Home » বিশেষ নিবন্ধ » রোহিঙ্গাদের ওপর কী কারণে এই নৃশংসতা?

রোহিঙ্গাদের ওপর কী কারণে এই নৃশংসতা?

গ্রান্ট পেক

অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ

মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান দেশটিতে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠদের বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাদের দুর্দশা সাধারণত বিশ্বে আড়ালেই থাকে, যদিও কিছু অধিকার সক্রিয়বাদী (অক্টিভিস্ট) বলেন, তারা যেভাবে নিপীড়িত হচ্ছেন, তা জাতি নির্মূলের পর্যায়ে। এই গ্রুপটি সম্পর্কে কিছু জানার বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো।

‘বিশ্বে সবচেয়ে বন্ধুহীন জনগোষ্ঠী’ : মিয়ানমারের পাঁচ কোটি ২০ লাখ বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা কয়েক প্রজন্ম ধরে দেশটিতে বাস করলেও মিয়ানমারের বেশির ভাগ মানুষ তাদেরকে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা বিদেশী অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশে অনেক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাস করলেও তাদেরকে নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না বাংলাদেশ। জাতিসংঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক হাই কমিশনার কিটি ম্যাককিনস্ ২০০৯ সালে বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বন্ধুহীন জনগোষ্ঠী। তাদের জন্য একেবারে কেউই কথা বলে না।’

সর্বশেষ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার কারণ: মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বাস করে রোহিঙ্গারা। গত নভেম্বর থেকে সেখানে সামরিক বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ওই সময় বাংলাদেশ-সংলগ্ন সীমান্তে চৌকিতে হামলায় ৯ পুলিশ অফিসার নিহত হয়। হামলাকারীদের পরিচয় এখনো অস্পষ্ট। দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত রোহিঙ্গা গ্রামবাসী সৈন্যদের প্রতিরোধ করে, অজ্ঞাত সংখ্যক গ্রামবাসী মারা যায়। কয়েকজন সৈন্য ও কর্মকর্তাও নিহত হয়। রোহিঙ্গা সংহতি গ্রুপগুলো জানায়, অক্টোবর থেকে কয়েক শ’ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে ১,২৫০টি বাড়ি এবং অন্যান্য কাঠামো পোড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সালে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যকার সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয় এবং এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ- যারা প্রধানত রোহিঙ্গা, তাদের বাড়িঘর থেকে পালিয়ে দেশের ভেতরে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। এখনো প্রায় এক লাখ মানুষ বিভিন্ন ক্যাম্পে দান-খয়রাতের ওপর নির্ভর করেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সু চি’কে নিয়ে হতাশা: নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী, মানবাধিকার যোদ্ধা হিসেবে সুনামের অধিকারী অং সান সু চি’র রাজনৈতিক দল কয়েক দশক পর চলতি বছর মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পরও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা প্রশমিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে অজনপ্রিয় রাজনৈতিক অবস্থানে। অবশ্য সু চি’র সরকার রাখাইন রাজ্যের সংঘাত অবসানে একটি স্থায়ী সমাধান বের করার লক্ষ্যে আগস্টে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করে। কফি আনান গত কয়েক দিনে রাখাইন সফর করেছেন।

গত সপ্তাহে গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা দিয়েঙ্গ বাড়াবাড়ি রকমের শক্তি প্রয়োগ এবং বিচার-বহির্ভূত দন্ড, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় সম্পত্তি ধ্বংসসহ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

(বার্তা সংস্থা এপি অবলম্বনে)