Home » বিশেষ নিবন্ধ » বাংলাদেশে আসছেন জিকো

বাংলাদেশে আসছেন জিকো

বুধবার প্রতিবেদন ::

জিকো। পুরো নাম আর্থার আনতুনেস কোইম্ব্রা। তবে সাদা পেলে নামেই তিনি ফুটবল ফ্যানদের কাছে পরিচিত। ব্রাজিল ও বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন তিনি। সেই তিনিই বাংলাদেশে আসছেন। আর তার বাংলাদেশ সফরের আয়োজন করছে ঢাকাস্থ ব্রাজিল দূতাবাস।  আগামী মাসে  তিনি আসতে পারেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ৬৫ বছর বয়স্ক এই ফুটবলারের বাংলাদেশে আগমন হবে আমাদের ফুটবলের জন্য বিরাট এক ঘটনা। অ্যাটাকিং এই মিডফিল্ডার তার দুর্দান্ত টেকনিক্যাল দক্ষতা, ভিশন আর গোলের নেশার জন্য এখনো ফুটবল ফ্যানদের মধ্যে স্বপ্ন-পুরুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকের ও ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে তিনি সত্যিকার অর্থেই ছিলেন ওই সময়ের সেরা খেলোয়াড়। বিশেষ করে ফ্রি কিকে তার দক্ষতা কিংবদন্তিসম খ্যাতি রয়েছে। বলকে তিনি সব দিকেই বাঁক খাওয়াতে পারতেন। তবে দুর্ভাগ্য তিনি বিশ্বকাপ জয় করতে পারেননি। প্রায় সবার ধারণা ছিল ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ ব্রাজিলই জিতবে। জিকো ছাড়াও যে দলে ফ্যালকাও, সক্রেটিস, এদার, সেরেজো ও জুনিয়র রয়েছে, ওই দল কি বিশ্বকাপ জয় না করে পারে? কিন্তু পারেনি। দ্বিতীয় রাউন্ডেই তারা বিদায় নিয়েছিলেন পাওলো রসির ইতালির কাছে ২-৩ গোলে হেরে। বিশ্বকাপ জয় করতে না পারা সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় প্রায়ই জিকোর নাম দেখা যায়।

জিকো কেবল খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, কোচ হিসেবেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। সেই জিকো আসছেন বাংলাদেশে।

এবারের বিশ্বকাপ নানা কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখানকার লোকজন বরাবরই প্রধানত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক। বিশ্বকাপের মওসুমে বিভিন্ন দেশের, প্রধানত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের, পতাকা বাংলাদেশ ছাডা আর এভাবে কোথায় ওড়ে না । যেসব দেশে বিশ্বকাপ হয়, ওইসব দেশেও নয়।

এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে আর্জেন্টিনা ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ব্রাজিল বাদ পড়ায় ফ্যানরা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজেরা অলিভেইরা ডি জুনিয়র মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছাস ও মাতামাতি বেশ উপভোগ করেছেন। ব্রাজিলের প্রতি এখানকার মানুষের সমর্থন তার কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। এটিই তাকে ব্রাজিলের ফুটবলকে বাংলাদেশের আরো কাছে আনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এবারের বিশ^কাপে সম্ভবত এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।