, পরমান দেহাইতে হইতো’। সত্যিই হাত পা বেধে যে এমন গরু পেটা করা সম্ভব সেটা আমার বুদ্ধিতে কুলায় না।

ষাট দশকের অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরীর ১৯৬৭৬৮ সালের জেল জীবনের স্মৃতি নিয়ে লেখা দেয়াল দিয়ে ঘেরা গ্রন্থে অর্ধশত বছর আগের অভিজ্ঞতার কথা তিনি লিখেছেন এভাবে, যখন তাঁর চোখেমুখে দেশজাতি বদলানোর বিপুল প্রণোদনা। বিচারহীনতা ও নির্যাতন ছিল যে রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। উত্তরকালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত হয়ে পাকিস্তানী জামানার সেই অন্যায় ও বিচারহীনতার কি কোন প্রতিকার তিনি করেছেন? তার কি মনে পড়ে বিএনপিজামায়াত আমলে পুলিশের হাতে বেধড়ক লাঠিপেটার কথা? নাকি মনে পড়ে বলেই প্রবল জিঘাংসা তাঁর? সেজন্যই কি তিনি এখন প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ?

কিলঘুসি মুখে, পাঁজরের দুপাশে, বুকেপিঠেঘাড়ে মারতে লাগল। তাদের লাথি আমার তলপেটে, হাটুতে আর গোড়ালিতে। বিপর্যস্ত, আহত আমি মেঝেতে ছিটকে পড়লাম। লোকটি ফিরে এল প্লাষ্টিকের বোতল নিয়ে, পিঠে ও পাছায় আঘাত করলো সে বোতলটি আমার পায়ুপথে ঢোকানোর চেষ্টা করলো, … আমি মেঝেতে ঘুরে পড়ে গেলাম…’

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের লেখা জেলের কথা, মানুষের কথা বইয়ের ২৪ পৃষ্ঠায় ২০০২ সালের ২১ মার্চ দিনগত রাতের পৈশাচিক, বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা তিনি দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবার পরে তিনি কি করেছেন? তখন কি জিঘাংসাপ্রতিশোধস্পৃহা কাজ করেছে? সেজন্যই কি তিনি প্রতিপক্ষ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন? রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে প্রতিপক্ষ হরতালকারীদের ঝাঁকুনির পরে ভবনটি ধ্বসে গেছেএই তত্ত্ব আবিস্কার করেছিলেন? যে নৃশংসতার শিকার তিনি জেলখানায় হয়েছিলেন সেটি পালটানোর বদলে কাঁটা দিয়েই কি কাঁটা তুলেছিলেন?

নিজেরা যে মধ্যযুগীয় বর্বরতার কারিগর ছিলেন তার শিকার কিভাবে হয়েছিলেন সে বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে ম্যান অব অল সিজেন খ্যাত বর্তমান বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের কারাগারে কেমন ছিলাম গ্রন্থে। লিখছেন তিনি,…‘আমাকে আবার সেই বন্ধ প্রকোষ্ঠে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠলো এবং মনে হলো আমার শিরার গতি ক্রমশ: অচেতন হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছিল এবারকার অবস্থা আগের চাইতেও ভয়াবহ, সামনেপেছন থেকে উপর্যুপরি লাঠির আঘাত, আমাকে অর্ধনগ্ন করে অবিরত চড়, কিল, ঘুসি মারা হবে, অচেতন হয়ে গেলে রক্তাক্ত মুখ ও দেহে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেয়া হবে….’

কি হৃদয় বিদারক বর্ণনা! মধ্যযুগীয় যে নির্যাতনের শিকার বাঙালীরা ২৩ বছর পাকিস্তানে এবং স্বাধীন দেশে গত ৪৪ বছরক্ষমতায় থাকাকালে সেটির কারিগরও আবার তারা। মওদুদ যখন নিজেই এর শিকার, তার কি একবারের জন্যও মনে হয়েছিল, বিএনপিজামায়াত শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ননির্যাতন বৈধতা পেয়েছিল তার হাতেই। নাকি তিনি অতীত ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধ বা জিঘাংসা চরিতার্থ করছিলেন রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে? কিন্তু যে ব্যবস্থা তিনি রেখে এসেছিলেন সেটিই তো বিপুল বিক্রমে আবার আঘাত হানছে, তাঁকে, তাঁর দলকেকি শিক্ষা নিলেন তারা?

এতো গেল আমাদের বড় বড় রাজনীতিবিদ, শাসনকর্তাযারা নিজেদের সৃষ্ট ফ্রাঙ্কেইনষ্টাইনদের শিকার হয়েছিলেন এবং যারা কখনই বদলাবেন না বা বদলের জন্য কাজ করবেন না। ক্ষমতায় থাকলে প্রতিপক্ষ দমননিশ্চিহ্নকরণে প্রয়োগ করবেন মধ্যযুগীয় বর্বরতা এবং ক্ষমতার বাইরে হবেন শিকার। কিন্তু সাধারণ মানুষ? রাজনৈতিকসামাজিকব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং অপরাধ প্রমানিত হওয়ার আগেই গণপিটুনী, ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গ্রেফতার হওয়ার পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে টপাটপ মরে যাবেন, বিচার পাবেন নাতাহলে কোথায় যাবেন তারা? নাকি সাত্বনা নেবেনআল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে বলে!

তিন. সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত প্রচ্ছদ কাহিনী ‘অদৃশ্য আততায়ী’র কথা মনে আছে? ঐ প্রচ্ছদ কাহিনীতে ছবিটি ছিল এক তরুনের, যে কিনা জনতার উন্মত্ত পিটুনীর শিকার হয়ে মারা গিয়েছিল হাইজ্যাকার সন্দেহে। শুধু সেই নয়, সে সময়ে একের পর এক তরুণ প্রাণ ঝরে পড়েছিল শুধুমাত্র হাইজ্যাকার সন্দেহে, প্রবল জনরোষের শিকার হয়ে। কারন জনগণ আস্থা হারিয়েছিল রাষ্ট্রসরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। দোধারী তলোয়ার কাটছিল তাদের। একদিকে রক্ষীবাহিনীর আতংক, অপরদিকে হাইজ্যাকার ডাকাতসহ নানা প্রাইভেট বাহিনীর আক্রমনের শিকার দিশেহারা জনগণ আইন তুলে নিয়েছিল নিজের হাতে।

বিয়াল্লিশ বছরে অবস্থা কি মোটেই পাল্টেছে? রাষ্ট্রসরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনআস্থা তলানীতে গিয়ে ঠেকছে দিনকে দিন। আর সেজন্য কি বারবার জনগণ আইন হাতে তুলে নেয়? বিচারের দায়িত্ব নিজেদের তুলে নেয়? এজন্যই কি গণপিটুনীর শিকার হয়ে ১১ মাসে নিহত হয় ১৩৩ জন মানুষ? অথচ সংবিধানের ৩১, ৩৩ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের আশ্রয় লাভ, আইন অনুযায়ী ব্যবহার লাভ, বিচার লাভ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ লাভ, অপরাধীনিরাপরাধী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে এই মৌলিক অধিকারের সর্বোচ্চ প্রয়োগ হয়, আর জনগণ বা অপরাধীদের ক্ষেত্রে হয় অপপ্রয়োগ।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা বলে দিয়েছে, কাউকে গণপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলা হলে খুন বলে গন্য হবে। যদি অপরাধীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মেরে ফেলার বিষয়টি প্রমানিত হয়, তার শাস্তি যাবজ্জীবন বা অনুর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা অথবা উভয়বিধ দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এমন একটি ঘটনার নজির দেখানো যাবে না যে, দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা প্রযোজ্য হয়েছে? গণপিটুনীর শিকার কোন মানুষের পরিবার গত ৪২ বছরে বিচার পেয়েছে? বরং সাদা পোশাকের পুলিশের হাতে গণপিটুনীতে অপরাধী নিহত হওয়ার অনেক নজির রয়েছে এই দেশে।

ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছেসংবিধানে উল্লেখিত এই মৌলিক অধিকার গত ৪৫ বছরের বাংলাদেশে কত সহস্রবার লংঘিত হয়েছে, তার হিসেব কি কারো কাছে আছে? বিচার বিভাগ যদি সংবিধানের আইনী অভিভাবক হয়ে থাকে তাহলে এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোন পদক্ষেপ নিশ্চিত করেছেন? জাতীয় সংসদে বিষয়টি কখনও কি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা বা প্রতিরোধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেরইবা ভূমিকা কি? এই প্রশ্নগুলোর মীমাংসা না হলে পুন: পুন: ঘটনা ঘটবে, জনগণ আইন তুলে নেবে নিজের হাতে!

গুম বা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার শিকার পরিবারগুলি কি অপেক্ষা করবে অনন্তকাল প্রিয়জনের অপেক্ষায়? বছরের পর বছর তারা ধর্ণা দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যালয়গুলিতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেনসাহায্য চেয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর। বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা মিজানের বাবা তো বলেই ফেলেছেন, ‘আমার ছেলেকে যদি মেরে ফেলা হয়, তাহলে কোথায় পুঁতে রেখেছেন, বলেন। আমি সবাইকে নিয়ে জিয়ারত করব’। কিংবা কাজী রকিবের বাবা কাজী আব্দুল মতিনের মত প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলবেন– ‘আপনার সন্তানদের ধরে নিয়ে গেলে আপনি কি করতেন’? শোকার্ত, ক্ষুব্দ এইসব পিতামাতা, স্বজনদের প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি আছে? থাকলে নিশ্চয়ই তিনি গভীর সংবেদনশীলতার সাথে গুমনিখোঁজ মানুষদের পরিবারের সাথে একাত্ম হতেন। কারন অন্তিমে সরকার প্রধান হিসেবে এর দায়দায়িত্ব তাকেই য়ে বহন করতে হবে।

জাতির জন্য আগষ্ট মাস যেমন শোকাবহ, ব্যক্তি শেখ হাসিনার জন্য আরো বেশি বেদনাবহ। ভয়াবহতা ও নৃশংসতার জন্য ১৫ ও ২১ আগষ্ট ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। কিন্ত ৩০ আগষ্ট পালিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস গুমনিখোঁজের শিকার পরিবারগুলোর কাছে বিশেষ কোন বার্তা বয়ে আনে না। যেমনটি গত ৩ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজদের স্বজনদের আর্তি রাষ্ট্রসরকারের নির্লিপ্ততায় কোন উপাদান যোগ করতে পারেননি। ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনীতে নারায়নগঞ্জে ৭ জন ও বছর জুড়ে ১৩৩ জন কেবলই নিহতের মিছিলকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করছে।

সবচেয়ে নেতিবাচক বিষয় হচ্ছে, এসবের ফলে জনমনে সৃষ্ট বিপদজ্জনক পারসেপশন। দায়িত্বশীলরা যখন কোন কিছুর পরোয়া করেন না, আমলে নেন না, তখন এরকম পরিস্থিতি তৈরী হয়। গুমনিখোঁজ স্বজনের সন্ধান চান পরিবার, নিদেনপক্ষে লাশ ফেরত পেতে চান কিন্তু সরকারের কাছে এর কোন গুরুত্ব নেই। এজন্য জনগণের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেয়ার সবচেয়ে বিপদজ্জনক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। আইনের শাসনহীনতা, প্রলম্বিত বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে আত্মধ্বংসী পথে।

রাষ্ট্রে এখন পক্ষ তিনটি। একপক্ষ অপরাধের শাস্তি দিচ্ছেন। অপরপক্ষ অপরাধের শাস্তি নিচ্ছেন। আরেকপক্ষ বিরোধী দল হয়েও রাজপথে না থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে আমজনতা অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিপীড়ননির্যাতনের শিকার হয়ে কখনওকখনও আইন হাতে তুলে নেয়। এরা সবাই কোন না কোন সময় রাষ্ট্রীয় শাসনদণ্ড হাতে পেয়েছিলেন। ক্ষমতায় বসে ভুলেই ছিলেন যে এটি চিরস্থায়ী নয়। এরা কেউই রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যযুগীয় কালাকানুন বদলানোর চেষ্টা করেননিএখনও করছেন না। বরং রাষ্ট্রকে অধিকতর নিপীড়ক করে তুলতে চাচ্ছেন। এইসব পক্ষের বাইরে জনগণের অস্তিত্ব কোথায়? সেই অস্তিত্ব জানান দিতেই কি আইন হাতে তুলে নেয়ার বিপদজ্জনক প্রবণতা তৈরী হচ্ছে?