Home » বিশেষ নিবন্ধ » নোয়াম চমস্কির সাক্ষাতকার-১ : ‘ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি অশুভ ও অলুক্ষণে ঘটনা’

নোয়াম চমস্কির সাক্ষাতকার-১ : ‘ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি অশুভ ও অলুক্ষণে ঘটনা’

আধুনিক সময়ের সেরা বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম নোয়াম চমস্কি ছয় দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। চমস্কির সাহসিকতা, দৃঢ়প্রত্যয় ও অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের ফলেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জালিয়াতি, সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যের গোমর ফাঁস হয়েছে। মানব ইতিহাসে যাদের উদ্ধৃতি সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহৃত হয়েছে, তাদের অন্যতম এই চমস্কি। তাকে আধুনিক ভাষাতত্ত্বের জনকও বলা হয়ে থাকে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তার সোচ্চার ভূমিকা তাকে লাইমলাইটে এনে দিয়েছিল। তার ১৯৬৭ সালের যুদ্ধবিরোধী রচনা ‘দি রেসপনসিবিলিটি অব ইন্টিলেকচুয়ালস’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এখনো তার রচনাটি ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃত। তবে এর জন্য তাকে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। যুদ্ধবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার কারণে তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার বরণ করতে হয়, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কুখ্যাত ‘শত্রু  তালিকায়’ও তার নাম ছিল।

তার ভূমিকার কারণে পূর্ব তিমুরসহ অনেক দেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছিল, অনেক স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এখনো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, নব্যউদারবাদ, সমসাময়িক পুঁজিবাদ, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসন ইত্যাদি বিষয়ে সোচ্চার। ২০১১ সালে তিনি সিডনি পিস প্রাইজে ভূষিত হন।

তিনি বই লিখেছেন শতাধিক। এসবের মধ্যে রয়েছে আমেরিকান পাওয়া অ্যান্ড দি নিউ ম্যান্ডারিন্স, ফর রিজন্স অব স্টেট, ম্যানুফেকচারিক কনসেন্ট : দি পলিটিক্যাল ইকোনমিস অব দি মাস মিডিয়া, দি অ্যাবুইস অব পাওয়ার অ্যান্ড দি অ্যাসাল্ট অন ডেমোক্র্যাসি

বর্তমানে চমস্কি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইনস্টিটিউট প্রসেফর এমেরিটাস ও ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার লরেট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৮৯ বছর বয়সেও চমস্কি ক্লান্তিহীন, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার, ন্যায়বিচার ও শান্তি কামনায় আগ্রহী।

সম্প্রতি তিনি জিপসন জন ও জিথেশ পিএমকে একটি বিশেষ সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এতে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট আমল, ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকৃতি প্রদান, মার্কিন শক্তির পতন, বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, ল্যাতিন আমেরিকান বাম, পোপ ফ্রান্সিস, ইসলামফোবিয়া, সিরিয়া যুদ্ধ, ইরানের সাথে পরমাণু যুদ্ধ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বের হয়ে যাওয়া, বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। এখানে তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো। ফ্রন্টলাইন ইন্ডিয়া থেকে বিশেষ সাক্ষাতকারটির বাংলা অনুবাদ করেছেন-হাসান শরীফ

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট আমল :

প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রের শেষ নির্বাচনের সময় আপনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট আমল নিয়ে বিশ্বের চরমভাবে আতঙ্কিত হওয়া উচিত।’ এখন তিনি হোয়াইট হাউস দখল করে আছেন। তার নীতি ও ঘোষণাগুলো শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব ও করপোরেট এজেন্ডার সমন্বিত রূপেরই প্রতিনিধিত্ব করে। অনেকে তাকে হোয়াইট হাউসের ‘দানব’ পর্যন্ত বলে থাকে। তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বিশ্বের জন্যও কোন বিপদ নিয়ে আসছেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পূর্বসূরীদের থেকে তার ‘পার্থক্য’ কোথায়?

নোয়াম চমস্কি : এককভাবে সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ হলো-সত্যিকারের অস্তিত্বগত সঙ্কট বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান। এই মারাত্মক হুমকিটি মোকাবিলা করতে অবশিষ্ট বিশ্ব অন্তত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ পর্যাপ্ত না হলেও অন্তত কিছু তো করেছে। একই কথা প্রযোজ্য কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরের কিছু এলাকার ক্ষেত্রেও। কিন্তু ট্রাম্পের আমলে রিপাবলিকান এস্টাবলিশমেন্টের সার্বিক সমর্থনে বিশ্ব ইতিহাসের সর্বোচ্চ শক্তিশালী ফেডারেল সরকার কেবল এসব প্রয়াস থেকে প্রত্যাহারই করেনি, সেইসাথে ধ্বংস প্রতিযোগিতা বেগবান করতে সক্রিয়ভাবে সচেষ্ট হয়েছে। এটি স্তম্ভিত করার মতো ঘটনা। বিধ্বংস শক্তি এখন অনেক দূরে ছুটে চলেছে।

প্রশ্ন : ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার ট্রাম্পের ঘোষণাটির ফলে মনে হচ্ছে শান্তিপ্রক্রিয়া ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প এর মাধ্যমে কোন বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এ ধরনের আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী? ওই অঞ্চলের পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রচেষ্টায় এটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?

নোয়াম চমস্কি : দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই বড় ধরনের আঘাত না হলেও ‘শান্তিপ্রক্রিয়া’ তেমনভাবে সক্রিয় ছিল না। আমার মনে হয়, অনেকটা ঘরোয়া রাজনৈতিক কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘাঁটি ও তহবিল দাতাদের অনেকেই পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ সম্প্রসারণের আবেগময়ী সমর্থক।

প্রশ্ন : আগে আপনি লিখেছিলেন, বিশ্বব্যাপী মার্কিন শক্তির পতন ঘটছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কাঠামোগত কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটছে? আমরা কি বহু মেরুর বিশ্বের দিকে যাচ্ছি?

নোয়াম চমস্কি : আমেরিকার জাতীয় শক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে (ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন) সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। তার ক্ষয় শুরু হয়- যাকে বলা হয়ে থাকে- ‘চীনকে হারানো’র মাধ্যমে। এটি বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অন্যান্য শিল্প সমাজ যুদ্ধকালীন বিপর্যয় থেকে উদ্ধার পাওয়ায় এবং উপনিবেশমুক্তকরণ যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় বিশ্বসমাজ অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল তিনটি মেরুতে পরিণত হয়। এর একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উত্তর আমেরিকা, দ্বিতীয়টি জার্মানভিত্তিক ইউরোপ এবং তৃতীয়টি ছিল জাপানভিত্তিক উত্তর-পূর্ব এশিয়া। চীনের উত্থানের ফলে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বে ক্ষয় আরো বাড়ে। বাস্তবভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে চীনে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে মারাত্মক কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে চীন এখনো গরিব দেশ। আবার সামরিক খাতসহ কয়েকটি বিষয়ে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব বহাল রয়ে গেছে। আবার এই কথাও মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিশ্বায়নের ফলে জাতীয় হিসাব এখন আগের চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে বৈশ্বিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা ২০ ভাগেরও কম হলেও, মার্কিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিমে।বর মোট সম্পদের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। জোর দিয়ে বলা যায়, এগুলো একটি জটিল চিত্রের কেবল অবয়বটুকুই প্রকাশ করছে।

ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ব :

প্রশ্ন :বিশ্বের  প্রায় সব অংশে আমরা ডানপন্থী শক্তির আতঙ্কজনক বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে টি পার্টি মুভমেন্ট, ভারতে সংঘ পরিবার, ফ্রান্সে লে পেনের ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং বিভিন্ন দেশে নানা ইসলামি দল শক্তি বাড়াচ্ছে। মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ অধ্যাপক সামির আমিন এই শক্তি বৃদ্ধিকে ‘সমসাময়িক পুঁজিবাদে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আপনি কি ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ব নিয়ে এই শঙ্কার সাথে একমত?

নোয়াম চমস্কি : রাজনৈতিক আলোচনার বেশির ভাগ পরিভাষার মতো ‘ফ্যাসিবাদ’ও যথাযথ পরিভাষা নয়। ফ্যাসিবাদী সরকার ও সংস্থাগুলোর তৎপরতার কারণে সহজাতভাবে এটি এখন একেবারে অসহ্যকর একটি সংজ্ঞা গ্রহণ করেছে। অনেক অনেক আগে পরিভাষাটি আরো যুৎসই প্রায়োগিক অর্থ প্রকাশ করত। উদাহরণ হিসেবে ভেবলেনবাদী রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ রবার্ট ব্রাডির কথা বলা যায়। তিনি ১৯৩০-এর দশকজুড়ে ফ্যাসিবাদী প্রবণতাগুলোর আলোকে পরিভাষাটি দিয়ে পুঁজিবাদী সমাজগুলোর অবস্থা বুঝিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পরিভাষাটি যতটা না কার্যকর, তার চেয়ে বেশি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী।

বর্তমান সময়ে ডানপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি অশুভ ও অলুক্ষণে ঘটনা। এমনকি ওই পরিভাষাটি যদি ব্যবহার করা না হয়, তবুও। বিষয়টিকে শিল্পোন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে নব্য-উদারবাদী সময়ে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পতনের আলোকে বিশ্লেষণ করা উচিত।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে [বার্নি] স্যান্ডার্সের আন্দোলন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিন্তু বিপুল তহবিলপুষ্ট প্রচারণা ও ব্যাপক মিডিয়া সমর্থনে এক বিলিয়নিয়ারের জয়ের ঘটনাটি নয়। বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল স্যান্ডার্সের প্রচার-তৎপরতা। তিনি ভোট কেনাবেচার দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে ভেঙে দিয়েছেন।

বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ টমাস ফারগুসন। তিনি দেখিয়েছেন, ব্যক্তি শক্তির অনেক উপাদানের একটি তহবিল সংগ্রহ নির্বাচনে জয়ের একটি শক্তিশালী নির্ধারক। স্যান্ডার্সের ব্যক্তিগত সম্পদ বা করপোরট সম্পদ থেকে কোনো তহবিল সংগ্রহ করেননি, তার কোনো মিডিয়া সমর্থন ছিল না। তিনি সম্ভবত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লাভ করতে এবং এমনকি নির্বাচনেও জয়ী হতে পারতেন। কিন্তু তা হয়নি দলের ব্যবস্থাপকদের কল-কাঠি নাড়ায়। তবে তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

এটি হলো নব্য-উদারবাদী যুগে মধ্যপন্থী প্রতিষ্ঠান ও তাদের নীতির প্রতি জনপ্রিয় বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। বিষয়টি অন্যান্য স্থানেও দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে জেরিমি করবিনের ব্রিটিশ লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলা যায়। যা ঘটছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য আগেকার আমল সম্পর্কে গ্রামসির পর্যবেক্ষণের কথা এখানে বলা যায় : ‘যখন পুরনোটি মরে যাচ্ছে; নতুনটি জন্ম নিতে পারছেনা- এই অন্তর্বর্তী অবস্থায় নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।’ তবে আমরা এর সাথে যোগ করে বলতে পারি, আশার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন : ভারতে হিন্দু ডানপন্থী শক্তির ভিন্নমতালম্বী কণ্ঠস্বরগুলোকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মোদি সরকার সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

নোয়াম চমস্কি : আমি এসব খবরের কিছু কিছু পড়েছি। এতে যা বোঝা যায়, তাতে নিশ্চিতভাবেই মনে হচ্ছে পরিস্থিতি জঘন্য। এতে মনে হচ্ছে, মোদি সরকার এসব অপরাধ সহ্য করে নিচ্ছে।

প্রশ্ন : আপনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতে বর্তমান সরকার সম্পর্কে একই ধরনের মন্তব্য করা হলে জাতীয়তাবিরোধী অভিযোগ উত্থাপন ঘটতে পারে। লেখক অরুন্ধতী রায়, মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্ট ড. বিনায়ক সেন (২০১০) এবং আরো সাম্প্রতিক সময়ে জওহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন সরকার দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছে। জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদবিরোধীর মধ্যকার সীমারেখা আপনি কোথায় স্থান দেবেন?

জবাব : এটি আমার কাছে কোনো ইস্যু মনে হয় না। জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদ বিরোধিতা নিয়ে কেউ যে চিন্তাই করুক না কেন, মুক্ত সমাজে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ সুরক্ষিত ও সুস্পষ্ট থাকতে হবে।

জাতীয়তাবিরোধী তৎপরতার’ অভিযোগ চরমভাবে ভয়াবহ।

(অসমাপ্ত)