Home » আন্তর্জাতিক » বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য হ্রাস : বাদ যাচ্ছেনা ইউএসএইডও

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য হ্রাস : বাদ যাচ্ছেনা ইউএসএইডও

আসিফ হাসান, ফরেন পলিসি থেকে ::

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পরিণতিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাব হারানোর শঙ্কায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার পরাশক্তির মর্যাদা থাকবে কিনা সেটা নিয়েও ভাবছেন অনেকেই।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজেট নথিপত্র এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, দেশটি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তার বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সেইসাথে পররাষ্ট্র দফতরের সাথে একীভূত করে ফেলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডকে।

পররাষ্ট্র দফতরের ১৫ পৃষ্ঠার একটি বাজেট নথির আলোকে ফরেন পলিসি জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মার্চ মাসের সহায়তা এক তৃতীয়াংশ কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর সার্বিকভাবেই ২০১৮ অর্থ বছরের বাজেট ব্যাপকভাবে কমানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইউএসএইডকের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ওয়েড ওয়ারেন সম্প্রতি এক স্টাফ মিটিংয়ে  জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৩ মার্চের নির্দেশনার আলোকে তারা পররাষ্ট্র দফতরের সাথে মিশে যাচ্ছেন। অবশ্য এ ধরনের পরিকল্পনা এই প্রথম নয়। ১৯৯৯ সালে মার্কিন তথ্য সংস্থা বিদেশে তথ্য ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনাকারী অংশকে একীভূত করেছিল।

অবশ্য ট্রাম্প তার পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়। কারণ খোদ রিপাবলিকানরাই তার প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন না বলে আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরও সাহায্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কংগ্রেস ট্রাম্পকে সমর্থন না করলেও কিছু হলেও সাহায্য কমে যাবে।

বিশ্বজুড়ে আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সহায়তা কর্মসূচি। বিভিন্ন অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে ইউএসএইড মিশন পরিচালকরাই হচ্ছেন ওই দেশে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিদেশী।

সহায়তা কমানো হলে এসব মিশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অবশ্য কেবল সাহায্যই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্মসূচিতেও তহবিল কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপরে অমুনাফামূলক প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট হোপের সিইও টম কেনিয়ন বলেন, এর ফলে অনেক মানুষ মারা যাবে। তার মতে, মার্কিন উন্নয়ন অর্থ কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করে থাকে। তবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো হলে যে কেবল বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরাই সমস্যায় পড়বেন তা নয়, খোদ মার্কিনীদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ইবোলার মতো মহামারী সৃষ্টি হলে সেটা একটা পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রেও পাড়ি দেবে। ফলে সংক্রমণ রোগের সামনে অরক্ষিত হয়ে যাবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও।

আবার জলবায়ু পরিবর্তনে সমস্যায় পড়া দেশগুলোর সহায়তাও কমানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কার্বন নির্গমন কমানোর একটি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র এক বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন তারা তা থেকে সরে আসতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাহায্য হ্রাসের ফলে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থেও আঘাত হানতে পারে। মার্কিন উন্নয়ন সহায়তা পেয়ে থাকে ৭৭টি দেশ ও অঞ্চল। সুনির্দিষ্ট মার্কিন রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে এসব দেশ ও অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এই সহায়তা হ্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

গত ফেব্রুয়ারিতে ১২১ জন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও অ্যাডমিরাল হোয়াইট হাউজ ও কংগ্রেসের কাছে খোলা চিঠিতে বিদেশি সহায়তা ও কূটনৈতিক কার্যক্রম হ্রাসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। চিঠিতে তারা ইসলামিক স্টেটের মতো চরমপন্থী গ্রুপগুলোকে দমন করে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, উদ্বাস্তু প্রবাহ হ্রাস করা, ইবোলার মতো সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধে পররাষ্ট্র দফতর এবং ইউএসএইডের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস করার ফলে অন্যান্য অঞ্চল ও দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে