Home » অর্থনীতি » জঙ্গী হামলা : অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কার আশংকা

জঙ্গী হামলা : অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কার আশংকা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুই বিদেশী নাগরিককে খুনের ঘটনায় বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে বিশ্বের অনেক দেশ। নিরাপত্তা শঙ্কায় একের পর বাংলাদেশ সফর বাতিলও করেন বিদেশী ব্যবসায়ীরা। বছর না ঘুরতে আবারো বিদেশীদের ওপর হামলা। তবে আরো বড় পরিসরে, যা ব্যবসায়ী সমাজের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গুলশানের হলি আর্টিজান ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হওয়ার ফলে এ ধরনের ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণে বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঈদের জামাতে জঙ্গী হামলা। জঙ্গী হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে দেশের বিদেশনির্ভর অর্থনীতির ধারা উল্টোপথে হাঁটবে। যাতে তৈরি পোশাক খাত, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়, বৈদেশিক ঋণ মান এবং এর প্রবাহে নেতিবাচক হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগেও দেখা দিতে পারে অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি উন্নয়নের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অধিকাংশ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ হচ্ছেন বিদেশি নাগরিক। পর পর দুটি সন্ত্রাসী হামলার পর সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ফলে মার্কেট, বিপণি বিতান, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সাধারণ মানুষের পদচারণা সীমিত হয়ে আসছে। তাই সঙ্কুচিত হতে পারে এসব খাতের ব্যবসা বাণিজ্য।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পরপর দুটি সন্ত্রাসী হামলা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদেশিরা দেশে আসতে চাইবে না। এতে রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি আরো বলেন, জাইকা বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে হতাশার কথা ব্যক্ত করেছে তা তুলনামূলক সতর্কতাই বলা চলে। এর বাইরে দেশে বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তারাও ভ্রমণে নিরাপদবোধ মনে করবেন না। এতে বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় পরপর দুটি হামলার ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এরই মধ্যে অনেক বায়ার তাদের সফর বাতিল ও অর্ডার বাতিল করেছেন। গুলশানের হামলার ঘটনায় ইটালির ৯ জন নাগরিক নিহত হন, যাদের প্রত্যেকে পোশাক রফতানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সঙ্গত কারণে নিরাপত্তার কারন দেখিয়ে বিদেশি ক্রেতারা এ দেশে আসতে চাইছেন না। ঢাকায় বিদেশি এক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বৈঠক ছিল ঈদ-পরবর্তী দিন শুক্রবার। ওই ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বৈঠকের স্থান বাতিল করে তা পার্শ্ববর্তী দেশের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোনো ক্রেতা এ মুহূর্তে ঢাকায় আসবেন না- তা বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে জানিয়ে দিয়েছেন তারা। কারণ এ সময়ে ঢাকাকে নিরাপদ মনে করছেন না তারা। পোশাক খাতের অধিকাংশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঢাকায় অনুষ্ঠেয় নির্ধারিত বৈঠকগুলো নিয়ে যাচ্ছে হংকং, সিঙ্গাপুর ও ভারতে।

সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও বাড়াবে বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের প্রবৃদ্ধিতে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ঋণমানেও এর ছাপ পড়তে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা ‘মুডি’স। এর কারণ হিসেবে মুডিস বলছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করতে পারে। আর ঋণমান নিরূপণের একটি অন্যতম মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে। গুলশানের মতো সহিংস ঘটনা আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে।

মুডিসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্বল্প সংখ্যক দেশের অন্যতম, যারা বৈশ্বিক চাহিদা মন্দা সত্ত্বেও রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত ওষুধ, কাঁচা পাট, নিটওয়্যার এবং ওভেন গার্মেন্ট ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু গত কয়েক মাসে দেশে যে হারে জঙ্গী তৎপরতা রয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগজনক অবস্থার তৈরি হতে পারে দেশীয় অর্থনীতিতে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, গত বছর বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪৬৫টি- যা তুলনায় ২০১২ সালে এ ধরনের ঘটনা ঘটে মাত্র ১৮টি। মুডিসেরই অন্য এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো দেশের অর্থনীতির ওপর সহিংস হামলার এমন ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশে জঙ্গী হামলার ঘটনায় বিদেশি বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে মনে করা হচ্ছে। কেননা ইতোমধ্যে জাপানের পোশাকের ব্র্যান্ড ইউনিক্লো অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশে সব ধরনের বাণিজ্যিক সফর বাতিল করেছে। সুইডেনের এইচ.অ্যান্ড.এম-সহ অন্য যেসব নামজাদা বিদেশি পোশাক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে ব্যবসা রয়েছে, তারা বলেছে, বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ কোনো দেশে কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার আগে তারা এদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।

সাম্প্রতিক সময়ের হামলার ঘটনায় দেশের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে দেশের পর্যটন এলাকায় হোটেল মোটেলগুলোতে দেশি-বিদেশি অনেকের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। প্রতি বছরই বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকরা ভিড় জমাতেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে; কিন্তু গুলশানের হামলার ঘটনায় এ শিল্পে খারাপ প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে অনেকে তাদের হোটেল ও বিমানের বুকিং বাতিল করেছেন। বিদেশীদের কেউ এখন দেশে আসতে চাইছেন না। বিদেশে যেসব ট্যুর অপারেটর বাংলাদেশ আসার ক্ষেত্রে সহায়তা জোগাত, তারাও এখন বাংলাদেশে ভ্রমণের সেবা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করছে।

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী নাগরিক। এদের সিংহভাগই আবার প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপদে আসীন। খাতটির ওপর গুলশানের এ ঘটনার প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে সেলফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব বলেন, শুধু এ খাতের জন্য নয়, ঘটনাটিকে সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। অনেকেই নানা প্রয়োজনে বাংলাদেশে আসছেন। দেশী-বিদেশী সবার কাছে এটি আশঙ্কার বিষয়। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনার পর বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিদেশীদের আস্থা ও বিশ্বাস কমে যেতে পারে। বিদেশীরা এ দেশে আসতে ভয়ে থাকবেন। আমাদের দেশী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকবে। দেশের যে স্বাভাবিক গতি ছিল, তাতে কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে- যা অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। তবে সরকার কীভাবে সমস্যা থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নির্ভর করবে। সরকার যদি ভালোভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করতে পারে, তাহলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি নাও হতে পারে।

অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীর পাঁচতারকা ও অভিজাত হোটেলগুলোয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রুম সার্ভিস ছাড়া আনুষঙ্গিক অন্যান্য সেবা বন্ধ করে দিয়েছে এসব হোটেল। বিদেশী অতিথিদের বুকিং নেয়া হলেও বন্ধ রাখা হয়েছে। সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তার কারণে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষগুলো।

রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার অভিজাত হোটেলগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি হোটেলের সামনেই থমথমে পরিস্থিতি। আশপাশের রাস্তাগুলোয় গাড়ি চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। এ প্রসঙ্গে একটি পাচতারা হোটেল রেডিসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সব সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো অতিথির বুকিং নেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি আগে থেকে যারা আছেন, তারাও বাইরের গাড়ি নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করতে পারছেন না। নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলের গেট থেকে নিজস্ব গাড়ি দিয়ে অতিথিদের ভেতরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

রুম সার্ভিস ছাড়া গুলশানের লেকশোর হোটেলে সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হোটেলের বাইরে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিসও টানিয়েছে লেকশোর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্ধ হওয়া সার্ভিসগুলোর মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট ও হল বুকিং। লেকশোরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গুলশানের অনাকাংখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কয়েকটি সার্ভিস বন্ধ ছিল। গুলশানের পাঁচতারকা হোটেল ওয়েস্টিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের পাশের রাস্তা বন্ধ। হোটেলের সামনে কোনো গাড়ি অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাতিল হয়ে গেছে পর্যটন নগরী সিলেটে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের অগ্রিম বুকিং। সিলেটের হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, ২০১৬ পর্যটনবর্ষে তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন। এ বছর রাজনৈতিক হাঙ্গামাও নেই। কিন্তু গুলশানের অনাকাংখিত ঘটনায় ভেস্তে গেছে সব।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ভেন্যু সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। চলতি মাসেই এখানে দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজিএমএল) বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের আরেকটি সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরে। সম্প্রতি গুলশানে ঘটে যাওয়া জঙ্গী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুটি সম্মেলনেরই স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ ২৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই ছিলেন বিদেশী নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদেশীদের লক্ষ্য করে চালানো বিভিন্ন হামলার ঘটনায় এখানে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলশানে হামলার পর নিজেদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের বিষয়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে বিশেষ সতর্কতা বার্তা জারি করেছে।

বিভিন্ন দেশের ৩৫০ জন প্রতিনিধি নিয়ে ঢাকায় এপিজিএমএলের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২৪-২৮ জুলাই। বিভিন্ন দেশে অবৈধ মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে এপিজিএমএল। এপিজিএমএলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে বৈঠকের ভেন্যু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, জুলাইয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকের সময় পরিবর্তন করে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বৈঠকের ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো কারণ না জানানো হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গুলশান হামলার কারণেই এবারের সম্মেলনের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ফিলিপাইনের কাছ থেকে রিজার্ভের চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণে এবারের সম্মেলনটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও এ ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে খোলা অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকারদের সরিয়ে নেয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পুনরুদ্ধারে এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অন্যদিকে ঢাকায় এশিয়া-প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। ভেন্যু পরিবর্তনের পর টেলিযোগাযোগ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি শ্রীলংকা বা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৪৫০ জন প্রতিনিধির অংশ নেয়ার কথা ছিল।