Home » অর্থনীতি » ব্যবসা পরিবেশ :: অবস্থান তলানিতেই

ব্যবসা পরিবেশ :: অবস্থান তলানিতেই

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Last-1ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ সুরক্ষা, পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো। এছাড়া ঋণের সহজপ্রাপ্তি, সম্পত্তির মালিকানা লাভের প্রক্রিয়া, আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন উদ্ভাবন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অনুপস্থিতি এবং ব্যক্তিস্বাধীনতাও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এসব মানদণ্ডের কোনোটিতেই ভালো অবস্থানে নেই বাংলাদেশ। ফলে ব্যবসার জন্য বাংলাদেশ আদর্শ স্থান নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বাণিজ্য সাময়িকী ফোর্বস।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘দ্য বেস্ট কান্ট্রিজ ফর বিজনেস ২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসার পরিবেশের দিক থেকে ১৪৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২১তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে রয়েছে বাংলাদেশ। ১১টি উপাদানের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের ব্যবসার পরিবেশ বিশ্লেষণ করেছে ফোর্বস। এগুলো হলো বাণিজ্য স্বাধীনতা, আর্থিক স্বাধীনতা, সম্পত্তি অর্জনের অধিকার, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা, দুর্নীতি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, করের বোঝা ও শেয়ারবাজারের অবস্থা। এ উপাদানগুলো বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয় বিশ্বের খ্যাতনামা কিছু গবেষণার তথ্য।

সূচকগুলো বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ফোর্বস বলছে, বিশ্বে ব্যবসা করার জন্য উৎকৃষ্ট দেশ ডেনমার্ক। শীর্ষ পাঁচে এর পর রয়েছে যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড ও সুইডেন। তালিকায় শেষের পাঁচটি দেশ হলো যথাক্রমে মিয়ানমার, হাইতি, লিবিয়া, গিনি ও শাদ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকা ৯১, ভারত ৯৭, ভুটান ১০১, পাকিস্তান ১০৩ ও নেপাল ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ব্যবসার জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ খুব বেশি উন্নত নয়, এটা আগে বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস’ ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক’এ উঠে এসেছিল। এবার ফোর্বসের প্রতিবেদনেও একই চিত্র উঠে এসেছে। এর মূল কারণ অত্যধিক করহার, ঋণের উচ্চসুদ, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ইত্যাদি। এছাড়া বিনিয়োগকারীর সুরক্ষার অভাব, ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ও দুর্নীতিও বাধা হিসেবে কাজ করছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো ব্যবসা করার জন্য আদর্শ নয়, এমন দেশগুলোর বেশির ভাগই যুদ্ধ বা দুর্যোগকবলিত। আর কিছু দেশ আফ্রিকা খুবই দরিদ্র। তবে বাংলাদেশ এ ধরনের ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না হলেও তলানির দিকেই অবস্থান করছে। এর মূল কারণ সরকারি বিভিন্ন নীতি ও প্রতিষ্ঠান। এগুলোর পরিবর্তন ছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশে উন্নতির খুব বেশি সুযোগ নেই বলেই মনে করেন তিনি।

ফোর্বসের তথ্যমতে, ‘দ্য বেস্ট কান্ট্রিজ ফর বিজনেস ২০১৫’ সূচকটি প্রণয়নে ব্যবহৃত প্রথম দুই মানদণ্ড বাণিজ্য স্বাধীনতা ও আর্থিক স্বাধীনতা পরিমাপে ব্যবহার করা হয়েছে হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ইনডেক্স অব ইকোনমিক ফ্রিডম ২০১৫এর তথ্য। এটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। দুই মানদণ্ডেই বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল। বাণিজ্য স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ দেশের মধ্যে ১৩৭ ও আর্থিক স্বাধীনতায় ১৩১তম। মানদণ্ড দুটির আওতায় আইনের শাসন, সীমাবদ্ধ সরকারি কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণমূলক দক্ষতা ও উন্মুক্ত বাজার বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলোর কোনো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ খুব বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস ২০১৬এর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে করের বোঝা, বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিমাপে। এ তিন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ৭০, ৮০ ও ৯৪তম। এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে ব্যবসায় শুরু, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণ প্রাপ্যতা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়াত্ব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করে আসা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডম হাউজের তথ্যের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়েছে ব্যক্তিস্বাধীনতা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ দেশের মধ্যে ৯২তম। এজন্য বিবেচিত রাজনৈতিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকরা আংশিক স্বাধীনতা ভোগ করে বলে মনে করে ফ্রিডম হাউজ।

উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অবস্থান পরিমাপে ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৫১৬’। উভয় মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মান, গবেষণা ও উন্নয়নে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সংযোগ, আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য ক্রয়ে সরকারি ব্যয়, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী প্রাপ্যতা এবং মেধাস্বত্ব নিবন্ধনের হার বিবেচনা করা হয়েছে।

দুর্নীতির মাত্রা পরিমাপে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ‘দুর্নীতি ধারণা সূচক ২০১৪’ ও সম্পদ অর্জনের অধিকার পরিমাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রপার্টি রাইটস অ্যালায়েন্সের ‘দ্য প্রপার্টি রাইটস ইনডেক্স ২০১৫’এর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ দুই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ দেশের মধ্যে যথাক্রমে ১২৯ ও ১২৭তম। আর শেয়ারবাজারের অবস্থা পর্যালোচনায় ব্যবহার করা হয়েছে সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গর গত ১২ মাসের তথ্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৩তম।

ব্যবসার পরিবেশসংক্রান্ত কিছু মানদণ্ডে বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় থাকলেও মৌলিক বিষয়গুলোয় দুর্বলতা রয়ে গেছে। ফলে গত দুই দশক আগে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে যে বড় ধরনের আশা সঞ্চার হয়েছিল, সে তুলনায় অগ্রগতি খুবই সামান্য। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় যখন ৬৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ যাচ্ছে, তখন আমাদের দেশে ২ বিলিয়ন ডলারও অর্জন হয়নি। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার দিক থেকে আমরা এখন হাঁটছি, অন্যরা তখন দৌড়াচ্ছে। আর এ পিছিয়ে পড়া রোধে সরকারের উচিত বিভিন্ন মৌলিক খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া। না হলে ব্যবসার পরিবেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে জমি কিনলে তার নিবন্ধনে সময় লাগে ২৪৪ দিন। আর ওই জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি পেতে লেগে যায় ২৬৯ দিন। এখানেই শেষ নয়, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎসংযোগ পেতে সময় লাগে আরো বেশি, গড়ে ৪২৯ দিন (এক বছর দুই মাসের বেশি)। আর এসব সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের ব্যয় করতে হয় কোটি টাকার বেশি।

এসব ঝামেলা পেরিয়ে ব্যবসা শুরু করেও মুক্তি নেই বিনিয়োগকারীদের। পণ্য আমদানিরফতানি প্রক্রিয়ায়ও পোহাতে হয় নানা জটিলতা। এর মধ্যে রফতানির নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগে ১৪৭ ঘণ্টা (ছয়দিনের বেশি)। এতে ব্যয় করতে হয় ৮৩০ ডলার। আর আমদানিতে ব্যয় করতে হয় ১ হাজার ৮৬১ ডলার; সময় লাগে ১৪৪ ঘণ্টা (ছয়দিন)। এর ওপর সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সময়ের অপচয় তো আছেই। আমদানিরফতানির পণ্য পরিবহনে ঢাকাচট্টগ্রাম করিডোর পেরোতে লেগে যায় প্রায় ২০ ঘণ্টা। আর বন্দরে আমদানিতে যায় ১৮৩ ঘণ্টা ও রফতানিতে ১০০ ঘণ্টা।

এদিকে, বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস ২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সহজে ব্যবসা করার সূচকে কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে পেছাচ্ছে বাংলাদেশ। সাত বছর আগে ২০০৯ সালে সূচকটিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৩টি দেশের মধ্যে ১১৫তম।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসাবান্ধব প্রয়োজনীয় পরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। চলতি বছর ১০০এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৪৩ দশমিক ১০, গত বছর যা ছিল ৪২ দশমিক ৭১। পয়েন্টে সামান্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় তা কম। তাই সার্বিক সূচকে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ব্যবসায় পরিবেশকে ১০টি উপসূচকে বিন্যস্ত করে সেগুলোর অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলো হলো ব্যবসায় শুরু, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণ প্রাপ্যতা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া দশার সমাধান।

১০টি সূচকের কোনোটিতেই এ বছর উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। বাকি পাঁচটি সূচকে অবস্থান আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ব্যবসায় শুরুর সূচকে। গত বছর এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১১। ছয় ধাপ পিছিয়ে এবার সূচকটিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম। ঋণ প্রাপ্যতা সূচকে ১২৮ থেকে পাঁচ ধাপ পিছিয়ে এবারের অবস্থান ১৩৩তম। সম্পত্তি নিবন্ধন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও কর পরিশোধ সূচকে গতবারের চেয়ে এক ধাপ করে পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এ তিন সূচকে অবস্থান যথাক্রমে ১৮৫, ৮৮ ও ৮৬তম।

বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এ সূচকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮৯, এবারো তাই আছে। অর্থাৎ বিশ্বে সবার নিচে। এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতিতে ১১৮, বৈদেশিক বাণিজ্যে ১৭২, চুক্তির বাস্তবায়নে ১৮৮ ও দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তিতে ১৫৫তে রয়েছে বাংলাদেশ। এ চার সূচকে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বতালিকায় দেশটির অবস্থান ১৭৭তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষস্থানে আছে ভুটান, অবস্থান ৭১তম। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে নেপালের অবস্থান ৯৯, শ্রীলংকার ১০৭, মালদ্বীপের ১২৮, ভারতের ১৩০ ও পাকিস্তানের ১৩৮তম। সারা বিশ্বে ব্যবসা করার সূচকে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। শীর্ষ পাঁচে এর পরই রয়েছে, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকং। শীর্ষ পাঁচটি দেশের স্কোরই ১০০তে ৮৩এর উপরে। আর বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে সর্বশেষ পাঁচটি দেশ হলো ইরিত্রিয়া, লাইবেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, ভেনিজুয়েলা ও মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র। দেশগুলোর স্কোর ৩৬ বা তার নিচে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে কমপক্ষে নয়টি প্রক্রিয়া (প্রসিডিউর) অনুসরণ করতে হয়। এতে সময় লাগে প্রায় ২০ দিন। আর ব্যয় করতে হয় গড়ে ১২ হাজার ৬০৫ টাকা। তবে ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ১০০তে বাংলাদেশের স্কোর এক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ৭২।

ব্যবসা স্থাপনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণে অনুমতি গ্রহণে কমপক্ষে ১৩টি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়। এতে ব্যয় হয় গড়ে ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা। ১০০এর মধ্যে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৬৫ দশমিক ২৭। আর সম্পত্তি নিবন্ধনে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় আটটি। এতে সম্পত্তিমূল্যের ৭ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের চার্জ বাবদ পরিশোধ করতে হয়। এর পরও অতিরিক্ত ২৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ১০০এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৪৮।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সহজে বিদ্যুৎসংযোগ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ১৫ দশমিক ৩১। কারণ বিদ্যুৎসংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে নয়টি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আর এতে ব্যয় করতে হয় গড়ে ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৯২১ টাকা।

ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের কম ব্যয় হলেও রয়েছে নানা জটিলতা। বিশেষত সঠিক তথ্যের অভাব এক্ষেত্রে প্রকট। ফলে ১০০তে স্কোর দাঁড়িয়েছে ৩০। আর দেউলিয়া দশার সমাধানে মাত্র চার বছর সময় দেয়া হয়, যা নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য খুবই কম। এক্ষেত্রে ১০০তে স্কোর ২৬ দশমিক ৩৬।

চুক্তি বাস্তবায়নে ১ হাজার ৪৪২ দিন (প্রায় চার বছর) সময় দেয়া হয়। এর পরও পাওনা টাকার একতৃতীয়াংশ আদায় করা যায় না। সব মিলিয়ে সার্বিক অবস্থা অসন্তোষজনক, যা স্কোরেও স্পষ্ট। ১০০তে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেয়েছে ২২ দশমিক ২১। আর আমদানিরফতানি সূচকে স্কোর ১০০তে ৩৪ দশমিক ৮৬। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। একই অবস্থা কর পরিশোধ সূচকেও। এ দুই সূচকে স্কোর ১০০তে যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৩৩ ও ৭৪ দশমিক ৪২।।