Home » আন্তর্জাতিক » বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি : বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ভারতের সামরিক ব্যয়

বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি : বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ভারতের সামরিক ব্যয়

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি। আর তার জের ধরে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বেড়েছে অস্ত্র খাতে ব্যয়। ২০১৫ সালের তুলনায় ০.৪ ভাগ বেড়ে ২০১৬ সালে সামরিক খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮৬ বিলিয়ন ডলার। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকায় সামরিক ব্যয় বেড়েছে, আর পশ্চিম ইউরোপেও বেড়েছে  টানা দ্বিতীয় বছরের মতো। বিশ্বে ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সামরিক ব্যয় বাড়ল। তবে কষ্টের মধ্যেও সুখের বিষয় হলো- সেটা ওই বছরের ১৬৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেনি।

সামরিক ব্যয়ের ধারায় অঞ্চল ভেদে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। এশিয়া, ওশেনিয়া, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকায় বেড়েছে। বিপরীতে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকা এবং উপ-সাহারীয় এলাকায় কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১ নম্বরেই :

এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই সর্বোচ্চ পরিমাণে সামরিক ব্যয় হয়ে থাকে। ২০১৫ সালের তুলনায় দেশটিতে সামরিক ব্যয় ১.৭ ভাগ বেড়ে ৬১১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের দেশ চীনে ২০১৫ সালের তুলনায় ৫.৪ ভাগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৫ বিলিয়ন ডলার। বৃদ্ধির হারটি গত বছরের চেয়ে অনেক কম। রাশিয়ার ব্যয় ৫.৯ ভাগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯.২ বিলিয়ন ডলার। দেশটি তৃতীয় বৃহত্তম ব্যয়কারী। সৌদি আরব ২০১৫ সালে ছিল তৃতীয় স্থানে। এখন সে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। আঞ্চলিক যুদ্ধ সত্ত্বেও তাদের ব্যয় ৩০ ভাগ কমে হয়েছে ৬৩.৭ বিলিয়ন ডলার। ভারতের সামরিক ব্যয় ৮.৫ ভাগ বেড়ে ৫৫.৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তারা এখন পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়ের দেশ।

মার্কিন সামরিক ব্যয় বাড়াটি আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে, সামরিক ব্যয় কমানোর ধারা থেকে তারা আবার সরে এসেছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কমে গিয়েছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রে সার্বিক বাজেটে সংযম দেখা গেলেও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ছে।

ভয়ে বাড়ছে ইউরোপের ব্যয় :

পশ্চিম ইউরোপে সামরিক ব্যয় বেড়েছে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো। আগের বছরের চেয়ে তা ২.৬ ভাগ বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি হয়েছে মূলত তিনটি দেশে। ইতালিতে লক্ষ্যণীয় ১১ ভাগ বেড়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে আক্রমণের শঙ্কায় সার্বিকভাবে মধ্য ইউরোপে ২.৪ ভাগ ব্যয় বেড়ে গেছে।

তেল রফতানিকারক দেশগুলোর কমেছে:

তেলের দাম কমে যাওয়ার যে অর্থনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে, মূলত সে কারণেই অনেক তেল রফতানিকারক দেশ অস্ত্র আমদানিতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরবের কথা বলা যায়। তাদের ব্যয় কমেছে ২৫.৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সবচেয়ে বেশি কমেছে ভেনেজুয়েলায়। তারা কমিয়েছে ৫৬ ভাগ। এছাড়া দক্ষিণ সুদান ৫৪ ভাগ, আজারবাইজান ৩৬ ভাগ, ইরাক ৩৬ ভাগ, সৌদি আরব ৩০ ভাগ কমিয়েছে। এছাড়া অ্যাঙ্গোলা, ইকুয়েডর, কাজাখস্তান, মেক্সিকো, ওমান ও পেরুও সামরিক খাতে ব্যয় বেশ কমিয়েছে। তবে আলজেরিয়া, ইরান, কুয়েত, নরওয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বেশ বাড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য :

১. বিশ্বে সামরিক খাতের ব্যয় বৈশ্বিক জিডিপির ২.২ ভাগ। জিডিপির হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যেই সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় করে থাকে। ২০১৬ সালে জিডিপির ৬.০ ভাগ ব্যয় হয়েছে সামরিক খাতে। সর্বনিম্ন আমেরিকায়। সেখানে জিডিপির ১.৩ ভাগ খরচ হয়েছে এই খাতে।

২. ২০১৬ সালে আফ্রিকায় ব্যয় কমেছে ১.৩ ভাগ। টানা ১১ বছর বাড়ার পর এবারই এখানে ব্যয় কমল। মূলত তেলের আয় কমায় এমনটা ঘটেছে।

৩. এশিয়া ও ওশেনিয়ায় সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৪.৬ ভাগ। দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মূলত এই ব্যয় বেড়েছে।

৪. ইকুয়েডর, মেক্সিকো, পেরু ও ভেনেজুয়েলায় তেল রাজস্ব কমায় মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক ব্যয় কমেছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে ব্রাজিলে সামরিক ব্যয় কমেছে।