Home » বিশেষ নিবন্ধ » বাংলাদেশ কি আগের চেয়ে কম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেছে?

বাংলাদেশ কি আগের চেয়ে কম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেছে?

প্রকাশকাল ১১ নভেম্বর ২০১৫

তাজ হাশমী

Last-1তারা কাজটা আবার করল। মুক্তচিন্তক অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করার জন্য অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ঘাতক ৩১ অক্টোবর ফয়সাল আরেফিন দীপনকে ঢাকায় তার অফিসে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবুও আশা করছি যে এবার আর ঘাতকেরা বিচার বিভাগের আওতার বাইরে থাকবে না। এবং এর চেয়েও খারাপ কিছু হওয়ার যে আশঙ্কা রয়েছে তাও হবে না, অর্থাৎ পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্যায়ভাবে কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তিকে আটকাবে না। কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না, অতিধর্মনিরপেক্ষ (আলট্রাসেক্যুলার) ও ইসলামাতঙ্কগ্রস্ত লেখকদের হত্যা করাটা বাংলাদেশের দ্রুত ‘আরবীকরণ’ বা ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদমুক্তকরণ’ করার সাথে সম্পর্কযুক্ত কি না। যারা ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের মতো মুক্তিচিন্তাবিদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গত দুই বছরে অভিজিৎ রায়সহ অর্ধ ডজন লেখককে হত্যা করেছে, পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

দীপনকে কারা হত্যা করেছে, কারা অপর তিনজনকে আহত করেছে, সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নয়। তারা কি স্রেফ ‘ধর্মনিরপেক্ষবাদের শত্রু?’ তারা কি আল কায়েদা,আইএসর এজেন্ট? আর এখন আমাদের বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আল কায়েদা,আইএস নেই। তার মানে কি এটা বোঝানো হচ্ছে গত মাসে দেশে দুই বিদেশী হত্যায় মদতদাতা হিসেবে কথিত ‘বড়ভাইরা’ সর্বশেষ এই হামলাতেও মদত দিয়েছেন? বিস্ময়ের ব্যাপারই হবে, যদি এসব হামলার জন্য দায়ী হয় কিছু ‘সুবিধাভোগী’যারা এসব হামলা থেকে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়! কেউ হয়তো দ্রুত ‘ধর্মনিরপেক্ষতামুক্তকরণ’প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সাথে ওপর আরোপ করতে পারে, তাই দেশ আগের চেয়ে কম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সঙ্কুচিত হয়েছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য এটা দেশের সমাজ ও রাজনীতির জন্য একটা মূল্যমান যাচাইমান হতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উপযোগিতা নিয়ে দুটি চিন্তাধারা রয়েছে। দেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে দুই ধরনের অভিমতও রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রতি অনুগতরা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ অতি দ্রুত কম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যাচ্ছে, বিপরীতে, যারা ধর্মনিরপেক্ষবাদকে ঘৃণা করে, তারা মনে করে বাংলাদেশ আরো বেশি ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে পড়ছে তথা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ বাংলাদেশে ‘ইসলাম বিপদে রয়েছে।’ মজার ব্যাপার হলো, দেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রকৃতি নিয়ে বিতর্কে কেবল ইসলাম ও মুসলমানরাই প্রাসঙ্গিক। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যরা এত ‘গুরুত্বহীন’ ও কোনঠাসা যে, ১৯৮৮ সাল থেকে যে দেশে ইসলাম সরকারিভাবে ‘রাষ্ট্রীয় ধর্ম’ সেখানে বাস করতে তারা কেমন বোধ করছে, সেটা জানার গরজ কেউ অনুভব করে না।

এ ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সমর্থকদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা যেতে পারে : এক গ্রুপের সদস্যদের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ দর্শনটি পাশ্চাত্যে কিভাবে বিবর্তিত হয়েছে সেই ইতিহাস সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই বা থাকলেও তা অতি সামান্য। তারা ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ ধারণার প্রতি ভালোবাসা থেকে কিংবা প্রচরাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতেই এর সাথে আছেন। আরেক গ্রুপে যারা আছেন তারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন, বোঝেন। তারা আন্তরিকভাবে এমন এক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে বাস করতে চান, সেখানে নির্বাহী, আইন পরিষদ এবং বিচার বিভাগীয়ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম কোনো ধরনের ভূমিকা পালন করবে না। আগেই উল্লেখ করেছি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ গ্রুপগুলো এবং ব্যক্তিরা অপ্রতিশ্রুতবদ্ধ, সুযোগসন্ধানী। তারা কী করবে, সে সম্পর্কে কিছুই ধারণা করা যায় না।

গত চার দশকে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। অনেক ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ নেতা ১৯৭৫ সালে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ পুরোপুরি পরিত্যাগ করে রাতারাতি বাংলাদেশকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রে’ পরিণতকারী মোশতাক সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। অনেক দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনীতিবিদ এবং তাদের সমর্থকেরা ১৯৮৮ সালে সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সংবিধানে অবৈধভাবে ইসলামকে ‘রাষ্ট্র ধর্ম’ ঘোষণা যোগ করার সময় অবিচল থেকেছেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তাদের অনেকে বাংলাদেশে ‘শরিয়াহ আইন’ চালুর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত দিয়েছেন, যা ২০০৬ সালে কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির সময় দেখা গেছে।

বেশির ভাগ রাজনীতিবিদের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং উদার গণতন্ত্র প্রশ্নে দোদুল্যমানতা এবং অনিশ্চয়তাপূর্ণ (আনপ্রিডেকটেবল) অবস্থায় থাকায় ‘বাংলাদেশ কি আগের চেয়ে কম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে পড়ছে?’- এই প্রশ্নটি অকারণ ও সমস্যামূলক মনে হয়। অবশ্য তবুও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কারা ধর্মনিরপেক্ষবাদী ব্লগার এবং বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করেছে সেটা সম্ভবত রহস্যই রয়ে যাবে, তবুও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং সার্বিকভাবে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে কি না তা নিরসন করার এখনই সময়। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো : ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার, প্রকাশক ও বিদেশী নাগরিক হত্যা কি একই সূত্রে গাঁথা? অস্থিতিশীল বাংলাদেশ থেকে সুবিধা নিতে চাওয়া কিছু লোকই কি রয়েছে এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে? ইসলামি সন্ত্রাসবাদীরা কি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ধারণা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ?

আরেকটি প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক হতে পারে : ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কি বাংলাদেশে কখনো শেকড় গেড়েছিল? আমরা জানি, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো পাশ্চাত্য ধারণা। পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকায় রেনেসাঁস, রিফোরমেশন, এনলাইটমেন্ট এবং রাজনৈতিক ও শিল্প বিপ্লবের পর সেটা বিকশিত ওঠেছিল। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’ ও ‘গণতন্ত্র’,- স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপর যেভাবে ঘোষিত হয়েছিলমনে রখিতে হবে ঘোষণা করা হলেই কোনো জাতি রাতারাতি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। বাংলাদেশে কেন গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারেনি, তার প্রধান কারণ নিহিত রয়েছে এখানকার দীর্ঘ আধা সামন্তবাদী ও উপনিবেশিক ঐতিহ্য, সেইসাথে রাজনীতিবিদ ও এলিটদের ধর্ম ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগমতো ব্যবহার করার মধ্যে। এসব কারণেই গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এই দেশে দৃঢ়ভাবে শেকড় গাড়তে পারেনি। এসব প্রাকআধুনিক ঐতিহ্য ধর্মভাব, কুসংস্কার ও বৈষম্য বিকাশ ঘটায়, সাক্ষরতা, সৃষ্টিশীলতা ও মুক্তচিন্তাকে চেপে ধরে এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে অসঙ্গত করার জন্য ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে।

অন্যদিকে, বাঙালি মুসলমানের মনমানসিকতায় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কখনো অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, এমনকি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও না। রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, ছাত্রদের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশের মধ্যেতাদেরও বেশির ভাগ বামপন্থী পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ আদর্শ বাদ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ করার আকাক্সক্ষা পোষণ করতেন। অবশ্য নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উপাদানঅপশাসন ও ক্রমবর্ধমান ভারতীয় আধিপত্যসহধর্মনিরপেক্ষবাদ ও সমাজবাদের অপরিচিত ধারণার ওপর থেকে জনগণের আস্থা নষ্ট করে দিয়েছে।

স্বাধীনতার পরপরই ভারতীয় সাংবাদিক বসন্ত চ্যাটার্জি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থা প্রত্যক্ষ করে লিখেছিলেন (ইনসাইড বাংলাদেশ টুডে), ‘দরিদ্র, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে কট্টর ইসলামি, হিন্দুবিরোধী ও ভারতবিরোধী ‘মুসলিম বাংলা’য় পরিণত হয়ে গেছে। বাকিটা রাজনীতিকে ইসলামিকরণ ও ধর্মনিরপেক্ষমুক্তকরণের ইতিহাস। আমরা দেখেছি, তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ার মতো কট্টর ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম দেশগুলো দ্রুত নিজেদেরকে ইসলামিকরণ করছে, তখন বাংলাদেশের মতো প্রাকআধুনিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ রাতারাতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে পরিণত হতে পারে না। গণতন্ত্রের মতো ধর্মনিরপেক্ষবাদও মনমানসিকতার বিষয়, কেবল সংবিধান সংশোধন করে এটাকে সমাজের ওপর প্রতিস্থাপন করা যায় না।

গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের অতিমেরুকরণ করা রাজনীতিতে পরস্পর থেকে বিপরীত স্থানে থাকা দুটি রাজনৈতিক ধারাক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিরোধী বিএনপিজামায়াতে ইসলামী জোটের সমর্থকেরাধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে ইঁদুরবেড়াল খেলছে। আওয়ামী বলয়ের নেতা ও সমর্থকেরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী,’ ‘পাকিস্তানপন্থী,’ এবং ‘আল কায়েদাতালেবানপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করছে, অন্যদিকে বিএনপিজামায়াত সংশ্লিষ্টরা আওয়ামী প্রতিদ্বন্দ্বিদের ‘ইসলামবিরোধী’, ‘ভারতপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করতে চুপ থাকছে না। এর ফলাফল হলো বাংলাদেশের ফাটল ধরা অবস্থা। এখানে নেতাসমর্থকেরা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে নিষ্ফল বিতর্ক এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব থাকার কথা নিয়ে উচ্চকিত রয়েছেন।

এই কাহিনীর সবচেয়ে দুঃখজনক অংশ হলো, সদ্য আবির্ভূত উপমহাদেশের আলকায়েদার (একিউআইএস) অংশ হিসেবে অভিহিত ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ যেখানে আরেফিন দীপনসহ ইসলামবিদ্বেষী কয়েকজন নাস্তিককে হত্যার দাবি করেছেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং এর নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দিকে আঙুল তুলছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো তীব্র বিদ্বেষপূর্ণভাবে বলেছেন, বাংলাদেশে ব্লগার ও লেখকদের হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়ার হাত রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য একদিকে পুলিশি তদন্ত এবং আসল দোষীদের সুষ্ঠু বিচার করার ব্যাপারে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে, অন্যদিকে অতি মেরুকরণ করা, ফাটল ধরা বাংলাদেশে দূরত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়। পরিশেষে বলছি, আমি বিশ্বাস করি দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক যথাযথভাবেই দেশে বিরাজমান ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও ইসলামবাদের ভয়ঙ্কর অবস্থাটি তুলে ধরেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন : ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে রাজনীতি করছেন, যারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, উভয় পক্ষ দেশের সর্বনাশ করছেন।’ ব্লেইম গেম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী ও ঘাতক হিসেবে ভয়ঙ্করভাবে উপস্থাপন করা পরিহার করার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। যত তাড়াতাড়ি রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও বুদ্ধিজীবীরা এই উপদেশে র্কণপাত করবেন, ততই মঙ্গল।

(লেখক : অস্টিন পেই স্টেট ইউনিভার্সিটির সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তার সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ : Global Jihad and America: The Hundred-Year War Beyond Iraq and Afghanistan)

নভেম্ব, ২০১৫