Home » বিশেষ নিবন্ধ » এতো তথ্য গোপন আর গোজামিল দিয়ে রামপাল প্রকল্প কেন?

এতো তথ্য গোপন আর গোজামিল দিয়ে রামপাল প্রকল্প কেন?

এম. জাকির হোসেন খান ::

বিতর্কিত ইআইএ প্রতিবেদনে অষ্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানির কথা বলা হয়েছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী কয়লা আমদানি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার অভাবে ভারত থেকে অধিক সালফার যুক্ত নিম্নমানের কয়লা আমদানির মাধ্যমে সস্তা দামে  জ্বালানি চাহিদা মেটানোর নামে প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদানকারী সুন্দরবনকে ঝুকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। যদিও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য বিবেচনায় অর্র্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি দামি কয়লা বিদ্যুৎ। ত্রুটিপূর্ণ ইআইএ প্রতিবেদনেও নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের কথা স্বীকার করা হয়েছে, অথচ তা অস্বীকার করে সরকার দাবি করছে, রামপাল কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা উন্নতমানের এবং এতে কম মাত্রার সালফার থাকবে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা রয়েছে তার যোগান দিতে ভারতীয় নিম্নমানের সালফার যুক্ত কয়লা ডাম্পিং এর যে পরিকল্পনা চলছে গত ৩০ মে ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা তা জানিয়ে দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘কয়লার যথেষ্ট রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার অভ্যন্তরীন চাহিদা কমছে। কোল ইন্ডিয়া বাংলাদেশে বাস্তবায়িত সুপার-ক্রিটিক্যাল থার্মাল মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য কয়লা রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করছে’। নিম্নমানের কয়লা রফতানির মাধ্যমে প্রতি বছর ভারতীয় কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হলেও কয়লার দূষণে ক্ষতির দায় একমাত্র বাংলাদেশের জনগণকেই নিতে হবে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাবের কথা বিবেচনায় রেখেই ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের ইআইএ গাইডলাইনে অভয়ারণ্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকা ইত্যাদির ২৫ কিলোমিটার সীমার মধ্যে এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে যা নিরাপদ নয়, তা বাংলাদেশে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ সুন্দরবনের ৯ কি.মি. এর মধ্যে কোন বিবেচনায় নিরাপদ হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইন অনুযায়ী, শিল্প এলাকা বা শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা বা ফাঁকা জায়গা ছাড়া এ ধরনের প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়ার নিয়ম নেই। রামপাল প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বপক্ষে অবস্থান ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান বিষয়ে হাইকোর্টের রুল থাকলেও এবং প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্রে পরিবেশগত, কারিগরী ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য না হলে অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করা হবে মর্মে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে; অথচ ইআইএ প্রতিবেদন দাখিল না করেই প্রকল্পের কাজ শুরু করে কোম্পানি। সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট), যার আইনগত অভিভাবক (লিগ্যাল কাস্টুডিয়ান) বন বিভাগ। কিন্তু এই প্রকল্পের অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর বন বিভাগের মতামত গ্রহণ করেনি। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে নির্মোহভাবে ইআইএ সম্পাদনের নিয়ম থাকলেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান (সেন্টার ফর ইনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস – সিআইজিআইএস) কর্তৃক সম্পাদনের ফলে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা থাকায় এটি নিরপেক্ষতার মানদন্ড অর্জন করতে পারেনি।

কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রযুক্তি (ইএসপি) ব্যবহার করে উৎপাদিত ছাই বাতাসে ওড়া শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব হবে দাবি করে সরকার। বাস্তবতা হলো, দূষিত ধোঁয়া বাতাসের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে দূরে সুন্দরবনের ভেতরে ছড়িয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাবে, যে বিষয়ে ইউনেসকো ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপক‚লীয় অঞ্চলে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়-এর ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, ফলে বিজ্ঞানীদের আশংকা স্বাভাবিক এর চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতার জলোচ্ছাস হবে। আর যদি লাখ লাখ টন কয়লা এবং উৎপাদিত ছাই পশুর নদী বা সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোতে ঝড়ো বাতাসে উড়ে এসে পড়ে তবে তা কিভাবে রোধ করা সম্ভব হবে তার কোনো উত্তর ইআইএ প্রতিবেদনে নেই। ঝড়-দূর্যোগ থেকে উপকূল অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত করলে সুন্দরবনের ক্ষেত্রে লাভ ক্ষতির হিসাবে কোনোভাবেই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে যাবেনা এবং সম্ভবত এ জন্যই ইআইএ প্রতিবেদনে ওই সংক্রান্ত কোনো বিশ্লেষন নেই।

আর ইউনেসকোর প্রতিবেদনে ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে ভাটিতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি নিয়ে যথাযথ উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও বাংলাদেশের নদ-নদী ও সুন্দরবনকে লবণাক্ততা থেকে বাঁচাতে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। সরকার জানায় গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ন্যায্য পানি পাচ্ছে। আর বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। গত ৪৬ বছরেও গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি, কোন যাদুবলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার? এটা তো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, ফারাক্কার কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেনা এবং ফলে, সুন্দরবন অঞ্চলে লবণাক্ততা ক্রমেই বাড়ায় সুন্দরি গাছের আগা মরে যাচ্ছে আশংকাজনক হারে।

অথচ এসব উদ্বেগকে আমলে না নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এর বিরুদ্ধেও। বৈশ্বিক কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হচ্ছিল না তখন আইএফসি ভারতের আইসিআইসিআই, এইচডিএফসি, আইডিএফসি, কটক মাহিন্দ্র, ইয়েস ও অ্যাক্সিম ব্যাংককে ৫২ কোটি ডলার জোগান দিচ্ছে; যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল (আইডিআই) নামে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক কয়লাভিত্তিক কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা না করার ঘোষণা দিয়েছিলো, যা অনেকটা ফাঁকাবুলিতে পরিণত হয়েছে।

‘‘অর্থনৈতিকভাবেও এ প্রকল্পটি পুরোপারি ঝুঁকিপূর্ণ, যা বাংলাদেশকে ‘ফাঁকা পকেট’-এ পরিণত করবে এবং এ থেকে বাংলাদেশ কখনো বেরও হতে পারবে না” বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে যে ব্যয় হয়, রামপাল প্রকল্পে তার চেয়ে ৩২ ভাগ বেশি ব্যয় ধরায় ভর্তুকি না দেওয়া হলে প্রকল্পটির উৎপাদন খরচ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান গড় খরচের চেয়ে ৬২% বেশি হবে বলে জানিয়েছে ভারতের ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ৫ লাখ গাছের চারা লাগানোর চিন্তা করছে। বন বিভাগের উদ্যোগে কৃত্রিমভাবে একটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল চকোরিয়াতেও করা হয়েছিলো, তার অস্তিত্ব এখন কোথায়? পরিবেশ বা বন রক্ষায় যদি সত্যি সরকার প্রতিশ্রুতিশীল হতো তাহলো গত ১০ বছরে শালবনের প্রায় ৮০% হারিয়ে গেলো কিভাবে? ২০১৪ এর ১৭ অক্টোবর গাজীপুরে বন বিভাগের ২৭ একরের বেশি বনভূমি জোর করে অবৈধ দখল নেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আটজন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং ওই আট নেতার মালিকানা দাবির পক্ষে পাঁচ মন্ত্রী সুপারিশ করেন। ক্ষমতাবানরা একের পর এক নদ-নদী, খাল বিল দখল এবং দূষণ করছে নির্বিচারে। সরকার ও বেসরকারি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ইটিপি চালু না রেখেই পানির উৎস দূষণ করছে? শীতলক্ষা, বুড়িগঙ্গা, বালু নদী চরম দূষণের শিকার হলো কিভাবে?

সুন্দরবন রক্ষায় ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথাযথ কারণও রয়েছে। গত কয়েকদিন আগেই একটি সংবাদে জানা যায়,৩০০ শিল্পগোষ্ঠী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সুন্দরবনের আশপাশের গ্র্রামগুলোতে প্রায় ১০ হাজার একর জমি কিনেছেন। জমি কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের মধ্যে সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, শিল্পগোষ্ঠী ও সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন। উল্লেখ্য, সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর এই এলাকাতেই ১৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে।

আশার দিক হলো, গত সেপ্টেম্বর ২০১৬ এ হেগ-এ অবস্থিত সর্বোচ্চ অপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিসি) একটি কৌশলপত্রের ‘মামলা বাছাই ও অগ্রাধিকারকরণ’ অনুচ্ছেদে প্রাকৃতিক সম্পদের বেআইনি আত্মসাৎ, ভূমি দখল অথবা পরিবেশ ধ্বংশের বিচারে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাংলাদেশ বা এর যেকোন নাগরিক কথিত ভদ্রবেশি, দেশপ্রেমিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কারীকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে (নিউইয়র্ক টাইমস, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)। সুতরাং যে বা যারা নদ, নদী, বন ও পরিবেশ ধ্বংশের সাথে জড়িত এবং কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাচ্ছেন তাদের জন্য নতুন এ আইনটি এক ধরনের সতর্কবাতা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ ১৯৮২ এ জমি অধিগ্রহণের ফলে জমির মালিক ছাড়া ঐ জমির ওপর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল মানুষের ক্ষতিপূরণের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর নির্ভরশীল স্বত্বাধিকারহীন মানুষের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে স্বীকৃতি পায় নি, যা আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণ নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক (টিআইবি, ২০১৫)। সরকার পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ না করে প্রাথমিকভাবে অধিগৃহীত ১৮৩৪ একর জমি জোরপূর্বক অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রকল্প এলাকার সকল জমির মালিকের প্রতিবাদ সত্বেও তা উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত খুলনার তৎকালীন মেয়রের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন ঘটিয়ে বলপ্রয়োগে জমির মালিকদের উচ্ছেদের অভিযোগ করেছেন জমির মালিকরা (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ এপ্রিল ২০১২)। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে লেখক নিজে প্রকল্প এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতে সরেজমিনে পরিদর্শনে মেশিনের সাহায্যে ভূমি ভরাটের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে আলোচনায় স্থানীয় জমির মালিক সহ প্রতিবাদী জনগণের ওপর পুলিশী হয়রানির কথা জানতে পারেন, এমনকি লেখককে পুলিশ ঘেরাও অবস্থাতেই আলোচনা করতে হয়।

ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিনাশ হলে জলবায়ু পরিবর্তনে শিকার বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আরো ঝুঁকিতে পড়বে তা নির্ধিদ্বায় বলা যায়। আর শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৬ই জুলাই যে মন্তব্য করেছিলেন তা হয়তো ক্ষমতাসীনরা ভুলে গেছেন। তিনি বলেছিলেন ‘‘… আমরা গাছ লাগাইয়া সুন্দরবন পয়দা করি নাই। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতি এটাকে করে দিয়েছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য। বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে যে সুন্দরবন রয়েছে এইটা হলো বেরিয়ার। এটা যদি রক্ষা করা না হয় তাহলে একদিন খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকার কিছু অংশ এ পর্যন্ত সমস্ত এরিয়া সমুদ্রের মধ্যে চলে যাবে এবং এগুলো হাতিয়া, সন্দীপের মতো আইল্যান্ড হয়ে যাবে। একবার যদি সুন্দরবন শেষ হয়ে যায় তো সমুদ্র যে ভাঙন সৃষ্টি করবে সেই ভাঙন থেকে রক্ষা করার কোনও উপায় আর নাই’’। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেপ পুরস্কার প্রাপ্ত ক্ষমতাসীন সরকার জলবায়ুর ঝুঁকি বিবেচনায়  ইউনেস্কো’র দাবি মেনে অবিলম্বে রামপাল, ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ সব ধরনের শিল্প স্থাপন বন্ধ করে সুন্দরবনকে রক্ষা করবে, এটাই প্রত্যাশা জনগণের।