Home » আন্তর্জাতিক » ‘ট্রাম্প কেন মিথ্যা বলেন’ – বার্নি স্যান্ডার্স যা বললেন

‘ট্রাম্প কেন মিথ্যা বলেন’ – বার্নি স্যান্ডার্স যা বললেন

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ভয়ঙ্কর মিথ্যাবাদী; লোকটি আমেরিকাকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে’’ -এমন তীব্রভাবেই আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার জন্য সাবেক মনোনয়ন-প্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর মিডিয়া, বিচার বিভাগ এবং আমেরিকান জনজীবনের অন্যান্য স্তম্ভের প্রতি ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত সমালোচনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘‘এগুলো গণতন্ত্রের ওপর সচেতন আক্রমণ’’। তিনি বলেন, ট্রাম্প সবসময় মিথ্যা বলেন। আমি মনে করি, তার মিথ্যা বলাটা ঘটনাক্রমে নয়; এর পেছনে কারণ রয়েছে। তিনি আমেরিকান গণতন্ত্রের ভিত্তিটিই ধ্বংস করার জন্যই মিথ্যা বলেন।

রিয়েল এস্টেট বিজনেসম্যান, রিয়ালিটি টিভি স্টার থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পদটিতে উত্তরণের ৫০ দিবসের প্রেক্ষাপটে স্যান্ডার্স এই মন্তব্য করলেন। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই হোয়াইট হাউজের নতুন ‘‘প্রভু’’ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিশেষ অবদান- স্বাস্থ্য-পরিচর্যানীতি; সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোতে পর্যটক, উদ্বাস্তু এবং বৈধতাহীন অভিবাসীদের প্রবেশ ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। এছাড়া বাণিজ্য ও পরিবেশগত সুরক্ষা চুক্তিগুলোও উড়িয়ে দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের সিনেট অফিসে গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলার সময় স্যান্ডার্স বলেন, বিলিয়নিয়ারদের কর অবকাশ এবং মধ্যবিত্তদের প্রতি ভয়াবহ প্রভাব সৃষ্টিকারী ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াশীল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তবে প্রেসিডেন্ট যে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা দেখাচ্ছেন, তার ব্যাপারেই স্যান্ডার্স সবচেয়ে বেশি ক্রোধ প্রকাশ করেন।

তার মতে, নিজেকে জাতির একমাত্র ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করার সচেতন কৌশল হিসেবেই ট্রাম্প মূলধারার মিডিয়া থেকে শুরু করে বিচারক এবং এমনকি খোদ নির্বাচনী-প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ গণ-প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অন্যায় সমালোচনা করছেন। তিনি একটি বার্তাই দিতে চাইছেন, ‘আমেরিকায় আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে আমেরিকার জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, আমিই আমেরিকায় একমাত্র লোক, যে সত্য কথা বলে, আমিই আমেরিকায় একমাত্র লোক, যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার অধিকার রাখে’।

এই নতুন প্রশাসনের একমাত্র বৈশিষ্ট্য হলো- সত্যের সাথে ট্রাম্পের ভঙ্গুর সম্পর্ক। স্যান্ডার্স বলেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেওয়া এক বিচারককে ‘তথাকথিত বিচারক’ হিসেবে ট্রাম্পের অভিহিত করাতে তিনি অবাক হয়েছেন। ট্রাম্প কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই বলেছেন, ট্রাম্প টাওয়ারে ওবামা আঁড়ি পেতেছিলেন। ট্রাম্প এ কথাও বলেছিলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে ৫০ লাখ লোক অবৈধভাবে ভোট দিয়েছে।

স্যান্ডার্স মনে করেন, বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই ট্রাম্প মিথ্যা বলছেন। স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম প্রেসিডেন্টের সাথে ৪৫তম প্রেসিডেন্টের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘জর্জ বুশ ছিলেন খুবই সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট। আমি একেবারে প্রথম দিন থেকে তার বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু জর্জ বুশ মূলধারার আমেরিকান রাজনৈতিক মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে কাজ করেননি।’

মিডিয়া সবসময় ট্রাম্পের দিকে জোরালোভাবে থাকায় এবং তার টুইটার বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও স্বঘোষিত গণতান্ত্রিক সমাজবাদী স্যান্ডার্স যে দেশজুড়ে নতুন প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে নীরবে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, সেদিকে তেমন কারো নজর পড়েনি। মূলত: ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পাওয়ার সময় যে তরুণরা তার প্রতি সাড়া দিয়েছিল, তারাই তার পেছনে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

স্যান্ডার্স বলেন, প্রতিরোধ এখন পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। বিশেষ করে ‘আওয়ার রেভ্যুলিউশন,’ ‘ওমেন্স মার্চ’ ইত্যাদি সংগঠন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে ফিরে এসেছে। তিনি জানান, ট্রাম্পের স্বৈরতান্ত্রিক ধারাটি রোখার একমাত্র উপায় হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিরোধ আন্দোলন সৃষ্টি করা।

তিনি তার সাফল্যের একটি উদাহরণ হিসেবে বলেন, সম্প্রতি একটি সপ্তাহেই ১৩০টি কংগ্রেস জেলায় ১৫০টি সমাবেশ হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ কংগ্রেস সদস্যদের সাথে বৈঠক করার দাবি জানাচ্ছেন- যাতে তারা ‘অ্যাফোরডেবল কেয়ার অ্যাক্টের’ বিরোধিতা করতে পারে।

স্যান্ডার্স তার আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য কংগ্রেসে বিশেষ করে রিপাবলিকান সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিরোধ আন্দোলনে নামার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি আশা করছেন, আগামী দিনে রক্ষণশীল অনেক রিপাবলিকান সদস্যও তার সাথে কাজ করবেন।

স্যান্ডার্স মার্কিন নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাশিয়া বেশ সফলতার সাথে কাজটি করেছে বটে ; তবে তা অগ্রহণযোগ্য।