Home » বিশেষ নিবন্ধ » শওকত আলী : ‘প্রদোষ’কালের পান্থজন

শওকত আলী : ‘প্রদোষ’কালের পান্থজন

শাহাদত হোসেন বাচ্চু ::

তরুণ শওকত আলী ঘুরেছেন অবিশ্রাম। বনে-বাদাড়ে, পথ-প্রান্তর, গ্রামীন অস্পৃশ্য জনপদ-বাদ যায়নি কোনকিছুই। লেখার প্লট খুঁজতে কলেজ শিক্ষকতার পাশাপাশি তার বেলা কেটেছে ওভাবেই। রাঢ় বঙ্গ, উত্তরের জনপদ, শহর আর গ্রামীন জীবনের নানান উপাখ্যান ধারণ করতে এই ঘোরাঘুরি স্বার্থক হয়ে ওঠে, যখন সুনিপুন দক্ষতায় শিল্পীর তুলির মত আঁচড় কাটেন মূর্ত বাস্তবতায়।

তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শোনা যাক- জায়গাটা ঠাকুরগাঁও জেলার বীরগঞ্জ। তেভাগা আন্দোলনের এলাকা। উত্তরাঞ্চলে শীত থাকে চোত মাস পর্যন্ত। বুড়ো সাঁওতাল, সবাই কান্ত মোড়ল বলে ডাকে, ‘৪৮’র কৃষক আন্দোলনে পুলিশের সাথে লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পা কাটা গিয়েছিল। বিকেলের মরে আসা রোদে মাঠে শুয়ে থাকে।

কান্ত’র পাশে বসে গল্প করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম, শুয়ে থাকো কেন? ‘শুয়ে থাকতে হামার ভাল্লাগে’- নির্লিপ্ত জবাব কান্ত’র। কিরকম ভাল লাগে-শুধালাম। বল্লে, ‘আমি গান শুনতে পাই’। তারপর যে কথাটি বল্লে, বাংলা ভাষার কোন কবি এখনও বলেনি, ওরকম কবিত্বময় কথা। কান্ত জানালে, “মাটির তলার গান শুনতে পাই। বীজ ফেলা হচ্ছে, বীজ থেকে অঙ্কুর বেরুচ্ছে। একটা করে পাতা ফুঁটছে আর গান হচ্ছে। হামি সে গান প্রাণ ভরে শুনি”।

এটি আসলে কবিতা নয় বা কবিতার বিষয়ও নয়। অমন কবিতা কেউ লেখেনি কখনও। এটি পুরোটাই জীবনের গাণ।

সুনির্দিষ্টভাবেই এটি সুরিয়ালিজম বা স্বপ্ন-বাস্তবতার বিষয়। রিয়ালিজম’র বিস্তুৃতকরনটাই হচ্ছে, স্যুরয়ালিজম। যেখানে স্বপ্ন-বাস্তবতা, কল্পনা-মিথ পাশাপাশি থাকবে। আর যিনি লিখবেন, তার থাকবে সুনিপুন খনন দক্ষতা। প্রাক ও পরবর্তী ষাট দশক আমাদের সাহিত্য অবলোকন করতে শুরু করে সুরিয়ালিষ্টিক স্বপ্ন-বাস্তবতা। ইউরোপে যার সূচনা ঘটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই। এই সুরিয়ালিষ্টিক স্বপ্ন বাস্তবতার খনন ও কথন দক্ষতা শওকত আলীকে আমাদের কথা সাহিত্যে করে তুলেছে মহত্তম।

শওকত আলী নিজেও জানাচ্ছেন, ‘আর্লি সিক্সটিতে যারা লেখালেখি শুরু করেছিলেন তাদের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে’। তবে তার মতে, এই ধারায় ইলিয়াস (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস) সবচেয়ে সফল। আশির দশকের শেষে দৈনিক কোলকাতায় শারদীয় সংখ্যায় শওকত আলী লিখেছিলেন, ‘তাবিজ’ নামের উপন্যাস।

এই উপন্যাসে শওকত আলী দেখিয়েছিলেন, মানবমুক্তির বিরুদ্ধে ধর্মাশ্রিত মিথ্গুলি কিভাবে কাজ করে। কিন্তু কোলকাতার কাগজ এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেমন; ‘তাবিজের নকশা’, ‘গরু’ এবং ‘জবাই’ শব্দগুলো বাদ দিয়েছিল। ফলে ১৯৯২ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় পুনর্বার এটি অবিকৃতভাবে প্রকাশিত হয়।

শওকত আলী নিজেই বলেছিলেন, “ওরা (কোলকাতাকেন্দ্রিক আধুনিকরা) ধর্মাশ্রিত মিথ্ আর মানবমুক্তির বিরোধটি বোঝেনি বলেই বিপ্লব হয়নি। বামপন্থা বিষয়টিই আধুনিকতা এবং প্রগতির ব্যাপার। মানুষের মুক্তির সংগ্রাম সব দেশে, সবসময় হয়েছে, রাশিয়া বা চীনে হয়েছে। ঠিক সেভাবে আমাদের দেশে হবে তা কিন্তু নয়”।

এখানকার ব্যর্থতা সম্পর্কে শওকত আলী জানাচ্ছেন, “… কিন্তু যারা বামপন্থার রাজনীতি করেছেন, কমিউনিষ্ট পার্টি করেছেন, তাদের প্রবলেম হয়েছে তারা ভদ্রলোকের ছেলে। কোলকাতার ঔপনিবেশিক কালচারের মধ্যে তারা লেখাপড়া শিখেছেন। আধুনিকতা বলতে ঐটাই বোঝায়। গ্রামের লোক মূর্খ-চাষা। চাষা শব্দটি হয়েছে গালি, ‘দুর ব্যাটা তুই একটা চাষা…’।

সমকালীন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কথক শওকম আলীর প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত বামধারার “নতুন দিনের কথা” কাগজে। সেটি ছিল পঞ্চাশ দশকের মধ্যভাগ। এর পরে দীর্ঘ বিরতি। ‘৬২ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস “পিঙ্গল আকাশ” এবং ৬৮ সালে প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ “উম্মুল ভালবাসা”।

১৯৪৭ এর বিভাগোত্তর কালে বাংলা সাহিত্যের মূল কেন্দ্রটি ছিল কোলকাতার দখলে। সোমেন চন্দ্র, রনেশ দাস গুপ্ত, কিরণ শঙ্কর সেনগুপ্ত, অন্যদিকে মুসলিম সাহিত্য বা শিখাগোষ্ঠি পূর্ববঙ্গের হলেও তাদের দৃষ্টি সেই কোলকাতার দিকে। দেশ বিভাগের পর পরই পরিষ্কার হয়ে গেল, পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকাকেই নতুন করে শুরু করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে অগ্রযাত্রাটি।

ঢাকা কেন্দ্রিকতায় তখনকার পূর্ববঙ্গের সাহিত্যে ভাষা ও অবয়ব নির্মাণ করেছিলেন যে ক’জন কথাশিল্পী, তাদের মধ্যে শওকত আলী ছিলেন পুরোথা। অর্থাৎ বিভাগোত্তরকালের ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্যের ক্ষীণধারাটি এভাবেই পরিপুষ্টতা লাভ করেছিল। কিন্তু সে সময়ে শওকত আলীদের মত প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী লেখক-সাহিত্যিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সদ্য প্রসূত পাকিস্তানী “জজবা’র প্রতি অনেক লেখকদের উম্মাদনা। সে সময় কথিত জাতির পিতা জিন্নাহ্, ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং আরবের বিজয়গাঁথা নিয়ে একরকম উম্মাদনা শুরু হয়েছিল।

এর মূল কারণ ছিল, কোলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্যে এদের অভিগম্যতা কম থাকায় নব্য পাকিস্তানে অনেকটা রুদ্ধ আবেগ ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে শাসকদের গুনগান এবং ধর্মীয় মিথ্গুলি নিয়ে লেখালেখি। সম্ভবত: এ কারনেই এসব লেখালেখি শুরুতেই পাক-শাসকগোষ্ঠির নজরে আসে, যার মধ্য দিয়ে একধরনের সাম্প্রদায়িক ভেদ-বুদ্ধি উস্কে দেয়ার প্রবণতা তৈরী হয়েছিল।

এরকম চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেই বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্যের অবয়বটি নির্মিত হয়েছিল। প্রগতি ও মানবিকতার সংমিশ্রনে এই দুরুহ কাজটি যাদের হাত দিয়ে এগোচ্ছিল- সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, শওকত আলী, আহসান হাবীব নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ঐ ধারার। উত্তরকালে এটিকে শক্তিশালী করেছেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং হাসান আজিজুল হকের মত কালোর্ত্তীণ কথা সাহিত্যিকরা।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লেখক-সাহিত্যিকদের নবচেতনার উন্মেষ ঘটে। ক্রমশ:“পাকিস্তানী জজবা’র উচ্ছাস কেটে যেতে থাকে। ফলে উল্লেখযোগ্য অংশটি প্রগতিশীল ধারায় সামনে এগোতে থাকেন। যদিও আমাদের তৎকালীন সাহিত্য ভাষা আন্দোলনকে শুধুমাত্র ‘ভাষাকেন্দ্রিকতা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছে, অল্প-বিস্তর ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে। এটি যে ছিল বাঙালী জাতির স্বাধিকার ও মুক্তিসংগ্রামের সূচনা, সেই বিশ্লেষণটি সেকালের লেখালেখিতে কমই উঠে এসেছে।

ষাট দশকের ঢাকাকেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্য কলা-কৈবল্যবাদের নামে কথিত সৌন্দর্যবাদীতা এবং বামধারার যান্ত্রিকতার মধ্যে পড়ে খাবি খাচ্ছিলো। এমনকি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসও শুরু করেছিলেন এই নিরীক্ষা দিয়ে। পরে অবশ্য “খোয়াবনামা” ও “চিলেকোঠার সেপাই” -এর মত অবিস্মরণীয় উপন্যাস তাকে তথাকথিত কলা-কৈবল্যবাদের চর্চা থেকে ছিটকে দেয়। বাংলা সাহিত্যের জন্য এটি বড় সৌভাগ্য।

শওকত আলী কলা-কৈবল্যবাদ অথবা বামধারার যান্ত্রিকতার ঐ ধারায় সমর্পিত হননি। ফলে তাকে  “সেকেলে” গোছের তকমা এঁটে দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কি! তিনি লিখেছেন, নিজের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর ভর করে। বামপন্থী সাহিত্যিক হলেও তার লেখাকে কখনও বামধারার অনেকের মত জঞ্জাল হতে দেননি, সৃষ্টি করেছিলেন মানবিকতা বোধসম্পন্ন সাহিত্য।

তার সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ “প্রদোষে প্রাকৃতজন”-এ তিনি দেখিয়েছেন, দুঃখের সুদীর্ঘ এবং কঠোর অন্ধকার অতিক্রম করে প্রাকৃতজন ঝকমকে এক প্রত্যুষ অবগাহন করার প্রতীক্ষা করছে। বসন্ত দাসের বয়ানে,“যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতজন এভাবেই প্রতিরোধ করে লাঞ্চিত হয়, নিহত হয়, ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু তথাপি ঐ একই সঙ্গে সে প্রতিরোধ করতে ভোলেনা। হয়তো বিচ্ছিন্ন, হয়তো একাকী এবং শস্ত্রবিহীন; তথাপি তার দিক থেকে প্রতিরোধ থেকেই যায় !”

এই উপন্যাসে তার মূল মেসেজটি ছিল: যে রাজশক্তি প্রজাদলনে অভ্যস্ত, প্রজার কল্যাণ করে না, সে রাজশক্তি ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যায়। সামান্য বহি:আক্রমনে ধ্বসে যায়। সেজন্যই তুর্কী খিলজী’র আক্রমনে নদীয়ার সেন রাজবংশ পালিয়ে যায়। আর এরই মাঝে সাধারন মানুষের প্রতিরোধ- সংগ্রামকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে কালজয়ী উপন্যাস “প্রদোষে প্রাকৃতজন” ।

আবার গ্রামীন লোক বিশ্বাসের ওপর আরেকটি অনবদ্য কাজ “মাদার ডাঙ্গার খেল্”। কোন ঘটনাই অলৌকিক নয়, প্রত্যেকটির পেছনেই থাকে কার্যকারন বা অন্তর্গত সত্য। সেটি না বুঝলে তৈরী হয় রহস্য, মিথ্ এবং ছড়ায় নানান ডালপালা। চাল-চুলোহীন হাটে হাটে ফেরি করে বেড়ানো ফুলমতী বেওয়ার ছেলে রাজ মোহাম্মদ বা রাজু পন্তিতের হঠাৎ ধনী হয়ে যাওয়ার গল্প এটি। এই নিয়েই সৃষ্ট রহস্য এবং উন্মোচনের গল্প “মাদার ডাঙ্গার খেল্”।

সত্তর দশকের মাঝামাঝি “বিচিত্রা’য় প্রকাশিত ট্রিলজি ‘পূর্বদিন পূর্বরাত্রি’, ‘কুলায় কালস্রোত’ এবং ‘দক্ষিণায়নের দিন’ ধারন করে আছে ‘৬৯’র গণ অভ্যূত্থানের বিশাল ক্যানভাস। সেইসাথে সেজান এবং রাখিব ‘সুরিয়ালিষ্টিক’ভালবাসার অনবদ্য গল্পটি। এই ত্রয়ী উপন্যাসের সাথে সময় ও প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’-এর সাথে। বাংলা সাহিত্যের খুব বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে এ সকল উপন্যাস।

আমরা দেখেছি, তার সময়কালের সাহিত্যিকদের মধ্যে সাধারন মানুষের জীবনাচার, দ্ব›দ্ব-সংঘাত, বিকাশমান জীবনের নানান উত্থাণ-পতন এবং শ্রেনীদ্ব›েদ্বর বিষয়, সংস্কৃতি, প্রথা অনেকটাই উপেক্ষিত হচ্ছে অথবা ভাসা ভাসাভাবে এসেছে। আমাদের লিখিয়েরা খুব উপরিকাঠামো থেকে দেখেছেন সাধারনের জীবন। খননের মধ্যে যাননি, কিংবা জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার তীব্র ঝাঁজ এবং বেঁচে থাকার কঠোরতার বিষয়গুলো উঠে আসেনি কারো লেখায়।

এখানেই শওকত আলীর ব্যতিক্রম। চরিত্রগুলি তিনি আবিস্কার করতেন। যেমনটি ঘটেছে, কান্ত মোড়লের ক্ষেত্রে। কান্ত মাটিতে কান পেতে থাকে। মাটির গান শোনে। বুঝতে পারে মাটির অভ্যন্তরে কিভাবে জীবনের উন্মেষ ঘটছে এবং এই হচ্ছে চরিত্র। বাস্তবতা হোক, স্বপ্ন-বাস্তবতা, অর্ধ বাস্তবতা, যাই হোক- এই একেকটি জীবন্ত চরিত্র। এর মাঝে শওকত আলীর তত্ত¡টা হচ্ছে, মানুষের সংগ্রামের। মানুষের মুক্তির সংগ্রামের যে কাহিনী, সেটিই জেগে ওঠে মাটির গানের মধ্যে। মুক্তির বিষয়টি থাকে মানুষের মাঝে গান হয়ে, ছবি হয়ে, স্বপ্ন হয়ে। সেখান থেকেই মানুষ মূলত: উদ্দীপনা পায়।

এটিই বাস্তবতা। কিন্তু স্বপ্ন-কল্পনার মাঝের অবস্থানটা প্রত্যক্ষ বাস্তবতা নয়। শওকত আলী মনে করছেন, এটিই সুরিয়ালিজম। রিয়ালিটি ও কল্পনার এই যে একত্র সমাবেশই মানুষকে আর সব থেকে আলাদা করে তোলে। এর সাথে লড়াই-সংগ্রামের মিথ্গুলি যুক্ত হয়ে বাঁচার লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা তৈরী করে। সেজন্যই তার লেখায় ব্রাত্যজন, অন্তজ বা সাধারনরা কখনও পরাজিত হয়না।

এজন্যই তিনি শওকত আলী। আমাদের সাহিত্যের ‘প্রদোষ’ কালের মানুষ। প্রগতিশীল বামপন্থী হয়েও গতানুগতিক নন। বড় লেখকরা কখনই নির্দিষ্ট ধারায় আটকে যান না। সেজন্যই তার প্রতিটি কাজ তাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তিনি মার্কসীয় সাহিত্য রচনা করেননি, যা করেছেন তা মানুষের জন্য। শিল্পের জন্য শিল্প নয়, মানুষের জন্য শিল্প। এ ব্যাপারে তার নিজেরই মত ছিল, মানুষের জন্য রচিত সকল সৎ সাহিত্যই হচ্ছে সত্যিকাবের মার্কসীয় ধারার সাহিত্য।

এই ধারায় সবচেয়ে সুনিপুন কারিগর ছিলেন শওকত আলী। সুরিয়ালিজম আর মিথ্’র সমাবেশীকরন দেখতে পাই ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’-এ। সেজন্যই এটি বিশ্ব সাহিত্যতুল্য। আর সেখানেই তিনি প্রায় অপ্রতিদ্ব›দ্বী। তার তুলনা করা যায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের আর দু’জনের সাথে। একজন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, অপরজন হাসান আজিজুল হক। এই তিনজনের মধ্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং শওকত আলী চলে গেছেন; আছেন হাসান আজিজুল হক।

এদের মাঝখানে প্রাক ষাট পর্বটি শওকত আলীর। সেকাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত আমাদের সাহিত্যের এই ধারায় তাদের হাত ধরেই কাজগুলি এগিয়েছে। তার ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’, হাসান আজিজুল হকের, ‘বিধবাদের কথা’ সুরিয়ালিষ্টিক স্বপ্ন-বাস্তবতার মহত্তম উদাহরন। আর এখানেই শওকত আলী আমাদের সমকালীন বাংলা সাহিত্যে ‘প্রদোষকালের পান্থজন’।

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

১.‘সাপ্তাহিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত শওকত আলীর সাক্ষাৎকার;

২. ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ ‘প্রথম আলো‘য় প্রকাশিত একটি নিবন্ধ;