Home » রাজনীতি » উন্নয়ন ও গণতন্ত্র :: শেষ পর্যন্ত দুটোই হারাতে বসেছি

উন্নয়ন ও গণতন্ত্র :: শেষ পর্যন্ত দুটোই হারাতে বসেছি

প্রকাশকাল ২৯ জুন ২০১৫

হায়দার আকবর খান রনো

coverশাসক দলের লোকজনের আকর্ণবিস্তৃত গর্বের হাসিবাংলাদেশ ইতোমধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে। প্রতিশ্রুত সময়ের আগেই টার্গেট পূরণ। কি বিরাট সাফল্য। তারা বলবেন, কথা দিয়েছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। কিন্তু আমাদের সুযোগ্য নেতৃত্বে তার অনেক আগেই সেই পর্যায়ে পৌছে গেছে বাংলাদেশ। আমাদের কথায় বিশ্বাস না হয় বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট শুনুন। বিশ্বব্যাংকের মানদন্ড অনুযায়ী পর পর তিন বছর মাথাপিছু আয়ের গড় এক হাজার ৪৫ ডলার হলেই বিশ্বব্যাংক তাকে মধ্যম আয়ের দেশ বলে গণ্য করবে। বাংলাদেশের বর্তমানে মাথাপিছু গড় আয় এক হাজার ৩১৪ ডলার। অতএব বিশ্বব্যাংকের বিবেচনায় আমরা গরিব নামের ‘কলংক’ থেকে উত্তরন ঘটিয়েছি। তাতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অনাহারক্লিষ্ট পুষ্টিবিহীন শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগবিহীন মানুষের রাতারাতি ধনী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকলেও আমরা তো বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, আমরা আর গরিব নই। গরিব কথাটা বড় অসম্মানের। আমাদের গরিবগুলো অসম্মান আরও বাড়িয়েছে দেশে সামান্য চাকুরী অথবা আয় রোজগারের সুযোগ না পেয়ে নৌকা করে সমুদ্র পথে অজানা যাত্রা করে। কয়েক হাজার মানুষ। শাসক দলের ভাষায় তারা বড় বেশি লোভী। তাই জীবনের ঝুকি নিয়ে সমুদ্র পথে বিদেশ যায়। প্রধানমন্ত্রী এতোই রাগান্বিত হয়েছিলেন যে, তিনি আট হাজার সমুদ্রে ভাসমান লোকগুলোর উদ্দেশ্য বলেছিলেন, ফিরে আসুক, তাদেরও শাস্তি হবে। যখন দেশেবিদেশে বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের বিরাট অগ্রগতির সুখ্যাতি চলছে, তখন এই হতভাগা মানুষগুলো প্রেষ্টিজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। ঠিক সেই সময় বিশ্বব্যাংকের এই সার্টিফিকেট আবার প্রেষ্টিজ ফিরিয়ে দিয়েছে।

শাসক দল আশাবাদ প্রকাশ করছে, শিগগিরই জাতিসংঘেরও সার্টিফিকেট আসবে ‘বাংলাদেশ আর গরিব নয়’। বিশ্বব্যাংক আর জাতিসংঘের হিসাবে সামান্য ফারাক আছে। জাতিসংঘ যে পদ্ধতিতে হিসেব করে তাতে বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু গড় আয় (বাৎসরিক) ৯২৬ ডলার। শাসক দল বলবেন, ও কিছু নয়, সামান্য ফারাক। সব ঠিক হয়ে যাবে। মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় ছাড়াও জাতিসংঘ আরও দুটি শর্ত পূরণের দাবি করে। শাসক দল বলছেন, সে সবও হয়ে যাবে। একটু সবুর করো। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আপাতত গণতন্ত্র নিয়ে চেচামেচি করা চলবে না। প্রশ্নটা এই ভাবে উত্থাপন করা হয়, গণতন্ত্র চাও না উন্নয়ন চাও। শাসক দল বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যেমন নির্বাচন হয়েছে অথবা সম্প্রতি ঢাকা চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচনে যা হয়েছে, সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে। কারণ ঠিক মতো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে যদি আওয়ামী লীগ সরকার হেরে যায় (যে সম্ভাবনা খুবই বেশি), তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। তাদের মতে, দুই দিক দিয়ে সর্বনাশ হবে প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির পরাজয় কাঙ্খিত নয়। দ্বিতীয়ত, বর্তমান শাসকদের নেতৃত্বে যে উন্নয়নের ধারা প্রবল বেগে ছুটে চলেছে, তা থমকে যাবে। অতএব সবদিক বিবেচনা করে, গণতন্ত্রের দাবি এখন বাদ রাখো। উন্নয়ন চাই। আরও চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শাণিত করা।

হায় গণতন্ত্র! হায় উন্নয়ন! হায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! গণতন্ত্র তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই একটি বড় স্তম্ভ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং এমনকি পরবর্তীতে মেয়র নির্বাচনের প্রহসন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই ধুলিসাৎ করেছে। পুলিশি নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যা, শ্রমিকদের মিছিলে অথবা খালেদার ঘরে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ এই সকল বিষয় তো আছেই। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির নাম করে কি বেপরোয়া লুটপাটতন্ত্রকেই সমর্থন করতে হবে? সেটা কি আদতেই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি? স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দাবি করে যদি ‘ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম’ সংবিধানে রেখে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলী আওড়ানো হয় তাকেও কি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে মানা যায়?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম বড় স্তম্ভ সমাজতন্ত্র। আওয়ামী লীগ এখন ভুলেও সমাজতন্ত্র শব্দটি উচ্চারণ করে না। মুক্তবাজার দর্শনের কথা বলে কার্যত যা করে তা হলো বেপরোয়া লুটপাটতন্ত্র। অতএব তারা এখন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিও নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বড় বেমানান শোনায় তাদের মুখে।

তবে শাসক দল এখন যেটা বেশি করে বলছে, তাহলো উন্নয়ন। কিন্তু উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পরিসংখ্যান, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অথবা বিদেশী বিশ্লেষকদের প্রশংসাপত্র, কোনটাই বাস্তব চিত্রকে উল্টে দিতে পারে না। যে নিদারুন দারিদ্র ও বেকারত্ব লক্ষাধিক মানুষকে ভয়ংকর সমুদ্র পথে ঠেলে দিয়েছে, যে দুর্বিষহ জীবন যন্ত্রণা বার বার গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাকে তো ছোট করে দেখানো যাবে না। বিশ্বব্যাংকের দেয়া মর্যাদা অথবা পরিসংখ্যানের অংকের চেয়ে খালি চোখে যা মানুষ দেখে, সেটাই সত্য, সেটাই বাস্তব। জনগণ সেটাই বিশ্বাস করবে। এবং ঠিক মতো ভোট হলে সেই মতোই ভোট দেবে। আর ঠিক এই কারণেই ভোটকে বড় ভয় করেন বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তাই তারা উন্নয়নের যজবা তুলেছেন।

যে পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাংক বা জাতিসংঘ দিয়েছে, তা কি তাহলে মিথ্যা? না, সে কথা আমরা বলি না। তারা বলছেন, মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের কথা। অবশ্যই গড় আয় বেড়েছে। কারণ কিছু মানুষের কাছে প্রচুর টাকা জমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব মতে, ২০১০ সালে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২৩,২১২ জন। ২০১৪ সালে অর্থাৎ চার বছরের মধ্যে এই সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তার মানে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে বলবো, এই ধনীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার খুবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। যাহোক, আমাদের কাছে প্রশ্ন জাগে, মুদ্রাস্ফীতির হার যাইই হোক না কেন, কোটিপতির সংখ্যা এতো দ্রুত দ্বিগুণ হয় কিভাবে? এর একটাই উত্তর নতুন নতুন ধনীক গজাচ্ছে এবং তা একমাত্র সরাসরি রাষ্ট্রীয় মদদ এবং চরম ও বেপরোয়া লুটপাট ছাড়া অন্য কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিছু লোক আঙুল ফুলে কলা গাছ নয়, বট গাছ হয়ে গেছে। জাতীয় গড় আয় বৃদ্ধিতে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। সুইস ব্যাংকের গোপনে জমানো টাকাকে যদি হিসাবে নেয়া যেতো তাহলে এই গড়ের পরিমাণ আরও বাড়তো। গত বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমানো টাকার পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ৮০ লাখ ফ্রাঁ (চার হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার সমান)। তার আগের বছর (অর্থাৎ ২০১৩ সালে) এটা ছিল তিন হাজার ২৩৬ কোটি টাকার সমান সুইস মুদ্রা। তার মানে টাকা পাচারের পরিমাণও বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ধনীর সংখ্যা। ২০১৪ সালের ‘বিআরটিএ’ প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী এক কোটি টাকার বেশি দামের গাড়ির সংখ্যা ৪৯ হাজার যারা ঢাকায় যানজট বাড়াচ্ছে। তাহলে কে বলবে আমরা গরিব? কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’ই বলছে, জনসংখ্যা ২৫.৬ শতাংশ দরিদ্র অর্থাৎ যারা ঠিক মতো খেতে পায় না, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি এসব কথা না হয় বাদই রাখলাম। সরকারি পরিসংখ্যান হারটা কমিয়েই বলে। তবু যা বলেছে, সেই সংখ্যাটাও বিরাট। প্রায় চার কোটি। পৃথিবীর বহু দেশের জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম।

এখানে আরেক কথা বলা দরকার। এই পঞ্চাশ হাজার কোটিপতি কিন্তু প্রকৃত অর্থে জাতীয় উন্নয়ন বৃদ্ধিতে খুব একটা অবদান রাখে না। কারণ বাংলাদেশে অতিকায় ধনীর যে সংকীর্ণ স্তর আছে, তারা প্রধানত উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি করে না। তারা তৈরি সম্পদে ভাগ বসায়। অথচ সরকারি আনুকূল্য তারা বেশি করে পেয়ে আসছে। ফলে বাড়ছে বৈষম্য। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের টাকা মেরে, পরের জমি বা সরকারের জমি ও নদী দখল করে, অবৈধ আদম ও মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে, বেপরোয়া দুর্নীতির মাধ্যমে তারা অতিকায় ধনী হয়েছে। গত ৫ বছরে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংক থেকে দশ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মাত্র কয়েকটি বড় হাউজ। আমাদের যে মোট জাতীয় আয় বেড়েছে, সেই ক্ষেত্রে দুটো খাতের অবদান খুব বেশি। এক, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স, যা এই বছরের পহেলা জানুয়ারির হিসেব অনুযায়ী ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলার। গত জুন মাসে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। তাহলে সিংহ ভাগ আসছে প্রায় দাসের মতো শ্রম করা প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে। বাকি অংশটুকুর মধ্যে প্রধান অবদান রাখছে গার্মেন্টসের নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। তারাও প্রায় দাস শ্রমিক। এত অবদান রাখা সত্ত্বেও জাতীয় আয়ের ন্যায্য অংশ তো দূরের কথা, সামান্য অংশ তারা পায় না।

এর নাম যদি উন্নয়ন হয়, সে উন্নয়ন কাম্য নয়। পাকিস্তানের মতো দেশও আমাদের আগেই মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। উদীয়মান আঞ্চলিক শক্তি ভারত বেশ আগেই মধ্যম আয়ের দেশ বলে স্বীকৃত। অর্থনীতির আয়তনের দিক থেকে ভারতের অবস্থান বেশ উপরে। কোনো হিসাবে তিন নম্বরে, কোনো হিসাবে পাচ নম্বরে অবস্থান। ভারতের কর্পোরেট হাউজগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ধনীরা এখনো কিছুই নয়। কিন্তু ভারতের মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় ১,৪১৮ মার্কিন ডলার। প্রায় আমাদের কাছাকাছি। তার মানে গড় হিসাবটাই বিভ্রান্তিকর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রতন খাসনবিস ২০০৯ সালে ‘উন্নয়ন ও দুই ভারতবর্ষ’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে বলেছেন, জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার তখন ছিল ৮.৭ শতাংশ। তার আগের দুই বছরে তা ছিল যথাক্রমে ৯.৪ এবং ৯.৬ শতাংশ। তিনি আরও বলছেন, সেই ভারতের জনসংখ্যার ৭৬.৭ শতাংশ ভালো মতো খেতে পায় না। তাই তিনি বলছেন দুই ভারতবর্ষ। ধনীর ভারত ও গরিবের ভারত।

বাংলাদেশও দুইটা ধনীর ও গরিবের বাংলাদেশ। ভারতে তবু এক ধরনের গণতন্ত্র আছে। সেই জন্য জনগণ ভোট দিয়ে সরকার বদলায়। ভোট হারানোর ভয়ে কিছু লোক দেখানো ‘জনস্বার্থের’ ছাপ মারা কাজ করতে হয় সরকারকে। বাংলাদেশে যেহেতু এখন নির্বাচনও নির্বাসিত, সেহেতু সরকার সেই দায়ভার থেকেও মুক্ত হয়েছে।

তারা বলবেন, মালয়েশিয়ার দিকে তাকাও। মাহাথীর মহম্মদের দৃষ্টান্ত দেখো। সেই দেশেও গণতন্ত্র ছিল না। কিন্তু উন্নয়নের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আমি বলবো, মালয়েশিয়ার মডেল এখানে চলবে না। প্রধান কারণ দুটি। একটি অর্থনৈতিক। আরেকটি রাজনৈতিক। জনসংখ্যার তুলনায় মালয়েশিয়ায় জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ অনেক বেশি। বাংলাদেশে ঠিক তার বিপরীত। অপ্রতুল সম্পদ ভোগ করার মধ্যেও যদি পর্বত প্রমাণ বৈষম্য থাকে তাহলে উন্নয়ন একেবারেই সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, মালয়েশিয়ায় গণতন্ত্র না থাকলেও অর্থনীতি ও প্রশাসনে বাংলাদেশের মতো নৈরাজ্য ছিল না। বাংলাদেশে কার্যত অনির্বাচিত ও জনসমর্থনহীন সরকারকে টিকে থাকার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে প্রশাসন ও দলীয় মাস্তানদের উপর, যারা আবার এই সুযোগে দুর্নীতি ও লুটপাটের অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। সরকার বা দলের হাইকমান্ডের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। মাহাথীর মহম্মদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে ছিল না দল, প্রশাসন ও অর্থনীতি। বাংলাদেশের এই বিশেষ অবস্থা থেকে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক অরাজকতা, অন্যদিকে অর্থনীতিতে নৈরাজ্য। টেন্ডারবাজি, জবরদখল, চাদাবাজি, অর্থনীতিতেও কোন নিয়মকানুন না থাকা, অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং স্থবিরতা আনতে বাধ্য। বরং এখানে গণতন্ত্রই হতে পারতো রক্ষা কবচ। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা দুটোই হারাতে বসেছি গণতন্ত্র ও উন্নয়ন।