Home » বিশেষ নিবন্ধ » আবার স্বাধীনতার দাবি স্কটল্যান্ডের

আবার স্বাধীনতার দাবি স্কটল্যান্ডের

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

আবার স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিকোলা স্টারজিয়ন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার আগেই তিনি গণভোট আয়োজনের কথা বলেছেন। গতবার সামান্য ব্যবধানে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আটকে গিয়েছিল। কিন্তু এবার বিপুল ব্যবধানে স্কটল্যান্ড স্বাধীনতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবশ্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এই প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন এর সময় নয়।’ তিনি বেক্সিটের আগে গণভোট আয়োজন করতে চান না বলে জানিয়েছেন। আবার বেক্সিটের আনুষ্ঠানিকতা ২০১৯ সালের আগে শেষ হবে না। অর্থাৎ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চান বিষয়টি ঝুলিয়ে দিতে।

কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মে জানিয়েছেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় তথ্যের দরকার, তাদের কাছে এখন নেই।

স্কটল্যান্ডে ২০১৪ সালে স্বাধীনতার জন্য প্রথম গণভোট হয়েছিল। ৪৫-৫৫ শতাংশ ব্যবধানে স্কটিশরা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। তখন ব্রিটেন ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) । ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তখন ব্রিটেনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সহায়তা করার জন্য স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। ফলে যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকতে চায়, তারাও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। এখন ব্রিটেন নিজেই ইইউ থেকে সরে গেছে। ফলে যারা আগে স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল, তারা এখন পক্ষে ভোট দিতে পারে। স্কটরা কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার পক্ষে। বেক্সিটের সময় ৬২ ভাগ স্কট এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গণভোট না-আয়োজনের জন্য যে যুক্তি দিয়েছেন, সেটাও ধোবে টেকে না। এর একটি উদাহরণ হলো, বেক্সিট গণভোটের সময় ব্রিটিশরা কি পর্যাপ্ত তথ্য জানতো? ভোটের দিন দেখা গেছে, ব্রিটিশরা গুগলে প্রশ্ন করে চলেছে : ‘বেক্সিট আসলে কী?’ এবং ‘ইইউ ত্যাগ করা বলতে কী বোঝায়?’ এতেই বোঝা যায়, ব্রিটিশদের কাছে তথ্য ছিল না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এখানেই না থেমে স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও তুলেছেন যে, ‘স্কটল্যান্ড অনিশ্চয়তা আর বিভক্তির পথে রয়েছে।’

তবে স্কটিশ প্রধানমন্ত্রীও ছেড়ে দেননি। তিনি বলেছেন, তিনি ঠিক এখনই গণভোট আয়োজন করতে বলেননি। তবে সেটা হতে পারে বেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার আগেই।  তিনি বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, এমনটা হওয়া উচিত ‘বিকল্প পথ বাছাই করার সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই।’ তিনি বলেন, ভোট আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার অর্থ হলো, মে’র টোরিরা ফলাফল কী হতে পারে তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে স্কটিশ জনগণের ইচ্ছাকে বাধা দিচ্ছেন।

তিনি আরেকটি ইঙ্গিত দিয়েছেন তার স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এক সদস্যের টুইটের জবাবে : কল্পনা করুন তো, ব্রাসেলস যদি যুক্তরাজ্যকে গণভোট আয়োজন করতে না দিত, তবে কী হতো। আর এটাই হলো স্কটল্যান্ডের দুই ইউনিয়নের মধ্যকার পার্থক্য।

অর্থাৎ স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করার জন্য স্কটল্যান্ড তাদের আন্দোলন জোরদার করতে যাচ্ছে। স্কটল্যান্ডই যেহেতু ব্রিটিশ অর্থনীতির ‘রাজধানী’, তা-ই এটা হারানো মানে তাদের অবস্থার আরো অবনতি ঘটা। কাজেই কঠিন অবস্থা অপেক্ষা করছে ব্রিটেনের জন্য।