Home » আন্তর্জাতিক » যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কতো অর্থ খরচ হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কতো অর্থ খরচ হয়?

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর পর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। আর প্রতিবারই আগেরবারের চেয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। ২০১২ সালে হয়েছিল ২,৬২১,৪১৫,৭৯২ ডলার, ২০০৮ সালে ২,৭৯৯,৭২৮,১৪৬ ডলার, ২০০৪ সালে ১,৯১০,২৩০,৮৬২ ডলার। এই সূত্র ধরে অনুমান করা যাবে কি, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ব্যয় হবে কত?

২০১২ সালের নির্বাচনে ওবামা আর রমনির মোট ব্যয় ছিল ২.৬ বিলিয়ন ডলার। হাফিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের নির্বাচনে ওবামা ও রমনি প্রতি রেজিস্ট্রার্ড ভোটার পিছু ব্যয় করেছিলেন ১১.৭৫ ডলার করে। বেশির ভাগ হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নির্বাচনে মোট ব্যয় হবে অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলার। অনেকের মতে, এটা ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কেউ কেউ তো বলেন, তা হবে ১০ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে টাকার খেলা। প্রচলিত কথা রয়েছে : যে প্রার্থী যত বেশি ব্যয় করবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। এ কারণেই সব প্রার্থী অর্থ সংগ্রহে ব্যাপক মনোযোগী হয়ে থাকেন। অবশ্য টাকাতেই সব হয়, এই ধারণায় অবিশ্বাস করার লোকও যথেষ্ট আছে। এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ যায় টিভি বিজ্ঞাপনে। ডিজিটাল যুগে এসে খরচেরও খাত বেড়ে গেছে। ২০১৬ সালে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যয় হতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী নির্বাচনে ব্যয় হবে কত? ৩.৩ বিলিয়ন ডলার!

প্রার্থীদের  শ্লোগান টিভির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয় বলে অনেকে ধারণা করেন। বিজ্ঞাপন যুদ্ধে লিন্ডন জনসনের ‘ডেইজি’, রোন্যাল্ড রিগ্যানের ‘মর্নিং ইন আমেরিকা’, জর্জ বুশের ‘উইলি হর্টন’, বারাক ওবামার ‘ইয়েস, উই ক্যান’ তাদের জয়ের পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল বলে বলা হয়ে থাকে।

প্রার্থীরা তাদের বেশির ভাগ অর্থ সংগ্রহ করেন দান থেকে। প্রভাবশালী সাময়িকী ইকোনমিস্টের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত দান খাত থেকে সংগ্রহ হয়েছিল ৪৯৪ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছিল ২২৯ মিলিয়ন ডলার, রিপাবলিকানরা ২৬৫ মিলিয়ন ডলার।

এবারের নির্বাচনে কার কত ব্যয় হচ্ছে, তা অনুমান করা একটা সুবিধাজনক পথ রয়েছে। তা হলো শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীরা কে কত এর মধ্যেই খরচ করে ফেলেছেন জানা, যদিও এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প বা হিলারি ক্লিনটনের কেউ দলীয় মনোনয়নপত্র পাননি। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রার্থীরা গত নভেম্বরের মধ্যেই ৫১৮.৪ মিলিয়ন ডলার তুলে ফেলেছিলেন। খরচ করেছিলেন ১৫৩.৬ মিলিয়ন ডলার। তারা আরো অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মূল নির্বাচনের সময় তো আরো প্রচুর অর্থের দরকার হবে। তখন হিসাবটা হবে মিলিয়নে নয়, বিলিয়নে!

এবার দেখা যাক, অর্থ সংগ্রহের দিক থেকে কোন প্রার্থীর অবস্থা কেমন (এটা অবশ্য গত নভেম্বরের হিসাব)।

হিলারি ক্লিনটন : হিলারির তহবিল সংগ্রহের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সাবেক এই ফার্স্ট লেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুলেছেন ৭৭.৫ মিলিয়ন ডলার, ব্যয় করেছেন ৪৪.৫ মিলিয়ন ডলার।

হিলারি কিন্তু জেব বুশের কাছাকাছিও যেতে পারেননি। অনেক আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জেব সংগ্রহ করেছিলেন ১৩৩.৩ মিলিয়ন ডলার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প : ট্রাম্প প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি নিজের টাকায় নির্বাচন করবেন। এবারের প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে ধনী। তবে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের মালিক তার সব অর্থ দিয়েও যে হাতি পোষা যাবে না, অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিশ্চিত হয়ে যায়। এর সূত্র ধরে তিনি অর্থ সংগ্রহেও মনোযোগ দেন। পরিণতিতে নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে তিনি ৫.৮ মিলিয়ন ডলার (এর মধ্যে ট্রাম্পের নিজের অর্থের পরিমাণ ছিল ১.৮ মিলিয়ন ডলার) যোগার করে ফেলেন। আর এই সময়ের মধ্যে খরচ করেন ৫.৬ মিলিয়ন ডলার।

বেন কারসন : ট্রাম্প প্রচারের সব আলো কেড়ে না নিলে হয়তো বেন কারসন আরো ভালো করতেন। সাবেক এই নিউরোসার্জন উঠিয়েছিলেন ৩১.৪ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্য থেকে ব্যয় করেছেন ২০.১ মিলিয়ন ডলার।

বার্নি স্যান্ডার্স : অনেকের কাছেই বার্নি স্যান্ডার্স স্বপ্নের প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে তিনি সমাজতন্ত্রের কথা বলেছেন। অতি-ধনীদের লোভী হাতগুলোর রাশ টেনে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সব নাগরিক বিনা মূল্যে না হলেও যেন অল্প মূল্যে শিক্ষার অধিকার পায়, সে নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।  ভারমন্টের এই সিনেটর সংগ্রহ করেছিলেন ৪১.৫ মিলিয়ন ডলার। ব্যয় করেছেন ১৪.৩ মিলিয়ন ডলার। তবে তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তা না হলে তিনি আরো অনেক বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে পারতেন। (ওয়েব সাইট অবলম্বনে)