Home » আন্তর্জাতিক » বর্তমানে যা ঘটছে, তা জনগণের সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চাদমুখিতার সময় : নোয়াম চমস্কি

বর্তমানে যা ঘটছে, তা জনগণের সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চাদমুখিতার সময় : নোয়াম চমস্কি

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান দার্শনিক, সমাজচিন্তক, রাজনৈতিক সক্রিয়বাদী নোয়াম চমস্কি সম্প্রতি পুঁজিবাদী দুনিয়ার গতিপ্রকৃতি নিয়ে জেমস রেসনিককে এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন।  এতে তিনি তার বেড়ে ওঠা, অতি ধনীদের নানা সুযোগ লুটে আরো ধনী হওয়ার নীলনক্সা, গরিবদের আরো গরিব হওয়ার কাহিনী তুলে ধরেছেন। বিশ্বায়নের কথা বলে কিভাবে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তিনি তা সাবলীলভাবে বর্ণনা করেছেন। তার ওই সাক্ষাতকারটি এখানে তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ।

প্রশ্ন : সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বের বদলে যাওয়াটা আপনি কিভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং কোন বিষয়টা (কিংবা কে) আপনার চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?

চমস্কি : ভালো বা খারাপ যা-ই হোক না কেন, আমি জীবনজুড়ে প্রায় একই রকম থেকে গেছি। আমি যখন প্রাইমারি স্কুলের শিশু ছিলাম, তখনই ১০ বছর বয়সীর দৃষ্টিকোণ থেকে স্কুলের সংবাদপত্রে ইউরোপে ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং বিশ্বের জন্য হুমকি নিয়ে আর্টিক্যাল লিখেছি। তখন থেকেই চালিয়ে যাচ্ছি। তরুণ কিশোর বয়সে আমি সব ধরনের চরমপন্থী রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলাম, নৈরাজ্যবাদীদের লাইব্রেরি আর অফিসে আঠার মতো লেগে থাকতাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গ্রিসে ব্রিটিশ আক্রমণ এবং পরমাণু বোমার তান্ডব ইত্যাদি ঘটনা নিয়ে প্রবল উদ্বেগ ছিল আমার মধ্যে।

লোকজনকে সংগ্রাম করতে দেখাকে উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী বিবেচনা করতাম। বিশেষ করে যখন দেখতাম, দারিদ্র-পীড়িত মানুষের তাদের সীমিত সম্পদ নিয়ে সত্যিকারের কিছু অর্জনের জন্য লড়াই করছে। তাদের অনেকে সত্যি খুবই উদ্দীপনাময়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার খুবই গরিব একটি গ্রামের মানুষ সংঘবদ্ধ হচ্ছে তাদের পানি সরবরাহ ও পরিবেশকে ধ্বংসকারী কানাডীয় স্বর্ণখনির কাজ বন্ধ করার চেষ্টায়; সেইসাথে আধা-সামরিক বাহিনী এবং সামরিক সহিংসতা ইত্যাদিও প্রতিরোধ করছে। বিশ্বজুড়ে দেখতে পাওয়া এ ধরনের ঘটনা খুবই উদ্দীপনাময়।

প্রশ্ন : আপনার নতুন ডকুমেন্টারি ‘রিকুইম ফর দি আমেরিকান ড্রিম’ (আমেরিকান স্বপ্নের জন্য প্রার্থনা)-এ আপনি উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করের হার কমানো এবং কম দক্ষতাপূর্ণ চাকরির আউটসোর্সিং বৈষম্য ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বলা হয়ে থাকে, এই উভয় বৈশিষ্ট্যই বিশ্বায়নের চাপের ফসল। তা-ই যদি হয়ে থাকে, তবে দ্রুত বিশ্বায়নের এই যুগটা সাধারণভাবে শ্রমিকদের জন্য খারাপ?

চমস্কি : তারা এটাকে বিশ্বায়ন হিসেবে অভিহিত করতে পারে; কিন্তু তা করা হবে একটা ভুল। বিশ্বায়ন সব ধরনের হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলছি, কেউ যদি মুক্ত বাজারে বিশ্বাস করে, তবে তাকে আন্তরিকভাবে অ্যাডাম স্মিথকে গ্রহণ করতে হবে। অ্যাডাম স্মিথ উল্লেখ করেছেন, মুক্ত বাজারের মৌলিক বিষয় হবে শ্রমিকের অবাধ প্রবাহ। আমাদের এটা নেই।

শ্রমিক চলাচলে আমাদের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এর মানে কেবল এটা নয় যে, কর্মজীবী মানুষ কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারছে না, এর মানে এটাও সত্য যে আইনজীবী কিংবা সিইওদের মতো সুবিধাভোগী পেশাজীবীরা বিদেশ থেকে প্রতিযোগিতা প্রতিরোধ করার জন্য সংরক্ষণবাদী বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। বিদেশ থেকে অনেক আইনজীবী ও চিকিৎসক, তারা অত্যন্ত দক্ষ এবং অতি সহজেই যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবী মান পূরণ করতে পারে, আসতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পেশাজীবীরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে তাদের আসতে দিচ্ছে না।

বিশ্বায়ন এমনভাবে করা যেতে পারত- যাতে তা সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণকর হয় কিংবা একে এমনভাবে করা যেতে পারত- যাতে এটা উরুগুয়ে রাউন্ড, ডব্লিউটিও এগ্রিমেন্ট, নাফটা, বর্তমানের আটলান্টিক অ্যান্ড প্যাসিফিক এগ্রিমেন্টসহ (এগুলোর কোনোটিই এমনকি বাণিজ্য চুক্তিও নয়, বরং সুস্পষ্টভাবে বিনিয়োগকারীদের অধিকার বিষয়ক চুক্তি) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কাজ করতে পারে। এগুলো বড় বড় ওষুধ কোম্পানি, মিডিয়া হাউস ইত্যাদির মতো প্রধান প্রধান করপোরেশনের জন্য খুবই উচ্চমাত্রার সুরক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের মাধ্যমে খুবই উচ্চমাত্রার প্রতিবন্ধকতা। এসব ব্যবস্থা করপোরেশনগুলোকে তাদের মুনাফা ক্ষতির মুখে পড়ার শংকা দেখা দিলে জনগণের কাছে নয়, সরকারের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এটা হলো বিশেষ ধরনের বিশ্বায়ন, যা প্রণয়নকারীদের স্বার্থে প্রণীত। প্রণয়নকারীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে ঘনিষ্ঠ থেকে ব্যক্তিগত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে। অর্থাৎ তারা হলো বিশ্বায়নের সুফলভোগী।

প্রশ্ন : আপনি জিআই বিল অব রাইটসের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন, দেখিয়েছেন, ১৯৫০ সালে উচ্চশিক্ষা মোটামুটিভাবে বিনামূল্যে হওয়ায় কিভাবে তা ছিল জনগণের জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর। নিউ ডিলের (মহামন্দার পর জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নেয়া পদক্ষেপ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সার্বিক কল্যাণকর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি হয় ১৯৮০-এর দশকে। এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে এবং কেন আক্রান্ত হলো?

চমস্কি : ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল উচ্চমাত্রার, কোনো আর্থিক সংকট ছিল না। কারণ নিউ ডিল বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল, তুলনামূলক সাম্যবাদী প্রবৃদ্ধি ছিল। ফলে একেবারে প্রতিটি প্রবৃদ্ধি মোটামুটিভাবে ছিল একই মাত্রায়। এ কারণেই একে বলা হয় স্বর্ণযুগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নিক্সনের যুক্তরাষ্ট্র ডলারের স্বর্ণে রূপান্তর বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক অর্থ-ব্যবস্থার পতন ঘটলে ব্রেটন উডস পদ্ধতি ভেঙে পড়ে; পরিণতিতে সব ধরনের নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। এগুলোর একটি ছিল মূলধন প্রবাহের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ফটকাবাজারি হঠাৎ করে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক পুঁজিবাদের জন্য তেমন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এটা। উৎপাদনশীলতার লক্ষ্যে মুনাফার হার কমানোর জন্য এ নিয়ে অনেক কিছু করার আছে। কারণ এটা পুঁজির মালিকদের বোঝায় যে, সত্যিকারের উৎপাদনের চেয়ে অর্থনৈতিক কৌশল খাটানোর পথে চলা অনেক বেশি মুনাফামূলক।

এর সাথে আসে আরো অনেক বিকল্প, যেগুলো একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জের, যা উৎপাদনকে এমন এক স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় যেখানে মজুরি অনেক কম, যেখানকার পরিবেশগত মান নিয়ে চিন্তা করার দরকার হয় না। ব্যবসা নীতিমালা বদলানোর চেষ্টা শুরু করেছে, তা নয়। তারা সেই ১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকেও নীতি বদলানোর চেষ্টা করেছিল। ১৯৩০-এর দশকে শ্রমজীবী এবং সাধারণ মানুষের অর্জন দেখে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আঁতকে ওঠেছিল। ’৩০-এর দশকের ’বিজনেস প্রেসে’ পড়লে তা দেখতে পাবেন। তাতে তারা হুমকি নিয়ে কথা বলছে, যেটাকে তারা গণমানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতার উত্থান হিসেবে অভিহিত করছে। তারা বলছিল, গণমানুষের শক্তি আমেরিকান উদ্যোক্তার চাহিদার জন্য হুমকি।

ব্যবসা-বাণিজ্য সবসময়ই শ্রেণী যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত। অনেক সময় তারা ভালো করে, অনেক সময় খারাপ করে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পর থেকে শ্রমিক ও নিউ ডিলের বিরুদ্ধে প্রবল আক্রমণ হতে থাকে, সেইসাথে ১৯৭০-এর দশকে আন্তর্জাতিক অর্থ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হয় এবং শ্রেণী যুদ্ধ বেড়ে যায়। আপনি কার্টারের আমলের শেষ দিকেই বিষয়টা লক্ষ করতে পারেন এবং রিগ্যান/থ্যাচারের আমলে বেশ প্রবলভাবে তা জাঁকিয়ে বসে। ওই সময় নব্যউদারবাদী নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তৃতীয় বিশ্বসহ দুর্বলতর সমাজগুলোতে তা বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অপেক্ষাকৃত ধনী সমাজগুলোতে এটা একদিকে জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে তুলনামূলক স্থবিরতা চাপিয়ে দেয়, অন্যদিকে অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ তাদের সম্পদ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। অবশ্য এটা স্রেফ অব্যাহত শ্রেণী যুদ্ধেরই বিষয়, যা এখনো চলছে। জনগণের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না হলেই কেবল শ্রেণী যুদ্ধ সফল হতে পারে। জনপ্রিয় গণসংগঠনগুলো আক্রান্ত হয়, টুকরা টুকরা করে দেয়া হয় এবং শ্রম আন্দোলন মারাত্মক আক্রমণের মুখে পড়ে। ব্যক্তিগত সম্পদ কেন্দ্রীভূত করার একটি বিষয় হলো এই যে, ভয়ংকর চক্রের সূচনা করে : ব্যক্তিগত সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয় এবং তা তার সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতাও ধারণ করে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রবর্তন করে, যা ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়িয়ে দেয়। এভাবে বৃত্ত আবর্তিত হতে থাকে। এটা সহজাত বিধান কিংবা অর্থনৈতিক সূত্র নয়। এটা সমাজের দুষ্ট শ্রেণীর ক্ষমতা এবং সহজাত সামাজিক ও রাজনৈতিক-ব্যবস্থা নিয়ে চলমান সংঘাতের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। বর্তমানে যা ঘটছে, তা জনগণের সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে পশ্চাদমুখিতার সময়। অতীতেও এমনটা ঘটেছে এবং তা থেকে মুক্তিও সম্ভব। অনেকভাবেই তা হতে দেখতে পাবেন। এর একটি হলো গণতন্ত্রের পতন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ভালোভাবেই কমবেশি মধ্যপন্থী দলগুলোর বড় ধরনের পতন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ও স্যান্ডার্সের মতো গণভিত্তিক শক্তির মারাত্মক আক্রমণের মুখে পড়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই। জনগণের প্রায় একই ধরনের স্বার্থ ও উদ্বেগ রয়েছে এবং এসব ইস্যুতে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সেটা হবে একটি বড় গণশক্তি। ইউরোপেও একই বিষয় দেখা যায়। সাম্প্রতিক অস্ট্রিয়ার নির্বাচনে দেশটি পরিচালনাকারী দুটি ঐতিহ্যমন্ডিত দল নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছে। বেছে নেয়ার বিষয় ছিল নব্য-ফ্যাসিবাদী পার্টি ও গ্রিন পার্টির একটিকে।

প্রশ্ন : আপনি মার্টিন গিলেন্সের সমীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে যে প্রায় ৭০ ভাগ লোক সরকারি নীতিতে কোনোভাবেই প্রভাব বিস্তার করে না। ক্ষমতাহীনদের মধ্যে থাকা এই বিচ্ছিন্নতা ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রাইমারির সময় কেমন প্রভাব ফেলেছে?

চমস্কি : খুবই সরাসরি। আর তা-ই ছিল ট্রাম্প ও স্যান্ডার্সের প্রতি সমর্থনের ভিত্তি। অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়ার ফসল। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া এবং ভোট দিতে বিরত থাকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সাম্প্রতিক বছরে অনেক সমীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে। কয়েক বছর আগে ওয়াল্টার ডিন বার্নহ্যাম যুক্তরাষ্ট্রের অ-ভোটারদের আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখতে পেয়েছেন, তারা ইউরোপে যারা সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক ও শ্রমিকভিত্তিক দলগুলোকে ভোট দেয়, তাদের মতোই। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের দল না থাকায় তারা স্রেফ ভোট দেয় না। অনেক দিন ধরেই এমনটা ছিল। তবে এখন তা প্রকটভাবে ফুটে ওঠছে এ কারণে যে, জনগণের বিশাল অংশ নব্য-উদার কর্মসূচির ধারার কারণে সক্রিয় নয়। তারা হয় ১৯৩০-এর দশকের মতো জঙ্গি শ্রম আন্দোলনের মতো করে সংঘবদ্ধ হবে, কার্যকর হয়ে কিছু একটা করবে কিংবা ক্রুদ্ধ বা হতাশ, জাতিবিদ্বেষ, বর্ণবাদী, ধ্বংসকরী ইত্যাদি কিছুতে পরিণত হবে।

প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহতভাবে নানা ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হয়ে গণতন্ত্রকে হুমকিগ্রস্ত করছে। আপনি কি এই প্রবণতা ইতিবাচকভাবে রুখে দেয়ার কোনো ধারার উত্থান দেখতে পাচ্ছেন? আশাবাদী হওয়ার মতো কি কিছু আছে?

চমস্কি : আমরা খুবই আশাবাদী হতে পারি। এ ধরনের কিছু আগেও হয়েছে। এবারের সমস্যা থেকেও উত্তরণ ঘটবে। ১৯২০-এর দশকটি ছিল অনেক দিক থেকে এমনই। কিন্তু ১৯৩০-এর দশকটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভিন্ন। অনেক কিছুই বদলে গিয়েছিল। বর্তমানে অনেক শক্তিই আছে, এবং তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। স্যান্ডার্সের প্রতি বিপুল সমর্থন আশাব্যঞ্জক। এটা অনেক স্বপ্ন দেখায়, তবে তা নির্ভর করছে, কিভাবে তা বিকশিত হবে। একই কথা প্রযোজ্য ইংল্যান্ডের করবিন এবং স্পেনের পোডেমসের বেলায়। সমস্যাবলীর অনেক প্রতিক্রিয়া আছে, সেগুলো থেকে উত্তরণ সহজ নয়। তবে আমি মনে করি, সম্ভাবনার অনেক অবকাশ রয়েছে। (সাক্ষাতকারটি ই-ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স-এ প্রকাশিত হয়েছিল।)