Home » অর্থনীতি » ব্যাংকের দুর্নীতির দায় জনগণ কেনো বহন করবে?

ব্যাংকের দুর্নীতির দায় জনগণ কেনো বহন করবে?

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ও তথ্য-উপাত্তের খুবই সামান্য জনগণের সামনে নানাভাবে ও পন্থায় হাজির হয়েছে। একে অপরকে দোষারোপের মাধ্যমে কিংবা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এতদিন বলা হতো ও এটি সত্যও যে, ব্যাংকিং  সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। পুঁজিবাজার, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক, ডেসটিনি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এটিএম বুথ বা পাসওয়ার্ড জালিয়াতিসহ সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সবাইকে বহুআগেই আতঙ্কিত ও শঙ্কিত করেছে। তাছাড়া দেশের ব্যাংক খাতে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগে বেশ কিছু জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে। আইসিটি বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলেছে এ ধরনের দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনা। ব্যাংকিং  সেক্টরে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা যুগে যুগে হয়ে আসছে;  যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও একেবারে দূর করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুজনের এক গোলটেবিল বৈঠকে দাবি করা হয়েছে যে, সু-শাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে গত ৭ বছরে ৬টি বড় আর্থিক কেলেংকারিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ভুয়া জমি বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার মতো ঘটনা শোনা যেত। এখন বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের খারাপ দিকটিকে পুজি করিয়ে, বেড়ে চলেছে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তবে আইন ও প্রযুক্তির মধ্যেই সর্ষের ‘‘ভুত” থাকায়, নানা সক্ষমতায় কি আমরা যথেষ্ট?

যে ব্যাংক রাষ্ট্রের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যাংকের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত- খোদ সেই বাংলাদেশ ব্যাংক-এর রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আত্মসাৎকৃত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকা উদ্ধারের আশা খুব কম -এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের তদন্তকারী সিনেট কমিটি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভে ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ (এএমএলসি) ও দেশটির সিনেট তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান শুরুর পর রিজার্ভ চুরির অর্থ থেকে পাওয়া প্রায় ৯৮ লাখ ডলার ইতোমধ্যে এএমএলসি’র কাছে জমা দিয়েছেন ক্যাসিনোর জাংকেট অপারেটর কিম অং। আবার ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষের তোড়জোড়ে রিজার্ভের এই অর্থ উদ্ধার হলেও পুরো পাওয়া যাবে কিনা- সিনেট কমিটির শুনানিতে যেসব তথ্য বের হয়ে এসেছে তাতে সেটি এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

এইদিকে, বিদেশি ছয়টি ব্যাংক ও দেশীয় ২৪টি ব্যাংক  অফশোর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে কোন পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ছাড়াই চলছে অফশোর ব্যাংকিং। অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের ভেতরে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম। অফশোর ইউনিটের ব্যবস্থাপনা, হিসাব, আমানত, ঋণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধু বছর শেষে মুনাফা অথবা লোকসানের হিসাব যুক্ত হয় ব্যাংকের হিসাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৮৫ সালে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা জারি করে। ৩০ বছর পার হলো কিন্তু অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা হয়নি। শুরুতে বিদেশি ব্যাংকগুলো এই সেবায় থাকলেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যাংক যুক্ত হচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং সেবায়। বিদেশি খাতের ছয় ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের ২৪টি ব্যাংক এখন এই সেবা দিচ্ছে।

অফশোর ব্যাংকিংয়ে দেশীয় মুদ্রায় কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। এতে শুধু ডলারের পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড, জাপানি ইয়েনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৮৫ সাল অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করে। এতে বিদেশ থেকে আমানত এনে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে কারা ঋণ পাবে, ঋণগ্রহীতা সীমা, ঋণের ব্যবহার এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। এ সুযোগে ব্যাংকগুলো ঋণের অপব্যবহার করছে। বিদেশ থেকে আমানত সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও মূল ব্যাংক থেকে ঋণ করে বিদেশে ঋণ দিচ্ছে অফশোর ইউনিট। আবার এসব ঋণের গ্রহীতাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত অর্থ পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউনিটগুলো। এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে। গত দেড় দশকে ব্যাংকিং খাতে ৯টি বড় ধরনের আর্থিক কেলেংকারী সংঘটিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ, জনগণ এবং বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের সঠিক বিচার না হওয়ায় ব্যাংক জামানতে জনমনে তৈরী হয়েছে আস্থাহীনতা ও উৎকণ্ঠা- যা ফিরিয়ে আনা দরকার। ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধে কিছু আগাম সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। এতে দুর্নীতি প্রতিরোধ পুরোপুরি সম্ভব না হলেও অন্তত আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত এখন চরম ঝুঁকিতে। বাড়ছে মানি লন্ডারিং। আইনের ভাষায় ‘মানি লন্ডারিং একটা অপরাধ, যার মাধ্যমে বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদ এমনভাবে লেনদেন হয়, যাতে মনে হয়, এসব এসেছে কোনো বৈধ উৎস থেকে। এসব বিষয়ে আইন থাকলেও ব্যাংকগুলোকে খুব সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।

ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেখলেও ব্যাংকিং খাতের লুটপাটের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা; যা ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। আর পুনঃতফসিল হওয়া ঋণের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা আবারো খেলাপি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। আগের বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। অবশ্য তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা- যা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সে বিবেচনায় তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি কমেছে তিন হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় খাতের ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, বেসিকের ছয় হাজার ৩১১ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের পাঁচ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, জনতার চার হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, রূপালীর দুই হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা এবং বিডিবিএলের ৭৩৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শিথিল নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ৫০ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ সুবিধায় পাওয়া রাষ্ট্রীয় খাতের ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংকে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে দেখা গেছে, বড় অঙ্কের ঋণে নয়, ছোট ছোট ঋণেও বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। খবরে প্রকাশ, রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) গণহারে ঋণে অনিয়ম করা হচ্ছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটির আশুগঞ্জ শাখা। এর মধ্যে অনেক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানও ঋণ পেয়েছে। বর্তমানে শাখাটির ৭৮ শতাংশ ঋণই খেলাপি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো নিয়মের অনুসরণ করেননি। উল্টো গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতি করা হয়েছে। এর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নিয়ে ব্যাংক শাখাটি হুমকির মুখে পড়েছে।

সার্বিক বিচেনায় আমাদের ব্যাংক খাত ভালো চলছে না। ফলে দেশের ব্যাংক খাতে বাড়ছে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ। এতে কমছে মূলধন সংরক্ষণের সক্ষমতা। আর এই সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যাংকের ঝুঁকিসহন ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। এতে বাড়ছে ঝুঁকির তীব্রতা। গত বছরের জুনে ব্যাংক খাতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ছিল ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা; মাত্র ৬ মাসে তা বেড়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। এত মূলধন সংরক্ষণের হারও আলোচ্য সময়ে কমে গেছে। সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ৭টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশি¬ষ্ট সূত্রমতে, ভুয়া ঋণ ও পর্যাপ্ত জামানত না রেখে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক তদবির ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দিলে বেড়ে যায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ; কমে যায় ব্যাংকের আয়। ফলে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়ে যায়।

স¤প্রতি বিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক-তহবিল লোপাটের ঘটনা বলে বিবেচিত এ ঘটনায় লোপাট হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে গিয়েছিল ফিলিপাইনের ব্যাংক ও জুয়ার বাজারে। এ অর্থ ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার এখন চেষ্টা-তদবির করছে। এর কিছু টাকা ফেরত এলেও বাকি টাকা ফেরত আসার বিষয়টি স্থবির হয়ে আছে। এই স্থবিরতার দুটি কারণ জনালেন ফিলিপাইনের এনকোয়ারার পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাক্সিম লুকাস। তিনিই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ঘটনাটি প্রথমে বিস্তারিত ফাঁস করে বাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই চুরি যাওয়া অর্থের বাকি অংশ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে স্থবিরতার প্রথম কারণ হচ্ছে, ফিলিপাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। দ্বিতীয়ত, সে দেশের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল লোপাটের ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেরই ভেতরের লোক। সাংবাদিক লুকাস জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন- বাংলাদেশ অযথাই ফিলিপাইনের ওপর বেশি দোষ চাপাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংকগুলোতে চলা দুর্নীতি এসব ব্যাংককে কার্যত ফোকলা করে ফেলা হয়েছে। আর এসব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্নীতি আর অনিয়মের দায় মেটানো হচ্ছে জনগণের অর্থে। গত তিন বছরে সরকারি ছয় ব্যাংকে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগান দেয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংকে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর বেসিক ব্যাংকে দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সরকারি ব্যাংকের দুর্নীতির দায় জনগণ কেনো বহন করবে