Home » প্রচ্ছদ কথা » আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কতোটুকু

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কতোটুকু

শাহাদত হোসেন বাচ্চু ::

একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন কি সমাগত এবং সেটি কি ২০১৭ সালের শেষার্ধে অনুষ্ঠিত হবে? এরকম একটি সম্ভাবনাময় আলোচনা যখন বাতাসে ভাসমান অবস্থায়, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়। যদিও সরকারের নীতি-নির্ধারকরা আকছার বলে আসছেন, ২০১৯-এর আগে কোন নির্বাচন নয়। এমনকি সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধরকরাও ওরকমটিই বলে আসছেন।

কিন্ত সরকার মুখে যাই বলুক একটি আগাম নির্বাচনের বিষয় তাদের ভেতরে ভেতরে আলোচিত হচ্ছে এরকম আভাস একাধিকবার পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা যতগুলি জনসভা করেছেন, সেখানেই তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাইছেন। যদি মেয়াদ শেষেই নির্বাচন হয়, তাহলে স্বয়ং দলীয় প্রধান এখনই কেন এত গুরুত্ব সহকারে ভোট চাইছেন? নাকি এটি রুটিন প্রচারের অংশ?

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল এটি ‘নিয়ম রক্ষার’। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করে পরবর্তীকালে আন্দোলনের মাঠ ত্যাগ করায়, বলা যায় নাশকতা পরিত্যাগ করে ‘ক্ষ্যামা’ দিলে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন বা এধরণের যে কোন আলোচনা থেকে সরে আসে। কারণ আলোচনায় বসিয়ে বা আন্দোলনের পথে দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করার সকল অবস্থানই দলটি হারিয়ে ফেলতে থাকে বিএনপি নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারণে। বিএনপির সীমাহীন ব্যর্থতা এবং ক্ষমতাসীনদের কূটকৌশল ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এবং সক্ষমতায় রাজনীতির গতিপথ সরকারের হাতেই ন্যস্ত হয়ে যায়।

২০১৪ সালের নির্বাচনকে নানাভাবে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা স্বত্ত্বেও ক্ষমতাসীনরা খুব ভালভাবেই জানে যে, সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে  এখন পর্যন্ত গ্রহনীয় হয়নি এবং একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের ওপর তাগাদা রয়েছে। তবে হাতেগোনা দু’একটি দেশের সমর্থণ সরকারকে এ বিষয়ে অনেকটা নির্ভার রেখেছে। একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারেরও আগ্রহ রয়েছে এবং সেজন্য একটি সুবিধেজনক সময় তারা বের করতে চাইছে, যার ওপর তাদের থাকবে একক নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে, আগামী বছর নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দেখার বিষয় হচ্ছে, এটি কি হবে একটি অনুগত কমিশন, নাকি সত্যিকারের স্বাধীন এবং শক্তিশালী কমিশন?

তবে, সরকার না চাইলে ২০১৯ সালের আগে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই। হিসেব মত ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচন প্রস্তুতির মধ্যে ক্ষমতাহীনদের কিছু লক্ষ্যভেদী কৌশল রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পরে আগামী নির্বাচন কৌশল অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে উঠবে। সম্মেলনে নতুন আঙ্গিকে ঘোষণাপত্র পেশ করা হলে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় কৌশল ও দিক-নির্দেশনাগুলি অনুধাবন করা যাবে।

গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্যদের এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা তৈরীর জন্য মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর করতে একাধিক সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বহুকাল আগে থেকে সরকারী প্রার্থী দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুসরন করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি আসনে অন্তত: পাঁচ জনের একটি তালিকা তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিদেশী একটি জরিপ প্রতিষ্ঠানকে মাঠের অবস্থা জরিপ করে প্রতিবেদন তৈরীর দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন ঘোষিত হলে এড়িয়ে যাবার কোন উপায় বিএনপির নেই। দলটির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহনের কোন বিকল্প নেই। তাদের বহুল কথিত “আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন বা সরকারকে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা’’-র কোন অবস্থায় ও অবস্থানে তারা নেই, অন্তত: ২০১৪-এর অভিজ্ঞতায়। ২০১৩-১৫ সালে আন্দোলন ও নাশকতা এবং এর পরিনাম বিএনপিকে বুঝিয়ে দিয়েছে রাজনীতির মূলধারায় টিকতে হলে নির্বাচনে অংশ নিতেই হবে। তাছাড়া এই মূহুর্তে বিএনপি সামান্য দর কষাকষির অবস্থানেও নেই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, খালেদা জিয়া, তারেক ও তাদের অনুগত কয়েক নেতাকে ছাড়াই তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা,  তারেকসহ অনুগতদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলির বিচার ২০১৭ সালের মধ্যে নিস্পন্ন হতে যাচ্ছে। মামলাগুলোয় সাজা হলে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয়টি পুরোপুরি আইনী জটিলতা ও আইনী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এরকম পরিস্থিতির সবরকম সুবিধে নেয়ার জন্য সরকার তৈরী আছে এবং এজন্যই আগামী নির্বাচনটি হবে তাদের অধীনে মেয়াদ শেষে বা সুবিধেজনক কোন সময়ে।

বিএনপির অপর চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে, নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। মুখে বিএনপি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলছে বটে, কিন্তু দাবি আদায়ে তাদের কোন অঙ্গীকার বা সক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। এটি বিএনপিও যেমন বোঝে, সরকারও তেমনি জানে। ফলে নির্বাচন হলে তাদের অংশ নিতে হবে। অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্যের যথার্থতা প্রমান করতে হবে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকার ন্যূনতম নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম নয়। গত ইউপি নির্বাচন এর বড় উদাহরন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মত্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই প্রতিদ্বন্দ্বীতা কিছুটা অতীতকেন্দ্রীক নীতিগত ও আদর্শিক দ্বন্দ, তবে প্রায় সবটাই ক্ষমতার। রাজনৈতিক খেলায় গত আট বছর বিএনপি প্রায় পর্যদুস্ত ও বিপর্যস্ত। আর এই খেলায় ক্ষমতাসীনদের সফল করতে বিএনপির আত্মঘাতী প্রবণতা অনেকটা সহযোগিতা করেছে। সামরিক ছাউনিতে জন্ম নেয়া দলটি আশির দশকে মধ্যপন্থায় সামরিক শাসন বিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিকশিত হলেও গত দু”দশকে তৈরী হয়েছে চরম ডানপন্থার ঝোঁক। এরপরেও দলটি সম্বিত ফিরে পায়নি। দল গোছানোর প্রচেষ্টায় গত কাউন্সিলের কথিত পুণর্গঠন এর সবচেয়ে বড় প্রমান।

এই আত্মঘাতী রাজনীতি সরকারের জন্য সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। নমুনা হচ্ছে, সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাড়ে বাইশ হাজারেরও বেশি। খালেদা জিয়াসহ ১৫৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাড়ে চার হাজার। এর অনেকগুলি মামলাই বিচার প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যায়ে। এর পরিনতিই বলে দেবে, এসব মামলায় খালেদা, তারেকসহ নেতাদের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে। আইনী প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবেলার বদলে তারেক আপাতত: প্রবাসেই থাকছেন-এটি নিশ্চিত।

সরকারের উৎসাহ ও সাম্প্রতিক প্রবণতায় মনে হচ্ছে, এ মূহুর্তে খালেদা ও তারেকের বিরুদ্ধে আদালতের রায় পেতে উদগ্রীব। এক্ষেত্রে বিএনপির অভিযোগ, দলের দুই শীর্ষ নেতাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের আচরন ও পদক্ষেপ এই অভিযোগকে উস্কে দেয় এবং বিএনপিকে বিপর্যস্ত ও অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়ে একটি নির্বাচন আয়োজনের আভাস মেলে। এরকম সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে নির্বাচন হলে পুনরায় ক্ষমতাসীন হতে সরকারের আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই।

একটি জাতীয় নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অব্যাহত চাপ ও আগ্রহ এবং তাদের লবি’র স্বক্রিয়তা সরকারকে কিছুকাল আগেও সমঝে চলতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জঙ্গী তৎপরতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আপাত: সাফল্য দেখিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা সরকারকে স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতামত হচ্ছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া জঙ্গীবাদ দমন সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকায় এসে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক  রাজনীতির ট্রেন্ড দেখে মনে হচ্ছে, সরকার রাজনীতিতে বিএনপিকে কিছুটা স্পেস দিলেও মামলা, গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

টিভি টক শো’গুলিতে সরকারপক্ষীয় বুদ্ধিজীবিরা যাই বলুন না কেন, সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির রিপোর্ট সরকারের জন্য মোটেই স্বস্তিকর নয়। সবকিছু উপেক্ষা করে, চাপ কাটিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচন এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় প্যাশন। ক্ষমতাসীনদের বড় স্বপ্ন ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রজত জয়ন্তী উদযাপনে। এটি নিশ্চিত করতে সরকার নির্বাচনে জিততে যে কোন কৌশল গ্রহন করতে পারে-এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনে জেতার সামগ্রিক ক্ষেত্র তৈরী করার জন্য সরকারের কিছু পদক্ষেপ আগামীতে আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুন করা হয়েছে। গ্রামীন জনপদে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিগুলিকে দেয়া হচ্ছে অলিখিত নির্দেশ। একনেক সভায় পাশ করা হচ্ছে মেগা সাইজের সব প্রকল্প এবং এসব অবকাঠামোর উদ্বোধন ও সুপারসনিক গতিতে এগুলো বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী। এসব প্রকল্প নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সরকার বা দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প নির্বাচনের আগেই সরকার শেষ করতে চায় এবং আগামী নির্বাচনে এই সেতুর বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম নির্বাচনী ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। মূলত: গণতান্ত্রিক দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন কাজকে দৃশ্যমান করে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হতে চায়। এক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বিএনপিকে সামাল দিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের পাশাপাশি ভাঙ্গন আনার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বহুভাবে। একটি হচ্ছে, ভিন্নমাত্রার চাপ, অন্যটি হচ্ছে, নানারকমের প্রলোভন দেখিয়ে, মামলা-হামলার মাধ্যমে কাবু করে। এ লাইনে কিছুটা সাফল্য অর্জন করা গেলেও মূলধারার বিএনপির গায়ে এখনও খুব একটা আঁচড় কাটা যায়নি। বহিস্কৃত বিএনপি নেতা ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত তৃণমূল বিএনপির কার্যক্রমে সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকছে। ২০ দলীয় জোট থেকে নামসর্বস্ব দলগুলোকে বের করে নিয়ে আলাদা একটি প্লাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বিএনপির একটি অভিযোগের বাস্তবতা রয়েছে যে, সরকার হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে, যাতে বিএনপি আবারও নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে।

দশম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা জনগন নির্ভর ছিলেন না। তার আগে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি নির্বাচনে ভরাডুবির পর সংসদ নির্বাচনে কি ঘটতে পারে সে মেসেজ তো তারা আগাম পেয়ে গিয়েছিলেন। ফলে প্রশাসন ও বাহিনী নির্ভর ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠান জানিয়ে দিয়েছিল সরকার কতটা নির্ভরশীল প্রশাসনযন্ত্রের ওপর। এই নির্ভরতা অনিবার্যভাবে ক্ষমতাসীনদের যে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য তেমন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিও তাদের নেই। বিপরীতে বিএনপির অবস্থা আরো শোচনীয় এবং তারা রাজনীতির মূলধারায় ফিরতে ক্রমাগত যুজতে হচ্ছে নিজেদের ও ক্ষমতাসীনদের সাথে।

টানা আট বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ভিত এখন অত্যন্ত সূদৃঢ়। রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে। এই দলকে ঘিরে বিশাল একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠি দাঁড়িয়ে গেছে। অপরিমেয় অর্থ-বিত্তের মালিক এই গোষ্ঠি। এদের সুফল প্রাপ্তি অব্যাহত ও নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে ক্ষমতার সবুজ মাঠের দিকে। সেজন্যই আগামী জাতীয় নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে তারা।

মেয়াদ পূর্ণ হবার আগে বেশ কয়েকবার গুজব সৃষ্টি হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন ঝুঁকি নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। এজন্য তারা অপেক্ষা করে আছে খালেদা জিয়া, তারেকসহ বিএনপির প্রধান নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার ফলাফলের ওপর। ঐ সকল মামলার বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব দন্ডিত হলে নির্বাচনে যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, নয়া নির্বাচন কমিশন গঠিত সার্চ কমিটির বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, তারা ‘আজিজ’ মার্কা নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন না। সম্ভবত: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এবারেও ‘কাজী রকিব উদ্দীন’ মার্কা কমিশনই গঠিত হবে, কিম্বা তার চেয়েও বেশি…!