Home » Uncategorized » কাতারে ফুটবলের বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম নির্মান শ্রমিকদের যতো অভিযোগ

কাতারে ফুটবলের বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম নির্মান শ্রমিকদের যতো অভিযোগ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন::

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‌‌অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কাতারে ২০২২ সালের ফুটবলের  বিশ্বকাপের জন্য নির্মানাধীন প্রধান স্টেডিয়ামে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকরা  অভিযোগ করেছে, তাদেরকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, অভিবাসী শ্রমিকরা  নিয়োগকারীদের হাতে পদ্ধতিগত অপব্যবহারের শিকার।  নির্মানাধীন খলিফা স্টেডিয়ামের ১৩০ জন অভিবাসী নির্মান শ্রমিকের  সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকরা  তাদের অধিকার খর্বের অভিযোগ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে নোংরা বাসস্থান এবং আর্ন্তজাতিক আইনের লংঘন করে জোর করে অতিরিক্ত কাজ করানো। আর ঐসব শ্রমিকের বেশীর ভাগই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল থেকে এসেছেন। একজন শ্রমীক বলছিলেন-

“প্রতি মাসে বেতন দুইশো ডলার। যা-নিয়োগকারীর ফি দেবার জন্য করা ঋণ পরিশোধ, পরিবারে জন্য বাড়িতে অর্থ পাঠানো এবং আমার জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়।“

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছিল- অনেক শ্রমিক  জানিয়েছেন, দেশের নিয়োগকারীকে তাদের চার হাজার তিনশো ডলারের বেশী ফি দিতে হয়েছে। ছয়জনের বেশী শ্রমিক বলেছেন, তাদের যে বেতন পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে কম পান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা নির্ধারিত বেতনের অর্ধেক এবং কখনো কখনো কোন বেতনই পান না।

আর যদি কোন শ্রমিক  অভিযোগ করেন, তাহলে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত অথবা বেতন বন্ধ করে দেবার হুমকী দেয়া হয়। একজন অভিবাসী শ্রমীক বলছিলেন— “আমি যদি চাকরী হারাই তারা আমাকে দেশ থেকে বের করে দেবে। কিন্তু এখনো আমাকে অনেক ঋণ পরিশোধ করতে হবে।“

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতির যদিও  কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু কাতারের তথাকথিত ‘কাফালা’ কর্মসংস্থান পদ্ধতিই প্রধান সমস্যা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর জেমস লিনচ বলেন- “পদ্ধতিটি কর্মীদের উপর নিয়োগকারীদের অধিক নিয়ন্ত্রন দেয়। সুনির্দিষ্ট ভাবে কর্মীর দেশ ত্যাগ অথবা চাকরী পরিবর্তনের অধিকার খর্ব করার ক্ষমতা থাকে নিয়োগকারীর।“

তবে কাতার বলছে, ওই দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে মজুরী সুরক্ষা পদ্ধতি।

কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে, এটাই যথেষ্ট নয়। এবং ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা’র বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত । জেমস লিনচ আরও বলেন- “শক্ত পদক্ষেপ আমরা খুব অল্পই দেখতে পাচ্ছি। এবং আমরা এর মাধ্যমে- কাতারের অভ্যন্তরীন পুর্নগঠনের জন্য প্রবল জনসমর্থন এবং বিশ্ব কাপের স্টেডিয়ামগুলোতে শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে সত্যিকারের তদন্তের কথা বোঝাতে চেয়েছি।“