Home » অর্থনীতি » ভারত : নোট বাতিলের এতো বিরম্বনা

ভারত : নোট বাতিলের এতো বিরম্বনা

ধ্রুবজ্যোতি নন্দী ::

মোদি বলেছিলেন ৫০ দিন। কিন্তু ৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা সেই টেলিভিশন বক্তৃতার পর ১০০ দিন কেটে গেছে। সোমবার থেকে সপ্তাহে টাকা তোলার ঊর্ধ্বসীমা নাকি বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যদিও বাইরে ‘নো ক্যাশ’ লেখা এটিএম চোখে পড়ছে এখনও সর্বত্র। যেখানে টাকা আছে, সেখানেও আবার শুধুই ২০০০ টাকার নোট! কিন্তু গত মাস তিনেকে ব্যাংক থেকে নিজের টাকা নিজে তুলতে গিয়ে দুর্ভোগ এমনই স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে একে ভবিতব্য বলেই মেনে নিতে শিখেছেন সাধারণ মানুষ।

নোট বাতিলের আগে ভেবেছিলেন?

৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বাজারে চালু নোটের ৮৬% রাতারাতি বাতিল করাকে রিজার্ভ ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ার সরকারের হস্তক্ষেপ বলে শুরু থেকেই যেমন অনেকে তার বিরোধিতা করেছিলেন, তেমনই আবার এই সিদ্ধান্তকে কালো টাকার দাপট কমানোর লক্ষ্যে, দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে এক জরুরি পদক্ষেপ মনে করে তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও জানিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু তারপর থেকে ব্যাংক আর এটিএমের সামনে লম্বা লাইন দিনের পর দিন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কতটা অপ্রস্তুত, অপরিকল্পিত এবং অবিবেচক ছিল সেই সরকারি সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠেছে, বাতিল নোট বদলে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নোট ছাপতে কতটা সময় লাগবে তা জেনেও কি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোদি, না কি না-জেনেই? যন্ত্রের সংশোধন না করে এটিএম থেকে যে নতুন নোট ছাড়া যাবে না, সে কথা কি জানতেন নোটের মাপ পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়? হিসেব করে দেখেছিলেন, সমস্ত এটিএমে নতুন নোটের মাপে আনতে কতটা সময় লাগবে? জানতেন নগদের অভাবে কী সংকট তৈরি হতে পারে অর্থনীতিতে? বুঝেছিলেন, মার খাবে চাষী, দক্ষ কারিগর, ছোট ব্যবসায়ী? নগদের অভাবে লোকে খরচ কমানোয় সংকটে পড়বে ক্ষুদ্রতম কারখানা থেকে বিশাল আবাসন, সাবান-শ্যাম্পুর মতো ভোগ্যপণ্য থেকে পর্যটনের মতো শিল্প, কোটি কোটি শ্রমিক যার সঙ্গে যুক্ত। আন্দাজ ছিল, দিনের পর দিন মানুষের দুর্দশা বাড়বে আর নাজেহাল রিজার্ভ ব্যাংক প্রায় প্রতিদিন নতুন সার্কুলার জারি করে নতুন নিয়ম চালু করবে? নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে প্রধানমন্ত্রী কার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এ সব বিষয়ে? রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর, ভারতীয় কারেন্সি নোটে যাঁর স্বাক্ষর থাকে, তাঁর সঙ্গে? আলোচনা হয়েছিল মন্ত্রিসভায়? অর্থমন্ত্রী নিজে জানতেন তো?

দেশের সরকার এবং সরকারি দলটি শুরুতে ভেবেছিল, কালো টাকা উদ্ধার হচ্ছে দেখলে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের মানুষ পছন্দ করবেই। তাই প্রথম কদিন তো এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়াই যায়নি। শুধুই বলা হত, নোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত তো সকলকে জানিয়ে নেওয়া যায় না। একটা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল ক্রমশ যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়া এমন সাহসী সিদ্ধান্ত আর কে নিতে পারেন? এবং, গোপনীয়তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছেন তিনি।

আপত্তি ছিল রাজনের?

কালো টাকা উদ্ধারের গল্প অবশ্য বেশি দিন গ্রহণযোগ্য রাখা গেল না। বরং, যত দিন এগিয়েছে, ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার যাবতীয় চেষ্টা অগ্রাহ্য করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে নোট বাতিলের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, এমনকী মৃত্যুর একের পর এক খবর। ততদিনে হাওয়ায় হাওয়ায় শোনা যাচ্ছে যে, রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন নোট বাতিলের প্রস্তাবে- আর সেই জন্যেই গভর্নর হিসেবে অসামান্য যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও মেয়াদ ফুরোতেই তাঁকে বিদায় করে এমন একজনকে শীর্ষ পদটিতে বসানো হয়, যিনি কোনওরকম ওজর-আপত্তি ছাড়াই সরকারি সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেবেন। ততদিনে সংসদ তোলপাড় হয়েছে অর্থনীতির বৃদ্ধি হার শ্লথ হওয়ার আশঙ্কায়। ভোটের প্রচারে গিয়ে নোট বাতিলের সুফল বোঝাতে গিয়ে মোদি–ভক্তদের যত তাড়া খেতে হয়েছে পাঞ্জাব-উত্তর প্রদেশে, ততই শোনা গিয়েছে, বিস্তর আলাপ-আলোচনা করেই তো  নেওয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত।

কিন্তু সেই ভাষ্যেও যে নানা ভাষা, নানা মত। আপনি বিশ্বাস করবেন কাকে? সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির ডাকে উর্জিত প্যাটেল গিয়ে জানিয়ে এলেন, সরকার ২০১৬-র জানুয়ারি থেকেই নোট বাতিল সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছিল রিজার্ভ  ব্যাংকের  সঙ্গে। রাজ্যসভায় অরুণ জেটলি তাঁর বক্তৃতায় বললেন, অর্থ মন্ত্রনালয় ফেব্রুয়ারি থেকে রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে নোট বাতিল নিয়ে কথাবার্তা শুরু করে। সামান্য ক্ষতি? কিন্তু রাজ্যসভায় তাঁর সেই বক্তৃতায় জেটলি তো এ–ও বলেছিলেন যে, গত বছর মে মাসেই রিজার্ভ ব্যাংকের পরিচালন পরিষদে বাতিল নোটের বদলে আসা নতুন নোটের নকশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং তারপর থেকে নোট বাতিল নিয়ে নিয়মিত, প্রয়োজনে সপ্তাহে-সপ্তাহে, আলোচনা হয়েছে রিজার্ভ  ব্যাংকের বোর্ডে। এদিকে, তথ্য জানার অধিকারবলে তোলা এক প্রশ্নের উত্তরে রিজার্ভ ব্যাংক লিখিতভাবে জানিয়েছে, ২০০০ টাকার নতুন নোট চালু করার সিদ্ধান্ত মে মাসে অনুমোদিত হলেও মে, জুলাই বা আগস্ট মাসের বোর্ড মিটিংয়ে ৫০০ টাকা বা ১০০০ টাকার নোট বাতিল নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি! তার মানে, এমনই কঠোর ছিল গোপনীয়তার শাসন যে যাঁরা মিটিংয়ে বসলেন, তাঁরা জানলেনও না যে নোট বাতিল নিয়ে আলোচনা হয়ে গেল সেই মিটিংয়ে!

দুর্নীতি, কালো টাকা, জাল নোট, সন্ত্রাস-

তবু, না হয় মেনেই নেওয়া গেল বিস্তর আলাপ–আলোচনার পরেই চূড়ান্ত হয়েছিল নোট বাতিলের এই মহা-সিদ্ধান্ত। কোন লক্ষ্যে, কী প্রয়োজনে? ৮ নভেম্বরের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণায় মোদি বলেছিলেন, দেশ থেকে দুর্নীতি, কালো টাকা, জাল টাকার প্রকোপ কমানোর জন্য, সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসের মোকাবিলার জন্য। দুর্নীতি কমবে মানে নোট বাতিলের ফলে ঘুষের আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যাবে? জানি না কার সে আশা ছিল, সাধারণ মানুষের অন্তত ছিল না। হয়ত সরকারের ছিল, মোদি–ভক্তদের ছিল। আশা ছিল, বহ্ন্যুৎসব হবে বাতিল নোটের, পুকুরে-নদীতে ভাসবে বাতিল নোটের বান্ডিল, যখন তখন নোটবৃষ্টি হবে আকাশ থেকে। এসব কিছু তো হলই না, উল্টে আজ তামিলনাডুতে, কাল গুজরাটে, পরশু হায়দরাবাদে লোকজন ধরা পড়তে শুরু করল ২০০০ টাকার বিপুল সংখ্যক নোট নিয়ে। দিল্লির আইনজীবী রোহিত ট্যান্ডনের অফিসে হানা দিয়ে ২ কোটি টাকা পাওয়া গেল কড়কড়ে নতুন ২০০০ টাকার নোটে। বাতিল নোটে কত টাকা ফেরত এল, জানতে চাইলে সরকারের মুখে কুলুপ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্পের নটে গাছটি তাই সাত তাড়াতাড়ি গেল মুড়িয়ে। কিন্তু সন্ত্রাস মোকাবিলায় সাফল্যের গল্পটা চলল বেশ অনেক দিন। টেলিভিশন খুললেই শুনি বিজেপি নেতারা বলছেন, কাশ্মীর ঠান্ডা হয়ে গেল শুধু নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে। হাওয়ালা বন্ধ, অবস্থা এমনই সঙ্গীন যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হাওয়ালা কারবারিকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে বহুতলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে। নতুন বছর পড়তেই সে ঘুড়িও গেল কেটে। তিনটি ঘটনায় ৬ সেনার মৃত্যুর পর ফেব্রুয়ারিতে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতকে বলতে হল, যে সব স্থানীয় যুবক সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছে, বা সেনাবাহিনীর ফ্লাশিং আউট অপারেশনে বাধা সৃষ্টি করছে, তাদের সন্ত্রাস-সহযোগী বলে মনে করা হবে এবং সেই মতোই ব্যবহার করা হবে তাদের সঙ্গে। বাদ-প্রতিবাদের তুফান উঠছে সেই মন্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে আর তার মধ্যে দিয়ে কাশ্মীরে শান্তি বিরাজের গল্পটা গেছে পুরোপুরি ঘেঁটে। ছিল বাকি জাল নোট, সে–ও তো ইদানীং নিয়মিত ছবি হয়ে খবরের কাগজের শোভা বাড়াতে শুরু করেছে আবার। নোট বাতিলের এত ঝঞ্ঝাট সহ্য করে তবে শ্লথ হয়ে যাওয়া অর্থনীতি ছাড়া পেলামটা কী? মাস তিনেকের মুখে দাঁড়িয়ে এ প্রশ্ন কি খুব অসঙ্গত?

প্রশ্ন তোলা যাবে, কিন্তু মোদিকে অত সহজে মোটেই গোল দেওয়া যাবে না। কারণ, ইতিমধ্যে তিনি গোলপোস্ট মাঠের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছেন পশ্চিম প্রান্তে। দুর্নীতি, কালো টাকা, সন্ত্রাস ছেড়ে তিনি বেশ অনেক দিন ধরেই বলতে শুরু করেছেন ক্যাশলেস ইকনমির কথা। নগদহীন, পরে সংশোধন করে বলা শুরু করেছেন কম নগদের ডিজিটাল অর্থনীতি, চালু হলেই কাশীর ঘাটে স্নানের পুণ্য লাভ করবে ভারতীয় অর্থনীতি। শুদ্ধ, অমলিন সেই অর্থনীতিতে লগ্নির জন্য ছুটে আসবে দেশ-বিদেশের বাণিজ্য সংস্থা, কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে প্রতিদিন এবং  দেশের বৃদ্ধি হার হবে এতই চমকপ্রদ যে তারিফ করবে সারা দুনিয়া!

তবুও ফানুস উড়ছে-

ফানুস তবু এখনও উড়ছে। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী ফল ঘোষণা পর্যন্ত তার উড়ান নির্বিঘ্নই হওয়ার কথা। তারপর কী হয়, সময়ই বলবে। তবে এরই মধ্যে প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অরুণ কুমার ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য ব্ল্যাক ইকনমি অ্যান্ড ব্ল্যাক মানি ইন ইন্ডিয়া’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেই বইতে হিসেব দিয়েছেন তিনি, প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়দের মাত্র ২২% ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং মাত্র ১৭% স্মার্টফোন। ডিজিটাল অর্থনীতিতে ঝাঁপ দেওয়ার জন্যে আমরা যে কতটা তৈরি তা বুঝে নেওয়ার পক্ষে এইটুকুই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তাঁর হিসেবে, নগদে মজুত যে কালো টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল সরকার তা দেশে মজুত মোট কালো ধনের মাত্র ১% এবং শুধুমাত্র ২০১৬ সালে দেশে যে কালো ধন তৈরি হয়েছে, তার ৩.৫%। সরকার যদি নগদে ঘুরতে থাকা সমস্ত কালো টাকা বার করে আনতেও পারত, তাহলেও কোনওই প্রভাব পড়ত না দেশের কালো-অর্থনীতির ওপর, যা নানারকম সক্রিয়তায় ক্রমাগত তৈরি করে চলেছে হিসেব-বহির্ভূত টাকা, বা কালো টাকা। যে সব কারণে কালো টাকা তৈরি হয়, সেগুলি বন্ধ করতে না পারলে কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা অসম্ভব।

খুব নতুন কিছু বলেননি বরেণ্য চিন্তাবিদ, সামান্য ভাবনা-চিন্তাতেই নাগাল পাওয়া যায়, এমন কথাই শুনিয়েছেন। কিন্তু নোট বাতিলের ‘ঐতিহাসিক’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই কথাগুলি প্রধানমন্ত্রীকে বলার কি কেউ ছিল না? নাকি, মোদির জমানায় তলিয়ে ভাবনা-চিন্তার সংস্কৃতিটাই বিসর্জন দিয়েছেন দেশের আর্থিক নীতি নির্ধারকরা? আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আগেই বলেছে, এখন ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টাও বলছেন, পূর্ব-প্রত্যাশিত ৭.৬ শতাংশের পরিবর্তে চলতি বছরে ভারতীয় অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধি হার হতে চলেছে ৬.৬%। ২০১৫-১৬ সালে এই বৃদ্ধি হার ছিল ৭.৫৬%। সমস্ত বড় অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হার বলে তাই নিয়ে উল্লাসও কিছু কম হয়নি। টানা দু-বছর খরার পর গত বছরেই স্বাভাবিক বর্ষা পেয়েছিল সারা দেশ। কৃষি ক্ষেত্রের, গ্রামীণ ক্ষেত্রের উৎপাদন এবং আয় বৃদ্ধি চাহিদা বাড়াবে, গতি আনবে অর্থনীতিতে, এই ছিল সামগ্রিক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশার মাথা মুড়িয়ে তাকে টেনে নামানোর দায় কে নেবেন? কে দায় নেবেন কর্মহীনতা বাড়তে বাড়তে ৫ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার? কারখানায় তৈরি জিনিসের উৎপাদন-সূচক মাসের পর মাস নামতে থাকার? ব্যাংক-ঋণের চাহিদা তলানিতে ঠেকার? আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কোনও উচ্চারণে তার সামান্যতম হদিশও পেয়েছেন কেউ? বরং সংসদে প্রধানমন্ত্রী সদর্পে বলেছেন, শরীর যখন সুস্থ, তখনই শরীরে কাটা ছেঁড়া করে নিতে হয়। অর্থনীতি চাঙ্গা ছিল, তাই তখনই এই উচিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজব যুক্তি! কিন্তু ‘সুস্থ’ অর্থনীতি যে অপ্রয়োজনীয় কাটা ছেঁড়ায় ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছে, এ কথা বেশ কিছু দিন ধরে অস্বীকার করে যাওয়ার পর সরকার এখন শুরু করেছে সান্ত্বনার পালা। নোট সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, বলছে সরকার, অর্থনীতিও এবার নাকি ফিরবে তার স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু না, বাস্তবে তেমন কোনও লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারি-বেসরকারি কোনও গবেষণা সংস্থাই তেমন কোনও লক্ষণ এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি। মোদি সরকারের আর পাঁচটা প্রতিশ্রুতির মতো এটাও আর একটা প্রতিশ্রুতি মাত্র। পূরণ হলে মোদি বাঁচবেন কিনা জানি না, তবে দেশ বাঁচবে। আর পূরণ না হলে? মোদি তো ডুববেনই, সঙ্গে দেশটাকেও অনেকখানি ডুবিয়ে দিয়ে যাবেন।

(কলকাতার দৈনিক আজকাল থেকে)