Home » আন্তর্জাতিক » ট্রাম্পকে কী ইম্পিচ করা হবে?
WASHINGTON, DC - FEBRUARY 09: U.S. President Donald Trump meets with members of the airline industry at the White House February 9, 2017 in Washington, DC. Trump held a listening session with the group to advance issues relative to the airline industry. (Photo by Win McNamee/Getty Images)

ট্রাম্পকে কী ইম্পিচ করা হবে?

আসিফ হাসান, নিউজ উইক থেকে

এফবিআইপ্রধান জেমস কোমিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরখাস্তের ঘটনাটি প্রেসিডেন্টকে ইম্পিচমেন্টের (অভিশংসন) দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ সবেমাত্র ১০০ দিন অতিক্রম হলো। কিন্তু এই পুরো সময়টা অতিবাহিত হয়েছে রাশিয়ার সাথে তার বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্রেমলিনের সাথে তার কথিত গোপন আঁতাত নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হন বা না হন, তার শাসনকালের এই পর্যায়ের প্রধান বিষয়ই এটা। তবে এসব বিষয় নিয়ে তদন্তে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে হঠাৎ করে বরখাস্ত করার ঘটনা বিশেষ অভিশংসনের গণদাবিকে গতিশীল করবে। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের রিপাবলিকান সহকর্মীরা যাতে প্রেসিডেন্টের খায়েশ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখেন সে দাবি জোরদার হবে, প্রসিকিউটর নিয়োগের অনুরোধও আসতে পারে। আর এসব ঘটলে ইম্পিচমেন্টের রাস্তা শেষ পর্যন্ত শুরু হয়ে যাবে।

অবশ্য এটাও ঠিক, ইম্পিচমেন্ট মানে এই নয় যে, ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই পদচ্যুত হবেন। ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনেরর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু সিনেট তাকে অপসারণ করেনি। একই ঘটনা ঘটেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের বেলায়। সত্যি বলতে কী, এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেট দোষী সাব্যস্ত করেনি। তাছাড়া এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং বেশ জটিল। তবে এতে করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি হয়, ঐক্যবদ্ধ ও শ্রদ্ধেয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য ক্ষুণ্ণ করে।

কোমিকে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর বুধবার সকালে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাব আনার দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ফেটে পড়েন। দাবিটির পক্ষে টুইটারে #ImpeachTrumpNow বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টও পাল্টা জবাব দেন। তিনিও টুইটারের আশ্রয় নেন। তিনি এমন ক্রোধান্বিত হন যে, তিনি বারবার টুইট করে বলতে থাকেন- তিনি এমন একজনকে নিয়ে আসবেন, যিনি আরো অনেক ভালোভাবে কাজটি করবেন, এফবিআইয়ের চেতনা ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনবেন। তার আমলে এফবিআইয়ের প্রধান প্রধান কেলেঙ্কারি যে তালিকা-সংবলিত দ্রুত রিপোর্ট রিটুইট করেন ট্রাম্প।

রক্ষণশীল ও উদার মিডিয়াগুলো একজোট হয়ে বলছে, রুশ বিতর্ক এখন ভয়াবহ পর্যায়ে উপনীতি হয়েছে। ফলে চলমান তদন্ত কিংবা নির্বাচনী প্রচারণাকালে রুশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো না কোনোভাবে মিথ্যা কথা বলার দায়ে যদি কোমিকে অপসারণ করা হয়ে থাকে, তবে ট্রাম্পকে ইম্পিচ করার ভিত তৈরি হয়ে যাবে।

ওয়াশিংটন পোস্টের রক্ষণশীল কলাম লেখক জেনিফার রুবিন বুধবার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ত্রু টি তদন্তে নিয়োজিত কাউকে থামানোর জন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (বা একদল ব্যক্তিকে) ব্যবহার করাটাই ছিল ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি এবং ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মূল কথা।’ তিনি বলেন, ‘এখানেও সেই বিষয়টিই রয়েছে কিনা তা আমরা জানি না। তবে প্রেসিডেন্ট কেন কাজটি করলেন এবং ঠিক এখনই তা কেন করলেন, তা নির্ধারণ করা ছাড়া কংগ্রেসের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই। এর অর্থ হচ্ছে বরখাস্ত প্রক্রিয়ায় জড়িত বা অবগত থাকা কোনো ব্যক্তির শপথের আওতায় আছেন কিনা সে প্রশ্নটিই উত্থাপন করা এবং পরিশেষে প্রেসিডেন্টকে তার কাজের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা।’

বামধারার প্রকাশনা স্লেটও মঙ্গলবার রাতে এ নিয়ে লিখেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘নিক্সন সফলভাবে বিশেষ প্রসিকিউটরকে বরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু তা ওয়াটারগেট নিয়ে তদন্ত বন্ধ করার বদলে তাকে ইম্পিচমেন্ট করা এবং কংগ্রেসকে ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্দীপ্ত করার পথই জোরদার করেছিল। এখন মনে হচ্ছে, ট্রাম্পের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।’

হ্যাশট্যাগ, রিটুইট এবং মূলধারার মিডিয়া কোনো প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করতে পারে না। তারা কার্যকর ইম্পিচমেন্টও করতে পারে না। তবে এতে করে রুশ তদন্ত প্রশ্নে হোয়ইট হাউজ প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে জনগণের মধ্যে অবজ্ঞা বাড়তে থাকবে এবং ট্রাম্পের কাজের প্রতি আস্থা ভয়াবহ রকমের কমতে থাকবে। কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা হয়তো শিগগিরই তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে চরমপত্র পেতে থাকবেন। তাছাড়া টাউন হল বৈঠকগুলোতেও তারা ট্রাম্প প্রশাসন এবং গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে  প্রশ্নবাণে জর্জরিত হওয়ার ভয়ে থাকবেন। কিংবা ২০১৮ সালের নির্বাচনে শোচনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার শঙ্কায় থাকবেন।

এই পথটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে কোন পথে নিয়ে যায় তা সময়ই বলে দেবে।