Home » বিশেষ নিবন্ধ » বিশ্বে ক্ষুধার দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান ৯৭ আর প্রতিরক্ষা খাতে ৬ষ্ঠ

বিশ্বে ক্ষুধার দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান ৯৭ আর প্রতিরক্ষা খাতে ৬ষ্ঠ

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ভারত। অথচ এই দেশটির মানুষই ক্ষুধার অসহনীয় কষ্টে ভুগছে। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে (জিএইচআই) দেখা যাচ্ছে- তাদের অবস্থান তলানির দিকে, উন্নয়নশীল ১১৮টি দেশের মধ্যে ৯৭। ভারতের চেয়েও বেশি গরিব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকার নাইজার, শা’দ, ইথোপিয়া আর সিয়েরা লিয়ন। আর আছে ভারতের দুই প্রতিবেশী আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। অন্যদিকে, ভারতের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও চীন। জিএইচআই বেশ কয়েকটি সূচক ব্যবহার করে এই হিসাব কষেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অপুষ্টির শিকার জনসংখ্যা, অপুষ্টিজনিত কারণে অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের বেটে ও কম ওজনের হওয়া, একই বয়স গ্রুপের শিশু মৃত্যুর হার।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ভারতে ১৫ ভাগ লোক অপুষ্টির শিকার। তারা গুণ ও মান উভয় দিক থেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার পাচ্ছে।

এছাড়া কম ওজনের শিশুর হার প্রায় ১৫ ভাগ, খাটো শিশু ৩৯ ভাগ। এতে ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের ব্যাপক ও অব্যাহত অভাবের বিষয়টিই ফুটে ওঠেছে। ভারতে ৫ বছর বয়সের আগে শিশুমৃত্যুর হার ৪.৮ ভাগ। এটা দেশটির অপর্যাপ্ত পুষ্টি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়টিই পরিষ্কার করে দিচ্ছে।

ভারত যদিও শিশু পুষ্টি বাড়ানোর জন্য ৬ বছরের ছেয়ে ছোট শিশুদের জন্য আইসিডিএস এবং স্কুলে দুপুরের খাবার প্রদান করার বিশ্বের বৃহত্তম প্রকল্পটি পরিচালনা করে, কিন্তু তবুও দেশটিতে অপুষ্টির থাবা এখনো বেশ বড়।

এই দুরবস্থার পেছনে রয়েছে নিদারুণ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির অভাব, কার্যকর স্বাস্থ্য পরিচর্যার অভাব। আগের সময়ের চেয়ে শিশুদের ওজন কম ও খাটো হওয়া রোধে কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তাতেও কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ১৭ ভাগ থেকে ১৫ ভাগে নেমে আসাটা বড় কিছু নয়। ভারতে বেটে শিশুর হারে অবনতি ঘটেছে। ২০০৮ সালে তাদের অবস্থান ১০২-এ। ২০০০ সালে ছিল ৮৩ নম্বর স্থানে। আসলে অন্যান্য দেশ এ দিকে যত তাড়াতাড়ি উন্নতি করছে, ভারত ততটা পারছে না। এ কারণে র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ছে। ফলে ১৫ বছর আগের চেয়ে তারা এখন নিচের সারিতে স্থান পেয়েছে।

এমনকি বাংলাদেশও এ দিক থেকে উন্নতি করেছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্থান ছিল ৩৮.৫ স্কোর করে ৮৪। কিন্তু জিএইচআই-এ ২৭.১ স্কোর করে ৯০ নম্বর স্থানে এসেছে। আর ভারত রয়েছে ৯৭ নম্বরে।

সার্বিকভাবে বিশ্বে ক্ষুধার হার কমেছে ২০০০ সালের তুলনায় ২৯ ভাগ।

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যয় :

ক্ষুধার ব্যাপকতাকে পাশ কাটিয়ে ভারত নিজেকে আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তিধর একটি দেশ হিসেবেই দেখতে ভালোবাসে। আর এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকহারে বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত স্টকহোম পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-র সাম্প্রতিক এক গবেষণা পত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালেই ভারত ৫ হাজার ১শ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা খাতে। চলতি বছরে এই ব্যয় আরও কমপক্ষে ৮ শতাংশ বাড়বে বলে সিপরি-র গবেষণা প্রতিবেদনে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে গত মার্চে ভারত সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছে তাতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৭ ভাগ বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা জেনস্ ডিফেন্স-এর গত মার্চে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক দিয়ে ভারত বর্তমানে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। আর দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বের ১০টি শীর্ষ তালিকার দেশের একটি।

(হিন্দুস্তান টাইমসসহ ওয়েবসাইট অবলম্বনে)