Home » রাজনীতি » বিএনপির সংকট :: এখনো তারেকের অনভিজ্ঞ বিপজ্জনক সক্রিয়তা

বিএনপির সংকট :: এখনো তারেকের অনভিজ্ঞ বিপজ্জনক সক্রিয়তা

শাহাদত হোসেন বাচ্চু

রাজনীতি সবসময়ই কার্যকারন ও ফলাফলের মাধ্যমে প্রভাবিত, যা ভবিষ্যতের গতিপ্রকৃতি নির্ধারন করে দেয়। যে কোন দেশে মূলধারার রাজনীতিকরা এটি অনুধাবন করে জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্যভেদী কৌশলগুলি নির্ধারন করেন এবং ভবিষ্যত রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। এদেশে বরাবরই ক্ষমতাসীনদের কৌশল কর্তৃত্ব ও ক্ষমতানির্ভর। বিপরীতে ক্ষমতার বাইরের প্রধান দলগুলি নির্ভর করে জনপ্রিয় ইস্যু ও জনসমর্থনের ওপর। এক্ষেত্রে দলের মধ্যে বিরাজমান দোদুল্যমানতা, সন্দেহঅবিশ্বাস দুর্দিনের রাজনীতিতে সংকট আরো ঘনীভূত করে, দলকে নিয়ে যেতে পারে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে। ইতিহাসে, এই বাংলাদেশে এর অনেক উদাহরন রয়েছে। এই সময়ে এর সবচেয়ে বড় উদাহরন হচ্ছে বিএনপি।

জনভিত্তি আছে, ভোট আছে, বিপদ ও ঝড়ঝাপটার পরেও সাংগঠনিক কাঠামো অটুট আছে, কিন্তু বিএনপি পড়েছে নিদারুণ সংকটে। এই সংকটকে তীব্রতর করে তুলেছে তারেক জিয়ার অনভিজ্ঞ, অপরিনামদর্শী ও বিপদজনক নেতৃত্ব। প্রকৃষ্ট উদাহরন হচ্ছে, ২০০১০৬ মেয়াদে ক্ষমতায়, ২০০৭০৮ মেয়াদে ক্ষমতার বাইরে, ২০০৯১৫ মেয়াদেকোন কালেই তিনি রাজনীতির কার্যকারন সম্পর্কে বুঝতে সক্ষম হননি। ফলে তার সৃষ্ট রাজনৈতিক অভিঘাত দলকে চূূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছে। ২০১৫ সালের প্রথমভাগে তাদের কথিত আন্দোলন নাশকতার কানাগলিতে হারিয়ে যেয়ে দলটিকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছিল।

২০১৬ সালে রাজনীতির মূলধারায় বিএনপি কি ফিরতে পারবে? মৌলিক প্রশ্নসমূহে অবস্থান পরিস্কার করে, দৃশ্যমান বড় ভুলগুলি স্বীকার করে, জনসমর্থনের ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যত কর্মকৌশল নির্ধারন করতে সক্ষম হবে? ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে ২০০১০৬ মেয়াদের দুর্নীতি, জঙ্গীবাদের উত্থান, অস্ত্র চোরাচালানসহ অভিযোগগুলির খন্ডন এবং হাওয়া ভবনের মত প্যারালাল সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার গ্যারান্টি কি এই দল দিতে পারবে? দিলেও কি জনগনের আস্থাবিশ্বাস ফিরে আসবে?

অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি জানাচ্ছে, বিএনপির কাছে এসব অভিযোগের উত্তর নেই এবং ভবিষ্যতে এ থেকে মুক্ত থাকার গ্যারান্টি এই দল দিতে পারবে না। কারণ, গত দেড় দশকে মধ্যপন্থার একটি দলে তারেক জিয়া যে প্রবল ডানপন্থার ঝোঁক সৃষ্টি করেছেন, সেখান থেকে ফিরে আসা খুব সহজ হবে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা সহজ হবেনা। তার কাজ এবং বক্তব্য দুইই এর বিপরীত।

তারেক সম্ভবত: বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম নন যে, তার সৃষ্ট হাওয়া ভবনীয় বিকল্প সরকার কিভাবে সামরিকবেসামরিক আমলাতন্ত্র ও দলের ভেতর ক্ষুব্দতা তৈরী করেছিল। ক্ষমতা বলয় থেকে ছিটকে পড়ার পর এই বিক্ষুব্দ অংশ দলের রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে। তিনি যে বোঝেন না তার প্রমান হচ্ছে, প্রবাসেও তিনি আরেকটি প্যারালাল কেন্দ্র সৃষ্টি করে চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে দলের জন্য আত্মঘাতী সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল ও বিএনপি আহুত পাল্টাপাল্টি সমাবেশ যে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছিল পুলিশী সিদ্ধান্ত তা ঠান্ডা করে দিয়েছে। ধরে নেয়া যায়, বছর জুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আহবান ও পালনে পুলিশী ভূমিকা বরাবরের মত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তবে এই স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, খালেদা জিয়ার আলোচনার আহবান এবং সৈয়দ আশরাফের শান্তিপূর্ণ রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বক্তব্য। এই স্বস্তি সাময়িক নাকি ভবিষ্যত ঝড়ের পূর্বাভাস, তা বলার সময় আসেনি।

খালেদা জিয়া এখনই সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর কথা বলেননি, যে লক্ষ্যে তিনি গত বছর আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের সূচনা করে কার্যত: নিজেই ছিলেন অবরুদ্ধ। এখন বিএনপির নরম সুর এবং আলোচনার আহবান ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার কথা সরকারের ওপর কি কোন প্রভাব বিস্তার করছে? আপাত:দৃষ্টিতে উত্তর হচ্ছে, না। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আলোচনা বা সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়া হয়েছে। বিপরীতে মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিচারের কথা বলা হচ্ছে এবং চটকদার বক্তব্য হিসেবে মিডিয়া প্রচার করছে।

আওয়ামী লীগের ধারনাটি এখন বদ্ধমূল। বিএনপি রাজপথে এমন কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে কবলে মনে হয়না , যার মাধ্যমে তারা সরকারের ওপর কোন চাপ সৃষ্টি করে বহুল কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের দাবি আদায় করে নিতে পারে। তারপরেও বিএনপি জনসমর্থন সংগঠিত করে রাজপথে নামলে সরকারের পুরানো কৌশল ও উস্কানি অব্যাহত থাকছে। বছরের শুরুতেই এর নমুনা হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে ৩১ ডিসেম্বর আবেদন জানানোর পর আওয়ামী লীগ একই স্থানে আবেদন করে ২ জানুয়ারি।

রাজপথে বিএনপি সংগঠিত হবার চেষ্টা করলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, জঙ্গীবাদ ও পাকিস্তানী কানেকশন ইত্যাদি সামনে নিয়ে আসা হবে। সর্বোপরি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিকল্প শক্তি তো থাকছেই। জ্বালাওপোড়াও, বোমাবাজি, খুনসহ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সামনে নিয়ে আসা হবে এবং ব্লেইম গেইমের ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শতশত মামলা দায়ের করে বিএনপিকে সাইজ করে দেয়ার পুরানো কৌশল চলতে থাকবে। রাজনীতির এই নেতিবাচক বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উপর্যুক্ত বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্বচ্ছ না করে তুললে দল হিসেবে তারা মৌল বিয়য়গুলিতে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েই থাকবে।

গত ৫ জানুয়ারি সমাবেশে খালেদা জিয়া যেমনটি আহবান জানিয়েছেন অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে নতুন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ বিষয়ে তিনি ও তাঁর দল কতটা কমিটেড? তার ভাষায়, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চান, অন্তত: একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, তার জন্য আন্তরিকতা, রূপরেখা কিংবা দিক নির্দেশনা তিনি কি জাতির সামনে হাজির করেছেন? তাঁর দলেও কি গণতন্ত্র আছে? তিনি ও তাঁর পুত্র দলে একক এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী না হলে সাত বছর দল কিভাবে চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত’দের নিয়ে?

২০০৬ সালে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও দলের ভবিষ্যত অদুরদর্শীতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ বোঝার অপারগতা বিএনপিকে দীর্ঘস্থায়ী বিপদের মধ্যে ঠেলে দেয়। ২০০৭০৮ সালে সদ্য ক্ষমতা হারানো দল সেই বিপদ মোকাবেলা করতে পারেনি। দশম সংসদ নির্বাচনে অনড় ও যুদ্ধংদেহী ভূমিকা এবং ২০১৫ সালে টানা ৯২ দিনের সহিংস আন্দোলন দল হিসেবে বিএনপিকে কোন পরিনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে এর কোন মূল্যায়ন এবং তার নিরীখে ভবিষ্যত পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না!

এজন্যই দিকভ্রান্ত বিএনপি নেতৃত্বকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে। যেন মুক্তিযুদ্ধের কোন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই, জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেছিল বাংলাদেশ? জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধতা থাকলে বুঝি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পর্কে অস্বচ্ছবিতর্কিত মন্তব্য করতে হয়! ১৫ আগষ্ট জন্মদিন পালন করতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব করে মূলধারার রাজনীতিতে খালেদা জিয়া কি অর্জন করতে চান? নাকি আওয়ামী লীগ তাঁর এবং দলের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ তুলে ধরে, প্রকারান্তরে সেগুলি তিনি বা তাঁর পুত্র প্রতিষ্ঠিত করতে চান?

জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগজামায়াতের যুগপৎ আন্দোলনের অসাড় উদাহরন বিএনপির জন্য কাজে আসছে না এটি তাদের অনুধাবন করা উচিত। বিএনপি মূলধারার রাজনীতিতে ফিরতে চায় তাহলে এইসব অভিযোগ খন্ডনে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ ইতিহাসের মীমাংসিত প্রশ্নে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে হবে। কতগুলি মৌলিক প্রশ্নে বিএনপি অভিযুক্ত। এগুলি সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার না করে যদি একই অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে তাহলে রাজনৈতিক লাভালাভে কোন অগ্রগতি হবে না। অব্যাহত থাকবে ব্লেইম গেমের ধারাবাহিকতা, যা সংকটকে আরো গভীর করবে।

ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গীবাদ পৃষ্ঠপোষকতা করে ক্ষমতার বাইরে এর বিরোধিতা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করলে জনতার কাঠগড়ায় দুই দলই অভিযুক্ত থাকবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দলটির সাথে জোটবদ্ধ থেকে সুষ্ঠ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার চাইলে কেউ কি বিশ্বাস করবে? বিএনপির তো মস্ত দুর্বলতা হচ্ছে, ক্ষমতায় থাকাকালে দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা ও গ্রেনেড হত্যা মামলা ধামাচাপা দেয়ার রাষ্ট্রীয় অপকর্ম। এই দায় বিএনপির নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বললে আজিজ মার্কা আজ্ঞাবহ কমিশন সামনে চলে আসবে। রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বাতিল হবার পরে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কোন রূপরেখা হাজির না করতে পারা বিএনপির রাজনৈতিক দুৃর্বলতা। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন, একপক্ষীয় নির্বাচনের অভিযোগ বিএনপি করছে কিন্তু ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও ২০০৭ সালে জানুয়ারির নির্বাচন আয়োজন নৈতিকভাবে তাদের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকার আসার সুযোগ সৃষ্টি ও ওই সরকারকে স্বাগত জানানোর ঐতিহাসিক দায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।

দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে পলিসি ও আচরনগত মিল উল্লেখ করার মত। দু’দলের মধ্যে কিছু দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রয়েছে। দু’দলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার বাসনায় যা করেছে, যা করছে তা অবশ্যই তুলনীয়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকবে, কারন পরপর দু’মেয়াদে দলটি ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯১৯৬ ও ১৯৯৬২০০১ মেয়াদে দুই দলই সরকার চালিয়েছে অপেক্ষকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা ছিল। খালেদা জিয়ার বড় সুযোগ ছিল ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সংসদীয় ব্যবস্থায় পুন:প্রবর্তনের মাঝে। প্রশ্ন ছিল, ধাপে ধাপে ওয়েষ্টমিনিষ্টার পদ্ধতির গণতন্ত্রের পথে মাইলষ্টোন লাগাবেন অথবা প্রধানমন্ত্রী শাসিত কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন?

খালেদা জিয়া দ্বিতীয় পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং নির্বাহী প্রভাব খাটানোর জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধীনস্থ করেছিলেন। এর ফলে আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তাঁর ও মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষিত নেতৃত্ব ক্ষমতামুখী, উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে। জড়িয়ে পড়ে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ পৃষ্ঠপোষকতা ও অস্ত্র পাচারের মত আন্তর্জাতিক অপরাধের সাথে। তাদের মধ্যে এই অভিলাষ তৈরী হয়েছিল যে কোন মূল্যে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হবে। আজকের বিএনপির গভীর সংকট এবং মূলধারার রাজনীতি থেকে অপসৃত হয়ে যাবার আশংকার মূল কারন সেখানেই নিহিত।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও মূল্যায়নে যে ধীশক্তি, প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্ত গ্রহনে দক্ষতা থাকতে হয় এবং লক্ষ্যভেদী কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, সে পরীক্ষায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব কতটা প্রস্তুত তা বার বার প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। এইগুলি অনুধাবন না করে একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্বাচীনঅরুচিকর এবং ইতিহাসভূগোল বিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান আরো সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অতলে তলিয়ে যাবার আগে কি বিএনপি এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতের সবুজ মাঠের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে সক্ষম হবে ২০১৬ সালে দলটির জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।।