Home » আন্তর্জাতিক » অস্ত্র বিক্রি : ভারতসহ উদীয়মান উৎপাদনকারীরা এগিয়ে

অস্ত্র বিক্রি : ভারতসহ উদীয়মান উৎপাদনকারীরা এগিয়ে

আসিফ হাসান
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ অস্ত্র। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) এই বাণিজ্যের নানা দিক তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিক্রয় সংক্রান্ত এক রিপোর্টে। তাদের হিসাব মতে, টানা চতুর্থ বছরের মতো অস্ত্র ও সামরিক খাতের বিভিন্ন বিক্রি কমেছে । তবে সেটা সার্বিক হিসাবে নয়, শীর্ষ ১০০ বৃহত্তম অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির অস্ত্র বিক্রির দিক থেকে। ওই শীর্ষ ১০০ বৃহত্তম অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির আয় হয়েছে শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই ৪০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের কমেছে : শীর্ষ ১০০ অস্ত্র বিক্রেতা কোম্পানির তালিকায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। মোট বাজারের ৫৪.৪ ভাগ তাদের দখলেই। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি কমেছে ৪.১ ভাগ। ২০১২-১৩ মেয়াদেও একই অবস্থা দেখা গিয়েছিল। তবে অনেকের কমলেও কয়েকটি কোম্পানির বিক্রি বেড়েই চলেছে। সেটা হলো লকহিড মার্টিন। তারা ২০০৯ সাল থেকে শীর্ষ ১০০-এ স্থান ধরে রেখেছে। ২০১৪ সালে তাদের অস্ত্র বিক্রি ৩.৪ ভাগ বেড়ে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্র বিক্রি বাড়ায় তাদের সাথে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বোয়িংয়ের সাথে ব্যবধানও বাড়ছে। ২০১৪ সালে বোয়িংয়ের বিক্রি ছিল ২৮.৩ বিলিয়ন ডলার।
আর ২০১৫ সালে হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারী সিকোরস্কি এয়ারক্রাফট করপোরেশন কিনে নেওয়ায় লকহিড মার্টিন এবং শীর্ষ ১০ থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আগামী বছর আরো বাড়বে। এই ধারণাটি দিয়েছেন সিপরির অস্ত্র ও সামরিক ব্যয়বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক আউড ফ্লয়েন্ট।
২০১৪ সালে পশ্চিম ইউরোপের কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি ৭.৪ ভাগ কমেছে। কেবল জার্মান (+৯.৪ শতাংশ) ও সুইস (+১১.২ শতাংশ) কোম্পানিগুলো প্রকৃত অর্থে অস্ত্র বিক্রি বাড়াতে পেরেছে। অস্ত্র বিক্রিতে জার্মানির তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে জার্মান জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি থাইসেনক্রাপের (+২৯.৫ ভাগ) বিক্রি বেড়ে যাওয়া। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের পিলাটাস এয়ারক্রাফট লাভবান হচ্ছে প্রশিক্ষণ বিমানের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়। শীর্ষ ১০০-এ থাকা ইউরোপিয়ান কোম্পানির মধ্যে যে সাতটির বিক্রি কমেনি, এই দুটি তাদের অন্যতম।
রুশ অস্ত্র বিক্রি বাড়ছেই : রাশিয়ার অর্থনীতি সমস্যায় থাকলেও তাদের অস্ত্র শিল্প বেশ চাঙ্গা দেখা যাচ্ছে। ২০১৪ সালে তাদের অস্ত্র শিল্প বেশ ভালো ছিল। ২০১৪ সালে শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে ১০.২ ভাগ তথা ১১টি ছিল রুশ। আগে তাদের সংখ্যা ছিল ৯। শীর্ষ ১০০-এ সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে প্রবেশ করেছে হাই প্রিসিশন সিস্টেমস (৩৯তম) ও আরটিআই (৯১তম)। আর নতুন প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড ইনস্ট্রমেন্ট ম্যানুফেকচারিং করপোরেশন (ইউআইএমসি) ২৪তম হিসেবে তালিকায় ঢুকেছে। তারা সোজভেজডাইয়ের স্থান দখল করেছে। এই কোম্পানিটি ইউআইএমসি গঠন করতে অন্য কোম্পানিগুলোর সাথে মিলে গেছে। রুশ যেসব কোম্পানির অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে উরালভ্যাগোনজাভদ। তাদের অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৭২.৫ ভাগ। আরমাজঅ্যানটের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৩ ভাগ। তারা এখন ১১ নম্বর স্থানে আছে।
সিপরির সিনিয়র রিসার্চার সাইমন ওয়েজম্যানের মতে, ২০১৩-১৪ সালে রুশ কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৮.৪ শতাংশ।
বিপরীতে ইউক্রেনের কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ২০১৩ সালে ৫৮তম স্থানে থাকা উক্রোবোনোন-প্রম ২০১৪ সালে ৯০তম স্থানে নেমে গেছে। তাদের বিক্রি কমেছে ৫০.২ শতাংশ। দেশটির আরেক কোম্পানি মোটর সিচের বিক্রি কমে যাওয়ায় শীর্ষ ১০০ তালিকা থেকেই বাদ পড়ে গেছে। ইউক্রেনের অস্ত্র বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ হলো দেশটির পূর্বাঞ্চলে সংঘর্ষ, রাশিয়ার বাজার হারানো এবং স্থানীয় মুদ্রার মূল্য পড়ে যাওয়া।
উদীয়মান উৎপাদনকারীদের অবস্থান জোরদার হচ্ছে : সিপরি ২০১৩ সালে ‘উদীয়মান বাজার’ পরিভাষাটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করেছিল। যেসব দেশ তাদের সামরিক শিল্পকে চাঙ্গা করা শুরু করেছিল, তাদের অবস্থা বোঝানোর জন্যই ছিল এই উদ্যোগ। ২০১৪ সালে এই ক্যাটাগরিতে ছিল ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে তাদের বিক্রি ৫.১ ভাগ বেড়েছে।
দুটি তুর্কি কোম্পানির শীর্ষ ১০০-এ রয়েছে। ২০১৪ সালে আসেলস্যানের বিক্রি ৫.৬ ভাগ বাড়লেও তাদের স্থান ৬৬তম থেকে ৭৩-এ নেমে গেছে। আর টার্কিশ অ্যারোস্পেশ ইন্ডাস্ট্রির (টিএআই) বিক্রি ১৫.১ ভাগ বাড়ায় তারা ৮৯তম হিসেবে শীর্ষ ১০০ তালিকায় প্রবেশ করেছে।
সিপরির সিনিয়র রিসার্চার সাইমন ওয়েজম্যান বলেন, অস্ত্রের দিক থেকে তুরস্ক আত্মনির্ভরশীল হতে চাচ্ছে। এ কারণেই তারা বেশ আগ্রাসীভাবে রফতানি বাড়াচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো শীর্ষ ১০০-এ স্থান উন্নত করেছে। এশিয়ার ১৫টি কোম্পানি (চীনকে এই হিসাবে রাখা হয়নি) শীর্ষ ১০০-এ স্থান করে নিয়েছে। ওয়েজম্যানের মতে, এশিয়ার অনেক কোম্পানি তাদের বিক্রি স্থিতিশীল রেখেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানিগুলো ২০১৩ সালের চেয়ে ২০১৪ সালে বিক্রি বাড়িয়েছে ১০.৫ ভাগ। শীর্ষ ১০০-এ যোগ দেওয়া নতুন দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি হলো হুনদাই রোটেম। তারা সামরিক যানবাহন তৈরি করে।