Home » আন্তর্জাতিক » ট্রাম্প প্রশাসন : শিশু তহবিল, শান্তিরক্ষা, জলবায়ুসহ মানবিক খাতের অর্থ কমছে- বাড়বে সামরিক ব্যয়

ট্রাম্প প্রশাসন : শিশু তহবিল, শান্তিরক্ষা, জলবায়ুসহ মানবিক খাতের অর্থ কমছে- বাড়বে সামরিক ব্যয়

আসিফ হাসান ::

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবার হাত দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তহবিলে। লক্ষ্য হিসেবে বলা হচ্ছে -অর্থ বাঁচানোর কথা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকেই ১শ’ কোটি ডলার অর্থ কমানোর কথা ভাবছে হোয়াইট হাউজ।  অবশ্য প্রস্তাবটি পাস হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এছাড়াও শিশুদের জন্য যে কোটি কোটি ডলার সাহায্য দেয়া চলমান রয়েছে- তাতে অর্থ দেয়া বন্ধ করে দিয়েও ‘সাশ্রয়ী’ নীতি গ্রহনে উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইতোমধ্যে জলবায়ু  খাতে অর্থ হ্রাসের ঘোষনাও এসেছে। এসব ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষ থেকেই মারাত্মক প্রতিরোধ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশটির আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব প্রদান ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার একটি প্রয়াস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হোয়াইট হাউজের বাজেট অফিস সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্র দফতরকে জানিয়েছে, প্রশাসন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা ৩২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তহবিলের পুরোটাই বাদ দেবে। এতে করে ইউনিসেফ, জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের মতো সংস্থাগুলো মারাত্মক বিপদে  পড়বে। বিশেষ করে গরিব শিশুদের নিয়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণকারী ইউনিসেফকে অনেক স্থান থেকে গুটিয়ে নিতে হবে। এইডস, যক্ষা, ম্যালেরিয়া ইত্যাদির মতো রোগ প্রতিরোধেও বিপুল সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। এসব প্রকল্প এখন হুমকির মুখে পড়বে।

তাছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র যে চাঁদা দিয়ে থাকে, তার ৪০ ভাগ কমিয়ে ফেলবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। গত বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর মোট বাজেট ছিল আট শ’ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল দুই শ’ কোটি ডলারের বেশি। ফলে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ প্রতিরোধে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীও বেশ সমস্যায় পড়বে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে ৬ এপ্রিল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করতে চাইছেন। সেখানেই জাতিসংঘের ১৬টি শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে মূল্যায়ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই হ্যালে আগামী মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করবেন। তিনি হয়তো জাতিসংঘের কয়েকটি শান্তিরক্ষা মিশন বাতিলই করে দেবেন কিংবা ব্যাপক মাত্রায় সঙ্কুচিত করবেন-তা জানাবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট হ্রাসের কিছু নথি হাতে পাওয়ার দাবি করেছে প্রভাবশালী ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পররাষ্ট্র দফতরের  বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেটে হাত না দিয়ে বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার খরচ কমাতে চাইছে। এ কারণেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, ইউনিসেফ ইত্যাদি সংস্থার দিকে তারা নজর দিয়েছে।

অবশ্য কেবল জাতিসংঘ নয়, পাশ্চাত্য সামরিক জোট ন্যাটোর বাজেট, জলবায়ু তহবিলও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন এসব সংস্থার বাজেট কমানো হচ্ছে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট দেশের দিকে বেশি নজর দিতে চান, বিদেশের দিকে কম। বিশেষ করে ২০১৮ সালটি হবে ‘যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক’। আর প্রেসিডেন্ট তার বাজেট ঘোষণার সময়ই বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

গত বছর মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো জাতিসংঘের বিভিন্ন কমসূচিতে মোট একহাজার ৫০ কোটি ডলার দিয়েছিল। শিশুদের টিকা প্রদান, সংঘাতপূর্ন এলাকায় শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানো, উদ্বাস্তুদের পরিচর্যা, গরিবদের খাদ্য সাহায্য, পরমাণু, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র তদারকির মতো বিষয়গুলোও এতে ছিল।

এই বাজেট হ্রাসের পরিকল্পনা মার্কিননীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতার বিকাশ এবং মার্কিন স্বার্থ এগিয়ে নিতেই জাতিসংঘ গঠনে উদ্বুদ্ধ  হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যবস্থায় বড় ধরনের তদারকির কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এখন যদি এসব প্রতিষ্ঠানে চাঁদা প্রদান কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও হ্রাস পাবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা কমিয়ে দেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু তার প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা বাজেট ৫ হাজার ৪ শ’ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৩ হাজার ৯ শ’ কোটি বিলিয়ন ডলার করা হবে।