Home » অর্থনীতি » লাভবান শিল্পোন্নত দেশ ও কর্পোরেট ॥ উপেক্ষিত অনুন্নতরা

লাভবান শিল্পোন্নত দেশ ও কর্পোরেট ॥ উপেক্ষিত অনুন্নতরা

এম. জাকির হোসেন খান

Dis-4সদ্য সমাপ্ত কপ২১ প্যারিস সম্মেলনে গৃহীত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তিকে মূল্যায়ন করেছেন জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিশ্বের প্রধান বিজ্ঞানী ও নাসার প্রাক্তন গবেষক জেমস হ্যানসেনঠিক এভাবেই– ‘এটা প্রৃকৃতপক্ষে প্রতারণা, একটা ভূয়া মন্তব্য যারা করো আমরা বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড কমানোর টার্গেট করেছি এবং প্রতি ৫ বছরে চেষ্টা করবো সামান্য পরিবর্তনের চেষ্টা করবো। এটা একটি অর্থহীন মন্তব্য. কোনো ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ নেই, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি। যতক্ষণ পর্যন্ত জীবাশ্ম জ্বালানি সবচেয়ে সস্তা জ্বালানি হিসেবে বাজারে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ব্যবহার হবেই’। জেমস হ্যানসেন জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক সচেতনতা সৃষ্টিকারীদের ‘পিতা’ বলেও পরিচিত। তিনি ১৯৭০ সাল হতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে গবেষণা করে যাচ্ছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল কমিটিকে ১৯৮৮ সালে প্রথম প্রায় ৯৯% সুনিশ্চিতভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা জানান। হ্যানসেন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয় আলোচনা না করায় কপ সম্মেলনগুলোকে গুরুত্বহীন মনে করেন। তিনি একে উপহাস করে ‘আন্তর্জাতিক জাম্বুরী’ বলে অভিহিত করেছেন।

জাতিসংঘের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ ডিগ্রী হলেও বিপন্ন দেশগুলোর তীব্র দাবির মুখে প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল২ তে বলা হয়েছে, প্রাক শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হবে এবং ১.৫ ডিগ্রী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। আশা করা হচ্ছে যে, এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা যাবে। উল্লেখ্য, গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন বন্ধ করার কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি প্যারিস চুক্তিতে। বর্তমান প্যারিস চুক্তির ৯ ডিসেম্বরের খসড়ায় উল্লেখ ছিলো, ২০১০ সালের সাপেক্ষে ২০৫০ সাল নির্গমন নাগাদ কমিয়ে আনা হবে [৪০৭০ শতাংশ] [৭০৯৫ শতাংশ]। অথচ চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে (আর্টিকেল ৪.) সেগুলো বাদ দিয়ে বলা হয়েছে সব দেশ ‘গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমণ সর্বোচ্চ অবস্থায় নিয়ে যাবে যত দ্রুত সম্ভব।’ এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ভাগের কোনো সময়ে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন ‘নেট জিরো’ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। অর্থাৎ যেটুকু কার্বন নির্গমন করা হবে সেটা শুষে নেওয়ার জন্য বনভূমি সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ফ্রেন্ডস অব দি আর্থ’র প্রতিনিধি লুসি ক্যাডেনা বলেছেন, ‘উন্নত বিশ্বের দেশগুলো ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকার ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বিস্ময়করভাবে এই চুক্তিপত্র অনুযায়ী ২০৯৯ সাল পর্যন্ত কার্বন নির্গমণ চালিয়ে যাওয়া যাবে’। প্রত্যাশা এবং বাস্তবতার ফারাক বিশাল হওয়ায় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাস্তবে কতখানি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ এর ২২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৫৫টি দেশ যারা পৃথিবীর পুরো গ্রীনহাউজ গ্যাসের ৫৫ শতাংশ নির্গমণ করে তারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে তবেই এ চুক্তি বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষভাবে দাবি জানিয়েছিল, দেশভিত্তিক আইএনডিসি (জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ) প্যারিস চুক্তিপত্রে অন্তর্ভূক্ত করার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিরোধীতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও অস্বচ্ছভাবে চুক্তি চুড়ান্ত হওয়ার শেষ মূহুর্তে কিছু শব্দ পরিমার্জনের ফলে চুক্তিপত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেমন চুক্তির খসড়ায় বেশ কয়েক জায়গায় দেশগুলোকে ‘করতে হবে’ (Shall) বলা হলেও চুড়ান্ত পর্যায়ে ‘করা উচিৎ’ (Should) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে, আইনী বাধ্য বাধ্যবাধকতা থাকলেও কাংখিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের নেগোসিয়েটর হিসেবে দক্ষ আইনজ্ঞ এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সরকারি প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে কমপক্ষে আইনী মারপ্যাঁচগুলো ধরতে সক্ষম হতো এবং সে অনুযায়ী চাপ প্রয়োগ করলে হয়তো কিছুটা লাভ হতেও পারতো।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রাক শিল্পায়ন সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা মাত্র ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে গেলে অবিলম্বে সকল জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার ব্যাপকহারে কমিয়ে উৎপাদন করতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে জার্মানি এবং ইউরোপরে কিছু দেশ অগ্রগামী হলেও অন্যান্য দেশ কখন কিভাবে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রত্যাবর্তন করবে বর্তমান কয়লাভিত্তিক সস্তা জ্বালানির বিপরীতে তা নিশ্চিত নয়। এ প্রেক্ষিতে প্যারিস চুক্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী হ্যানসেনের মন্তব্য অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে। হ্যানসেন প্যারিস সম্মেলনে বলেন, ‘প্রতি টন কার্বন নিঃসরনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর ১৫ ডলার ‘দুষণ ফি’ ধার্য করে প্রতি বছর তা ১০ ডলার করে বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন এবং তিনি দেখান এর মাধ্যমেই শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৬০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব। আর বিশ্বব্যাপী এ ফি ধার্য করা হলে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার আদায় করা সম্ভব। অথচ বর্তমানে এক হিসেবে দেখা গেছে বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরির্বতন মোকাবেলা করতে হলে প্রতি বছর গড়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে প্যারিস সম্মেলনে এ বিষয়ে কোন দিক নির্দেশনা না থাকায় এটা অনস্বীকার্য যে, কার্বন নিঃসরণের যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে হবে তা স্বপ্নই থেকে যেতে পারে।

ব্যাপক কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধক হওয়ায় শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এসব দেশ অধিকাংশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে অবস্থান করছে এমন দেশে (যেমন, বাংলাদেশের মাতারবাড়ি এবং সুন্দরবনের কাছে রামপালে) কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওইসিডি ভুক্ত শিল্পোন্নত দেশসমূহ বিশেষ করে জাপান, চীন, ভারত, রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া শুধু কয়লাভিত্তিক শিল্পে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং এর মধ্যে জাপানই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে শিল্পোন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশসমূহ ব্যাপকভিত্তিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতির কথা বললেও বাস্তবে এসব দেশ যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে তা তারা কি প্রত্যাহার করবে? এক্ষেত্রে বিশ্ব বাজারে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুতের দাম কম থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে?

শুধু তাই নয়, আইপিসিসি’র ৫ম এসেসমেন্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপকূলীয় বন্যা, তীর ভাঙন এবং কৃষিতে বিপর্যয়ের প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ২.৭ কোটি সহ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫ কোটি মানুষ জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থী হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ক্ষতির শিকার হওয়া ও আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রবল ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশ সহ দ্বীপরাষ্ট্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে আলাদাভাবে একটি লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল গঠনের দাবির প্রেক্ষিতে এ ধরনের একটি তহবিল গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু আইনী বাধ্যতায় শিল্পোন্নত দেশসমূহ কর্তৃক যথাযথ ক্ষতিপূরণ বাবদ তহবিল বা কারিগরি সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতা ছিলো শিল্পোন্নত দেশসমূহ সরাসরি চুক্তিতে উল্লেখ না করে অস্বচ্ছভাবে কপ২১ এর সিদ্ধান্তে প্যারা ৫২ (Agrees that Article 8 of the Agreement does not involve or provide a basis for any liability or compensation) অন্তর্ভুক্ত করে প্যারিস চুক্তির ৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে দয়াদাক্ষিণ্য বা খয়রাতি সাহায্য প্রদানের কথা বলেছে। অথচ বিশ্বব্যাপী দাবি ছিলো, জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে বিশ্ব বাণিজ্য চুক্তির মোড৪ এর আওতায় সার্বজনীন ‘প্রাকৃতিক ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পুনর্বাসন, কল্যাণ ও উন্নয়নে কানকুন চুক্তি ২০১০ এর আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন, এবং জিসিএফ ও অন্যান্য উৎস হতে অভিযোজন বাবদ প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের।

বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের পক্ষে দাবি ছিলো, কোপেনহেগেন চুক্তির আওতায় শিল্পোন্নত দেশগুলো কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিপূরণ হিসাবে অভিযোজন এবং প্রশমন বাবদ ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি বছর উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার যা পরবর্তীতে ২০৩০ পর্যন্ত বেড়ে প্রয়োজনীয় তহবিল অনুদান হিসাবে সরকারি অর্থায়ন করা হবে। অথচ প্যারিস চুক্তির ৯.৩ অনুচ্ছেদে ২০২৫ সন পর্যন্ত বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হলেও এটা কি অভিযোজন বা প্রশমন বাবদ দেওয়া হবে তা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। কপ ২১ এর সিদ্ধান্তে (প্যার ৫৪) তা কার্যকর প্রশমন এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যায় করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল প্রদানের কথা বলা হলেও সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় তা নগণ্য। উল্লেখ্য একুশ শতকের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রীর নিচে রাখতে হলে প্রতিবছর রাষ্ট্রগুলোকে কমপক্ষে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে।

২০১৪ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী (ইউনেপ) প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বিশ্বব্যাপী অভিযোজনের জন্য ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতি বছরে কমপক্ষে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। অথচ প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল ৯ এর প্যারা ৪ এ অভিযোজন বাবদ অনুদান ভিত্তিক সরকারি অর্থায়নের কথা বলা হলেও কি পরিমাণ তহবিল, কোন খাত থেকে কে কখন, কিভাবে দেবে, সেসব কিছুই উল্লেখ নেই। শিল্পোন্নত দেশগুলো (২০১০ সাল হতে ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিলের বিপরীতে এ পর্যন্ত সর্বমোট মাত্র ২.৬ বিলিয়ন ডলার (.% তহবিল) ছাড় করেছে। এটা স্পষ্ট যে, প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে শিল্পোন্নত দেশগুলো জলবায়ু সহিষ্ণু শিল্প বা জ্বালানি সরবাহের নামে বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং তাদের মন্দা অর্থনীতিকে চাঙা করার একটা মহাসুযোগ তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, ১৯৯৭ সনের কিয়োটো চুক্তির মাধ্যমে এনেক্স১ ভুক্ত দূষণকারী দেশসমূহকে দায় স্বীকারে বাধ্য করা গেলেও ইউএনএফসিসি’র আর্টিকেল ২.২ এ’র ‘(দেশগুলো) তাদের ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে দায়িত্ব পালন করবে’ এ ধারাকে ব্যবহার করে প্যারিস চুক্তিতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোনো সুস্পষ্ট সীমারেখা বা পৃথকীকরণ না রেখে সে দায় হতে মুক্তি নিয়েছে। অর্থাৎ আইনী কাঠামোর মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষার দায়টি কতগুলো আন্তর্জাতিক কর্পোরেট বা শিল্পোন্নত দেশগুলোর সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রকৃত চাহিদা এবং চুক্তির বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান ভবিষ্যতে আরো সুস্পষ্ট হবে তা নির্দ্ধিধায় বলা যায়।।