Home » অর্থনীতি » কারা লাভবান কথিত উন্নয়ন উদ্যোগে?

কারা লাভবান কথিত উন্নয়ন উদ্যোগে?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

অমর্ত্য সেনের মতো আরো অনেকেই আজকাল উন্নয়নকে কেবল কয়েকটি সূচকের মধ্যে সীমিত না রেখে বরং সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মানুষের কল্যাণকে গৌণ ভেবে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘উন্নয়ন আসলে মানুষের স্বাধীনতার চৌহদ্দি বাড়ানোর প্রক্রিয়া। মানুষ তার নিজের চাওয়া-পাওয়া কতটা মেটাতে পারছে সে প্রশ্নটি উন্নয়নের সংজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ’। একথা ঠিক যে উন্নয়নের জন্য মানুষের চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতা বড় প্রয়োজন। আমরা যদি মেনে নিই যে-সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে সৃষ্টিশীলতার জন্য মানুষকে চিন্তার স্বাধীনতা দিতে হবে। অনিশ্চয়তা আর হুমকির আড়ালে রাখতে হবে ; নইলে সৃষ্টির প্রেরণা আসবে না। আবার উন্নয়ন সাধনই যথেষ্ট নয়। উন্নয়নের ধারাবাহিক গতি বা টেকসই হতে হবে। টেকসই উন্নয়নের ধারণা এসেছে মানুষকে ভবিষ্যতের জন্যেও চিন্তাহীন রাখতে।

গুডল্যান্ড এবং লিডকের মতে, ‘টেকসই উন্নয়নকে সামাজিক এবং কাঠামোগত অর্থনৈতিক রূপান্তরের ধারা বা উন্নয়ন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়- যা বর্তমানের সহজলভ্য অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুবিধাসমূহের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি সাধন ঘটায় এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে বিপদাপন্ন করে তোলে না।’ উন্নয়ন বলতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অর্থনীতিবিদরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে বুঝিয়েছেন অর্থনৈতিক স্তরের পরিবর্তন। কোন কোন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে দেশটিকে এগিয়ে নেয়া বা সামনের স্তরে, অগ্রসর করা। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয়, উৎপাদন ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি। অধ্যাপক রস্টোর মতে, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, উৎপাদনের নতুন কলাকৌশল ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কার, মানুষের নিরবচ্ছিন্ন উদ্যম, মূলধন গঠন ও সন্তান-সন্তুতি লাভের প্রবণতার মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল উপাদানগুলো নিহিত হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, তবে সেটি ধনীক শ্রেণীর। গরীবরা গরীব হচ্ছে; উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও আয়ের সুষম বণ্টন না থাকায় বৈষম্য বাড়ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথাগত কয়েকটি সূচক হচ্ছে জাতীয় আয়, মাথাপিছু আয়, মানব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কল্যাণ। কোন দেশের জাতীয় আয় বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। যদিও জাতীয় আয় বৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে মাথাপিছু আয়ও জনগণের জীবনযাত্রার মান কমে যায়। যে কারণে অধ্যাপক মেয়ার মাথাপিছু আয়কে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তারমতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অপেক্ষা জাতীয় আয় বৃদ্ধির হার অধিক হলেই তাকে উন্নয়ন বলা যায়। জাতীয় আয়কে দেশের জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে প্রকৃত মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি মানব উন্নয়ন সূচক। জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মানব উন্নয়ন পর্যালোচনা করে মানব উন্নয়ন রিপোর্ট প্রকাশ করে। মানব উন্নয়ন সূচকে মানুষের শিক্ষা, আয়ুষ্কাল, ক্রয়ক্ষমতা প্রভৃতি বিবেচনা করা হয়। তবে এই সূচকে জাতীয়ভাবে তথ্য নেয়া হয়। কিন্তু ধনী-গরীব বৈষম্য, আঞ্চলিক বা গ্রাম শহরের বৈষম্য আমলে নেয়া হয় না। ফলে এই সূচকে প্রকৃত উন্নয়ন বোঝা যায় না। অনুরূপ কথা প্রযোজ্য অর্থনৈতিক কল্যাণের ক্ষেত্রেও। ভোগবাদী ধারণাকে এখানে গুরুত্ব দেয়া হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর অর্ধেকের বেশি এসেছে ভোগ ব্যয় থেকে। ৩০ শতাংশের বেশি এসেছে বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে। আর মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশ এসেছে সরকারি ব্যয় থেকে। যেহেতু বাংলাদেশে রফতানি আমদানির চেয়ে কম, তাই নিট রফতানি হিসেবে বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য থেকে বর্ধনশীল প্রবৃদ্ধিতে কোনো যোগ হয় না।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখাচ্ছে, বাংলাদেশে সরকারি ব্যয় গত এক দশকে কয়েক গুণ বাড়লেও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরকারি ব্যয়ের প্রভাব তেমন একটা বাড়েনি। উল্টো কিছুটা কমেছে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ কনসলিডেটিং এক্সপোর্ট-লিড গ্রোথ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এডিবি বলছে, ২০০০-০৯ সময়ে বর্ধনশীল জিডিপির ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে ভোগ ব্যয় থেকে। বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে এসেছে ৩৬ শতাংশ। আর সরকারি ব্যয় থেকে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১০-১৪ সময়ে বর্ধনশীল জিডিপির ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ ভোগ ব্যয় থেকে এসেছে। এ সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে এসেছে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ ও সরকারি ব্যয় থেকে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

বাজেটে ব্যয়ের একটি হয়ে থাকে, উন্নয়ন খাতে ও অন্যটি অনুন্নয়ন খাতে। সরকারের ব্যয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে অনুন্নয়ন খাতে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ আরো বিভিন্ন খাতে এ অনুন্নয়ন ব্যয় প্রতি বছরই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিকে, উন্নয়ন খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। তবে এ ব্যয়ের মান ও এর সময়োপযোগিতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এ ব্যয়ের ভ‚মিকা প্রতিফলিত হচ্ছে না। চলতি অর্থবছর ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সড়ক, রেল ও নৌপথে প্রতি বছর বিপুল অংকের বিনিয়োগ করছে সরকার। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সেবাপ্রাপ্তিতে তা তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারছে না। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য বলছে, যোগাযোগ অবকাঠামোর মান বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪০টি দেশের মধ্যে ১১৭তম। এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থা সড়ক-মহাসড়কের। একই ধরনের অবস্থা রেল ও নৌ-যোগাযোগের ক্ষেত্রেও। যোগাযোগ অবকাঠামোর মানের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পেছনের সারিতে অবস্থান বাংলাদেশের।

অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অনেক প্রকল্পই চলমান। তবে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারছে না এসব প্রকল্প। সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ সারা দেশে সড়ক ও মহাসড়কের ৪০ শতাংশ ভাঙাচোরা। নকশা, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সঠিক না হওয়ার কারণে রাজধানীর সব ফুট ওভারব্রিজ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। আবার বিপুল অর্থ ব্যয়ে একাধিক ফ্লাই ওভারব্রিজ তৈরি হলেও তা সব শ্রেণীর মানুষের যাতায়াতের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের সুফল পেতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন, নিয়ন্ত্রণ পরিবেশ, জবাবদিহিতার মতো সূচকে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সূচকে দেখা যায়, সার্কের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে দুর্নীতি এখনো বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। আর এ দুর্নীতির সিংহভাগই হচ্ছে সরকারি ক্রয়, রাজস্ব ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে। একই চিত্র দেখা যায় শিল্প ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের মতো সরকারি নানা পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল সুফলভোগী ধনীরা। ধনীরা দ্রুতগতিতে সম্পদ বাড়াচ্ছে, ফলে আয়-বৈষম্য বেড়েই চলেছে। আর দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠি কোনো রকমে বেঁচে রয়েছে।  ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের উচ্চবিত্তদের একটি হিসাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেখানেও দেখা যায়, দেশের মোট সম্পদের বেশির ভাগের মালিক মাত্র দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ মানুষ। তাদের বার্ষিক আয় ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকার উপরে। এসব ব্যক্তির সম্পদ আছে কোটি টাকার বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই আবার শত কোটি থেকে সহস্রাধিক কোটি টাকার মালিক। হিসাবটি করা হয়েছে আয়কর জমার বিবরণী থেকে। ধারণা করা যায় এতে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। কেউ সম্পদের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। দেশের অধিকাংশ সম্পদ ধনী শ্রেণীর হাতে বন্ধি। প্রকৃত অর্থে সম্পদের পরিমাণ আরো বেশি হবে। এরাই দেশের অর্থনীতির মূল সুবিধাভোগী। অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ নানা সুবিধা কাজে লাগিয়ে সম্পদ সৃষ্টি করছে ধনী শ্রেণী। কারণ সরকারের সুবিধা ভোগ করার মতো সব ধরনের ক্ষমতা তাদেরই রয়েছে। এটাই তাদের সম্পদ বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে একটি শ্রেণী দ্রুত অর্থ-বিত্তের মালিক হচ্ছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয়েছে সম্পদের বন্টন ব্যবস্থা। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ লুটে ধনী হয়েছে অনেকে। ফলে সমাজে ব্যাপক আয়বৈষম্য বিরাজ করছে। কিন্তু এ সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা বাস্তবের তুলনায় কম। কারণ অতি ধনীরা তথ্য দেয় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে উচ্চবিত্তরা ও ধনীরা বেশি লাভবান হচ্ছে।

১৯৭০ সালের পাকিস্তানে ২২টি কোটিপতি পরিবারের কথা বলা হতো, যারা রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। ওই ২২ পরিবারের মধ্যে দুটো পরিবার ছিল তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের, তারও একটি ছিল অবাঙালি। বৈষম্য থেকে মুক্তি লাভের জন্যই বাংলাদেশীরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এসে সে বৈষম্য আরো প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশেই ২০১২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মোতাবেক ২৩ হাজার ২১২ জন কোটিপতি ছিল। ২০১৬ সালে ওই সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে। এটি সম্পদ লুকানোর পরের তথ্যের ভিত্তিতে অর্থাৎ ব্যাংক থেকে সংগ্রহিত। যারা বিদেশের ব্যাংকে অর্থ রাখছেন এবং বিনিয়োগ করেছেন, তাদের সম্পদের হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক বা এনবিআরের কাছে নেই। এটি হিসাবে নিলে ধনীদের সংখ্যা আরো বাড়বে।

সরকারি হিসাবে প্রতিবছর দারিদ্র্যের হার কমেছে। তারপরও সরকারি হিসেবে ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। প্রকৃতপক্ষে দেশে দরিদ্র জনগণের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারি দারিদ্র্যের হার নির্ণয় পদ্ধতিতেই রয়েছে গলদ; যাদের আয় দৈনিক ১ ডলারের নিচে তাদের চরম দরিদ্র হিসেবে ধরা হয় বাংলাদেশে। অথচ এ সময়ে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। জাতিসংঘ পর্যন্ত এখন ডলারের হিসাবে নয়, মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণকে দারিদ্র পরিমাপের একক হিসেবে বিবেচনা করছে। বলা হচ্ছে, এ হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। কিন্তু এ হিসেবেও প্রকৃত সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে ১ ডলার বা ৭৭ টাকা দিয়ে একজন মানুষ তার দৈনিক চাহিদা মেটাতে পারছে না। যারা এক ডলারের হিসাবে তুষ্ট আছে তারা মিলিয়ে দিতে পারবে না এ হিসাব। ১ ডলার সমান বাংলাদেশী ৭৭ টাকা। বর্তমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারে একজন ব্যক্তি এ টাকা দিয়ে দু’বেলা খাবারেরই চাহিদা মেটাতে পারেন না। যেখানে ১ কেজি মোটা চালের দাম সর্বনিম্ন ৪০ টাকা। আর খাদ্য ছাড়াও রয়েছে বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি মৌলিক অধিকারের বিষয়। অপরদিকে, মাথাপিছু আয় বাড়লেও মানুষের প্রকৃত আয় না বেড়ে, বরং কমেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। গত পাঁচ বছরে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ।

‘চরম দারিদ্র্য’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা হলো, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর দারিদ্র্য সীমার গড়ের আপেক্ষিক দারিদ্র্যমাত্রা, যা কম; অর্থাৎ দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলারের উপরে উঠার অর্থ দারিদ্র্যমুক্তি নয়। বরং সেটা হলো আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দারিদ্রের অবস্থায় যাওয়া। যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক ১ দশমিক ২৫ ডলার মানদন্ডে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৪ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে পারে  তখন তা সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হবে বিরাট ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে। কিন্তু সেটা অর্জন করতে সক্ষম হলেও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের দৈনিক আয় থাকবে ৪ ডলারের কম। কাজেই প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে- কার উন্নয়ন, কিসের উন্নয়ন, কারাই বা লাভবান হচ্ছে কথিত উন্নয়ন উদ্যোগে?