Home » অর্থনীতি » মাত্র ২১ লাখের বেতন বৃদ্ধি :: সাধারণের উপরে কতোটা চাপ বাড়বে

মাত্র ২১ লাখের বেতন বৃদ্ধি :: সাধারণের উপরে কতোটা চাপ বাড়বে

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

নতুন পেস্কেল বাস্তবায়নে বর্ধিত বেতনভাতার জন্য সরকারের বাড়তি খরচ হবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে এ বছরই শুধু বর্ধিত বেতন দিতে হবে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে অর্থ বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি রাখা হয়। চলতি বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী বাজেটে ৫ শতাংশ বাড়লে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ হাজার ১৪৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বরাদ্দের পরিমাণ থাকছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪০ শতাংশ।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিরক্ষা খাত বাদে জাতীয় বেতন স্কেলভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা হচ্ছে ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার। শুধু এসব চাকরিজীবীদের বেতনভাতা বাবদ ২০১৪১৫ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ আছে ২৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন বাবদ ব্যয় ১১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা এবং ভাতা বাবদ ১২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন স্কেল বাস্তবায়ন করলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুধু বেতন খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ২১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। যা বর্তমান বেতন খাতের বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার ৯০ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা।

নতুন পেস্কেলে প্রতিরক্ষা বাদে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ধরনের ভাতার পেছনে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে আরও ৭ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন ভাতা বাবদ চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ১২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। নতুন পেস্কেল বাস্তবায়ন করতে অর্থের প্রয়োজন হবে ১৯ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে বাড়িভাড়া খাতে ৪ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা, চিকিৎসা ভাতা খাতে ৯৯৮ কোটি টাকা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা খাতে এক হাজার ২৫০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা, যাতায়াত ভাতা খাতে ৩৭ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা, উৎসব ভাতা এক হাজার ৭১৬ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ৫৭১ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা, টিফিন ভাতা ১৫৪ কোটি টাকা, পাহাড়ি ও দুর্গম ভাতা প্রায় ৮৪ কোটি টাকার দরকার। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সহায়তা বাবদ চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ৫ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এ খাতে প্রয়োজন হবে ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানের তুলনায় আগামী বছরে অতিরিক্ত অর্থের দরকার হবে এক হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।

এদিকে, সদ্য অনুমোদন পাওয়া অষ্টম বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেডটাইম স্কেলবাদ দেওয়ার মাধ্যমে বৈষম্য বিলোপ করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও দুটি সুযোগ যাদের পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তারা বলছেন, এটা শুভঙ্করের ফাঁকি। অষ্টম বেতন কাঠামোকে সকল শ্রেণির সরকারি চাকুরিরতরা স্বাগত জানালেও আপত্তি শুধু এই দুটি বিষয়ে। সরকারি চাকরির প্রায় সবাই প্রথম চার বছরের মধ্যে সিলেকশন গ্রেড পেতেন। নিচের স্তরের ও ব্লকপদধারীরা (যাদের পদোন্নতির সুযোগ কম বা নেই) , ১২ ও ১৫ বছরের মাথায় তিনটি টাইম স্কেল পেতেন। কিন্তু এখন এই সুবিধা দুটি বাতিল করে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট গ্রেডে নির্দিষ্ট হারে বেতন বাড়ানোর নিয়ম করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া নতুন এই বেতন কাঠামো অনুযায়ী, নিচের স্তরের কর্মচারী ও ব্লকপদধারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০ থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ, পঞ্চম গ্রেডেরক্ষেত্রে হবে চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডের মাত্র চার শতাংশ, দ্বিতীয় গ্রেডের মাত্র তিন দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রথম গ্রেডে কোনো বেতন বৃদ্ধি হবে না।

বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে পরিমাণে বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে বা হতো নতুন নিয়ম চালু করার পর তার চেয়ে বেশি বেতন বাড়বে। বৈষম্য কমবে এবং বিষয়টা সর্বজনীন হবেবলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। তবে এই বিষয়টি যে শুভঙ্করের ফাঁকি তা হিসাব করে দেখিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, নতুন পেস্কেলের সাথে সিলেকশন গ্রেড থাকলে ১৬ হাজার টাকার (মূল বেতন) চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর চার বছরের মাথায় প্রতি বছর ৯০০ টাকা হারে ইনক্রিমেন্টসহ আমার বেতন হতো ২৩ হাজার ৪৮০ টাকা। তিনি আরও বলেন, নতুন পেস্কেলে সিলেকশন গ্রেড তুলে দিয়ে ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর কারণে চার বছর পর আমার বেতন দাঁড়াবে ১৯ হাজার ২০০ টাকা। এই কর্মকর্তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তিনি ৪ হাজার ২৮০ টাকা কম পাচ্ছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির এই কর্মকর্তার মতো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিসহ সকল শ্রেণির ব্লকপদধারী চাকুরেদেরও একই অবস্থা।

­কপদে চাকরি করা একজন সরকারি কর্মচারী বলেন, ব্লকপদধারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো আপত্তি থাকত না। কারণ বাতিল হওয়া সুবিধা দুটি আমাদের মতো পদোন্নতি বঞ্চিতদের সান্ত¡নার সম্বল ছিল। কিন্তু আমাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা না করে যারা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে সম্মান এবং আর্থিক সুযোগ লাভ করছেন তাদের সঙ্গে আমাদেরও যোগ করেছে সরকার। এতে সবাইকে সমান করা হয়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও আমাদের পদোন্নতির সুযোগ যে তৈরি হয়নি তা বরাবরের মতোই ভুলে থাকছেন বা ঢেকে রাখছেন নীতিনির্ধারকরা। এই হিসাবনিকাশের বিশ্লেষণ করে নিচের স্তরের চাকুরেরা গত মে মাসে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী তাদের উত্থাপিত যুক্তি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বেতন কাঠামোতে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারী খাত বেতনভাতা বাড়ায় তার ক্ষমতা অনুসারে। আয় বাড়লে অর্থাৎ মুনাফা বাড়লে সেই অনুপাতে তারা বেতনভাতা বাড়ায়। বিক্রয় বাড়লে, মুনাফা বাড়লে সেই হারে তারা বেতন বাড়ায়। বেতন বাড়ানোর যুক্তি খালি মূল্যস্ফীতি নয়। মূল্যস্ফীতি একটা উপাদান। এখন প্রশ্ন সরকারের আয় (রাজস্ব বিয়োগ রাজস্ব ব্যয়) কী দ্বিগুণ বেড়েছে? মূল্যস্ফীতির হিসাব করে আয় কি দ্বিগুণ বেড়েছে? সরকারের মূল পারফরম্যান্স বাজেট ঘাটতিকী অর্ধেকে হ্রাস পেয়েছে? আয় বেড়েছে দ্বিগুণ, খরচ বেড়েছে সোয়া দুইগুণ তাহলে কী দাঁড়াল? সরকারের হিসাব যদি প্রফিট এ্যান্ড লসভিত্তিতে করা হতো তাহলে কী দাঁড়াত?

সরকারের সব রাজস্ব যদি বেতনভাতা এবং ঋণের ওপর প্রদত্ত সুদ বাবদ খরচ হয়, তাহলে তা দেশের কী উপকারে লাগল? সাদামাটা চোখে দেখা যাচ্ছে আমাদের যত বাজেট ঘাটতি ঠিক প্রায় ততটুকুই উন্নয়ন বাজেটের আকার। এর অর্থ আমাদের উন্নয়নের টাকা নেইবাজেটের আকার যত বড়ই হোক না কেন? আরও বড় প্রশ্নআর সেটা পেনশনসম্পর্কিত। পেনশন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী দায় এবং দায়টি সরকারের। এই দায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকর্মচারীর প্রতি, তার ছেলেমেয়ের প্রতি, শুনতে পাচ্ছি এই দায় হবে নাতির প্রতিও। বেতনভাতা বৃদ্ধির অনুষঙ্গ হিসেবে সরকারের বার্ষিক যে পেনশন দায় মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ছেতাও কিন্তু হিসাবে রাখতে হবে। বহু দেশে এখন পেনশন একটা বড় সমস্যা। যেমন গ্রীস। পাশের দেশের পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও তাই আমাদের দেশে অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক, পাটকল শ্রমিককর্মকর্তাসহ বহু শ্রেণীপেশার লোক পেনশননিয়মিত না পেয়ে এখনই ভুগছেন। টাকার অভাব তাই নয় কী? মনে হয় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপারেই সরকার বেশি ভাবিত।

মনে রাখা দরকার বিশ লাখ কর্মচারীর বাইরে দেশে রয়েছে লাখ লাখ বেসরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তাসংগঠিত খাতে এবং অসংগঠিত খাতে। দোকান, ছোট বড় দোকান, শপিং মল গার্মেন্টস, ছোট ছোট কারখানা, ছোট ছোট অফিস ইত্যাদিতে কাজ করে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোক। সংবাদপত্রটিভি কর্মী আছে হাজার হাজার। এদের কী হবে? একথা জানা এসব খাতের ব্যাপারে দেশে কোন আইন নেই। মালিকরা যথেচ্ছভাবে বেতন ও মজুরি দেয়। পদোন্নতি কখনও হয়, কখনও হয় না। ইনক্রিমেন্ট আবার কী? ভাতা আবার কী? বেসরকারী খাত বলে কথা। তাই সরকার কিছু বলে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএএকটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে দশ হাজার টাকা বেতন পায় না। বহু সংবাদপত্র আছে যেখানে যোগদান করলে ৫৬ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়। দোকানকর্মচারীরা ৪৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে। এদের কী হবে? সরকারী কর্মকর্তাকর্মচারীরা তো পহেলা বৈশাখে বোনাস পাবেন। খুবই আনন্দের কথা। কিন্তু বেসরকারী খাতের কর্মকর্তাকর্মচারীদের আনন্দের ব্যবস্থা কী? সরকার কী এসব ব্যাপারে কিছু ভাবছে?

এক ঘোষণায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। বলা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। এই ব্যবসায়ীরা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সরকারেরই লোক। যার লোকই হোক না কেন তারা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। আবার গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে খোদ সরকারই। বেতনভাতা বৃদ্ধি, তেলগ্যাসবিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং এরই মধ্যে ঘোষিত বিদ্যুত ও গ্যাসের আরও মূল্যবৃদ্ধিসব মিলিয়ে জনজীবনে তার বোঝা কত হবে? বিভিন্ন লোকের হিসাব বিভিন্ন হবে। কিন্তু যার যার হিসাব তার তার। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা কী বললেন তাতে কিছু আসে যায় না। মোদ্দাকথা মূল্যচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বেসরকারী খাতেও বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবি উঠবে এবং তা উঠলে এটা হবে ন্যায্য। সরকার এই দাবিকে আশা করি অগ্রাহ্য করবে না। বরং সহনশীলভাবে ঐ খাতেও বৃদ্ধির ব্যবস্থা করবে। কারণ এটা সরকারেরই দায়িত্ব। বেসরকারী খাত বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।

সরকার মূল্যস্ফীতির শরীরে নতুন করে ঘি ঢাললো নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করে। এর চাপ সামলাতে গিয়ে যেখানে সেখানে ভ্যাট ও করারোপ করতে হচ্ছে সরকারকে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে সরকার এ কারণেই। আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সামান্য উছিলা পেলেই দাম বেড়ে যায়। সেই দাম একবার বাড়লে নামানোর কোনো উপায় নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারী নেই। গত রমজান মাসে পণ্যমূল্য যে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা এখনোও অব্যাহত রয়েছে। আবার নতুন করে সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারিদের বেতন স্কেল ঘোষণা করা হলো। ফলে বাজারে যে মূল্যষ্ফীতি ঘটেছে সেটা আর কমার সম্ভাবনা নেই।

২১ লাখ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর সুবিধা দিতে গিয়ে এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হলো। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির যাতাকলে পড়লো দেশের ১৬ কোটি মানুষ। পেস্কেল কার্যকর হওয়ার পর বাজারে অর্থের সরবরাহ বাড়বে। অর্থের সরবরাহ বাড়লে পণ্যমূল্য বাড়বে। কাজেই দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা না গেলে পেস্কেল দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলে অর্থনীতিবিদদের অভিমত। তারা জানান, নতুন পেস্কেলের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্য যেভাবে বাড়ছিল তাতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো দরকার ছিল। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তা সমন্বয় হওয়া দরকার ছিল। মূল্যস্ফীতির এ চাপ কমানোর জন্য মুদ্রানীতির সমন্বয় করা দরকার হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং এ চাপের ফলে বেসরকারি খাতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। কারণ আগে বেসরকারি খাতের নিম্নতম বেতন সরকারি খাতের চেয়ে বেশি থাকলেও এখন অনেক কম। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতেও বেতন বৃদ্ধির একটি চাপ সৃষ্টি হবে। সেটি হলে পণ্যের দামও বাড়বে।

কাঁচা বাজারের দ্রব্যমূল মাসখানেক ধরেই বেড়ে চলছে। নানান কারণেঅকারণে আগুন লাগা বাজারে ঘি ঢেলেছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন করে ঘোষণা করা পেস্কেল। ২১ লাখ সুবিধাভোগির জন্য এটি সুসংবাদ হলেও পেস্কেলের অজুহাতে কপাল পুড়েছে ১৬ কোটি মানুষেরই। যদিও বাড়তি বেতন এখনও পেতে শুরু করেননি তারা। ঘটা করে পেস্কেলের নামে একসঙ্গে না বাড়িয়ে বছর বছর বেতন বাড়ানোর কথা অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা বার বার বললেও সরকারের কানে এ আহ্বান পৌঁছায়নি। অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, পেস্কেলের কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না। যদিও পাইকারি এবং খুচরা বাজারের ব্যাপক মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খোদ সরকারী কর্মচারীরাই বললেন, সরকার পেস্কেলের নামে যা দিয়েছে তাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা একটা অজুহাত পেয়েছে মাত্র। অথচ নতুন এই পেস্কেলে অনেকের বেতন আরও কমে গেছে। বেতন বাড়বে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে তারও আগে। এমতাবস্থায় বাড়তি বেতন যারা পাবেন তাদেরও উপকার হবে না। ব্যবসায়ীদের অভিমত হলো, পেস্কেল বাস্তবায়নের পর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে তেমন লাভ হবে না। বাজারে পণ্যমূল্য যাতে না বাড়ে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও বলা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি হবে না। কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভাল নয়।।