Home » অর্থনীতি » বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতি, লুকোচুরি : অনেক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতি, লুকোচুরি : অনেক প্রশ্ন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন : বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনিয়ম ও জনগণের অর্থের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব যাদের সেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভের অর্থ খোয়া গেছে। প্রশ্ন উঠছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। প্রকৃত ঘটনা হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সুইফট কোডের মাধ্যমেই অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুইফট কোড নিয়ন্ত্রণ করা হয় ভারত থেকে। অর্থ লুটের পর নিয়ন্ত্রণে জড়িতদের বাংলাদেশে আসতে বলা হলেও তারা আসছে না। সুইফট তথা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন হলো বেলজিয়ামভিত্তিক আন্তব্যাংক আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে আন্তব্যাংক লেনদেনের পরিচিতি শনাক্ত করা হয়- যা মূলত সংকেতলিপি তথা কোডের মাধ্যমে করা হয়। এক্ষেত্রে লেনদেনের তারবার্তা (ওয়ার) এই কোডের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইফট কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে বার্তা (ওয়ার) বিনিময় হয়েছে, সেটি ছিল বিশ্বাসযোগ্য (অথেনটিক)। এখন পর্যন্ত আমাদের নেটওয়ার্ক অপব্যবহার হয়েছে, এ রকম কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। যার মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো সুইফট কোড দিয়েই অর্থ সরানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সহজেই প্রশ্ন করা সম্ভব যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কী এই কোড পাঠানোর সঙ্গে জড়িত? তাহলে প্রশ্ন কে বা কারা হলো কে জড়িত?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা দাবি করেছেন, ‘সার্ভার বাংলাদেশ থেকে হ্যাকড হয়নি। এটি দেশের বাইরে থেকে হয়েছে, যা আমাদের আওতার বাইরে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না’। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্ভার এরিয়া খুবই সুরক্ষিত। আইডি প্যানেলে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও এন্টি-ভাইরাস প্রুফ। এতে সুইফট কোড হ্যাকড হওয়া তো দূরের কথা, এর আইডি প্যানেলে তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রবেশ করার সুযোগও নেই। সঙ্গত কারণে হ্যাকারদের মিশন এখানে কোনোভাবেই সফল হবে না। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষও সাফ জানিয়ে দিয়েছে – তাদের দফতর থেকেও হ্যাকড হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাহলে প্রশ্ন হল- কথিত হ্যাকাররা কীভাবে হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি করে নিয়ে গেল।
এ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮৭ কোটি ডলার ফিলিপাইনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার হওয়ার চেষ্টা গত মাসে নস্যাৎ হয়ে যায়। যদিও তার কিছুদিন আগেই একই উৎস থেকে আসা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশটির ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকে পড়ে এবং পরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) স্থানীয় গ্রাহকদের নামে ছাড় করা হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে অনুপ্রবেশকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কা থেকে উদ্ধার করা দুই কোটি ডলার গিয়েছিল সে দেশের একটি ব্যাংকে নতুন খোলা এনজিও-র (বেসরকারি সংস্থা) হিসাবে। কনসালট্যান্সি বা পরামর্শক ফি হিসেবে ওই অর্থ স্থানান্তরের ‘পরামর্শ’ গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকেতলিপি থেকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন শক্তিশালী হওয়ায় নতুন একটি হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সন্দেহের চোখে দেখেছে। তখন ওই ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আনা হলে সেই অর্থ আটকে দেয়া হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, ফিলিপাইনেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়ে জমা হয়। পরে সেখান থেকে অন্য হিসাবে সে সব অর্থ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের দুর্বলতা এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেন সত্ত্বেও তা অনায়াসে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে চলে যায়। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা অর্থের বড় অংশই কয়েকটি ক্যাসিনোর হাত ঘুরে ফিলিপাইন থেকে বেরিয়ে হংকংয়ে চলে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লুকোচুরি: গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে মজুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে মোট ১০ কোটি ১০ লাখা ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। অর্থ পাচারের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংককে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনা জানায় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেয়। কিন্তু ফিলিপাইনে পাচার হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ লাখ ডলার লুটেরা নিয়ে যেতে পেরেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো ৫ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংক এক মাসেরও বেশি সময় ধামাচাপা দিয়ে রাখে। এমনকি গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের সংবাদপত্র ‘দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার’ অর্থ পাচারের প্রতিবেদন ছাপলেও ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত এক বিবৃতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আলোচিত এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। একই দিন অর্থমন্ত্রী জানান, তিনি সংবাদপত্র থেকে অর্থ পাচারের কথা জেনেছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে কিছুই জানায়নি। প্রশ্ন হলো- এতবড় ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংক কেন এতদিন চেপে রেখেছিল এবং এক মাসেরও বেশি সময় খোদ অর্থমন্ত্রীকেও তারা ঘটনা অবহিত করেনি কেন?
খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ নিয়েও সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো স্পষ্টভাবে খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। এখনো তারা বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে। প্রশ্ন হলো, জনগণের অর্থ নিয়ে এত লুকোচুরি কেন? কেন্দ্রীয় সার্ভারের কম্পিউটারগুলো যাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তারা খুবই প্রযুক্তি দক্ষ। এই সার্ভারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েকজন উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। যারা সুপার অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেন। আবার তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন আরও বেশকিছু অ্যাডমিন। তারা ফাস্টলাইনে থেকে আইডিগুলো পরিচালনা করেন। এদের প্রত্যেকে পৃথক আইডি ও আইপি ব্যবহার করে থাকেন। আবার কাউন্টার চেকিংয়ে তারা সার্ভারে কী করছেন তা প্রধান অ্যাডমিন পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যাকারদের এমন আক্রমণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেই হ্যাকারদের লোক থাকতে পারে। আর এজন্য স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তি জানা গোয়েন্দাদের এ অনুসন্ধান ও তদন্তে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্ভারের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল। যদিও ম্যালওয়ার ভাইরাস আক্রমণের কথা বলা হচ্ছে। আদৌ কোনো ভাইরাস আক্রমণ করেছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুরো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে। সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয় হলো, দেশে সাইবার বিশেষজ্ঞ দল, র‌্যাবের আইটি বিশেষজ্ঞ, আইসিটি মন্ত্রণালয় থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক ভারতীয় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞকে এ কাজে নিয়োজিত করেছে।
সবই জানতেন আরসিবিসি শাখার কর্মকর্তারা: ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন বা আরসিবিসি শাখায় মূল লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল। শাখাটির প্রধান এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিষদ বরাবর দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়ুচেংকো পরিবার পরিচালিত ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তারা লেনদেনের একেবারে আদি-অন্ত জানতেন। কয়েক মাস আগে সৃষ্ট ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তহবিলগুলো জমা করা হয়েছিল এবং তা পেসোতে রূপান্তরিত করতে ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্রোকার ফিলরেমে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এরপর তা আরসিবিসি বরাবর স্থানান্তর করা হয় এবং তা চীনা বংশোদ্ভূত এক ফিলিপিনো ব্যবসায়ীর নামে রাখা হয়। আর সেখান থেকেই সেগুলো ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। ফিলিপাইনের এক সরকারি সূত্রের বরাতে ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় ক্যাসিনো হয়ে অর্থগুলো হংকংয়ে জমা করতেন চীনা বংশোদ্ভূত ওই ফিলিপিনো ব্যবসায়ী।
ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের প্রতিনিধির দাবি, ২০১৫ সালের মে মাসে ম্যানেজারকে ৫টি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারাই এ আদেশ দেন। এ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে গিয়ে আরসিবিসি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে ৫টি আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। তবে কার্ডগুলোতে যেসব পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে তার সবগুলোই কাল্পনিক। ঘটনা প্রকাশের পর এখন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এ ব্যাপারে মুখ খোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইনকোয়ারার। কারণ তার আশঙ্কা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সব দায় তার গায়ে দিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়েছে তা বিভিন্ন হাত হয়ে ক্যাসিনোতে চলে যায়। এসব টাকা জুয়ার আসর থেকে আবার নগদ টাকায় রূপান্তরের পর চলে যায় হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে। এদিকে আরও ৮৭০ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। এই অর্থ দেশটির ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে পাচারের চেষ্টা চলছিল। যদিও ঘটনাটি গত মাসের। কিন্তু ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়ারার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর এর আগে ১০১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) হ্যাকাররা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখান থেকে শ্রীলংকার ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করা ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ঘটনাও অনেক আগের কিন্তু জানা গেল মাত্র ৭ মার্চ।
পত্রিকাটি বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ওই ঘটনার মাত্র ক’দিন আগে ৮১ মিলিয়ন ডলার একই উৎস থেকে ফিলিপাইনের স্থানীয় ব্যাংকিং সিস্টেমে ঢুকেছিল এবং তা রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) এক স্থানীয় ক্লায়েন্টের কাছে আসে। যে ঘটনায় এখনো তদন্ত চলছে। যেখান থেকে গ্রাহকের হাতে চলে যাওয়া টাকা একটি ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে তা সিটি অব ড্রিমস ও মিদাসের সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সে অর্থগুলো জুয়ার আসরে নিয়ে বাজি ধরার উপযোগী করা হয়। আর শেষ পর্যন্ত আবার সেগুলোকে নগদ অর্থে পরিবর্তন করে হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
৮৭০ মিলিয়ন ডলার চুরি বানচাল করার পর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিলিপাইনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনা। তবে এ ঘটনা নাকি আরসিবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন। ফিলিপাইনের এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের নেয়া টাকাগুলো স্থানীয় ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে জমা করেছেন চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপাইনের ওই ব্যবসায়ী। ব্যাংকটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দাবি, ২০১৫ সালের মে মাসে ম্যানেজারকে ৫টি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই এ আদেশ দেন। এ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে গিয়ে আরসিবিসি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে ৫টি আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। যে কার্ডগুলোতে ব্যবহৃত পরিচয় ছিল কাল্পনিক। ঘটনা প্রকাশের পর এখন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তৈরি রয়েছেন বলে পত্রিকাটি তাদের খবরে প্রকাশ করেছে।
আরও প্রশ্ন: একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের পুরো আর্থিক খাতকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক থেকে দলীয় পরিচয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনারও সমাধান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। কারসাজি করে এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, যাদের সাথে ক্ষমতাসীনদের কারো কারো সাথে সখ্যতা আছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি সরকার। হলমার্ক, ডেসটিনির মতো নামসর্বস্ব কোম্পানিও সাধারণ জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তা উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। সর্বশেষ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে দুষ্কুতিরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বহু উদাহরণ তো রয়েছেই। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো, কারসজি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ নেয়ার ঘটনা। কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, কোনো বিচার শেষ হয়নি, এমনকি কাউকে শাস্তি বা জবাবদিহি করতে হয়নি। এ কারণে দুবৃর্ত্তরা শতগুণ উৎসাহিত হয়ে এ ধরনের কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও কর্তৃপক্ষ নানা কথা তৈরি করছে, লুকোচুরি করছে বিষয়টি নিয়ে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হলেও এত বড় ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং সরকার প্রধান কোনো বক্তব্যই দেয়নি। কাজেই প্রশ্ন উত্থাপন জরুরি, যে বাংলাদেশ ব্যাংক হরহামেশা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলে, তারা এখন কি বলবেন?