Home » বিশেষ নিবন্ধ » রামপাল প্রকল্পের ঝুঁকিতে ভারতেরই এক্সিম ব্যাংক

রামপাল প্রকল্পের ঝুঁকিতে ভারতেরই এক্সিম ব্যাংক

হাসান শরীফ ::

সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি খোদ ভারতেরই এক্সিম (এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট) ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়ার আশংকা সৃষ্টি করেছে বলে দেশটির জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল এনালাইসিসের (আইইইএফএ) জয় শারদা বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংক এই প্রকল্পে ঋণ দিতে যাচ্ছে। অথচ রামপাল প্রকল্পটি উদ্যোক্তা ও ভোক্তা উভয় গ্রুপকেই আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। এটা ইন্ডিয়ান এক্সিম ব্যাংকের জন্য সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। রামপাল প্রকল্প তহবিলের একটি বিশাল অংশ আসবে এক্সিম ব্যাংকের ঋণ থেকে। এটা এক্সিম ব্যাংকের আন্তর্জাতিক তহবিল-সৃষ্টি সামর্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবে এবং প্রকল্পটির কয়লা-চালিত মূল প্রকৃতি এক্সিম ব্যাংকের জন্য পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকিগ্রস্ত করবে।’

গত জুনে প্রকাশিত আইইইএফএ প্রতিবেদনের অংশ ছিল এই মূল্যায়ন। প্রতিবেদনটিতে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘প্রকল্পটি সেকেলে অতি সমালোচিত প্রযুক্তির আলোকে প্রণীত এবং ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক ভর্তুকিপ্রাপ্ত।’

আইইইএফএ ‘সন্দেহ করছে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের কাছে ভারতীয় কয়লা বিক্রির একটি উপায় হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের এত কাছে কোনো কয়লা প্লান্ট নির্মাণ না-করার ভারতীয় নীতির লংঘনও এড়ানো যাবে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে যে ব্যয় হয়, রামপাল প্রকল্পে তার চেয়ে ৩২ ভাগ বেশি হবে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম আরো বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভর্তুকি না দেওয়া হলে প্রকল্পটির উৎপাদন খরচ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান গড় খরচের চেয়ে ৬২ ভাগ বেশি হবে।’ তার মতে, বাংলাদেশের উচিত হবে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনা করা।

বাগেরহাট জেলার রামপালে ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটা হচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ অংশীদারিত্বে। যৌথ উদ্যোগের কোম্পানিটি বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসি) নামে পরিচিত।

বিদ্যুৎ প্রকল্পটি ১,৮৩৪ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সাইট বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে।

সূত্র : ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)