Home » আন্তর্জাতিক » সাংবাদিক খাশোগি ‘হত্যা’ : সৌদি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত কী ?
WASHINGTON, DC - OCTOBER 19: A protester dressed as Saudi Arabian crown prince Mohammad bin Salman and another dressed as U.S. President Donald Trump, demonstrate with members of the group Code Pink outside the White House in the wake of the disappearance of Saudi Arabian journalist Jamal Khashoggi October 19, 2018 in Washington, DC. Khashoggi has disappeared following a meeting at the Saudi consulate in Istanbul on October 2, 2018. (Photo by Win McNamee/Getty Images)

সাংবাদিক খাশোগি ‘হত্যা’ : সৌদি রাজতন্ত্রের ভবিষ্যত কী ?

এম. জাকির হোসেন খান ::

জামাল খাশোগি একজন প্রখ্যাত সৌদি সাংবাদিক- যিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত অভিযান, ওসামা বিন লাদেনের উত্থানসহ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সংবাদ কভার করেছেন। গত বছর আমেরিকায় যান স্বেচ্ছা নির্বাসনে এবং ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতি মাসে কলাম লিখতেন- যেখানে তিনি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে সমালোচনামূলক লেখা লিখেছেন। প্রথম কলামেই তিনি লেখেন, যুবরাজ সালমান বাদশাহ সালমানের স্থলাভিষিক্ত হলে খাশোগি ভিন্নমত পোষণের কারণে গ্রেফতার হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস প্রিয়ার সান্নিধ্যে যাওয়ার প্রস্তুতিপর্বেই জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়া হয়, প্রথমে বলা হয়েছিল ‘‘দুর্বৃত্তরাই’’ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু  শেষ পর্যন্ত কনস্যুলেট ভবনের ভেতরেই সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছে সৌদি আরব। সৌদি দাবি, হাতাহাতি থেকে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা উপপ্রধান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এক উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮ জন সৌদি নাগরিককে। নানা নাটকীয়তার পর এর মধ্য দিয়ে খাশোগির ব্যাপারে তুরস্কের দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হলো। ঘটনার ১৭  দিন পর ‘হাতাহাতির একপর্যায়ে খাসোগির মৃত্যু’ হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগ পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে টানা অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল দেশটি।

খাশোগি ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনসুলেটে প্রবেশ করার পরপর সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়। তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। আল জাজিরা ছাড়াও রয়টার্স খবর দিয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ১১ মিনিটের অডিও রেকর্ড রয়েছে, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। ১১ মিনিটের অডিওর টেকনিক্যাল ভয়েস বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সেখানে খাশোগি ছাড়াও ৩ সৌদি পুরুষ কণ্ঠের আওয়াজ পাওয়া যায়। অডিও থেকে আরও বোঝা যায়, কনস্যুলেটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরই আক্রমণের শিকার হন তিনি। জামাল খাশোগির হাতে থাকা অ্যাপল ওয়াচে ধারণকৃত অডিওর চেয়ে ভিন্ন আরেকটি সূত্র থেকে এই অডিও হস্তগত হয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই অডিও অনেক দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবও রয়েছে। তুরস্কের দাবি ছিল, এখন আমরা কনস্যুলেটের মধ্যে নিখাদ প্রমাণ সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছি। তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। তবে তখন পর্যন্ত খাশোগিকে হত্যার কথা কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে খাশোগিকে কনসুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে, এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে গণমাধ্যমগুলোতে।

অন্তত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, খাশোগির সম্ভাব্য হত্যার পুরো ঘটনাটিই বেঁধে দেওয়া ছক অনুসারেই সাজানো ছিল। আর তা বাস্তবায়নে ১৫ জনের যে দলটি সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে  যায় তার অন্তত দুজন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, দেশে-বিদেশে একাধিকবার তাদের দেখা গেছে যুবরাজের পাশে। শুধু তাই নয়, ১৫ জনের ১১ জনই সৌদি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য। তিনজন বিন সালমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। সৌদি আরবের বহু কর্মকর্তাই মনে করেন, ৩৩ বছর বয়সী প্রিন্স বিন সালমানের অজ্ঞাতে এত বড় কান্ড ঘটতে পারে না, তাঁর অনুমোদন সাপেক্ষেই খুন হন খাশোগি। নিখোজ হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে খাশোগী কনস্যুলেট হতে বেরিয়ে গেছেন, তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তাছাড়া, কেন খাশোগির নিখোঁজের দিন তার কনসুলেটে প্রবেশের আগেই কেন কনসুলেটের কর্মচারিদের চলে যেতে বলা হলো। সৌদি কর্তৃপক্ষ যদি দায়ী নাই হয়ে থাকবে তবে কেন তুরস্কের ইস্তানবুলে নিযুক্ত সৌদি আরবের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতাইবির বাসভবন তল্লাশির আগেই তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে গেলেন।

উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট ভবন থেকে সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টায় ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে প্রথমবারের মতো তুরস্কের একটি তদন্তকারী দল কনসুলেট ভবনে অনুসন্ধান এবং সৌদি আরবের কনসাল জেনারেলের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তুর্কি পুলিশ। ওই নয় ঘণ্টার অনুসন্ধানে খাশোগিকে হত্যার আলামত পেয়েছেন বলে দাবি করেছে তুর্কি পুলিশ। অনুসন্ধানের বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, মিশনে তারা বিষাক্ত বস্তুর সন্ধান করেছেন। তিনি বলেন, আমি আশা করি যত দ্রুত সম্ভব আমরা আপনাদের গ্রহণযোগ্য উপসংহার দিতে পারব। কথায় বলে, অপরাধী তার অপরাধের সাক্ষ্য কোনো না কোনভাবে রেখে যায়। স্বীকার করেছে সৌদি আরব স্বীকার করে ও জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে আপাতত চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে- এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত নির্দেশদাতা কে ছিলেন?

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে- খাশোগির পরিবার তার অন্তর্ধানের ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়েছে। জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতিই আঙুল তুলেছেন। সৌদি আরবের ইস্তাম্বুল কনসুলেট ভবনে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার রেকর্ডকৃত প্রমাণ চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তুরস্ক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়ার পরও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমি মনে করি সেখানে কী ঘটেছিল, প্রথমে তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আপনারা ভাবছেন, নিরপরাধ (?) প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী, কিন্তু আমি এমনটি মনে করি না”। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যা ধামাচাপা দিতে সৌদি আরবকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খাসোগির ভাগ্যে কী ঘটেছে, দ্রুত সেই রহস্য উন্মোচিত হোক এমনটাই চান তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং এই সম্পর্কের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইহুদি বা ইসরাইল লবির ভূমিকা আছে বলেও এখন বলা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কথিত ‘রাজনৈতিক ইসলাম’কে মোকাবেলা বিন সালমানের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কাতার এবং তুরস্কের সাথে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের বিরোধ জটিল আকার ধারণ করে। পশ্চিমা বিশ্বে প্রথম দিকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে তুলে ধরা হয়েছে একজন সংস্কারকামী রাজপুত্র হিসেবে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিক টমাস ফ্রিডম্যান প্রশংসা করে লিখেছিলেন, ‘সৌদি আরবে আরব বসন্ত শুরু হয়ে গেছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের নিজের সমাজের জন্য আছে বড় বড় পরিকল্পনা।’ সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি প্রদান, সিনেমা হল চালু করা, স্টেডিয়ামে এক সাথে নারী ও পুরুষের খেলা দেখার অনুমতি দেয়াকে মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারের নমুনা হিসেবে পশ্চিমা গণমাধ্যমে হাজির করা হলেও এর আড়ালে ঢাকা পড়েছে ‘ইসলামী ব্রাদারহুড’ সমর্থকসহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর নিপীড়ন ও সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের রক্তাক্ত ঘটনা। বিন সালমানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পেছনে বড় কারণ ছিল বিপুল অঙ্কের অস্ত্র কেনার চুক্তি এবং ইরানকে কোণঠাসা করতে ইসরাইল ঘেঁষা নীতি বাস্তবায়ন। একই সাথে ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরে ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি ট্রাম্প ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনারের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এমবিএস’র অস্তিত্ব যেন হুমকির মুখে না পড়ে, সেজন্যই এ ঘটনা ধামাজাপা দিতে ওই লবি সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে অনেকেরই ধারনা।

বাস্তবে এমবিএস’কে রক্ষা করার নামে ‘ডলার মেশিনকে’ রক্ষা করতেই এরা সবাই অবস্থান নিয়েছে। সাংবাদিক খাশোগির নিখোঁজ রহস্যের জবাব পেতে সৌদি আরব সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক  পম্পেও এবং খাশোগির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বাদশাহ সালমানকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এমবিএস কর্তৃক ইয়েমেনে অনৈতিক গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতার দাপট দেখানোর ফলে লাখ লাখ শিশুর জীবন হুমকির মুখে, প্রতিনিয়ত শত শত নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। এর আগে কাতারকে একঘরে করতে অবরোধ করলে তুরস্ক কাতারের পাশে দাড়ায়। এমনকি মোহাম্মদ বিন সালমান লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে রিয়াদে ডেকে সেখানে বসেই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করলেন, বিভিন্ন নাটকীয়তার পর তিনি দেশে ফিরে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। আর প্রতিপক্ষ ইরানকে কোণঠাসা করতে সৌদি যুবরাজ সম্ভাব্য সবকিছুই করে চলছেন, এমনকি যে কারো সঙ্গে হাত মেলাতে তাঁর দ্বিধা নেই এবং ফিলিস্তিনের ওপর গণহত্যা চালানো ইসরায়েল এখন সৌদি রাজতন্ত্রের বড় ‘দোস্ত’। সৌদ পরিবারের কট্টর সমালোচক খাশোগি হত্যাকান্ডের মাধ্যমে এমবিএস বহির্বিশে^ তার সমালোচকদের একটা কড়া বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। আর তা যে বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করেই করেছেন তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। জামাল খাশোগির অন্তর্ধান এমবিএস কর্তৃক ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোরভাবে দমনের নীতির একটা চিত্র মাত্র। কিছু দিন আগেও ধর্মপ্রচারক সালমান আল আওদাহকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। রাজপরিবারের সদস্যসহ অনেককেই অন্তরীণ রাখা হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে জামাল খাশোগি আন্তর্জাতিক অপরাজনীতির শিকার। প্রচন্ড আন্তর্জাতিক চাপে আছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে একঘরে হওয়ার উপক্রমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে হুংকার দিলেও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে সালমান প্রশাসনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। সৌদি রাজতন্ত্রকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদ লুটতে দুর্বল বা লেজিটেমেসিহীন সরকারই তো তাদের পছন্দ হওয়ার কথা!

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা যায়, সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যখন সৌদি আরব সফর করছিলেন, তখন সৌদি সরকার সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য গত আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসনকে সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত ১০০ মিলিয়ন ডলার সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, জামাল খাশোগির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছিল এই অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তা অনেকটা স্বাভাবিক হবে।

এর আগে সৌদি আরবকে উসকিয়ে কাতারের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সৌদি আরবের সাথে ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবসা করে ট্রাম্প প্রশাসন। তাছাড়াও সম্প্রতি সৌদি সরকারি মালিকানাধীন তেল কোম্পানী আরামকো’র ৫% শেয়ারের মালিকানা বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সাম্প্রতিক তা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ শেয়ার যেন চীন বা অন্য কোনো প্রতিদ্ব›দ্বীর হাতে না যায় সেজন্যই সৌদ প্রশাসনকে চাপে রাখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। জামাল খাশোগির অন্তর্ধান সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। মোহাম্মদ বিন সালমান  রাজপরিবার ও সৌদি নাগরিকদের সমর্থন অনেকটা হারিয়েছেন। জামাল খাশোগি হত্যার সাথে সৌদি সম্পৃক্ততায় বিন সালমানের ওপর হোয়াইট হাউজের সমর্থন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে আসল কার্ড তুরস্কের হাতে থাকায় আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদ প্রশাসন তুরস্কের সাথে অর্থনৈতিক ও ক‚ুটনৈতিক ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার মাধ্যমে সমস্যার সমধাধানের চেষ্টা করবে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসের পতন হলে সবচেয়ে বেশি ‘ক্ষতিতে পড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে। তবে সৌদি আরবের ওপর অবরোধ আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসসহ নানা মহল থেকে চাপ অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের তাঁবুকে রাশিয়ার সেনাঘাঁটি স্থাপন করতে দেয়া  যেখান থেকে সিরিয়া, ইসরাইল, লেবানন ও ইরাকে নজরদারি করা যাবে। তেল অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি বাস্তবে করতে চাইলে এমবিএস’র পরিবর্তে হোয়াইট হাউজ নতুন ক্রাউন প্রিন্স বেছে নিতে পারে, যা আঞ্চলিক রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।