Home » বিশেষ নিবন্ধ » রাজনীতিহীন আরও একটি বছর

রাজনীতিহীন আরও একটি বছর

শাহাদত হোসেন বাচ্চু ::

এক. সুদীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন এই ভূখন্ড পয়তাল্লিশ বছর পরে এখন রাজনীতিহীন! পাঠক, চমকে উঠলেন কী! কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গে তাকালে দেখবেন, সবই এখানে আছে। রাষ্ট্র আছে, সরকার আছে, কথিত নির্বাচন আছে, সংসদে কথিত বিরোধী দল আছে, আবার রাজপথের বিরোধী দলও আছে, চোখধাঁধানো কসমেটিক উন্নয়ন আছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে পরিবর্তন অনেক। যা নেই তা হচ্ছে, রাজনীতি- গনতান্ত্রিক অংশগ্রহনমূলক রাজনীতি। অসত্য আর শঠতার মিশেলে গড়ে ওঠা উন্নয়ন মিথ এবং দেশজুড়ে গড়ে ওঠা টাউট শ্রেনীটি হয়ে উঠেছে শাসকদের হাতিয়ার, যার কবলে পড়ে রাজনীতি- নির্বাচনে জনগনের অংশগ্রহন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার বাসনায় ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন মূলত: দুর্বৃত্তায়ন সম্পূর্ন করে রাষ্ট্রকে রাজনীতিহীন ভবিষ্যতের দিকে চালনা করতে শুরু করে। এরকম অভূতপূর্ব পরিস্থিতি অতীতে কথনে দেখা যায়নি। রাষ্ট্র-সমাজ থেকে ক্রমশ: রাজনীতি নির্বাসিত হতে থাকে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সময়কালকে একটি কালপর্ব এবং ১৯৭২ থেকে ২০০৮ সময়কালকে আরেকটি কালপর্ব ধরলে দেখা যাবে, এই রাষ্ট্রে সবসময় কমবেশি শক্তিশালী রাজনীতির উপস্থিতি এবং গনতান্ত্রিক আকাঙ্খা ছিল এবং নির্বাচনমুখী গণতন্ত্রে  জনগনের উৎসাহী ও আবেগীয় অংশগ্রহন ছিল, দু’একটি ব্যতিক্রম বাদে।

রাষ্ট্রের এই যে বিরাজনীতিকরন, তার মূল দর্শনটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার মধ্যে নিহিত। কি গণতান্ত্রিক বা সামরিক, উভয় শাসনকালের প্রথম ও প্রধান প্রচেষ্টা ছিল রাষ্ট্র- সমাজের বিরাজনীতিকরন। ক্ষমতাসীন দলগুলির সবচেয়ে বড় ভয় জনগণ। এজন্য জনগণকে ভয়ার্ত ও আতঙ্কিত রাখতে শাসকদের অপকৌশলের অন্ত থাকে না। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনের সূচনার পরে নির্মম ট্রাজেডির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র বিচ্যুতিময় যাত্রা শুরু করেছিল, তারও আগে যাত্রা শুরু করেছিল রাজনৈতিক বিচ্যুতির দিকে। তার মধ্যেও রাজনীতি সংগঠিত করে রাষ্ট্র হয়ে ওঠার  প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থান, একই দশকে  তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলন এবং সবশেষ ১/১১ এর সরকার আসার আগ পর্যন্ত রাজনীতির নানামূখী ধারাগুলো সক্রিয় ছিল।

আগেই বলেছি, বিরাজনীতিকরনের প্রথম চেষ্টাটি ছিল ১৯৭৫ সালে, সবধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে। পরবর্তীকালে সামরিক-সিভিল শাসনামলে জেনারেল জিয়ার বিখ্যাত-কুখ্যাত উক্তি ÔI will make Politics difficultÕ প্রমান করে যে শাসকরা শক্তিশালী রাজনীতির উপস্থিতি কখনই মানতে পারে না। রাজনৈতিকভাবে জিয়ার এই উক্তিকে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা করা হলেও পরবর্তীকালের প্রতিটি শাসক বা সরকার রাজনীতি জনগনের জন্য ডিফিকাল্ট করেই তুলেছেন।

আরেক সামরিক শাসক এরশাদ গণতান্ত্রিক রাজনীতি যাতে শক্তিশালী না হয় সেজন্য ধর্মাশ্রিত গোষ্ঠিগুলিকে প্রণোদনা দিয়ে পরিপুষ্ট করে তুলেছিলেন। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার সহিংসতা যাতে রাজনীতির স্থান দখল করে নিতে পারে সেজন্য সংবিধানে অষ্টম সংশোধনী এনে রাষ্ট্রধর্ম জুড়ে দেয়া হয় সংবিধানে। রাষ্ট্রকে বিরাজনীতিকরনে এটি ছিল সবচেয়ে সুকৌশল অপচেষ্টা। এরশাদের পতনের পর রাষ্ট্রধর্ম-ধর্মকে আশ্রয় করে গোষ্ঠিগত স্বার্থ ও দ্বন্দ্ব, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং যে কোন ইস্যুতে ধর্মের ব্যবহার ধীরে ধীরে রাজনীতিতে স্থায়ী আকার নেয়। এবিষয়ে দুই প্রধান দলের কেউ কারো চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই

এই যাত্রায় এরশাদ অনুসরণীয়, তার পথ ধরেই কথিত গণতন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী, জাতীয়তাবাদী- সকলেই ধর্মান্ধ গোষ্ঠিগুলিকে আশ্রয় করে ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ খুঁজে নেয়। কারন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাজনীতির জায়গায় চরম অসহিষ্ণুতা ও উগ্রপন্থা ভর করায় জনগন রাজনীতিকে ভয় পেতে শুরু করে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা শাসকদের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ফলে জনগনের মনোজগতে বিশাল পরিবর্তন ঘটে যায়, যা বিরাজনীতিকরনে সহায়ক হয়ে ওঠে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে সিভিল-মিলিটারী সরকার রাষ্ট্রকে আবারও বিরাজনীতিকরনের দিকে ধাবিত করার প্রধান মিশন হিসেবে দুই প্রধান রাজনৈতিক নেতাকে প্রথমে গ্রেফতার করে এবং পরে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা চালায়। ওই সরকারের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠে বেশ কয়েকটি ‘কিংস পার্টি’। কিন্তু মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা মিলে যাওয়ায় দেশ নির্বাচনমুখী গণতন্ত্রের দিকে এগোতে থাকে এবং একটি গ্রহনযোগ্য মানের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। পরিনামে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ক্ষমতার অন্যতম অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয় এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি।

২০০৯ সালের পরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দলীয় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হয়। এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার শুরু করা হয়। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ওপর নিয়ন্ত্রন। ২০১৩ সালে পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পরে এই নিয়ন্ত্রন দৃশ্যমান হয়ে উঠতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রিত কমিশন ২০১৪ সালের প্রায় ভোটারবিহীন নির্বাচন সম্পন্ন করে আরেকটি কলঙ্কতিলক ধারণ করে।

ফলে মোটামুটি গ্রহনযোগ্য মানের নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্রমশ: সূদুর পরাহত হতে থাকে। এ সময়ে বিএনপি-জামায়েত জোটের সহিংস আন্দোলন প্রচেষ্টা ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা পরবর্তী পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনরা অনুকূলে নিয়ে আসে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলষ্টোন স্থাপিত হয়। এ সময় থেকেই মূলত: সরকার রাজনীতির বদলে পুরোপুরি প্রশাসন-পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়ে। রাজনীতির রাজপথ দখল করে নেয় পুলিশ এবং চরমপন্থা-উগ্রপন্থা ও আগুন সন্ত্রাস।

দুই. বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বা দলসমূহ বিরাজনীতিকরনের দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করলেও জনগন কিন্তু এখনও রাজনীতি সচেতন। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ  সেন্টারের তিন বছর আগের এক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য জানাচ্ছে, রাজনীতিতে সবচেয়ে সক্রিয় বাংলাদেশের জনগোষ্ঠি। ৩৩ টি উন্নয়নশীল দেশের ওপর চালানো এই জরিপের ফল হিসেবে জানা গিয়েছিল, এই দেশের শতকরা ৬৫ শতাংশ উঁচুমাত্রায় এবং ২৯ শতাংশ মধ্যম মাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয়। মানেটা পরিষ্কার, শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষ মাত্রাভেদে রাজনীতি সচেতন ও সক্রিয়।

সমাজবিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই হিসেব অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ইতিবাচক। জনগন রাজনীতি সচেতন ও সক্রিয় হলে স্বৈরশাসন, কর্তৃত্ববাদী শাসন বা দু:শাসন দীর্ঘস্থায়ী হবার কথা নয়। এজন্যই শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলি রাষ্ট্রকে বিরাজনীতিকরনের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে, যাতে সচেতন-সক্রিয় জনগন রাজনীতিতে, মোদ্দাকথা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পায়। এজন্যই ২০১৪ সালের প্রায় ভোটারবিহীন নির্বাচন রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে; কর্তৃত্ববাদী শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০১৫ সালে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আন্দোলনের নামে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তার পুরোপুরি সুযোগ নেয় সরকার। মাঠ পর্যায়ে তার জোটসঙ্গী জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস এবং সাথেসাথে কথিত সম্পদ বিনাশ প্রতিরোধে বন্দুকযুদ্ধ ও অজস্র প্রাণহানির মধ্য দিয়ে বিরাজনীতিকরনকে আরও একধাপ এগিয়ে দেয়। অথচ তিন বছর আগের জরিপ জানিয়েছিল, ৪৮ শতাংশ মানুষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ৩৭ শতাংশ অংশ নেয় বিভিন্ন বিক্ষোভ-সমাবেশে। ৩২ শতাংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য এবং ৩১ শতাংশ মানুষ ধর্মঘটে অংশ নেয়।

এই জরিপ হয়তো শতভাগ নির্ভুল নয়। কিন্তু এই জনগন গত কয়েক বছরে কি রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়েছে? একেবারেই রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েছে? এই মিরাকল কি ঘটতে পারে? বাংলাদেশের জনগন রাজনীতি বা নির্বাচনের প্রতি উৎসাহ হারিয়েছে?  না, মোটেই না। রাজনীতি বা নির্বাচনে অংশগ্রহন থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। এজন্য তৈরী করা হচ্ছে সীমাহীন আতঙ্ক এবং ভয়। ৬৭ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ এই ভূখন্ডের অসংখ্য রাজনৈতিক উত্থান-পতন, স্বায়ত্বশাসন স্বাধিকারের আন্দোলন, সর্বোপরি মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল। তারা খুব ভাল করেই জানে যে, জনঅংশগ্রহনের রাজনীতি ও নির্বাচন কি ফল বয়ে আনতে পারে! ক্ষমতার আওয়ামী লীগের সেটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভয়।

তিন. রাজনীতি বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান এবং তাবৎ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা একমত যে, রাজনীতি হচ্ছে সমষ্টির উন্নতি; অর্থাৎ উন্নয়নে সমষ্টির ঐক্যমত্য এবং অংশগ্রহন। সুস্থিত ও উন্নয়নকামী বা কল্যাণকামী রাজনীতিকে মাপা হয় সেখানে কতটা অংশগ্রহন রয়েছে, রাজনীতি-নির্বাচনে জনগনের অবারিত সুযোগ রয়েছে কতটা। কিন্তু এই রাষ্ট্রে রাজনীতি ও উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় যুক্ত রয়েছে কতিপয় মানুষ। তারাই নিয়ন্ত্রন করছে সবকিছু। সংখ্যাগরিষ্ঠের বদলে কতিপয়ের রাজনীতি সৃষ্টি করছে “কতিপয়তন্ত্র”।

ফলে কসমেটিক উন্নয়ন বিশাল ফারাক তৈরী করে দিচ্ছে গরিষ্ঠ ও লঘিষ্ঠের। রাজনীতিহীন উন্নয়নে লঘিষ্ঠরা রাষ্ট্র-সমাজ, সবকিছুরই নিয়ন্ত্রনে লাভ করছে। জন্ম নিচ্ছে পাহাড়সম বৈষম্য। সম্পদের পাহাড় গড়ে শীর্ষে অবস্থান নিচ্ছে “কতিপয়তন্ত্র”, তা ক্ষমতাসীন বা বিরোধী যেকোন অবস্থানেই তারা থাকুক না কেন। নিচে পড়ে থাকছে জনগন। জনগণকে ঠেকিয়ে রাখতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনীতিহীনতা এবং রাজনৈতিক সুস্থিতির বদলে অস্থিতি প্রয়োজন। সেজন্য রাজনীতি-নির্বাচনে জনঅংশগ্রহন ঠেকিয়ে দেয়া হচ্ছে, চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন দিয়ে সবকিছু ঢেকে দেবার প্রয়াস চলছে। উপেক্ষিত হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান সবক Political development along democratic  development is as important as economic development | কিন্তু রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন থেকে দুরে সরিয়ে রাখার এই অপকৌশল কোনমতেই স্বাভাবিক নয়। এর প্রতিক্রিয়া হতে বাধ্য এবং সেটি নিশ্চয়ই ইতিবাচক নয়। একটি রাজনীতি সচেতন ও উৎসাহী জনগোষ্ঠিকে ছলে-বলে-কৌশলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়াসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে বিপদজ্জনক রাজনৈতিক-সামাজিক প্রবণতা সৃষ্টি হয়। আজকের উগ্রবাদ বা চরমপন্থা জন্ম নিয়েছে এই বিচ্ছিন্নতা থেকেই। এই দেশ বা এর তরুন জনগোষ্ঠি দুই দশক ধরে সেই বিপজ্জনক প্রবণতার পথে হাঁটছে। কারন বিরাজনীতিকরনের ধারাবাহিকতায় তার অংশগ্রহন, মতামত প্রকাশ, ভোটাধিকার সংকুচিত হয়ে আসছে। এই সংকোচন তাকে ভিড়িয়ে দিচ্ছে দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলির সাথে।

তাহলে বিরাজনীতিকরন ধারাবাহিকতায় এই রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কি? এটি স্পষ্ট করে এখনই বলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও রাজনীতি যেখানে জনগনের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যায় সেখানে কোনকিছুর কার্যকারিতা থাকে না। রাজনীতির নেতিবাচক প্রবণতা নাগরিকদের মধ্যে বহুমাত্রিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এই প্রবণতাকে প্রধান দুই দল তাদের জন্য অনুকূল ভাবছে, অন্ধকারের শক্তিগুলিও অনুকূল ভাবছে। কিন্ত ৯০ শতাংশ রাজনীতি সচেতন মানুষকে কখনই মূলধারা থেকে ছিটকে দেয়া যায়নি, ইতিহাস সেটিই জানাচ্ছে।

একটি অংশগ্রহনমূলক ও সুষ্ঠ নির্বাচন কি এই নঞর্থক রাজনীতির সমাধান? গত ২৭ বছর ধরে নির্বাচনের মাধ্যমে ঘুরে-ফিরে দুটি দল বা জোট ক্ষমতাসীন হচ্ছে। তাদের হাত ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধী বা পতিত স্বৈরাচার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হচ্ছে। নির্বাচিত বা পুণঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য তারা সংবিধানের মৌল চেতনা, জনগনের অভিপ্রায়, নীতি-নৈতিকতা সবটাই বিসর্জন দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক রাজনীতি বা বিরাজনীতিকরন-এই প্রক্রিয়া কেবল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের সামর্থ্য অর্জণ করে-শক্তিশালী করতে পারে না। রাষ্ট্র-রাজনীতি-সমাজ ও জনগণের এরচেয়ে বিপন্ন দশা আর কি হতে পারে!