Home » আন্তর্জাতিক » ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন : রাজি নয় বিদেশী দাতারা

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন : রাজি নয় বিদেশী দাতারা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

প্রত্যন্ত একটি দ্বীপে এক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনায় দাতা ও সাহায্য সংস্থা এবং দেশগুলোকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন স্থানটিতে রোহিঙ্গারা সাইক্লোন, বন্যা ও মানব পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দাতা ও সাহায্য সংস্থা এবং দেশগুলো। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এমন খবরই দিয়েছে।

কক্সবাজারের জনাকীর্ণ উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ উদ্বাস্তু বাস করছেন। তারা আসন্ন বর্ষা মওসুমে বন্যা, ভূমিধস ও নানা রোগের হুমকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিকল্প স্থান হিসেবে কয়েক মাস ধরে গড়ে তুলছে ভাসান চরকে। তবে চরটির অবস্থা দেখার জন্য সাহায্য সংস্থাগুলোকে অনুমতি দেয়নি সরকার। তবে ৪ এপ্রিল ব্রিফিংয়ের সময় তাদেরকে চরটি নিরাপদ- এমনটি বোঝাতে ব্যর্থ হন কর্মকর্তারা।

মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ‘স্ট্র্যাটেজিক এক্সিকিউটিভ গ্রুপের’ (এসইজি) নেতৃত্বে কক্সবাজার ক্যাম্পগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্টার-সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) ওই পরিকল্পনার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের বক্তব্যে আইএসসিজি জানায়, দ্বীপটিতে বসবাস করার উপযোগী পরিবেশ নিয়ে মৌলিক প্রশ্নগুলোর জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। তারা জানায়, সরকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় তাদের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে দ্বীপটি অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনের নামে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় সাত লাখ উদ্বাস্তু বাংলাদশে প্রবেশ করে। মিয়ানমারের সৈন্যরা বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করেছে বলে যে অভিযোগ রয়েছে তা ওই দেশের সরকার অস্বীকার করে আসছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো উদ্বাস্তুদের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউএনএইচসিআর গত মার্চে এক বিবৃতিতে জানায়, দুই লাখ তিন হাজার লোক বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কায় রয়েছে। বৃহত্তম ক্যাম্পটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানায়, জায়গা খুবই দুর্লভ। বিদ্যমান ক্যাম্পটির আশপাশে উপযুক্ত কোনো স্থান পাওয়া যায়নি।

মেঘনা নদীর মোহনায় পলি জমে জমে ভাসান চরের (অর্থাৎ ভাসমান দ্বীপ) উদয় হয়েছে। সরকার এটিকে স্থায়ী ভূখন্ড ও উদ্বাস্তুদের সাময়িক আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করার জন্য ২৮০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছে।

সরকারি স্লাইড প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে ১২০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বন্যা মোকাবিলার জন্য ১৩ কিলোমিটার বাধও নির্মাণ করা হবে।

গত এপ্রিলে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডা মিশনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মে মাসের মধ্যে কাজের বড় অংশ সমাপ্ত হবে, জুনে এক লাখ উদ্বাস্তুকে সেখানে নেওয়া যাবে।

কিন্তু জাতিসংঘ উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইসিআরের একটি নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য ঝুঁকি ছাড়াও সাইক্লোন ও বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাছাড়া অরক্ষিত লোকজনকে একটি এলাকায় আবদ্ধ করে রাখা হলে তারা মানব পাচারকারী ও চরমপন্থীদের খপ্পরে পড়ে যেতে পারে।

দাতাদের সামনে উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা যায়, সরকার উদ্বাস্তু ও নিরাপত্তা কর্মীদের থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি সাহায্য সংস্থাগুলোর জন্যও স্থাপনা নির্মাণ করছে।

ভাসান চর প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মুখপাত্র ফিওনা ম্যাকগ্রেগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি একটি ইমেইলে বলেন, আমরা এখন কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি, পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছি।