Home » অর্থনীতি » প্রতিবার ক্ষমতার পট পরিবর্তনে কোটিপতি বেড়েছে দুই-তিনগুণ

প্রতিবার ক্ষমতার পট পরিবর্তনে কোটিপতি বেড়েছে দুই-তিনগুণ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Last 4সরকার জটিল অর্থনৈতিক পরিভাষা ব্যবহার করে বোঝাতে চাচ্ছে যে, আমাদের অর্থনীতি শনৈঃ শনৈঃ উন্নতির শিখরে আরোহণ করছে। উন্নতির এই প্রচারণা অনেকটা সেই ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই’য়ের মতো অবস্থা। সরকার যা বলছে তার সাথে বাস্তব অবস্থার রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বা দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির হার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (২০১৫) মতে ৬.০৬ শতাংশ। জিডিপির আকার ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৬ শত কোটি টাকা। মাথাপিছু জিডিপি বা মাথাপিছু আয় ৯৫ হাজার ৮ শত ৬৪ টাকা। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এই সমীক্ষা মতে কৃষি খাত এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে জিডিপি বৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের হারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সরকারের আমলাতন্ত্র এবং আমলাতন্ত্র নির্ভর অর্থনীতিবিদরা সে পাশ্চাত্য বা পুঁজিবাদি স্টাইলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছেন। এটি অত্যন্ত ভ্রমাত্মক।

বাংলাদেশে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ফর্মুলায় মাথাপিছু আয় নির্ধারণ করা হয়। ফর্মুলাটি হলো, মোট জিডিপি বা দেশজ উৎপাদনকে মোট জন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা। এই হিসেবে মাথাপিছু আয় আসে ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা। লক্ষ্য করার বিষয় হলো, মাথাপিছু আয় যদি ৯৪ হাজার ৬০০ তথা ৯৫ হাজার হয় এবং জিডিপি যদি ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৬ শত কোটি টাকা হয় তাহলে দেশের ১৬ কোটি লোকের প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় হবে ৯৫ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তব অবস্থা কি তাই?

দেশে কোটিপতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারী রয়েছেন ৪৯ হাজার ৫৫৪ জন। এর বাইরে আরও কয়েক লক্ষাধিক রয়েছেন কোটি টাকার সম্পদের মালিক। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে গত চার দশকে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবার ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে দুই থেকে তিনগুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন সংখ্যা ৪৯ হাজার ৫৫৪। ২০১৩ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ১৩৫ জন। গত ৬ মাসের ব্যবধানে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৪১৯ জন। ২০০৯ সালে কোটিপতি ছিল ২৩ হাজার ১৩০ জন। গত পাঁচ বছরে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ২৬ হাজার ৪২৪ জন। ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরএ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জন। জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে (ডিসেম্বর ১৯৮০) এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ জনে। তখন তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জন ও আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ শতাংশ।

খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতির মোট সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৪ জন ও আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ২০ শতাংশ। শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কোটিপতির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (অক্টোবর ২০০১ডিসেম্বর ২০০৬) কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জন। ২০০৭০৮ সময়কালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৫ হাজার ১১৪ জন। ২০০৮ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হিসাব সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার ওপরে হিসাব সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ১৩০টি। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫৩৭টি। ২০১১ সালের ডিসেম্বরের শেষে এক কোটি টাকা লেনদেন হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৬৯৮টি। ২০১২ সালে ব্যাংকগুলোতে এক কোটির ওপরে থাকা হিসাব সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭১২টি।

কোটিপতিদের এই বিস্তারিত তথ্য থেকে একটি বিষয় বেরিয়ে আসে যে, দেশে বর্তমানে যে ৪৯ হাজার ৫৫৪ জন বা প্রায় ৫০ হাজার কোটিপতি রয়েছেন তাদের মাথাপিছু আয় অবশ্যই ৯৫ হাজার টাকা নয়। এই ৫০ হাজারের মোট অর্থ সম্পদ কত সেটির হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে এরা দেশের মোট ধন সম্পদের ৯০ শতাংশ কব্জা করে রেখেছেন। আর অবশিষ্ট ১০ শতাংশ ছড়িয়ে আছে ১৫ কোটি মানুষের হাতে। সুতরাং সরকার মাথাপিছু আয়ের যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে সেটি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তার মধ্যে রয়েছে বিরাট শুভঙ্করের ফাঁক।

দেশে ৭২ সালে ছিল মাত্র ৫ জন কোটিপতি। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার। এদের হাতে গড়ে ১০ কোটি টাকা করে থাকলে তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকা। আসলে তাদের হাতে পুঞ্জীভূত অর্থের পরিমাণ ১০ কোটির অনেক বেশি। হাজার কোটি টাকা আছে, এমন ধনবানের সংখ্যাও কম নয়। সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের প্রশ্ন হলো, এদের এই লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কোথায় আছে? যদি তারা এই টাকা ব্যবসা বাণিজ্য বা শিল্পে বিনিয়োগ করতো তাহলে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হতো। কিন্তু বাস্তবে সেটি হয়নি। গত ৫ বছরে কোটিপতির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু শিল্পে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে ১০ শতাংশ।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত বিশ্ব যুব কর্মসংস্থান প্রবণতা, ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত যুবকযুবতীর মধ্যে বেকার ২৬ দশমিক ১ জন। বাংলাদেশী যুবশক্তির সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ বেকারের কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য মতে, দেশে বেকার যুবকযুবতীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৫ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি বেকার যুবকের সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ। কিন্তু ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বেকারত্বের সংখ্যা ৫ গুণ বেড়ে ১ কোটি ৩২ লাখে পরিণত হয়। সূত্র মতে, সম্পদের অসম বণ্টন ও অবৈধ আয়ের কারণে আয়বৈষম্য বাড়ছে। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে সম্পদ। দেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে কাংখিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। হাতেগোনা কিছু উদ্যোক্তা বা শিল্প গ্রুপ ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তা কিংবা শিল্প গ্রুপ তৈরি হচ্ছে না। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে কমে গেছে ঋণের চাহিদা। ব্যাংকে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন বড় ধরনের দেশীবিদেশী বিনিয়োগ। শেয়ারবাজার এখনো চাঙা হয়নি। কারসাজির মাধ্যমে এখনো অর্থ হাতিয়ে নেয়ার খেলা চলছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, যতই দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশ থেকে পুঁজি পাচার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০৪ সালে যেখানে বাংলাদেশ থেকে পুঁজি পাচারের পরিমাণ ছিল ৩৩৫ কোটি ডলার, অর্থাৎ ২৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সেখানে ২০১৩ সালে সেই পাচার বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭৭ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই ৮ বছরে পুঁজি পাচারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। এখানে বলা দরকার যে, আমরা ডলার এবং টাকার বিনিময় হার ধরেছি ১ ডলার = ৮০ টাকা। ২০০৫ সালে পাচার হয়েছে ৪২৬ কোটি ডলার। ২০০৬ সালে ৩৩৮ কোটি ডলার, ২০০৮ সালে ৬৪৬ কোটি ডলার, ২০০৯ সালে ৬১৩ কোটি ডলার, ২০১০ সালে ৫৪১ কোটি ডলার, ২০১১ সালে ৫৯২ কোটি ডলার, ২০১২ সালে ৭২৩ কোটি ডলার এবং ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ডলার। এই ডলারের পাশে ৮০ দিয়ে গুণ করলে সেটি বাংলাদেশী টাকায় রূপান্তরিত হবে। গত ৯ ডিসেম্বর বুধবার অর্থ পাচারের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। জিএফআই সাত বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়, তা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবার উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে অবৈধ অর্থের প্রবাহ ২০০৪১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলতঃ আমদানিরফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ওই অর্থ বাংলাদেশের ২০১৫১৬ অর্থ বছরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পল্লী উন্নয়ন, শিল্প ও ভৌত অবকাঠামো খাতের মোট উন্নয়ন বাজেটের সমান। গত ২৩ বছর ধরে বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত মন্থর। এটি অর্থ পাচারের একটি বড় কারণ হতে পারে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ২০১২ সালের পুঁজি পাচারের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ঐ রিপোর্টে এই মর্মে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল যে, আগামী দিনেও পুঁজি পাচার অব্যাহত থাকবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কোনো আইন করে এই পাচার ঠেকানো যাবে না। কারণ, টাকা পাচারের বিষয়টি অনেকাংশেই সুশাসনের সঙ্গে জড়িত। যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থসম্পদ গড়ে তোলেন তারাই বিদেশে অর্থ পাচার করেন। এর পাশাপাশি দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নিজেদের পরিবার এবং সন্তানদের নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার জন্য বিভিন্নভাবে অর্থ বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ৪ লাখ ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে অন্তত দুই বছরের বাজেট তৈরি করতে পারত বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পুঁজি পাচার হয়েছে সেটি বিগত ১ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি দেশের জিডিপির ৬ শতাংশেরও বেশি এবং ২০১৩ সালের মোট রফতানি আয়ের ১ তৃতীয়াংশের সমান। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে যে পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে পাচারকৃত অর্থ তার ৩ গুণ বেশি। পত্রপত্রিকায় যে রিপোর্ট বেরিয়েছে সেই রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, ২০১৩ সালে দেশে যে রাজনৈতিক সংঘাত এবং সহিংসতা ঘটেছিলো এবং তার ফলে যে অশ্চিয়তার সৃষ্টি হয়েছিলো তার ফলেই এই পুঁজি পাচার ঘটেছে।

দেশের ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থাৎ অব্যবহৃত টাকার পাহাড় জমছে বলে খবর বেরিয়েছে। শিল্পবাণিজ্যে মন্থরতা ও স্থবিরতা ভর করায় এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য আছে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি। কয়েক বছর ধরে অলস টাকার এই পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আরিক অর্থেই টাকা নিয়ে বসে আছে ব্যাংক। কিন্তু ঋণ নিচ্ছেন না শিল্পোদ্যোক্তারা। বাড়ছে না বেসরকারি খাতের ঋণ নেয়ার হার। দেশে নতুন বিনিয়োগ তেমন হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংকে বাড়ছে অলস টাকার পরিমাণ। দেশে না করলেও উদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগের জন্য দেশের বাইরে যেতে চাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশে মূলধনের অভাব নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা বিনিয়োগ করতে চান। অর্থও আছে। কিন্তু দেশে বিনিয়োগের পরিবেশের ঘাটতি আছে। অবকাঠামোর সমস্যা তো ছিলোই। নতুন করে গ্যাস পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এখন অর্থের সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু চাহিদা নেই। এমনিতেই বিনিয়োগ কম। তার ওপর দেশের উদ্যোক্তারা এখন বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারছে। ফলে ঋণের চাহিদা আরো কমে গেছে। এর জের হিসেবে পাশাপাশি সরকারেরও রাজস্ব আয় কমছে। ব্যাংকগুলো বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে তাদের মুনাফা কমে যাওয়া মানেই সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়া। মূলত গত বছর থেকেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় উদ্যোক্তারা এখন বিনিয়োগ করতে চান বিদেশে।।