Home » অর্থনীতি » গণতন্ত্র না উন্নয়ন

গণতন্ত্র না উন্নয়ন

প্রকাশকাল ২৯ জুন ২০১৫

মীজানূর রহমান শেলী

Last 1আজকের দুনিয়ায় গণতন্ত্রের বিকল্প নেই বলে সবাই স্বীকার করেন। বিশেষ করে উনিশশো নব্বই এর দশকে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের জোয়ারে বহু দিনের একনায়কতন্ত্র প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই একই প্রক্রিয়ায় আমরা দেখি, পূর্ব ইউরোপে এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে যে সমাজতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র বলবৎ ছিল তার কার্যত বিলুপ্তি ঘটে। সেই অন্যান্য দেশে যেখানে আদর্শিক বা আদর্শবিহীন একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, সেখানেও গণতন্ত্রের জোয়ারে তা ভেসে যেতে বাধ্য হয়। এ অবস্থার সমান্তরালে আমরা আরেকটি জিনিস দেখি, দুনিয়াতে মুক্তবাজার তথা বাজারবান্ধব অর্থনীতির প্রাবল্য। একদিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অন্যদিকে মুক্তবাজারের মাধ্যমে ব্যক্তি উদ্যোগের বিকাশের ফলে দেশ ও জাতির দ্রুত সার্বিক উন্নয়ন। অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে, ঘটনাপ্রবাহ যেন স্বতস্ফূর্তভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারা দুটিকে একীভূত করেছে। গণতন্ত্র যতই এগিয়েছে, ততই মুক্তবাজার অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়েছে। বলা যেতে পারে, আলোচ্য দুই ধারার পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরদার হয়েছে।

বর্তমানে কেউ গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে পরস্পরবিরোধী বললে তা হবে চলমান ইতিহাস প্রবাহের বিরুদ্ধাচারণ। যদিও অনেকে বলে থাকেন একনায়কতন্ত্রে ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এসেছে, কিন্তু অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেনসুনির্দিষ্ট সমাজে বিশেষ করে সামরিক একনায়কতন্ত্রের আওতায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা যতটা না টেকসই তার চেয়ে ঢের টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় সাধিত উন্নয়ন। সবচেয়ে বড় কথা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বাধাহীন অংশীদারিত্ব থাকে। অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে কোন পথে যাওয়া দেশ ও জনগণের জন্য শ্রেয় এবং জানতে কীভাবে সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হয়। একদিকে যদি অর্থনৈতিক বুলি কপচানো যায়, নানা ধরনের তথ্য ও তত্ত্ব তুলে ধরা যায়; অন্যদিকে যদি জনগণের উন্নয়ন না হয়, সাধারণ মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেতে না পায়, অন্নবস্ত্রবাসস্থানের সংস্থান না হয় তাহলে এই পরিসংখ্যানে কোনো কাজ হয় না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের তত্ত্বে মানুষের পেট ভরে না। সুতরাং একটা অসন্তোষ, ধূমায়িত অতৃপ্তি মানুষের মনে জেগে থাকে এবং তা সামাজিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক স্থিতির প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যই গণতান্ত্রিক অংশীদারিত্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শর্ত। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেখানে অর্থবহ হয় অর্থাৎ সুষম বন্টন সম্ভব হয় সেখানে অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা যায় না। আমাদের দেশে বর্তমানে বিভিন্ন মহল বিশেষত ক্ষমতাসীন মহল থেকে যে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে যে, গতন্ত্রকে সীমাবদ্ধ করলেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। এ কথাটি কতখানি গ্রহণযোগ্য তা বিচার করে দেখতে হবে। কারণ আমাদের দেশে নব্বই দশকের প্রথম থেকে বিভিন্ন সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে। একমাত্র মাঝখানে দুই বছরের সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া।

এর মধ্যে ১৫৪ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ২০১৪ সালে নির্বাচিত সরকার নিয়ে দেশেবিদেশে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং এ অবস্থায় সরকার উন্নয়নের কথা বললেও তার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বলতা বা নাজুকতা থেকে যায়। উন্নয়নের বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেখানো হলেও সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব বলে স্বীকার করা হচ্ছে না। যদি করতেন তাহলে কেবল সরকারি খাত ছাড়া অন্যান্য ব্যক্তিখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা সমৃদ্ধি দেখতে পারতাম। দেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একটা মন্দা চলছে। এ ব্যাপারে কারো বোধ হয় সন্দেহ নেই। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তেমন জোরদার অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। যদিও জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে ঈষৎ বৃদ্ধি দেখা গেছে, কিন্তু সে বৃদ্ধি আমাদের যে পরিমাণ প্রয়োজন তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সুতরাং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে কোনোরকম তাৎপর্যময় উন্নতি সম্ভব বলে মনে হয় না। আর ব্যক্তিখাতে উল্লেখযোগ্যহারে বিনিয়োগ না বাড়লে বিপুল উন্নয়নের স্বপ্ন বোধ হয় ব্যর্থ হবে, বাস্তবে পরিণত হবে না। সেজন্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না, দুটি বিষয়ই একে অপরের পরিপূরক। পরিপূরক বলেই আমাদের দেশে বহু বছরের স্বৈরশাসনের পরও নব্বই দশকে গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। এর ফলে নব্বই দশকে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বিশেষ করে আশির দশকের তুলনায় বেড়েছে। আশি থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ শতাংশ বা তার সামান্য বেশি। আর নব্বই দশক পরবর্তী বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনৈতিক অশান্তি সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ বা ততোর্ধ অব্যাহত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতি থাকলে এই প্রবৃদ্ধির হার ৭, ৮ কিংবা ততোধিক বৃদ্ধি পাবে। এমনকি প্রবৃদ্ধির শতাংশ দুই অঙ্কেও যেতে পারে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরো টেকসই করতে হলে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের যে অঙ্গীকার সেটা আরো বলিষ্ঠ করতে হবে। এ ব্যাপারে মনে কোনো সংশয় বা দ্বিধা থাকলে চলবে না। কারণ সত্যিকার গণতন্ত্র থাকলে প্রতিটি দল না হলেও দলবিশেষ উপকৃত হবে। প্রকৃত গণতন্ত্রে নির্বাচনকে প্রভাবিত বা নিজের পক্ষে টানার কোনো সুযোগ থাকে না। সেখানে একটা সম্ভাবনা থাকে যারা জনগণের উন্নতি করতে পারছে না তারা পরবর্তী নির্বাচনে হেরে যাবেন এবং বর্তমানের বিরোধী দল আগামীতে সরকারি দল আর এখনকার সরকারি দল পরবর্তী বিরোধী দলে পরিণত হবে। এভাবে একের পর এক পালাবদল চলতে থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের আকর্ষনীয় মূল নির্যাস। অতি সম্প্রাতিক সময় ছাড়া এটাই নব্বই পরবর্তী আমাদের দেশে হয়েছিল। আশা করি ইতিহাসের ধারায় বা ইতিহাসের চাহিদা অনুযায়ী আবার আমাদের দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে। গণতন্ত্র থাকলে উন্নয়ন হবে, তা না থাকলে হবে নাএটা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। আমার মত হলো, গণতন্ত্রহীন অবস্থায় যে উন্নয়ন হয় তার মধ্যে একটা ফাঁক থেকে যায়। সেটি হলো, সে উন্নয়ন জনগণনির্ভর উন্নয়ন হয় না। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সে উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয় না বলে জনগণের চাওয়া এবং এর মধ্যে একটা ফারাক থেকে যায়। বলা যায়, জনগণের পাওনাটা পুরোপুরিভাবে আদায় হয় না। যেমনবৃহৎ রাজপথ তৈরি করলে তাতে সবারই উপকার হয় সত্যি, তবে তা সবার জন্য সমানভাবে হয় না। সুতরাং মানুষের প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট ব্যতিরেকে শুধু চমক লাগানোর জন্য বিরাট বিরাট স্থাপনা নির্মাণ কোনো কাজের কথা নয়। দেখা গেছে, পঞ্চাশষাটের দশকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো দেশে একনায়কেরা এ রকম বিরাট স্থাপনা নির্মাণ করেছে; কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি, মানুষের উপকার হয়নি, সুষম বা ন্যায়পর বন্টন নিশ্চিত হয়নি। ওই উন্নয়নের মধ্যে একটা খাদ থেকে যায়।

গণতন্ত্র মানেই খাঁটি ও নির্ভেজাল গণতন্ত্র। এটি বিবিধ লেবাসে আসে না। এর বিভিন্ন ধরন বা কাঠামো থাকতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের মূল শক্তির জায়গা হলো বিনা বাধায় জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা। মানুষের বাক স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রকে অন্য নাম দিয়ে লাভ হয় না, সেটা গণতন্ত্র হয়ও না। গণতন্ত্রের কাঠামো বিভিন্ন ধরনের হতে পারেসেটা রাষ্ট্রপতিশাসিত, সংসদীয় পদ্ধতির হবে না রাষ্ট্রপতিশাসিত ও সংসদীয় পদ্ধতি দুটো মিলে সেটা নিয়ে বির্তক হতে পারে। কিন্তু এর সব ব্যবস্থায়ই মৌল উপাদান বা বৈশিষ্ট্য একই থাকবে, যেসব আমি ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি। মৌলিক মানবাধিকার, প্রতিনিধি নির্বাচনের মুক্ত বা অবাধ অধিকার না থাকলে ‘মৌলিক গণতন্ত্র বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রকে’ কোনোভাবেই প্রকৃত গণতন্ত্র বলা যায় না।

গত প্রায় দেড় দশক ধরে আমাদের ৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধি হলেও তা কোনোভাবেই সুষম হচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। সম্প্রতি বণিক বার্তায় এ রকম একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। এই বৈষম্যের পেছনে কারণ হলো, পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা খুবই নিম্ন পর্যায়ে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় জনগণের মতামত নেয়া হয় বলে যতই বলা হোক না কেন আমাদের পরিকল্পনা পদ্ধতি এখনো মান্ধাতার আমলের মতো রয়ে গেছে। বলা হয়ে থাকে, ব্যক্তি উদ্যোগ বা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রয়োজন থাকে না। সেটা সাধারণত সমাজতান্ত্রিক বা আধাসমাজতান্ত্রিক দেশে প্রচলিত থাকলেও আমাদের দেশে ব্যক্তি উদ্যোগের অর্থনীতি চালু হওয়া সত্ত্বেও এখনো তা প্রচলিত আছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আগের মতো হয়তো দাপট নেই; কিন্তু একটা দিকনির্দেশনা, আওতা বা জগত রয়েছে। সে জগতটা অর্থনীতি বা আমাদের সমাজকে পরিচালিত করে একটা বিশেষ দিকে। সেখানে যদি জনগণের চাওয়াটা সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটা ফাঁক থেকেই যায় এবং এটা অনেক দিন ধরে আছে। কারণ আমাদের সরকার কিছুদিন ধরে কর্তৃত্ববাদী অবস্থানে রয়েছে। সেটা সাধারণত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এখানে যারা কলাকৌশলী তারা কিন্তু জনগণের আশাআকাক্সক্ষার প্রতি নজর দেন না যতটা কর্তৃপক্ষ কী বলে সেটার দিকে মনোযোগ দেয়সে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ব্যালটের মাধ্যমে আসুক আর বুলেটের মাধ্যমে আসুক। রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা চান সেরকমই অর্থনৈতিক, পরিকল্পনার কিংবা উন্নয়নের নীতিই মূলত তারা প্রণয়ন করেন। কর্তত্ববাদী ব্যবস্থায় তারা কর্তৃত্বের কাছাকাছি যায় যাদের বিত্ত বা ধনসম্পদ রয়েছে, মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে, গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রয়েছে। এসব ক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন কলাকৌশলে নিজেদের শ্রেণীস্বার্থকে অক্ষুণ্ন রাখে। যেমনএকটি বিশেষ হোল্ডিং কর আরোপ করলে হয়তো বৈষম্য কিছুটা কমবে। কিন্তু সেটি আরোপ যতটা নির্ভর করে জনস্বার্থের ওপর তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে তাদের তদবিরের ওপর। কোন ব্যবসায়ী লবি কতখানি সার্থকভাবে কর্তৃপক্ষ, পরিকল্পনা প্রণয়নকারী, নীতিনির্ধারক বা সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের কাছে পৌঁছতে পারেন তার ওপরই নির্ভর করে নিজ নিজ গোষ্ঠীস্বার্থ। জনগণ তাদের (নীতিনির্ধারকদের) কাছে পৌঁছতে পারে না বিধায় তাদের দাবিটি সব শেষে পূরণ করা হয়। এজন্য আমরা দেখি বেঁচে থাকার মৌলিক উপকরণগুলো ক্রমেই জনগণের আওতার বাইরে চলে যায়। ফলে প্রতিনিয়ত বৈষম্য বাড়ে। এক্ষেত্রে সমতামূলক উন্নয়নের বিকল্প নেই। আর এজন্য দরকার সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন।

লেখক : চিন্তাবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ড. মীজানূর রহমান শেলী সেন্টার ফর ডেভেল্পমেন্ট রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিডিআরবি)-র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং আর্থসামাজিক ত্রৈমাসিক ‘এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সের’ সম্পাদক।