Home » আন্তর্জাতিক » ধর্ষণ যুদ্ধাপরাধ : আন্তর্জাতিক আদালতের রায়

ধর্ষণ যুদ্ধাপরাধ : আন্তর্জাতিক আদালতের রায়

আসিফ হাসান ::

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সম্প্রতি ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র এবং ওই কর্মকান্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে রায় দিয়েছে। ২০০২ সালে দি হেগে আদালতটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই প্রথম এ ধরনের রায় দিল। আদালতটি এছাড়াও প্রথমবারের মতো ‘নেতৃত্বের দায়-দায়িত্বের’ (কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) জন্যও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত ‘মুভমেন্ট ফর দি লিবারেশন অব দি কঙ্গোর’ প্রধান এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাঁ-পিয়েরে বেম্বার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও লুটতরাজসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেয়। তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও কত বছরের জেল দেওয়া হয়েছে, তা এখনো জানানো হয়নি।

এর মানে হচ্ছে, কোনো কমান্ডার নিজে ধর্ষণ, খুন বা লুটপাট করার মতো অপরাধে সম্পৃক্ত না থাকলেও তার বাহিনীর অন্য সদস্যদের তা করার অনুমতি দিলে তিনি দোষ্য সাব্যস্ত হবেন। বেম্বার অপরাধমূলক কাজ ঘটেছিল ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে। ওই সময় তার প্রায় ১৫ শ’ সদস্যবিশিষ্ট শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনী সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (সিএআর) সীমান্তজুড়ে শত শত লোককে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আফ্রিকারসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের বেশির ভাগই এই রায়কে সমর্থন করলেও আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং বেশির ভাগ আফ্রিকান সরকার এখন পর্যন্ত অভিমত প্রকাশে বেশ সংযত রয়েছে। আফ্রিকার প্রায় সব সরকার এবং সাধারণ মানুষ, অনেক আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা -এই আদালত আফ্রিকার-বৈরী। তাদের এমনটা মনে হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, আদালত এখন পর্যন্ত তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের সবাই আফ্রিকান।  বেম্বাকে ২০০৮ সালে বেলজিয়ামে গ্রেফতার করে হেগে পাঠানো হয়। ২০১০ সালে সেখানেই তার বিচারকাজ শুরু হয়।

তবে আইসিসি অবশ্য নিজেকে আফ্রিকান-বিরোধী হিসেবে পাশ্চাত্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা এবং সিনিয়র আইন কর্মকর্তা জাঁ-জ্যাকস বাডিবাঙ্গা যথাক্রমে গাম্বিয়া ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক। বিচারকেরা ছিলেন ব্রাজিল, কেনিয়া ও জাপানের এবং সবাই নারী।

ক্ষতিগ্রস্তদের আইনজীবী ম্যারি-এডিথ ডুমিজাম-লসন অবশ্য এই বিচারে খুশি। বেম্বা ও তার অনুসারীদের বিচারে ৫,২০০-এর বেশি লোক সাক্ষী দিয়েছিল। ম্যারি-এডিথ বলেন, বেশির ভাগ ধর্ষণ ও লুটতরাজ হয়েছিল প্রকাশ্যে, সম্মিলিতভাবে। এটা করা হয়েছিল, শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে।