Home » প্রচ্ছদ কথা » আরও চাপের মুখে বিএনপি : লক্ষ্য আগামী নির্বাচন

আরও চাপের মুখে বিএনপি : লক্ষ্য আগামী নির্বাচন

শাহাদত হোসেন বাচ্চু ::

১৯৭৪ সালে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্য শুরু করেছিলেন শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ একটি রূপক গল্প দিয়ে। গল্পটি ছিল এরকমঃ এক পীরের মুরীদ ক্ষমতা চাইলো পীরের কাছে- তোর ইচ্ছেয় সবকিছু হবে। পীর রাজী নন, জানিয়ে দিলেন পরিনাম ভাল হবে না। মুরীদ নাছোড়বান্দা। অবশেষে রাজী হলেন পীর। একটি দোয়া লিখে দিলেন। ৪০ দিন নির্জন ঘরে এই দোয়া পড়লে এক দৈত্য আসবে। তাকে যা বলা হবে, করে দেবে। কাজ না দিলে ঘাড় মটকাবে। চল্লিশ দিবস পরে দৈত্য এলো। মুরীদের নির্দেশ পালিত হতে লাগলো। সময় এলো, দৈত্যকে আর কাজ দেয়া যাচ্ছে না। অবস্থা এমন যে, মুরীদের প্রাণ যায়। পীর দিব্যদৃষ্টিতে সব দেখছিলেন। মুরীদের সঙ্গে দৈব যোগাযোগ স্থাপিত হলো। বললেন, বাজার থেকে ঘি কিনে নিয়ে আসো। দৈত্যকে দাও এবং বলো উঠানে যে, কুকুরটি শুয়ে আছে তার লেজ সোজা করতে। ওটি অনন্তকাল চলবে।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ যে সময়ের প্রেক্ষাপটে রূপকটি বলেছিলেন, তা থেকে বাংলাদেশ চলে এসেছে ৪২ বছর সামনে। ‘সময় বহিয়া গিয়াছে’ কিন্তু প্রেক্ষাপট কি খুব বেশি বদলেছে? অথবা বলা যায়, এই রাষ্ট্র বহুকাল ধরে পেছন যাত্রায় সামিল ছিল, এখনও রয়েছে অনেকক্ষেত্রেই। রাষ্ট্রের জন্মের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা পরিপূর্ণ হয়নি বলে প্রয়াত রাষ্ট্রনায়কের রূপকটি আজ অবধি প্রাসঙ্গিক।

এক. রাষ্ট্রপতির উদ্যেগে গঠিত সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সার্চ কমিটির দেয়া নামগুলি থেকে রাষ্ট্রপতি পছন্দের মানুষগুলো বেছে নিয়েছেন। এটুকু হচ্ছে সোজা-সরল কথা। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু? তিনি কি করতে পারেন? তাও সংবিধান বলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত তিনি কোন কাজ করবেন না। তাহলে আমরা কি ধরে নিতে পারি, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছেন?

সিইসি দলীয় লোক বা দলীয় লোক নন। বিশেষ দলের প্রতি তার আনুগত্য আছে, আনুগত্য নেই; এসবই এখন আলোচনার বিষয়। এই কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ অনেকের সাথে আলোচনা হয়েছে। ফলে আগ্রহ ছিল, কি ধরনের মানুষদের কমিশনে নিয়োগ দেয়া হবে! অবশেষে দেখা মিলেছে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের এবং নানান আলোচনা শুরু হয়েছে, আশঙ্কাও প্রকাশিত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহনের আগেই যথানিয়মে বিরোধীদল বলে দিয়েছে কমিশন দলীয়, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না!

কমিশন সম্পর্কে কৌতুহলের প্রাথমিক সুরাহা করেছেন কেবিনেট সচিব। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিএনপির তালিকার এবং কবিতা খানম আওয়ামী লীগের তালিকার-এ তথ্য কেবিনেট সচিবের। পরে থলের বিড়াল বেরোলো এবং নটে গাছটি মুড়োলো। জানা গেল, সিইসিসহ অন্য দুই কমিশনারের নাম এসেছে ১৪ দলভুক্ত ছোট দলগুলো থেকে। বোঝা গেল, এটি ছিল একটি কৌশল। পছন্দের মানুষ আনতে মিত্রদের মাধ্যমে তালিকা দেয়া হয়েছিল। এটি ছিল খুবই চাতুর্যপূর্ণ কৌশল ও আইওয়াশ।

সিইসি মোহাম্মদ নুরুল হুদা প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৭৩ ব্যাচ, যেটি একটি ‌’বিশেষ  ব্যাচ’ নামে পরিচিত। তিনি ‘জনতার মঞ্চে’র সাথে যুক্ততা অস্বীকার করেছেন। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে যুগ্মসচিব নুরুল হুদাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। তিনি এর বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার নিয়ে ২০০৮ সালে ‘ভুতাপেক্ষ’ সচিব মর্যাদায় অবসর নেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং অবসর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

দুই. কমিশন শপথ ও দায়িত্ব গ্রহন করেছে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। শুরুতেই দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে ফেলেছেন। তারা উতরে গেছেন; কারন সরকার চায়নি শুরুতেই সামান্য পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে কমিশন বিতর্কিত হোক। ক্ষমতাসীনদের আসল দৃষ্টি ক্ষমতার সবুজ জমিনে। এজন্য সরকার চেয়েছে বলে দলের মধ্যে প্রবল প্রতিপক্ষ থাকার পরেও নারায়নগঞ্জের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হয়নি। এখানে তাদের কৃতিত্ব কতটুকু তা ভূতপূর্ব কমিশনের সকলেই জানেন।

শুরুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দলীয় লোক বলে অভিহিত করতে শুরু করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলেও এ বিষয়ে কসুর করতো না। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল সিইসির ওপর আস্থা রেখেছে, বক্তব্য, বিবৃতিও দিতে শুরু করেছে। ক্ষমতায় থাকলে বিএনপিও তাই করতো। বোঝা যাচ্ছে, এই কমিশনের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, চ্যালেঞ্জগুলি কি কি? সেগুলি তারা সামাল দিতে পারবেন নাকি রকিব কমিশনের যোগ্য উত্তরাধিকার হবেন?

বর্তমান কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সরকারের সর্বগ্রাসী প্রভাব উপেক্ষা করে একটি অবাধ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু এই দেশে নির্বাচন কমিশন কখনও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমান করতে সক্ষম হয়নি। এই দেশের ইতিহাসে এমন কোন কমিশন আসেনি যারা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবকে উপেক্ষা করে স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। এমনকি সবচেয়ে ‘শক্তিশালী’ দাবি করা ‘ড. শামসুল হুদা’ কমিশনও তখনকার সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের ইচ্ছেকেই প্রতিফলিত করেছে।

অতীত ধারাবাহিকতার মধ্যেই কাজ শুরু করতে হচ্ছে নতুন কমিশনকে এবং অবশ্যই ক্ষমতাসীনদের সর্বগ্রাসী প্রভাবের মত চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই। পেছনে পড়ে আছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একক নির্বাচন- যেখানে ১৫৩ জন প্রার্থী ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। শক্তি প্রয়োগ, সরকারী বাহিনীসমূহের নৈপূন্য এবং সহিংসতার পথে প্রতিহতের চেষ্টার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্মৃতি। এবারে একটি নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে নির্বাচন। কি রকম পরিস্থিতি না অপেক্ষা করে আছে কমিশনের সামনে!

তিন. ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে- মোটামুটি নিশ্চিত। নির্বাচন কেমন হবে, তা বলার সময় বোধকরি আসেনি। শ্রদ্ধেয় বদরুদ্দীন উমরের সাথে একমত পোষণ করতে হচ্ছে, “বাংলাদেশে সরকারী ও বিরোধী দলীয় যেসব দল সংসদীয় রাজনীতি করে, তাদের কারো মুখে কোন লাগাম নেই। তারা সবাই জনগনকে গরু-ছাগল ছাড়া আর কিছুই মনে করে না”। এজন্য ২০১৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা জননির্ভর ছিলেন না, ছিলেন ‘আজ্ঞাবহ কমিশন’ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ্যাকশন নির্ভর।

দেশের রাজনীতিতে মত্ত দুই প্রতিদ্ব›দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অতিসামান্য মাত্রায় আদর্শিক হলেও আসলে পুরো জায়গা জুড়ে আছে ক্ষমতার লড়াই। ক্ষমতার খেলায় গত আটবছর ধরে বিএনপি প্রায় পর্যদুস্ত, বিপর্যস্ত ও কোনঠাসা। এই খেলায় বিএনপির আত্মঘাতী প্রবণতা ক্ষমতাসীনদের সফল হতে সহায়তা করেছে। সামরিক ছাউনিতে জন্ম নেয়া দলটি আশির দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মধ্যপন্থায় বিকশিত হলেও গত দু’দশকে তৈরী হয়েছে চরম ডানপন্থার ঝোঁক। এরপরেও দলটি সম্বিত ফিরে পায়নি। দল গোছানোর প্রচেষ্টায় গত কাউন্সিলের কথিত পুনর্গঠন এর সবচেয়ে বড় উদাহরন।

এই আত্মঘাতী ও জনগনের সাথে সম্পর্কহীন স্রেফ ক্ষমতা ও ডাইন্যাষ্টির রাজনীতি সরকারের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। মাত্র একটি নমুনা হচ্ছে সারা দেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কম-বেশি সাড়ে বাইশ হাজার। খালেদা জিয়াসহ ১৫৮ নেতার বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে সাড়ে চার হাজার। এর অনেকগুলি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আইনী লড়াই বলে দেবে কি আছে বিএনপি নেতৃত্বের ভাগ্যে। তবে আইনী প্রক্রিয়ায় মামলা মোকাবেলার বদলে তারেক রহমান আপাতত: প্রবাসে থাকছেন-এটি নিশ্চিত।

নির্বাচন ঘোষিত হলে বর্জনের হুমকি দেয়ার মত অবস্থানে বিএনপি নেই। দলটির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিকল্প নেই। তাদের বহুল কথিত “আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন বা সরকারকে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা”- এর কোন অবস্থানে তারা নেই। বিএনপির বর্তমান অবস্থান হচ্ছে, নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’- যার রূপরেখা তারা সহসাই পেশ করবেন। যদিও সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, নেতা ওরকম ধারনা আগেই নাকচ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সরকারের মনোভাব বোঝা গেল প্রভাবশালী মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যে। তার মতে, “যিনি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আছেন, তার অধীনেই নির্বাচন হবে”। সকলেই জানেন, এটি আসলে বাস্তবতা। সেজন্য ‘সহায়ক সরকার’ বা যে নামেই বিএনপি কোন রূপরেখা নিয়ে আসুক না কেন, রাজনীতিতে কি প্রভাব রাখবে সেটি বলার আগে আরো বাস্তবতা হচ্ছে- বিএনপি এই মূহুর্তে কোন বিষয়ে ‘দর কষাকষি’র অবস্থানেও নেই।

চার. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেককে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে হতে পারে। মোটামুটি পরিস্কার যে, খালেদার ও তারেকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলির বিচার সহসাই নিস্পন্ন হতে চলেছে। বিএনপি ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালতকে প্রভাবিত করা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে।

বিচারে সাজা হলে খালেদা ও তারেকের নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয়টি পুরোপুরি আইনী জটিলতা ও আইনী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এরকম পরিস্থিতির সবরকম সুবিধা নেয়ার জন্য সরকার তৈরী আছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সংকট মোকাবেলায় বিএনপির প্রস্তুতি কি? শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়া এবং দলীয় কিছু লোকের জন্য অবাধ লুন্ঠনের ‘গণতন্ত্র’ কায়েমে জনগন তাদের সাথে সামিল হবে না। যেমনটি সামিল নেই আওয়ামী লীগের সাথেও। সেজন্য অবাধ নির্বাচনে সবকালে ক্ষমতাসীনদের ভয়।

বিএনপি অপর চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে, নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের কথা ছেড়ে দিয়ে সহায়ক সরকারের দাবি করছে বটে, কিন্তু দাবি আদায়ে তাদের অঙ্গীকার বা সক্ষমতা কি আছে? এটি বিএনপিও যেমন বোঝে, সরকারও তেমনি জানে। ফলে নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে হবে। অংশ নিয়ে তাদের অভিযোগের যথার্থতা প্রমান করতে হবে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকার ন্যূনতম নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম নয়।

সা¤প্রতিক বক্তব্যে মনে হচ্ছে, খালেদা ও তারেকের বিরুদ্ধে আদালতের রায় পেতে সরকার উদগ্রীব। বিএনপির অভিযোগ, দলের দুই শীর্ষ নেতাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের আচরন ও পদক্ষেপ এই অভিযোগকেই উস্কে দেয় এবং বিএনপিকে বিপর্যস্ত ও অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়ে একটি নির্বাচন আয়োজনের আভাস মেলে। এরকম সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের নির্বাচন হলে তৃতীয়বারের মত ক্ষমতাসীন হওয়ার ব্যাপারে সরকারের আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই।

একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই কি সমাধান? গত আড়াই দশকে কম-বেশি এরকম ৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সময়কালে যে দুটি দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের মনোজমিন এবং প্রায়োগিক সকল ক্ষেত্র জুড়ে আছে শুধুমাত্র ক্ষমতা, গোষ্ঠিতন্ত্র, উত্তরাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবাধ লুন্ঠন। সবশেষে সম্পদ বিদেশে পাচার করে নিরাপদ থাকা।

টানা আট বছর ক্ষমতায় থাকার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও অর্থনীতির ভিত এখন সুদৃঢ়। দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে। মিডিয়া-তথ্য-প্রবাহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাও তারা নিয়ন্ত্রন করছেন। এই দলকে ঘিরে বিশাল একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠি দাঁড়িয়ে গেছে। অপরিমেয় অর্থ-বিত্তের মালিক এই গোষ্ঠির সুফল প্রাপ্তি অব্যাহত ও নিশ্চিত রাখতে দলটি দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে ক্ষমতার সবুজ মাঠের দিকে। সেজন্য আগামী নির্বাচনেও সর্বশক্তি নিয়োগ করবে তারা।