Home » বিশেষ নিবন্ধ » ‘যখনই বিচারবর্হিভূতভাবে কোনো কিছু ঘটে তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতালম্বী দমনের জন্যই এক সময়ে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়’: আদিলুর রহমান খান

‘যখনই বিচারবর্হিভূতভাবে কোনো কিছু ঘটে তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতালম্বী দমনের জন্যই এক সময়ে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়’: আদিলুর রহমান খান

এ্যডভোকেট আদিলুর রহমান খান, মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সেক্রেটারী। আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত মানবাধিকার সক্রিয়বাদী। বর্তমানে সরকার পরিচালিত ওয়ার অন ড্রাগস বা মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে তার মতামত দিয়েছেন আমাদের বুধবারের সাথে এক সাক্ষাৎকারে।

আমাদের বুধবার : মাদক বিরোধী অভিযান চলছে বাংলাদেশে। এ অভিযান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?

আদিলুর রহমান খান : মাদক বিরোধী বর্তমান অভিযানের প্রয়োগিক দিকটি হলো, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন তাদের লক্ষ্য করে বিচারবর্হিভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তা আইনের পরিপন্থি ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। বিচারবর্হিভূতভাবে কাউকে হত্যা করা যায় না। এতে আইনের শাসন বজায় থাকে না। আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মধ্যে সোপর্দ করতে হবে। বিচারবর্হিভূতভাবে কাউকে হত্যা করা যাবে না। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, সেটি বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড। আমরা মনে করি, এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

আমাদের বুধবার : মাদক বিরোধী আইন-শৃংখলাবাহিনীর এ অভিযানে মূল হোতারা কী ধরা পড়ছে?

আদিলুর রহমান খান : এটি তো এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বা মূল হোতাদের ধরা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না। এমনকি আইন-শৃংখলাবাহিনীর যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদেরকেও শুধু কাজ থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যাদেরকে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে তারা সাধারণ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী। মূল হোতারা এর বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমরা মূল হোতাদেরও বিচারবর্হিভূতভাবে হত্যার পক্ষে নই। আমরা চাই, সবাইকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেয়া হবে, যদি তারা সত্যিকারের অপরাধী হয়ে থাকে।

আমাদের বুধবার : ফিলিপাইন-লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে মাদক বিরোধী অভিযানের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে তাতে আপনার কি মনে হয় এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মাদকের ব্যবসার রাশ টেনে ধরা যাবে? 

আদিলুর রহমান খান : আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শুধু হত্যা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কখনোই ফলাফল আসে না। হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এর দায় নিতে হয়। ফিলিপাইন বা লাতিন আমেরিকায় অনেককে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এ হত্যার মধ্য দিয়েও মাদক ব্যবসা নির্মূল করতে পারেনি তারা। তাই সমাজের মধ্যে যখন একটি রোগ দেখা দেয় তখন সমাজকেই নির্ধারণ করতে হয় আইনী কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে তা সমাধানের জন্য। তা না করে আইনবর্হিভূতভাবে কোনো কিছু করা কখনো গ্রহণযোগ্য হয় না। পরবর্তীতে এর দায় নিতে হয়। এতে সমাজে আরো অস্থিরতা তৈরি হয়।

আমাদের বুধবার : ফিলিপাইনের মাদক বিরোধী অভিযান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবধিকার সংগঠনগুলো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কি বলছে?

আদিলুর রহমান খান : আমাদের দেশে যেভাবে মানবধিকার লংঘন হয়ে থাকে, তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এর পরে ভিকটিম হবেন না, সেটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, তাদের কর্মী বা তাদের সমর্থকদের ওপর এর প্রয়োগ ঘটবে। আমরা যারা মানবধিকার নিয়ে কাজ করি তারা এ আশঙ্কা সব সময়ই করে থাকি। যখনই বিচারবর্হিভূতভাবে কোনো কিছু ঘটে তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্নমতালম্বী দমনের জন্যই এক সময়ে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আমাদের বুধবার :  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।