Home » প্রচ্ছদ কথা » জেলা পরিষদ নির্বাচন : মৌলিক গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন?

জেলা পরিষদ নির্বাচন : মৌলিক গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন?

শাহাদত হোসেন বাচ্চু ::

এক.

স্বৈরশাসক আইয়ুবের বেসিক ডেমোক্রেসি বা মৌলিক গণতন্ত্র এবং একইসাথে বিডি বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের কথা অনেকেরই মনে আছে নিশ্চয়ই।  ওই সময়ে এক বিডি মেম্বর কোন এক গ্রামের হাটে গেছে গরু কিনতে। দরদাম শুরু করতেই শান্ত-শিষ্ট  গরুটি হঠাৎ বিডি মেম্বরের দিকে তেড়ে এল গুঁতোতে। বিক্রেতা-ক্রেতা দুজনেই অবাক। পাশ থেকে একজন বললেন, বিডি মেম্বর  তো! পরে এই খবরটি তৎকালীন ইত্তেফাকের স্থানীয় সংবাদদাতা ঢাকায় পাঠিয়ে দিলেন। ইত্তেফাক তখন ওই খবরটি বেশ গুরুত্বের সাথেই প্রকাশ করলো “চিনিল কেমনে” এমন শিরোনামে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে পতিত এরশাদের সাগরেদরা যেমন ‘গণদুশমন’ নামে আখ্যায়িত হয়েছিল, তেমনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ও পতিত আইয়ুবের শাগরেদ বিডি মেম্বর-চেয়ারম্যানরাও ‘গণদুশমন’ হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেছিল।

বিডি মানে হচ্ছে বেসিক ডেমোক্রেসি বা বুনিয়াদী গণতন্ত্র। সামরিক জান্তা প্রধান আইয়ুবের দাবি ছিল এটি তার উদ্ভাবন। ১৯৫৯ সালের ২৬ অক্টোবর উদ্ভট এই বুনিয়াদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাকিস্তানে চালু করেছিল আইয়ুবের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকার। আসলে এটি ছিল ব্রিটিশ অপকৌশল। এই পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না এবং এই ব্যবস্থায় যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা ছিলেন জোতদার বা ভূস্বামী শ্রেনীর; যারা শতবছর ধরে এলাকার রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করেছেন। এরাই ছিল আইয়ুব বা জান্তা সরকারের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এবং এদের ভোটে পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক পদ্ধতি চালু করা হয়।

আত্মজীবনী ‘ফ্রেন্ডস, নট মাষ্টার্স’ গ্রন্থে আইয়ুব জানাচ্ছেন “ বুনিয়াদী গণতন্ত্রীদের ভিড়েই তাদের এলাকার উন্নয়ন স্নায়ুতন্ত্র তৈরী হবে। সব ধরনের স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক দায়- দায়িত্ব ওই  কেন্দ্রের  মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে। …বুনিয়াদী গণতন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে সরকারী সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রন করবেন এবং সেগুলি জনসংস্থা হিসেবে কাজ করতে শুরু করবে, সমাজে উদ্দীপনা তৈরী করবে এবং নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিগুলিকে স্বাধীন করে তুলবে। এটি দেশে একটি গতিশীল ও প্রত্যয়ী নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয়”।

শুনতে খুবই চমৎকার শোনাচ্ছে! তবে মনে রাখতে হবে, আইয়ুবের জান্তা সরকার ছিল সিভিল-মিলিটারী আঁতাতের ফসল এবং খুবই শক্তিশালী সামরিক- বেসামরিক ব্যুরোক্রেসি পাকিস্তান রাষ্ট্রকে আষ্টে-পৃষ্টে আটকে ফেলেছিল। আমলা-কর্মচারীরা হয়ে উঠেছিল রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা। রাজনীতিবিদরা ছিলেন অচ্ছুৎ! সেখানে বুনিয়াদী গণতন্ত্রের যারা প্রতিনিধিত্ব করছিল ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অংশটি এবং জান্তা শাসনের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে গ্রামীন সমাজে গজিয়ে ওঠা একটি নব্য টাউট শ্রেনী। কমবেশি দুই যুগের ব্যবধানে বাংলাদেশে জিয়া ও এরশাদের গ্রাম সরকার, যুব কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদকে কেন্দ্র করে গজিয়ে ওঠা টাউট শ্রেনী এখন গ্রামীন ও নগর কাঠামোয় সমাজ ও রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী হিসেবে দলগুলোর কাছে আদৃত এবং একই ধারায়।

১৯৫৯ সালে আইয়ুব যখন ‘বিডি ব্যবস্থা’ চালু করেন তখন ধারনা করা না গেলেও অচিরেই বুনিয়াদী গণতন্ত্রীরা নির্বাচকমন্ডলী হিসেবে বাঙালীদের ওপর জেঁকে বসে। ১৯৬০ সালে প্রথম বিডি নির্বাচনের পর আইয়ুব আস্থা ভোটের আয়োজন করে ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন (দেড় দশক পরে প্রথমে জেনারেল জিয়া ও পরের দশকে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশে সামরিক শাসনের আওতায় এরকম আস্থা ভোটের আয়োজন করে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন)। আইয়ুব আত্মকথায় লিখেছেন, “ আমার কাছে এটি সম্পুর্ন পরিস্কার যে, আমাদের শিক্ষা, রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা ও অর্থনৈতিকমান উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উন্নীত না হওয়া পযর্ন্ত মৌলিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

দুই.

ইতিহাসে প্রথমবারে মত জেলা পরিষদ নির্বাচনের পথে হাঁটছে। পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ব্যালটে নির্বাচকমন্ডলীর ভোট আইয়ুব আমলের বুনিয়াদী গণতন্ত্রের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিডি বললে অপলাপ বা ভুল হবে কী? স্থানীয় সরকারের মধ্যে সর্বোচ্চ বা কুলীন স্তর হলেও স্বাধীনতার পরে এই প্রথম পরোক্ষ ভোটের নির্বাচন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা উল্লেখ রয়েছে, ১৮৮৫ সালে গঠিত জেলা পরিষদ ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড নামে স্বাধীন তহবিলসহ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ছিল। আইয়ুব আমলে নাম পাল্টে হয়ে যায় কাউন্সিল।

স্বাধীনতার পরে আবার নাম পাল্টে জেলা বোর্ড। ১৯৯২ সালের ৩০ জুলাই থেকে অনধিক ৬ মাসের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ও ছিল। সেই রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে দুই যুগ পরে এই নির্বাচন হচ্ছে কি? কিন্তু পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিরুৎসাহিত করতে সুপ্রিম কোর্টের আরও একটি রায় রয়েছে। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার প্রবর্তিত পরোক্ষ ভোটের ব্যবস্থা সম্বলিত গ্রাম পরিষদ আইনটি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। সবচেয়ে বড় উদাহরন হচ্ছে, অনির্বাচিত ব্যক্তি কোন স্তরে থাকবে না- এই যুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে পঞ্চদশ সংশোধনীর আওতায়, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলেই।

১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থার সরকার প্রবর্তিত হওয়ার পর নির্বাচকমন্ডলীর মাধ্যমে প্রকাশ্য ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা প্রবর্তনকে চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ হাইকোর্টে রিট করেছিল। যুক্তি ছিল, সংবিধানে বলা আছে, প্রশাসনের সকল পর্যায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আবার আওয়ামী লীগই সংবিধানের ব্যতয় ঘটিয়ে অনির্বাচিত প্রশাসকদের দিয়ে জেলা পরিষদ চালিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, এখন আবার দলীয়-নির্দলীয় ভিত্তিতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিতদের ভোটে গঠিত নির্বাচকমন্ডলীর মাধ্যমে দলীয় মনোনীতদের অংশগ্রহণে ইতিহাসের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, জেলা পরিষদে পরোক্ষ ভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা সাংবিধানিক প্রশ্ন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ই সরকার এই নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এটি আদালত অবমাননা কিনা, সে সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই আদালত নেবে। মামলাটি ১৪ বছর ধরে বিচারাধীন। পরোক্ষ ভোটে জেলা পরিষদ গঠন কেন অসাংবিধানিক নয়- এই মর্মে সরকারের ওপর উচ্চ আদালতের রুল জারি থাকলেও সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এবং নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে উদাসীন। ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছিলেন, বিষয়টি সংবিধানের ২৬ ধারা অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের সাথে জড়িত।

আইনজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে যুক্ত এই প্রশ্ন মীমাংসা না করে জেলা পরিষদ নির্বাচন করা অনুচিত। আইনের চোখে বিষয়টি ‘সাবজুডিস’ এবং পরোক্ষ ভোটে নির্বাচন আয়োজন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। দুই হাজার সালে সংসদে মাত্র ২৫ মিনিটে এই আইনটি পাশ হয়েছিল। সে সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এরপর তাদের ক্ষমতার পাঁচ বছর (২০০১-০৬) মেয়াদে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন, বাতিল বা নির্বাচন- কোনটিই করেনি। অথচ বিএনপি এখন দু:খে-কষ্টে কূল না পেয়ে আগত জেলা পরিষদ নির্বাচন বয়কট করেছে।

 

তিন.

স্থানীয় সরকারের সবকটি পর্যায়কে ক্ষমতাসীন দল দলীয় নেতাকর্মীদের ‘পুনর্বাসন মঞ্চ’ এবং আর্থিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি দখলে রাখা ও সর্বগ্রাসী-জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠার মূল কারণ হচ্ছে, তৃনমূল রাজনৈতিক অর্থায়নকে দলীয় নিয়ন্ত্রনে রাখা। এজন্য অংশ বিশেষ মার্কার, আবার নির্দলীয়-সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকারের সকল কাঠামোর নির্বাচনকেও কমেডি বা ট্রাজেডির পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশাসন-পুলিশসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকেও।

সেক্ষেত্রে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ দলীয় নিয়ন্ত্রনে থাকলে ওই অর্থ,বিত্ত, ক্ষমতা দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিপুষ্ট করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের সকল কাঠামোয় দলীয় নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। ফলে ভোটের অপসংস্কৃতি বিদ্যমান থাকবে-এটাই উদ্দেশ্য বলে মনে করা যায়। এক্ষেত্রে ধরে নেয়া হয়েছে, যে কোন উপায়ে ভোটে জিততেই হবে। কিছুকাল পরে মানুষ সবটাই ভুলে যাবে এবং জয়ী দলের সাথেই হাঁটবে।

এজন্যই জেলা পরিষদের প্রশাসক পদটিতে দলের বঞ্চিত ও ক্ষুব্দ জেলা নেতাদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল আইন-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করেই। এর পেছনেও কাজ করেছে জেলা পরিষদের বিপুল সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যরে বিবেচনা। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদসমুহের অনুকূলে গত ৫ বছরের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৪শ কোটি টাকা। এর বাইরে পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা, ভূমি, ফেরি ঘাট, হাট-বাজার ইজারা থেকে রয়েছে বিশাল আয়।

দেশের বিভিন্ন জেলা- উপজেলার দলীয় কোন্দল, বানিজ্যিক ভাগাভাগিসহ আর্থিক অবস্থান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের আর্থিক পুনর্বাসনের জন্য প্রথমে প্রশাসক এবং সবশেষে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ দখলে নেয়ার আয়োজন সম্পন্ন। নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতির কারণে আইয়ুব আমলের বিডি নির্বাচনের মত জেলা পরিষদে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে কারো নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়। তা সে দলীয় মনোনয়ন বা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হোকনা কেন!

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আশা, একজন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ নির্বাচিত হলে জেলার অনেক উন্নয়ন সম্ভব। অথচ তিনি নিজেও অন্তরে জানেন, এমন মানুষ দলে থাকলেও নির্বাচনের মাঠে হালে পানি পাবেন না। তার নিশ্চয়ই জানা আছে, ঢাকা জেলা পরিষদ থেকে বাদ পড়া প্রশাসক হাসিনা দৌলার বিরুদ্ধে দুদক ১৫টি দুর্নীতি মামলা করেছে। প্রশাসক থাকাকালীন হাসিনা দৌলা ২০১১-১৪ মেয়াদে ঢাকা জেলায়  ৬ হাজার ৪৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন, যার ৭৭ শতাংশই ভুয়া। দেশের অন্য ৬৩টি জেলা পরিষদ কি এর থেকে খুব বেশি ব্যাতিক্রম? তার কারণ হচ্ছে, জেলা পরিষদও বিবেচিত হচ্ছে, দলের লোকের আর্থিক পরিপুষ্টতার অন্যতম উৎস হিসেবে।

চার.

তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন কনসাল ব্লু মেটাকাফ ১৯৬৮ সালে `East Pakistan Basic Democrats Plus Rural Public Works’ শীর্ষক সমীক্ষায় দেখিয়েছিলেন, ১৯৬৫ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জেলাওয়ারী যে নির্বাচন হয়েছিল, তার সাথে পূর্ত কর্মসূচি বা সরকারি বরাদ্দের সর্ম্পক রয়েছে। সে সময়ে গভর্নর মোনায়েম খান ১৯৬৮-৬৯ এবং ১৯৬৯-৭০ অর্থবছরে যথাক্রমে ৩০ কোটি ও ৪০ কোটি রুপি খরচের ঘোষনা দিয়েছিলেন। মেটাকাফ লিখেছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময়ে ছিল ওই ঘোষনা। জনগণ কিন্তু জানে, সত্তরের ঐতিহাসিক ও অবাধ নির্বাচনের ফলাফল কি হয়েছিল!